নাস্তিক_ও_বিধর্মীদের_মিথ্যাচারের_জবাব
সিরিজ পর্ব-৪০৫
এক কথায় পয়েন্ট ধরে যদি বলি তাহলে -
" প্রথমত বাইবেল এবং কোরআন দুটো আসমানি কিতাব এবং এই দু- কিতাব বা এরকম যত কিতাব আছে সেগুলো যেসব নবী রাসূল এর উপর নাযিল হয়েছিল তারা সবাই ছিলেন মুসলিম। তাই একজন পূর্ববর্তী নবী বা রাসূল সাঃ এর শরিয়াহতে যা থাকবে তার অনেক বিষয় আমাদের শরীয়াহতে থাকবে এটা স্বাভাবিক । ইসলাম তো বাবা আদম থেকেই আছে, তাই তার মাধ্যমেই দুনিয়াতে ইসলামিক সিম্বল এর শুরু হয়েছে। তবে যুগ অনুসারে শরীয়াহতে সংযোজন বিয়োজন হয়েছে, আর এরকম করেই শরীয়াহ নবীদের নবুয়তের মাধ্যমে চলে এসেছে এবং তা শেষ নবী মুহাম্মদ সাঃ এর মাধ্যমে পূর্নাঙ্গ হয়ে সমাপ্ত হয়েছে..... । তো এই হিসাবে তাওরাত যাবরের অনেক বিষয় আমাদের সাথে মিলবে এটা স্বাভাবিক , আর এর মাধ্যমে এগুলো প্রমাণ হয় না যে মুসলিমরা ইহুদি খ্রিষ্টান এর ফলোয়ার, বরং এর মাধ্যমে এটা প্রমাণ হয় যে বর্তমান কথিত ইহুদি খ্রিষ্টানদের বিধানবলিও এক আসমানি কিতাবের বাণী ছিল এবং আগের শরীয়তের অংশ ছিল, আর সে শরীয়তের কিছু অংশ আমাদের মধ্যেও এসেছে যুগ ও প্রয়োজন অনুসারে, আর এসব কমন বিষয়গুলোর জন্য আমাদের আব্রাহামিক ধর্মও বলা হয়......।
দ্বিতীয় তো আমাদের দলীল কোরআন ও হাদীস দুটোই। আল্লাহ নিজে বলেছেন নবী যা বলেন সেটাও ওহী ( নাজম-৩-৪) তাই তার বাণী হাদীসও ওহী এতে সন্দেহ নেই এবং মুসলিমদপ ইজমা আছে রাসূল সাঃ এর হাদীসও দলীলযোগ্য যা আমরা সাহাবী, তাবেঈ বা খাইরুল কুরন হয়ে বর্তমান পযন্ত ব্যবহার করে আসছি। আমাদের সকল বিষয় কোরআনে বিস্তারিত ও অস্পষ্ট ভাবে নেই তা আমরাও জানি, তাই আমরা নবীজির বাণী হাদীসও ফলো করি এবং নবীজিকে ফলো করার কথা কোরআনেও এসেছে ( আহযাব-২১) । আর আমরা সেই অনুসারে নবীজির বাণী কর্ম সব ফলো করি এবং সে হিসাবে আমাল ইবাদত করি।
আর এসব কারণে কোরআনে অনেক বিষয় না থাকলেই যে তা ইহুদি খিষ্টানদের তা ভাবা মূর্খামি বৈ কিছুই না।
এখন পোস্ট এতে করা কতগুলো মিথ্যাচারের বিষয় এতে আসি। screenshots এর ৫ নং দাবিতে বলা হয়েছে যে " কোরআনে নাকি মুরতাদ শাস্তি এর কথা নেই বরং পরকালের শাস্তি এর কথা আছে ", কিন্তু সে দেখাক কোরআন থেকে কোথায় সরাসরি মুরতাদকে পরকালে শাস্তি দিবে এরকম কথা বলা আছে। আমরা কোরআনকের সূরা তাওবা ১১-১৩ নং আয়াতের আলোকে বুঝতে পারি যে মুরতাদদের সাথে মূলত কি করতে হবে...... ।
আবার ৭ নং দাবিতে বলা হয়েছে" নারীদের মাথা ঢাকার কথা নাকি কোরআনে নেই "কিন্তু আমরা নূর-৩১ এতে মাথা ঢাকার বিষয়টার ইঙ্গিত পেয়ে যায়....
সে তার ৯ নং দাবিতে বলেছে যে " আকিদা শব্দটা নাকি বাইবেলর শব্দমূল থেকে এসেছে " কিন্তু বাস্তব হলো আকিদা শব্দটা আরবি শব্দ আকদ থেকে এসেছে, বাইবেলের " আকেদাত " শব্দ থেকে না... ( বিস্তারিত জানতে পড়ুন -" কোরআন সুন্নাহর আলোকে ইসলামি আকিদা- আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহিমাহুল্লাহ )
১০ নাম্বারে আরেকটা হাস্যকর দাবি করা হয়েছে, তারা শিয়াদের একটা বানোয়াট আমলকে পুরো মুসলিম জাহানের উপর লঘু করে দিয়ে বসে আছে.....
এসব জাহেলগুলো মুসলিমদের বিভ্রান্ত করার জন্য সব সময় কোরআন শব্দটা হাইলাইট করার চেষ্টা করে, কিন্তু জাহেলগুলো ভুলে যায় কোরআনের সাথে সুন্নাহও আমাদের দলীল, আর এই ভুলটার কারণে তারা ছাগলের তিন নাম্বার বাচ্চার মতো এসব পোস্ট লেখে তা কপি পেস্ট করে......
#প্রিন্স_ফ্রেরাসে
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।