#ইশ্বরের_বিরুদ্ধে_আনিত_১২_টা_যুক্তি_খন্ডন_পর্ব
আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
একটা পোস্ট দেখলাম, যার শিরোনাম হলো " ইশ্বরের বিরুদ্ধে ১২টি যুক্তি" এই পোস্টে বৈজ্ঞানিক কিছু থিওরি পেশ করে লিহন প্রাইম নামক একজন ব্যক্তি প্রমাণ করার চেষ্টা করলেন যে স্রষ্টা বলতে কেও নেই। আসলে তিনি অনেক চালাকি করেছে আর ত্যানাপ্যাচানো কথা বলেছেন। তার প্রত্যেকটা যুক্তি এখন ধরে ধরে খন্ডন করব ইনশাআল্লাহ
তো চলুন শুরু করা যাক।
তার প্রথম যুক্তি হলো
যুক্তি -১
_________________________
১) প্রিন্সিপাল অব কজালিটি: এ ধারণা অনুসারে মহাবিশ্বের সবকিছুর কারণ আছে। অতএব মহাবিশ্বেরও কারণ আছে। কিছু কিছু বিজ্ঞানী মনে করেন মহাবিশ্বের হয়তো নিজস্ব কারণ আছে অথবা এটি মহাবিস্ফোরণের মাধ্যমে প্রাকৃতিক নিয়মে তৈরি হয়েছে। এছাড়া সকল কারণের আদি কারণ যদি ঈশ্বর হয় তবে ঈশ্বরেরও কারণ থাকা উচিত। শন ক্যারল বলেন, কার্য- কারণ এন্ট্রপির সাথে সম্পর্কযুক্ত। এটি ফিজিক্সের আভ্যন্তরীণ কোনো বৈশিষ্ট্য নয়।
_______________________
খন্ডন
*******
এই প্রিন্সিপাল অফ কজালিটি ওইসব বস্তুর উপর প্রযোজ্য যার একটা শুরু আছে। এই প্রিন্সিপাল অফ কজালিটি কখনো আল্লাহ রব্বুল আলামিন এর উপর প্রযোজ্য না , কারণ তার কোনো শুরু নেই অতএব এই যুক্তি দিয়ে স্রষ্টার বিরুদ্ধে কখনো প্রমাণ হতে পারে না। আশা করি কথা ক্লিয়ার।
যুক্তি -২
________________________
২) প্রাকৃতিক নিয়মের উপস্থিতি: মহাবিশ্ব সুসঙ্গত প্রাকৃতিক নিয়ম অনুযায়ী কাজ করে যেমন: গ্র্যাভেটি ও ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিজম। পদার্থবিদ্যার আইন যেমন থার্মোডায়নামিক্স এবং গ্র্যাভেটি স্ট্যার ও গ্যালাক্সির গঠন ব্যাখ্যা করতে পারে, ঈশ্বরের দরকার হয় না।
______________________
খন্ডন
*****
প্রাকৃতিক নিয়ম এর উপস্থিতি কখনো স্রষ্টার বিরুদ্ধে নাকচ করার প্রমাণ হতে পারে না, বরং, এটা স্রষ্টার পক্ষে প্রমাণ হিসাবে কাজ করে। আমরা যখন একটা কম্পিউটার ব্যবহার করি তখন কম্পিউটার এর প্রোগ্রামগুলেই প্রমাণ করে যে একজন কারিগর আছে, ঠিক তেমনই প্রাকৃতিক এর নিয়মগুলো স্রষ্টার পক্ষে কাজ করে। ইউনিভার্স এর এত সুন্দর ডিজাইন এত পারফেক্ট ডিজাইন একজন স্রস্টাকে নির্দেশ করে। এই যুক্তি তখনই স্রস্টার বিরুদ্ধে কাজ করত যখন এটা প্রমাণ হতো যে এই ইউনিভার্স এর কনসিয়াসনেস আছে, যেহেতু সেটা নেই তাই এই যুক্তি স্রষ্টার বিরুদ্ধে কখনো কাজ করে না। আশা করি কথা ক্লিয়ার।
যুক্তি -৩
_________________________
প্রিন্সিপ্যাল অব অ্যানালজি: ন্যচারাল ওয়ার্ল্ড ও ইউনিভার্সের ভেতরকার যে সামগ্রিক সাদৃশ্যতা তা আমাদের বলছে যে একই প্রসেস যা গ্রহকে তৈরি করেছে সেটি আমাদের ইউনিভার্সকেও তৈরি করেছে।
____________________
খন্ডন
*******
আমি হাসবো নাকি কান্না করব সেটা ঠিক বুঝছি না। আচ্ছা এই ইউনিভার্স এর সৃষ্টির ব্যাপারে সবচেয়ে সহজ উত্তর দিয়েছে ইসলাম ধর্ম। সূরা বাকারার ১১৭ নাম্বার আয়াতে বলা হয়েছে যে " কুন বললেই সব হয়ে যায়"
কুন =কমান্ড=সাউন্ড=এনার্জি =ম্যাটার=ইউনিভার্স
আমার মনে হয় না যে বিজ্ঞান এত সহজ ব্যাখ্যা দিতে পারবে। অন্য ধর্মগুলোর কথা জানি না, তবে ইসলাম সৃষ্টি সম্পর্কে যে তথ্য দিয়েছে সেটা অতি সোজা। আর বিজ্ঞান সৃষ্টির ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আ্যবসুলিউটলি কোনো ব্যাখ্যা করতে পারে না। আর এই দিক দিয়ে দেখলে তিন নাম্বার যুক্তিটাও স্রষ্টার বিরুদ্ধে যায় না। আশা করি কথা ক্লিয়ার।
যুক্তি-৪
______________________
হিগস বোসন: হিগস বোসনের আবিষ্কার আমাদের নিশ্চিত করেছে যে, মহাবিশ্ব তৈরিতে হিগস ফিল্ড কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে। ঈশ্বর নয়।
______________________
খন্ডন
*******
হিগস- বোসন পার্টিকেল নিজে নিজে অস্তিত্বে আসে নি। যদি নিজে নিজে অস্তিত্বে আসতো তাহলে বলা যে তো যে হিগস বোসন পার্টিকেল তত্ত্ব অনুসারে ইউনিভার্স একা একা সৃষ্টি হতে পারে, স্রষ্টার কোনো ভূমিকা নেই। তাই এই যুক্তিও কখনো প্রমাণ করে না যে স্রষ্টা নেই। আশা করি কথা ক্লিয়ার।
যুক্তি -৫
_________________________ কসমিক মাইক্রোওয়েব ব্যাকগ্রাউন্ড রেডিয়েশন : সিএমবি, যেটি মহাবিস্ফোরণের সাপেক্ষে একটি প্রমাণ। এ তত্ত্ব অনুসারে, মহাবিশ্ব উত্তপ্ত ও ঘন একটি দশা থেকে তৈরি হয়েছে ও সময়ের সাথে সম্প্রসারিত হয়েছে।
_________________
খন্ডন
*******
আমি ঠিক বুঝলাম না এই তত্ত্ব দ্বারা স্রষ্টাকে নাকচ করা হলো কি করে? । আন্ড্রোস লিহন এর এই বিষয়টা আরেকটু ক্লিয়ার করা উচিত ছিল। আর এই " ঘন দশার বিষয়টা পবিত্র আল কোরআনের সূরা আম্বিয়ার ৩০ নাম্বার আয়াতে আগেই বলা হয়েছে। জ্ঞানীদের জন্য ইশারাই যথেষ্ট। তাই কিছু লেখলাম না। আশা করি কথা ক্লিয়ার।
যুক্তি -৬
______________________
ডার্ক ম্যাটার ও ডার্ক এনার্জির আবিষ্কার: ডার্ক ম্যাটার ও ডার্ক এনার্জি আমাদের মহাবিশ্বের বেশিরভাগ গঠন করেছে, এগুলো ন্যাচারাল ঘটনা, সুপারন্যাচারাল কিছু না
_______________________
খন্ডন
********
হুমম এটা অলৌকিক কিছুই না। তো তাতে কি হয়েছে। ঘটনা বা ইফেক্ট লৌকিক হোক আর অলৌকিক সেটা দিয়ে স্রষ্টার অস্তিত্বের বিরুদ্ধে কখনো কাজ করে না। আশা করি কথা ক্লিয়ার।
যুক্তি-৭
_______________________
ফাইন টিউন: ফাইন টিউনিং মহাবিশ্বের ধারণা থেকে আমরা জানতে পারি, ইউনিভার্স জীবনের জন্য ফাইন টিউন, এ বিষয়টি আমরা অ্যানথ্রেইপিক প্রিন্সিপলের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করতে পারি। ঈশ্বরের দরকার হয় না।
_____________________
খন্ডন
*******
প্রথম কথা হলো স্রষ্টা এই ইউনিভার্স এর অংশ না। যদি স্রষ্টা এই ইউনিভার্স এর অংশ হতো তাহলে এই কথাটা স্রষ্টার বিরুদ্ধে কাজ করত কারণ এই তত্ত্ব শুধু এই ইউনিভার্স এর অংশের ভিতরে কাজ করে। আশা করি কথা ক্লিয়ার।
যুক্তি -৮
________________________
মাল্টিভার্স থিওরি: মাল্টিপল ইউনিভার্সের অস্তিত্ব আমাদের নির্দেশ করছে যে, মহাবিশ্ব অসংখ্যের মধ্যে একটি, অন্যান্য মহাবিশ্বের ভিন্ন ভিন্ন বৈশিষ্ট্য ও আইন রয়েছে।
________________________
খন্ডন
********
পাল্টিভার্স এটা জাস্ট একটা পিডিকশন, এটা কোনো হাইপোথিসিস ও না। স্টিং থিওরি, শ্রোডিঙ্গারের বিড়াল পরিক্ষা, গ্রান্ড ফাদার পারাডক্স এর কিছু ব্যাখ্যার জন্য এই তত্ত্ব কে বিকল্প হিসাবে ধরা হয়। এর কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। আর হাস্যকর ব্যাপার হলো, যেখানে আমরা নিজেদের বিশ্ব সম্পর্কে কিছু জানি না, সেখানে তত্ত্ব দিয়ে দিলাম মাল্টিভার্স এর। তাই এই অপ্রমাণ একটা বিষয় কখনো স্রস্টার বিরুদ্ধে কাজ করতে পারে না। আশা করি কথা ক্লিয়ার।
যুক্তি -৯
_______________________
সায়েন্টিফিক মিডট: বিজ্ঞান প্রমাণ ও পুনরুৎপাদনযোগ্যতার ওপর নির্ভর করে। আর অনেক প্রাকৃতিক ঘটনা ব্যাখ্যা করার জন্য এ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়, ঈশ্বরের অস্তিত্বের সাপেক্ষে কোনো সায়েন্টিফিক সাপোর্ট নেই।
________________________
খন্ডন
******
এখানে আন্ড্রোস লিহন লজিক্যাল ফ্যালাসির ব্যবহার করেছে। তার কথার শুরুর সাথে শেষের কোনো যোগসূত্র নেই। জিনিসটা এই রকম " আম গাছে যেহেতু বিভিন্ন প্রকারের আম ধরে তাই কাঠাল গাছেও বিভিন্ন আকারের কাঠাল আছে অতএব জাম গাছ এর কোনল অস্তিত্ব নেই । জ্ঞানীদের জন্য ইশারাই যথেষ্ট। আশা করি কথা ক্লিয়ার।
যুক্তি-১১
_____________________
র্যান্ডমনেস ও প্রবাবিলিটি: মহাবিশ্ব বিশৃঙ্খলা ও সম্ভাবনা দ্বারা পরিচালিত, যে প্রক্রিয়ায় কমপ্লেক্স স্ট্র্যাকচার তৈরি হয়ে পারে যেমন: গ্যালাক্সি ও লাইফ।
______________________
খন্ডন
******
গ্রলাক্সি কিভাবে তৈরি সেটা দিয়ে স্রষ্টার সৃষ্টির উপরও তো কোনো প্রশ্ন করা যাবে না, তাহলে স্রষ্টা নেই সেই বিষয় কিভাবে প্রমাণ করে। আর হ্যা এটা শুধু জড় বস্তুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। যেমন : বিমান, রকেট ইত্যাদি ইত্যাদি। আশা করি কথা ক্লিয়ার।
শেষ যুক্তি -১২
_______________________
বিবর্তন: ডারউইনের বিবর্তন এ গ্রহে জীবনের বৈচিত্র্যতা ব্যাখ্যা করতে পারে কোনো প্রকার ঈশ্বরের সাহায্য ছাড়াই।
____________________
তো এটা আর খন্ডন করলাম না। কেন এই বিষয়ে কিছু লেখলাম না সেটা হয় তো বুঝে গেছেন ।
তো এই ছিল তাঁর ভ্রান্ত যুক্তির.....
তো লেখাটা এখানেই শেষ করছি।
সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন
কলমে: মোঃ মেহেদী হাসান ✍️✍️✍️
আল্লাহ হাফেজ, আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
#প্রিন্স_ফ্রেরাসে
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।