#নাস্তিকদের_যুক্তি_খন্ডন_পর্ব
আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
প্রথম কথা তার দেওয়া প্রায় পয়েন্ট গুলোতে আমি সহমত যে কোরআনে এসব নেই.....। কিন্তু কিন্তু কিন্তু ! আমার কথা হলো কোরআনে নেই তাতে কি হয়েছে? কোরআনের কোথায় বলা হয়েছে যে দুনিয়ার সব কোরআনে থাকতে হবে আর আমরা শুধু কোরআনকে মান্য করব ? । প্রত্যেক মুসলিম এর জন্য চূড়ান্ত দলীল হলো দুটি
১. কোরআন
২. হাদীস
আল্লাহ যেমন নবীজির উপর কোরআন নাযিল করেছে ঠিক একই রকম কোরআনের পর্যায়ে নবীজিকে আরেকটা বিশেষ জিনিস প্রদান করা হয়েছে আর তা হলো হাদীস। আমাদের দলীল শুধু কোরআন না বরং নবীজির হাদীসও আমাদের দলীল
হাদীসের তিন ভাগ
কাওলি
ফিলি
তাকরিরি
কাওলী হাদীস মানার দলীল -
সূরা নূর, আয়াত 54:
"বলুন, 'আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশে যতটুকু আশা করা হয়, সেটাই করুন
কাওলি হাদীস হলো নবীজির মুখনিঃসৃত হাদীস। আর এই আয়াতে সরাসরি বলা হয়েছে নবীজি যা বলেন বা নির্দেশ করেন তা মানতে হবে অর্থাৎ তার মুখ নিঃসৃত কথাও আমাদের জন্য হুজ্জাত বা দলীল
ফিলি হাদীস মানার দলীল -
সূরা আহযাব, আয়াত 21:
"তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।
ফিলি হলো নবীজির কর্মগত হাদীস। উক্ত আয়াতে নবীজির আদর্শের মান্যতার সাক্ষী পাওয়া যায়, আর আদর্শ মানুসের কর্মের দ্বারা প্রকাশ পেয়ে থাকে। আর এই আয়াতই ফিলি হাদীস এর দলীল বহন করে। আরও আছে আয়াত এর স্বপর্ক্ষে। তবে আমি একটা পেশ করলাম...
তো আমরা এই দুটো পয়েন্ট এর হাদীস দিয়ে ডিবাংক করব সবগুলো দাবি, তাই আলাদা করে তাকরিরি হাদীস প্রসঙ্গে কিছু বললাম না.....
প্রথম দাবি -
আমিন বলার কথা বাইবেলে আছে লোরআনে নেই
জবাব: পোস্ট এতে কথার পক্ষে যে রেফারেন্স আছে সেখানেও আমিন বলতে হবে দোয়ার শেষে তা উল্লেখ নেই, বরং আমেন শব্দটা উল্লেখ আছে , আমেন শব্দ উল্লেখ থাকা আর আমেন বলা দুটো বিষয় এক না! লেখক মনে হয় তা জানতেন না.... । বাই দা ওয়ে আমি আগেই বলেছি কোরআন আমাদের দলীল না বরং হাদীসও আমাদের দলীল। তো চলুন দেখা যাক হাদীস এতে আমিন বলার ব্যাপারে কি বলা আছে।
আল্লাহর রাসূল সাঃ বলেন ( কাওলি হাদীস)
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন তোমাদের কেউ (সালাতে) ‘আমীন’ বলে, আর আসমানে মালাইকাহ্ ‘আমীন’ বলেন এবং উভয়ের ‘আমীন’ একই সময় হলে, তার পূর্ববর্তী সমস্ত পাপ ক্ষমা করে দেয়া হয়।* (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭৩৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৪৫)
[ সহীহ বুখারী-৭৮১ : তাওহীদ পাবলিকেশন ]
হাদীসটা বুখারীর, আর বুখারীর হাদীস যে পিওর সহীহ এই ব্যাপারে উম্মাহর ইজমা আছে। অতএব কোনো মেন্টাল এসে বলতে পারবে না যে এটা যঈফ জাল ইত্যাদি ইত্যাদি.... ।
তো আমরা হাদীস থেকে আমিন বলার দলীল দিয়ে তার প্রথম দাবির খন্ডন করলাম...
দ্বিতীয় দাবি-
বাইবেলে চবি ভাষ্কর্য তৈরিতে নিষেধ আছে লোরআনে নেই
জবাব: কোরআনে ছবির ব্যাপারে কিছু বলা হয় নি, তবে মূর্তির ব্যাপারে আছে
দলীল -
সুতরাং মূর্তিপূজার অপবিত্রতা থেকে বিরত থাক এবং মিথ্যা কথা পরিহার কর- আল-বায়ান, ( হজ্ব -৩০)
এখানে মূর্তির অপবিত্রা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে, আর আয়াতটা নিষেধবাচক। অর্থাৎ মূর্তি যে হারাম তা কোরআন থেকে প্রমাণিত। আর ছবির ব্যাপারে কোরআনে আয়াত না থাকলেও হাদীসে আছে -
দলীল-
আবদুল্লাহ ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ) থেকে শুনেছি এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন যে, (কিয়ামতের দিন) মানুষের মধ্যে সব থেকে শক্ত শাস্তি হবে তাদের, যারা ছবি তৈরি করে।[1][মুসলিম ৩৭/২৬, হাঃ ২১০৯, আহমাদ ৩৫৫৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫১৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪১৩)
[ বুখারী-৫৯৫০ : তাওহীদ পাবলিকেশন ]
রাসূল সাঃ এর কাওলি হাদীসি প্রমাণ করে যে ছবির হুকুম আসলে কি!....
তৃতীয় দাবি- বাইবেলে ধর্ম যাজকদের দাঁড়ি রাখার কথা আছে কোরআনে নেই...
জবাব: কোরআনের ধর্মগুরু বা যাজক ( যাদর নবী বলে আমরা চিনি) দাঁড়ির ব্যাপারটা এসেছে..
দলীল-
হারূন বললেন: ‘হে আমার সহোদর! আমার দাড়ি ও চুল ধরবেন না। আমি আশংকা করেছিলাম যে, আপনি বলবেন: তুমি বনী ইসরাঈলদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করেছো ও আমার কথা শোনায় যত্নবান হও নি।” [সূরা ত্বাহা, আয়াত: ৯৪]
তো আমরা বুঝতে পারলাম যে লেখক তৃতীয় পয়েন্ট এতে যে দাবি করেছে তা বাতিল ও প্রত্যাখ্যাত....
আর তার দেওয়া রেফারেন্স এতে যাজকদের দাঁড়ি রাখার কথা আছে, কিন্তু উম্মতে মুহাম্মদীর জন্য সকল সাবালক যুবকদের দাঁড়ি রাখা সাব্যস্ত হয়েছে..
দলীল-
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম গোঁফ ছোট করতে এবং দাড়ি বড় করে রাখতে আদেশ করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৯২, ইসলামিক সেন্টারঃ ৫০৮)
[ সহীহ মুসলিম-৪৮৯ : হাদীস একাডেমি ]
এই হাদীসে আমাদের দাঁড়ি রাখার ব্যাপারে সরাসরি রাসূল সাঃ এর আদেশ এসেছে...
লেখা চলবে ইনশাআল্লাহ...........
[ বিশেষ পয়েন্ট - আমি এখানে মাফু সূত্রে কাওলি হাদীস উল্লেখ করার চেষ্টা করেছি এবং আদেশবাচক হাদীসগুলোকে নিয়ে আসার চেষ্টা করেছি আর এগুলো পিওর সহীহ ইনশাআল্লাহ , অর্থাৎ এগুলো রাসূল সাঃ এর বলা বাণী তাতে সন্দেহ নেই। তো আমি এখন আরও দুটো দলীল পেশ করব কোরআন থেকে, যা মুসলিম হিসাবে নবীজির এসব হাদীস মানতে বাধ্য করবে...
দলীল -১
যে রাসূলের আনগত্য করলো, সে আল্লাহরই আনগত্য করলো। আর যারা মুখ ফিরিয়ে নেয় আমরা আপনাকে তাদের ওপর রক্ষক নিযুক্ত করি নি”। (সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৮০)
একানে নবীজির আনুগত্য এর কতা বলা হয়েছে, আর নবীজির আনুগত্য এর বিষয়গুলো তখনই মানা যাবে যকন তার ব্যাপারে আমরা জেনে থাকবো, আর তার সকল কর্ম কথা আছে হাদীসের কিতাবে। মুহাদ্দিসরা চুলছেরা বিশ্লেষণ করে সহীহ হাদীসগুলোকে আলাদা করেছেন, আর এসব হাদীসের কথা মানলেই আমরা নবীজির আনুগত্য করতে পারবো, তা ছাড়া নয়.....
দলীল - ২
হে ঈমানদারগণ, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের নির্দেশ মান্য করো এবং শোনার পর তা থেকে বিমুখ হয়ো না।’ (সুরা : আনফাল, আয়াত: ২০)
এই আয়াতে ডাইরেক্ট নবীজির আদেশ মান্য করতে বলা হয়েছে। অতএব বিশুদ্ধ হাদীসে প্রমাণিত তার এই কথাগুলো আমাদের মান্য করতে হবে, যদি কেও তা মান্য না করে তাহলে সে কাফের, কেননা আল্লাহ রব্বুল আলামিন পবিত্র কোরআনে সুস্পষ্ট ভাবে বলেন যে -
আর সে মনগড়া কথা বলে না। আল-বায়ান ( নাজম-৩)
এখানে নবীজির কথা বলা হয়েছে আর এটা বুঝার জন্য, হাদীস, তাপসীর, শানে নুযুল জানার প্রয়োজন নেই বরং আগের আয়াতটা দেখলেই হবে....। তো আল্লাহ বলছেন নবীজি মন গড়া কিছু বলেন না, তো নবীজি যদি মন গড়া কিছু না বলে থাকেন তাহলে মারপু সূত্রে কাওলি হাদীস গুলো যারা মানে না তারা কাফের নয় তো কি? ..... ]
#প্রিন্স_ফ্রেরাসে
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।