#একটি_যুক্তিসঙ্গত_ও_নিরপেক্ষ_পর্যালোচনা
#ইসরা_ও_মিরাজ_নিয়ে_নাস্তিকদের_ভ্রান্ত_দাবি_ও সংশয়_নিরসন
পর্ব-১
রাসূল এর আক আকসা মসজিদে গমন নিয়ে সুষুপ্ত পাঠকে মিথ্যাচারের জবাব
আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
সুষুপ্ত পাঠক এটা মূলত তার ছদ্মনাম । আসলে আমি সঠিক জানি না সে হিন্দু নাকি মুসলিম। তবে সে ভারত প্রেমি এবং উগ্র মুসলিম বিদ্বেষী। কালকে সে তার এক লেখাতে ( ১০/১০/২০২৩ সাল এতে ওই লেখাটা সে পোস্ট করে) দাবি করে যে মিরাজের রাতের ঘটনা ভিত্তিহীন ও বানোয়াট+ এটা নাকি জালিয়াত। আমরা সবাই জানি যে " ফিলিস্তিন ইজরায়েল যুদ্ধ হচ্ছে, আর এই যুদ্ধের অন্যতম এক মূল শ্লোগান হলো " আল আকসা আমাদের দখল করতে হবে কারণ মসজিদ আমাদের " তো এই কারণেই সুষুপ্ত পাঠক কিছু থার্ড ক্লাস তথ্যের ভিত্তিতে বলে যে " আসলে রাসূল সাঃ মিরাজ গমন করেনি নি। তাই এখন তার ভ্রান্ত দাবি খন্ডন করা হবে ইনশাআল্লাহ।
তো চলুন শুরু করা যাক।
সে তার লেখাতে বলে যে " ৭০ খ্রিষ্টাবদে রোম সম্রাট জেরুজালেম এর আল আকসা ধ্বংস করে ফেলে যেটা ছিল রাসূল সাঃ এর জন্মেরও ৫০০ বছর আগের কাহিনী। আর এই ৫০০ বছরে নতুন করে ওখানে কোনো মসজিদ তৈরি করা হয় নি, আর সেখানে যে কোনো মসজিদ ছিল না তা উমর এর একটা ঘটনা দ্বারাই প্রমাণিত, সেটা হলো, তিনি জেরুজালেমে গিয়ে একটা ধ্বংসা বশেষ ছাড়া কিছুই দেখতে পায় নি, আর এগুলোই প্রমাণ করে তখন আল আকসা ছিল না, তাহলে নবী মোহাম্মদ সাঃ আল আকসাতে গিয়ে নামায পড়ছে এই দাবি সম্পূর্ণ বানোয়াট ( সংক্ষিপ্ত ও সারাংশ) "। তো এই হলো তার লেখার সার।
আমার ভাবতে অবাক লাগে এই সুষুপ্ত পাঠক হয় তো মনে করে মসজিদ মানে বর্তমানের মতো ১০ তালা গম্বুজ বিশিষ্ট কোনো বিল্ডিং। সে যদি আরেকটু এগিয়ে মসজিদ কি আর কেন এটা পড়তো তাহলে এরকম উদ্ভট দাবি হয় তো করত না।
" মসজিদ বলা হয় তাকে যেখানে মুসলিমরা সেজদা করে। সেজদা অর্থ নত হওয়া, আর সেই হিসাবে মসজিদ অর্থ নত হওয়ার স্থান। সহীহ মুসলিম, হাদিস : ৭১২ এর রেওয়াত অনুসারে " সমগ্র দুনিয়াটাই মাসজিদ এর স্থান "
তো আমরা উক্ত হাদীস থেকে বুঝতে পারলাম যে " মসজিদ হতে হলে কোনো ইমারত থাকতে হবে এর কোনো মানে নেই। আপনি যে কোনো জায়গায় নামায পড়তে পারবেন যদি ওই অংশটুকু পাক- পবিত্র হয় এবং ওটাই আপনার মসজিদ। তো এখন বুঝতে পাচ্ছেন যে " আল আকসাতে তখন কোনো ইমারত সাদৃশ্য বিল্ডিং ছিল না বলে ' ওইখানে রাসূল সশরীলে যায় নি এবং নামায পড়ে নি এই দাবিটা করাই উদ্ভট। এখন হয় তো সুষুপ্ত পাঠক বলতে পারে যে " না না মেহেদী আপনি তাকিয়াবাজি করছেন কারণ হাদীস এর তথ্য হতে জানা যায় যে " রাসূল সাঃ কাফেরদেরকে আল আকসা মসজিদের বর্ণনা দিচ্ছে তাই আল আকসা মসজিদ ইমারত মন্ডিত ছিল এছাড়াও উক্ত হাদীসে বলা হয়েছে যে " রাসূল সাঃ এর সামনে মসজিদটি উদ্ভাসিত করা হলো আর তখন রাসূল সাঃ গুনে গুনে সব বলে দিচ্ছিলেন ইত্যাদি ইত্যাদি " ( আত-তাবাকাত আল-কুবরা খণ্ড : ১, ইবন সা’দ, পৃষ্ঠা : ২৪৬-২৪৮ দ্রষ্টব্য) ।
প্রথম কথা হলো সুষুপ্ত পাঠক যদি উক্ত হাদীস সত্য বলে বিশ্বাস করে তাহলে এটাও বিশ্বাস করতে হবে যে " রাসূল সাঃ মিরাজে গিয়েছিল আর উক্ত ঘটনা তার প্রমাণ, কারণ যখন রাসূল সাঃ যখন আল আকসা সম্পর্কে বর্ণনা করছিল তখন কোনো কাফেরও ভুল ধরতে পারি নি ( উল্লেখ্য, কাফেররা কিন্তু ওই জেরুজালেমের সম্পর্কে ভালো করেই জানে, তাই তাদের কে মিথ্যা বললে রাসূল সাঃ অবশ্যই ধরা খেতো) এছাড়াও সীরাতু ইবনে হিশাম এর দ্বিতীয় খন্ড ( বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশন) পৃ্ষ্ঠা -৭২ অনুসারে " রাসূল সাঃ আবু বকর রাঃ এর কাছেও মিরাজের সকল বর্ণনা দেয় এবং আবু বকর রাঃ সাথে সাথে সাক্ষ্য দেয় ' হে রাসূল সাঃ আপনি সঠিক " তো রাসূল সাঃ এর মিরাজ গমনের কথা মিথ্যা হলে তিনি আবু বকর রাঃ এর কাছেও ধরা খেতেন কারণ আবু আবকরও...........। তো উপরোক্ত যুক্তি ও তথ্য অনুসারে আমরা বুঝতে পারলাম যে " মিরাজ এতে রাসূল সাঃ অবশ্যই গিয়েছিল, যদি তিনি মিথ্যা বলতেন তাহলে অবশ্যই ধরা খেতেন।
আর দ্বিতীয় তো
" রাসূল আক আকসা সম্পর্কে যেসব বর্ণনা দিচ্ছিলেন সেগুলো মূলত উক্ত সীমানার দ্বার ছিল ( বর্তমানেও যদি লক্ষ্য করেন তাহলে দেখতে পাবেন যে ' বায়তুল মুকাদ্দাস এর চারপাশে বিল্ডিং দিয়ে রাখা) আর এটার প্রমাণ হলো সুষুপ্ত পাঠক তার লেখার মধ্যে উমর এর বায়তুল মুকাদ্দাস এতে যাওয়ার কাহিনীটা। উক্ত ঘটনাটা মূলত আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া ৭ম খণ্ড (ইসলামিক ফাউন্ডেশন), পৃষ্ঠা : ১০৭-১০৮ এর একটা রেওয়াত। উক্ত রেওয়াত যদি আপনারা পড়েন তাহলে দেখতে পাবেন যে " উমর মূলত দরজা দিয়ে প্রবেশ করেছিল সেটা মূলত আল আকসার চারিপাশের যে দেওয়াল ছিল তার প্রবেশ দ্বার "। তো এখান থেকে আমরা বুঝতে পারলাম যে " রাসূল সাঃ মূলত বর্তমান ইমারত বিশিষ্ট যে মসজিদটি দেখি সেটার চারপাশের সে দেওয়াদ দিয়ে ঘেরা স্থান, তারও বিভিন্ন অংশের বর্ণনা দিচ্ছিল। আর কাফেররাও তার দোওয়া বর্ণনা সঠিক বলে রায় দেয়। অতএব সকল দিক পর্যালোচনা করে বুঝতে পারলাম যে " আল আকসা মসজিদকে কেন্দ্র করে সুষুপ্ত পাঠক এর বানানো কেচ্ছাটাই মূলত গাঁজা খুরি। আর এখন শেষ করব রাসূল সাঃ এর মিরাজের প্রমাণ দিয়ে। সীরাতুন নবী সাঃ ইবনে হিশাম ২য় খণ্ড (ইসলামিক ফাউন্ডেশন), পৃষ্ঠা : ৭৬-৭৭ একটা রেওয়াত পাবেন। সেটা ভালো করে পড়লে রাসূল সাঃ এর মিরাজ ও নবুয়তের সুস্পষ্ট প্রমাণ পাবেন ( রেওয়াত অনেক দীর্ঘ তাই নিজেরাই পড়ে নিবেন, এখানে আর উল্লেখ করলাম না; জাযাকাল্লাহ খাইরান )
তো লেখাটা এখানেই শেষ করছি।
সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন
কলমে: মোঃ মেহেদী হাসান ✍️✍️
প্রিন্স ফ্রেরাসে
প্রিন্স ফ্রেরাসে
প্রিন্স ফ্রেরাসে
আল্লাহ হাফেজ, আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।