বিধর্মী ও নাস্তিকদের ভ্রান্ত দাবি ও সংশয় নিরসন
আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
এক নজরে অভিযোগ
১. জিহাদ মানে হলো জঙ্গিবাদ, কারন এর মাধ্যমে বিনা কারনে ( বিধর্মী) মানুষকে হত্যা করে
২. মুসলিমরা বিধর্মীদের সম্পদ লুন্ঠন করে
৩. নবী সাঃ বিধর্মীদের বিদ্বেষ করতেন এবং তার অনুসারীরাও
আমাদের দুটো পয়েন্ট
পয়েন্ট ওয়ান: জবাব
পয়েন্ট টু: অন্যান্য ধর্মে জঙ্গিবাদ
পয়েন্ট নাম্বার ওয়ান
____________________
প্রশ্ন -১: জিহাদ মানে হলো জঙ্গিবাদ, কারন এর মাধ্যমে বিনা কারনে ( বিধর্মী) মানুষকে হত্যা করে
জবাব: নাস্তিক ও অমুসলিমরা জিহাদ বলতেই বুঝে শুধু হত্যা আর হত্যা। তারা জিহাদ সম্পর্কে নূন্যতম জ্ঞানও রাখে না। জিহাদ অবশ্যই যুক্তিসঙ্গত। তারা হয় তো জানে না জিহাদ কখন করতে হয়। আল্লাহ রব্বুল আলামিন বলেন " যে পযন্ত না তারা তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে ততক্ষণ তোমরা তাদের সাথে যুদ্ধ কর না ; যদি তারা তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে তাহলে তোমরাও যুদ্ধ ( হত্যা) কর ( ২ নং সূরা বাকারার ১৯১ নং আয়াত) । এখানে একটা শর্ত দেওয়া হয়েছে। সেটা হলো যতক্ষণ আমাদের ( মুসলিমদের) কেও আক্রমণ করবে না ততক্ষণ আমরাও তাদের আক্রমণ করব না, অর্থাৎ জিহাদ করব না। আর এটা সম্পূর্ণ বাস্তব সম্মত এবং প্রকৃতিজাত। কোনো জাতি যদি আরেক জাতিকে আক্রমণ করে তাহলে সেই জাতিও আক্রমণ করবে। উদাহরন স্বরুপ আমাদের ভারত মুক্তিযুদ্ধ। যখন ব্রিটিশরা আমাদের এদেশে আসলে তখন তাদের কে আমরা কিছুই বলি নি, কিন্তু যখন তারা আমাদের এই উপমহাদেশের মানুষদের
..... তখন আমাদের ভারত উপমহাদেশের লোক এক হয়েছিল আর তাদের......। তো আমার বিধর্মী ও নাস্তিকদের কাছে দুটো প্রশ্ন? ১. ভারতের স্বাধীনতা যুদ্ধ যদি ন্যায় হয় তাহলে আমাদেরটা ( মুসলিমদেরটা) কেন অন্যায়?? বিধর্মীরা জবাব দিবেন। ২. বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ যদি ন্যায় হয় তাহলে রাসূল এর জিহাদ কেন অন্যায়????। তো মূল কথা হলো কেও আমাদের আক্রমণ করলে আমরাও করব। আর এই নীতি সকল জাতিতেই আছে স্বভাবগত। আর হ্যা আমরা ততক্ষণ পযন্ত তাদের সাথে জিহাদ করব যতক্ষণ না তারা আক্রমণ বন্ধ না করে ( বাকারাহ -১৯৩) এবং কি যদি কেও ( মানে অমুসলিমরা আত্মসমর্পণ করার পরেও যদি) আক্রমণ বন্ধ করার পর কোনো মুসলিম আক্রমণ চালিয়ে যায় তাহলে আল্লাহ রব্বুল আলামিন এটাকে কঠরভাবে নিষেধ করেছে এবং বাড়াবারি বলে সাবস্ত করেছে ( সূরা বাকারা -১৯০) আর একটা মজার ব্যাপার হলো জিহাদের মধ্যেও আল্লাহ রব্বুল আলামিন শালীনতা বজার রাখতে বলেছে। জিহাদ এর সময় আক্রমণ দলের সামরিক বাহিনী ব্যাতিত ওই সামরিক দলের অন্যান্য সদস্যকে ক্ষতি করা যাবে না । যেমন আল্লাহ রব্বুল আলামিন বলেন " وَ قَاتِلُوۡا فِیۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ الَّذِیۡنَ یُقَاتِلُوۡنَکُمۡ وَ لَا تَعۡتَدُوۡا ؕ اِنَّ اللّٰہَ لَا یُحِبُّ الۡمُعۡتَدِیۡنَ ﴿۱۹۰﴾
যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে, তোমরাও আল্লাহর পথে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কর, তবে বাড়াবাড়ি (সীমালংঘন) করো না,[১] নিশ্চয় আল্লাহ বাড়াবাড়িকারীদেরকে পছন্দ করেন না। [১] এই আয়াতে প্রথমবার সেই লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যারা মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ছিল। আর 'বাড়াবাড়ি করো না'র অর্থ হল, শত্রুর আঙ্গিক বিকৃতি ঘটায়ো না, মহিলা, শিশু এবং এমন বৃদ্ধকে হত্যা করো না, যে যুদ্ধে কোন প্রকার অংশগ্রহণ করেনি। অনুরূপ গাছ-পালা বা ফসলাদি জ্বালিয়ে দেওয়া এবং কোন অভীষ্ট লাভ ছাড়াই পশু-হত্যা করা ইত্যাদিও বাড়াবাড়ি বলে গণ্য হবে, যা থেকে বিরত থাকতে হবে। (ইবনে কাসীর) [ বাকার ১৯০ আয়াতের তাফসির এর " তাফসীরে আহসানুল বয়ান দ্রষ্টব্য ]
এখন আপনারাই বলুন মুসলিমদের জিহাদ কোন আঙ্গেল থেকে খারাপ মনে হয়???? প্রশ্নটা সবার কাছে। তো এখন একটা আয়াত দেখিয়ে এই বিষয়টা শেষ করতে চাই। আল্লাহ রব্বুল আলামিন বলেন " যে একজনকে হত্যা করল সে সমগ্র দুনিয়ার মানুষকে হত্যা করল ( মায়েদাহ-৩২)
প্রশ্ন -২: মুসলিমরা বিধর্মীদের সম্পদ লুন্ঠন করে
জবাব: এটাই ভ্রান্ত অভিযোগ । আমরা মুসলিমরা কখনো কখনোই কারো সম্পত্তি লুন্ঠন করি না। আল্লাহ রব্বুল আলামিন এই ব্যাপারে কঠর নির্দেষ দিয়েছে। আল্লাহ রব্বুল আলামিন বলেন
" তোমরা অন্যায়ভাবে সম্মত্তি গ্রাস কর না " ( বাকারাহ -১৮৮)
আল্লাহ রব্বুল আলামিন নিজে এই বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করছে। তাই নাস্তিক ও বিধর্মীদের এই অভিযোগও ভ্রান্ত । তো এই বিষয়টা শেষ করব আরেকটা আয়াত দ্বারা। আল্লাহ রব্বুল আলামিন বলেন " ধর্মে লোনো জবরদস্তি নেই " ( বাকারা -২৫৬)
প্রশ্ন-৩: ৩. নবী সাঃ বিধর্মীদের বিদ্বেষ করতেন এবং তার অনুসারীরাও
জবাব: যারা এই কথাটা বলে তাদেরকে শুধু একটা হাদীস দেখাতে চাই, সেটা হলো
" রাসূল বলেন " কোনো মুসলিম কোনো বিধর্মীর অধিকার ক্ষুন্ণ করা হয় তাহলে আমি (রাসূল) নিজে ওই মুসলিমের বিরুদ্ধে আল্লাহর আদালতে লড়াই করব ( আবু দাউদ - ৩০৫২)"
তো এখন নাস্তিক ও বিধর্মীরা কি বলবেন একটু বলে যান।
এই বিষয়টাও একটা আয়াত দিয়ে শেষ করব এখন। আল্লাহ রব্বুল আলামিন বলেন " তোমার ধর্ম তোমার আমার ধর্ম আমার " ( সূরা কাফিরুন- সর্বশেষ আয়াত) ।
তো আমরা তাদের কমন তিনটা অভিযোগের জবাব দিলাম পয়েন্ট ওয়ান এতে। এখন আমরাও একটু পাল্টা আক্রম করি যেহেতু তারা আমাদের এই বিষয়ে আমাদের আক্রমণ করেছে । তো চলুন পয়েন্ট টুতে প্রবেশ করি।
পয়েন্ট নাম্বার টু
________________
★ খ্রিষ্টান ধর্ম-
খ্রিষ্টানরা যে কত বড় জঙ্গি তা প্রমাণ করার জন্য একটা পদই যথেষ্ট । বাইবেলের মথি ১০ এর পদ ৩৩ থেকে ৩৫ এতে বলা হয়েছে - যীশু বলেন-" আমি ( যীশু) পৃথিবীতে শান্তি দিতে আসে নি, আনি এসেছি তলোয়ার দিতে ( মথি ১০/৩৩-৩৫ *সংক্ষিপ্ত*)
তো খ্রিষ্টানদের প্রভুই বলছে৷ সে নাকি দুনিয়াতে শান্তি নিয়ে আসে নায়। তাহলে যে ধর্মে শান্তির কথা বলা নেয় বরং অশান্তি ( তরবারির কথা) বলা হয়েছে, সে ধর্ম যে কত সাধু তা আপনারাই চিন্তা করুন। আর হ্যা, হিন্দু ভাইদের একটা কথা বলি, কারন বাইবেলে আপনাদের ( দেবতা ও মূর্তিপূজকদের) ব্যাপারে বাইবেলে বলা হয়েছে যে " তোমরা মূর্তিগুলো ভেংগে ফেলো -( যাত্রাপুস্তক ৩৪/১৩ ও ১৪) । শুধু কি মূর্তি বরং মূড়তিপূজারিদেরও হত্যা করতে হবে ( যাত্রাপুস্তক ২২/২০) । তাই হিন্দুরা সাবদান সাবধান ।
★ হিন্দু ধর্ম -
এই ধর্ম এর জঙ্গিবাদ নিয়ে কিছু বলার নেই। এরা যে কত বড় জঙ্গি সেটা তাদের গ্রন্থগুলো পড়লেই বুঝা যায়। আমি শুধু রেফারেন্স দিয়ে দিচ্ছি।
" অথর্ববেদ ৬/৬/২ "
" শতপথ ব্রাহ্মণ ২/৮/১/২ "অথর্ববেদ ৮/৪/১৬ " ইত্যাদি ইত্যাদি
তবুও একটা শ্লোক দেখিয়ে দেয়।
শাস্ত্র বলে " নাস্তিকদের [নাস্তিক হলো তারা যারা বেদ মানে না ( মনুসংহিতা ২/১১) অর্থাৎ, হিন্দুরা ব্যাতিত পৃথিবীর সকল ধর্মের লোক নাস্তিক, কারন বিধর্মীরা তো হিন্দুদের বেদ মানে না ] ঘড়- বাড়ি লুন্ঠন করতে হবে এবং সবকিছু কেড়ো নিতে হবে ( ঋগ্বেদ ৩/৫৩/১৪ এবং নিরুক্ত ৩/৬/৩২)
তো এখন আপনারাই বলুন.....
তো এই ছিল সংক্ষিপ্ত আকারে কিছু লেখা।
এখন আপনারাই বলুন কারা জঙ্গি হিন্দু, খ্রিষ্টান নাকি আমরা মুসলিমরা ।
জ্ঞানীদের জন্য ঈশারায় যথেষ্ট । তো লেখাটা একটা আয়াত দিয়ে শেষ করগ। আল্লাহ রব্বুল আলামিন বলেন
" বল সত্য এসেছে এবং মিথ্যা বিলুপ্ত হয়েছে মিথ্যা তো বিলুপ্ত হওয়ার ছিল (আল কোরআন- ১৭/৮১)
তো সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন
কলমে: মোঃ মেহেদী হাসান ✍️✍️✍️
আল্লাহ হাফেজ, আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
Md Mehedi Hasan
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।