#দত্তক_নেওয়া_সম্পর্কে_ইসলামের_বিধান_কি?
আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
দত্তক অবশ্যই একটা ভালো কাজ। কিন্তু এটার মধ্যেও কিছু মাথা- মোটা নাস্তিক খারাপ বিষয় দেখে। হাদীসের কথাকে পুরো ১০০ ডিগ্রি ঘুড়িয়ে মূলভাব সড়িয়ে অর্থ ও ভাবার্থ বিকৃত করাতে যেন তারা পুরাই পাকা। তাই বিষয়টা ক্লিয়ার থাকা দরকার।
তো চলুন শুরু করা যাক।
আমাদের বুঝতে হবে যে দক্তক ক্ষেত্র বিশেষ অবশ্যই পুন্যের কাজ হসাবে গণ্য হবে। কেও যদি কোনো সন্তানকে লালন- পালন করতে চাই তাহলে করতে পারবেন। তবে সন্তানটা হতে হবে ইয়াতিম সন্তান। দত্তক মানে হলো ' কোনো সন্তান এর দায়িত্ব নেওয়া; তাকে লালন- পালন করে বড় করা '। এখন এই সংজ্ঞা অনুযারি দত্তক নিতে পারবেন। যেমন রাসূল সাঃ বলেন " যে লোক ইয়াতিম এর দায়িত্ব গ্রহণ করে এবং তাকে লালল - পালন করে সে জান্নাতে যাবে "( তিরমিজি -১৯১৭)
উক্ত হাদীসের আলোকে বুঝা যাচ্ছে যে দত্তক নেওয়া ইসলামে ১০০% জায়েজ। শুধু দায়িত্ব কেন আপনি যদি তার অভিভাবক ( পিতা-মাতা, ভাই- বোন বা অন্য কিছু) হতে চান তাহলেও হতে পারবেন, যেমন : রাসূল সাঃ বলেন " ইয়াতিম এর অভিভাবক জান্নাতে থাকবে ( বুখারী শরীফ - ৬০০৫) এই হাদীস থেকে বুজা যাচ্ছে যে ইয়াতিম এর অভিভাবকও হওয়া যাবে। তবে এখানে কিছু পয়েন্ট আছে, সেটা হলো পিতা হওয়ার ক্ষেত্রে । ইসলামে নিজ পিতা ব্যাতিত অন্য কোনো পর- পুরুষকে ঔরসজাত পিতা হিসাবে মানা নিঃসন্দেহে হারাম ও কবিরাহ গুনাহ 'কথাটা সবারই জানা'। যদি দেখা যাক দত্তক নেওয়া সন্তান এর আসল পিতার পরিচয় আছে তাহলে সন্তান তার আসল পিতার পরিচয়ে বড় হবে। পাসপোর্ট, জন্ম নিবন্ধন , ভোটার আইডি কার্ডসহ যাবতীয় কাগজ- পত্রে দত্তক নেওয়া সন্তান এর আসল পিতার ও মাতার পরিচয় থাকবে। যদি আসল পিতার পরিচয় না পাওয়া যায় তখন আপনি আইনি ঝামেলা এড়ানোর জন্য ওসব কাগজে নিজের আর নিজ স্ত্রী পিতা- মাতা হিসাবে নাম দিতে পারেন ( বর্তমানে সন্তান এর কাগজ পত্রে পিতা মাতার পরিচয় থাকা আবশ্যক ) । কিন্তু দত্তক নেওয়া সন্তানকে এটা জানাতে হবে যে আপনি তার ঔরসজাত পিতা নন। আর সন্তানরও উচিত তার আসল বাবা মার প্রতি ইমান আনা। আশা করি কথা ক্লিয়ার। এখন আসি আরেকটা পয়েন্টে। অনেককে ফতোয়া দিতে শুনি যে আপন বাবা মা ছাড়া কাওকে বাবা মা ডাকা যাবে না। এটা আংশিক সত্য। আপনি নিজ মা ছাড়া অন্য কোনো নারীকে মা ডাকতে পারবেন ( আপন বোন এবং আপনার আপন, চাচাতো মামাতো, ইত্যাদি ইত্যাদি বোন ছাড়া) যেমন রাসূল সাঃ ডেকেছেন ( মাযমাউয যাওয়াইদ- ১৫৩৯৯ ; সংগৃহীত রেফারেন্স ) তবে মা ডাকট হবে শুদু মমতাময়ী বা স্নেহ বসত, যে কিনা আপনাকে মায়ের মতো আদর করে বা ভালোবাসে বা আপনাকে তার সন্তানের চোখে দেখে ' কথাটা মাথাই থাকে যেন। এখন অনেকে বলতে পারেন যে সে স্নেহময়ী মা ( মানে নিজ মা না বরং লালন- পালনকারী মা; যে আপনাকে সন্তানের চোখে দেখে) সে কি আপনাকে পুত্র বলে সম্বোধন করতে পারবে বা স্নেহময়ী বাবা কি আপনাকে পুত্র বলে সম্বোধন করতে পারবে। উত্তর হলো হ্যা পারবে ; যেমন রাসূল সাঃ তার সহকারী সাহাবি আনাস ইবনু মালিককে স্নেহ বা ভালোবেসে পুত্র বলে ডাকতেন ( মুসলিম-২১৫১) এখন আরও একটা পয়েন্ট উল্লেখ করতে চাই, সেটা হলো ' মাতা - পিতার মতো' এরকম ধারণা কি ইসলাম সমর্থন করে?' উত্তর হলো হ্যা করে, যেমন হাদীসে রাসূল নিজেকক পিতার মতো বলেছেন ( আবু দাউদ-৮) আবার কোরআনে রাসূল সাঃ এর স্ত্রীদের কে আমাদের মা বলা হয়েছে ( সূরা আহযাব-৬) তো এখান থেকে বুজা যাচ্ছে যে ' মা ও পিতার মতো ' ধারণা ইসলাম সমর্থন করে। আশা করি কথা সম্পূর্ণ ক্লিয়ার
উপস্থাপক: মোঃ মেহেদী হাসান ✍️
#প্রিন্স_ফ্রেরাস
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।