#নাস্তিক_ও_বিধর্মীদের_মিথ্যাচারের_জবাব
সিরিজ পর্ব-৩৫২
কোরআনে কি স্ত্রী প্রহারের কথা বলা হয়েছে?
আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
তার ছয়টা পয়েন্ট
১. আমি মিথ্যা বলেছি
২. ( ইসলাম অনুসারে/তার মতে) স্বামী নাকি স্ত্রী এর প্রভু
৩. কোরআনে বউ পিটানোর কথা বলা আছে
৪. কোরআন( সে কোরআনকে উদ্দেশ্য করেছে সেটা তার কথাতে বুঝা যায়..) সরাসরি নাকি প্রভু বলেছে স্বামীদের..
৫. ইসলাম নাকি নারীদের কোনো অধিকার দেই নি!
৬. যৌন দাসি এর কথা কি কোরআন আছে?
আল- জওয়াব:
প্রথম কথা, আমি একটা মেহেদী হাসান আইডি দিয়ে একটা কমেন্ট করে ছিলাম, কমেন্ট এর সারাংশ ছিল " ইসলামে উত্তরাধিকার আইন নিয়ে..." তো একজন আমার কমেন্ট এর রেপলাই করে এবং আমাকে মিথ্যাবাদী বলে!
বাই দা ওয়ে আমি কি মিথ্যা বলেছি তার কোনো প্রমাণ সে দিতে পারে নি, অতএব তার প্রথম বাক্য আমি বাতিল বলছি...
দ্বিতীয় তো, কোরআন এবং হাদীসের কোনো জায়গাতে স্বামীকে প্রভু বলা হয় নি! এক কথায় ইসলাম / শরীয়াহ এর কোনো জায়গাতে উল্লেখ নেই যে স্বামী হলো প্রভু, এটা সম্পূর্ণ তার নিজ ধর্ম, অর্থাৎ হিন্দু ধর্মের কথা ( রেফারেন্স : মনুসংহিতা -৫/১৫৪ -১৫৫ পড়লেই বুঝবেন যে স্বামী হলো দেবতার মতো বা প্রভু!) । এক কথায় সে নিজের ধর্মের প্রবাদ আমাদের ধর্মে চালিয়ে দিচ্ছে , যেটা হাস্যকর!
তৃতীয় তো, তার মূল পয়েন্ট হলো বউ পিটানো সম্পর্কে বা বউ প্রহার করার ব্যাপারে, আর যেমনটা আমি আমার পোস্ট এর শিরোনাম দিয়েছি! । যাইহোক, বউ পিটানো বা প্রহার করার ব্যাপারে ইসলাম এর অবস্থান কি সেটা এখন দেখে নিবো -
আল্লাহর রাসূল সাঃ বলেন, তোমরা স্ত্রীকে প্রহার কর না.. ( মিশকাতুল মাসাবিহ-৩২৪২: রেওয়াতের মান সহীহ ইনশাআল্লাহ ..) এরকম অনেক হাদীস আছে যেখানে স্ত্রীকে আঘাত করা নিষেধ ... ।
ইসলাম স্ত্রীকে আঘাত করার কথা বলবে তো দূরের কথা! বরং বলা হয়েছে যে " হাদীস-
আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে ঈমানে পরিপূর্ণ মুসলিম হচ্ছে সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী ব্যক্তি। যেসব লোক নিজেদের স্ত্রীদের নিকট উত্তম তারাই তোমাদের মধ্যে অতি উত্তম। ( তিরমিজি-১১৬২: হাসান/ তাহকীককৃত..)
তো দেখুন উত্তম বলা হয়েছে ওই মুসলিম পুরুষকে যে তার স্ত্রী এর কাচে উত্তম! । তো আপনারাই বলুন একজন নারীর প্রতি এরকম সহনশীল আর মর্যাদা ইসলাম ব্যাতিত আর কোনো ধর্ম দিয়েছে কি? যেখানে একজন পুরুষ এর ভালো মন্দ বিচার করা হয় " স্ত্রী এর সাথে উত্তম ব্যবহার করার " মানদন্ডে? ।
আফসোস হয় ওসব জাহেলদের ব্যাপারে যারা এসব হাদীস দেখেও দেখে না এবং বুঝেও বুঝে না...
এখন আসি তার কোরআনের একটা আয়াতের ভিত্তিতে বলা অপবাদ এর উপর। সূরা নিসা-৩৪ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন-
"পুরুষরা নারীদের তত্ত্বাবধায়ক, এ কারণে যে, আল্লাহ তাদের একের উপর অন্যকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন এবং যেহেতু তারা নিজদের সম্পদ থেকে ব্যয় করে। সুতরাং পুণ্যবতী নারীরা অনুগত, তারা লোকচক্ষুর অন্তরালে হিফাযাতকারিনী ঐ বিষয়ের যা আল্লাহ হিফাযাত করেছেনে। আর তোমরা যাদের অবাধ্যতার আশঙ্কা কর তাদেরকে সদুপদেশ দাও, বিছানায় তাদেরকে ত্যাগ কর এবং তাদেরকে (মৃদু) প্রহার কর। এরপর যদি তারা তোমাদের আনুগত্য করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কোন পথ অনুসন্ধান করো না। নিশ্চয় আল্লাহ সমুন্নত মহান" ( কোরআন-৪/৩৪)
এখানে আয়াতে প্রহার শব্দটা দেখেই সে স্ত্রীদের মারার জন্য ইসলাম তাগিদ দেই এটা বুঝে গেল!। আয়াতের প্রথমটুকু সে ভালো করে পড়ে নি কখনো! এখানে প্রহার বলতে লাঠি দিয়ে পিঠানো বা কঠিন ভাবে ম্যাইর দেওয়া উদ্দেশ্য না বরং শাসন এর উদ্দেশ্যে হালকা করে ভয় দেখানো উদ্দেশ্য , এবং এই হালকা প্রহারে যেন স্ত্রী এর ক্ষতি না হয় তাও তাফসীরে বলা হয়েছে...। মূল কথা হলো এখানে প্রহার বলতে হিংস্র বাবে মারা উদ্দেশ্য না বরং এমন ( হালকা) প্রহার উদ্দেশ্য যা দ্বারা স্ত্রী এর কোনো ক্ষতি না হয়...
দেখুন, উক্ত আয়াতের তাফসীর -
তাফসীরে আবু বকর যাকারিয়া
তাফসীরে আহসানুল বয়ান
তাফসীরে জালালাইন
তাফসীরে ফাতহুল মাজিদ
তাফসীরে তাফহীমুল কোরআন
বাই দা ওয়ে ধরেও নিলাম এখানে প্রহার দ্বারা কঠিন প্রহার বা হিংস্রতা প্রহার উদ্দেশ্য ! এখন প্রশ্ন হলো এটা কি যখন মন চাই তখন? উত্তর হলে না, বরং এটা হলো ওই সময় যখন স্ত্রী তার সকল সীমা - পরিসীমা শেষ এর প্রান্তে থাকবে। উদাহরণস্বরূপ ধরুন একজন অপরাধীর কথা, যে একজনকে অকারণে থাপ্পড় দিয়েছে.. এখন কথা হলো এই অকারণে থাপ্পড় দেওয়ার কারনে আইন কি তাকে জেলে ঢুকাবে সারা জীবনের জন্য বা যাবত- জীবন কারাদণ্ড ? উত্তর হলো না, বরং তাকে হুমকি দিবে!, এখন ধরুন অপরাধী শুধু থাপ্পড়ই মারে নি বরং তার টাকাও ছিন্নাই করেছে, তো এখনও কি আইন তাকে সরাসরি ফাঁসির বা যাবত- জীবন কারাদণ্ড দিবেন? উত্তর হলো না, বরং জেলে রেখে জরিপানা নিয়ে ছেড়ে দিবে... এখন মনে করুন, অপরাধী একজনকে হত্যা করেছেে, তো আইন কি এখন তাকে ছেড়ে দিবে? উত্তর হলো বা বরং আইন তার কঠিন সাজা দিবে। তো আমরা বুজতে পাচ্ছি যে অপরাধীর অপরাধ ভেদে সাজা আলাদা আলাদা হয়! হঠাৎ করেই কাওকে মূল শাস্তি দেওয়া হয় না, ঠিক একই রকম ভাবে যখন তখন স্ত্রীকে মারার অধিকার ইসলাম দেই না, বরং স্ত্রী যখন সব সীমা পার করবে তখন শাসন এর উদ্দেশ্যে ম্যাইর দিবে....
আশা করি কথা ক্লিয়ার... । ওহহহ আরেকটা কথা, ইসলাম স্ত্রীকে ম্যাইর দেওয়ার অধিকার না দিলেও সনাতন ধর্মে স্ত্রীকে ম্যাইর দেওয়ার ডিজিটাল নিয়ম আছে শাস্ত্র মোতাবেক ( বৃহদারণ্যক উপনিষদ- ৬/৪/৭) । অর্থাৎ স্ত্রীকে ম্যাইর দেওয়া জায়েজ হিন্দু ধর্মে ইসলামে না... কিন্তু আফসোস, সে এইবারেও নিজের ধর্মের আইনটা আমাদের ইসলাম ধর্মের নামে চালিয়ে দিছে যা হাস্যকর!
চতুর্থ তো ইসলাম নারীকে যথেষ্ট অধিকার দিয়েছে, এবং হিন্দু ধর্ম এর চেয়ে বেশিই দিয়েছে...
তো এই ব্যাপারে জানতে এই লেখাটা পড়ুন-
লিংক -
https://www.facebook.com/100091947293817/posts/151009684640607/?app=fbl
( লেখাটা অনেক পুরাতন, আর আমার এই লেখাই অনেক ভুল ভ্রান্তি আছে, তবে মূল কনসেপ্ট এতে কোনো ভুল নেই....)
৫ ম পয়েন্ট - তার শেষ অভিযোগ হলো কোরআনে যৌন দাসির ব্যাপারে আছে, তো আমি বলব যে সে এবারও মিথ্যাচার করেছে, কোরআনে কোনো যৌন দাসি এর কথা নেই...
যাইহোক তার এই বিষয়ে অভিযোগের সংক্ষিপ্ত জবাব এই লেখাতে আছে আমার...
লিংক-
https://www.facebook.com/61557668197222/posts/122108282120255606/?app=fbl
আর হ্যা, ইসলামে যৌন দাসির কনসেপ্ট না থাকলেও আপনার ধর্মে আছে, এবং বর্ণ ভিত্তিক শূদ্র নামক দাসের কথা বাদই দিলাম! আর আপনি তো শূদ্র, যেমনটা আপনার নামের পরে ' দাস ' লকব দেখা বুঝা যাচ্ছে, তো আপনার সম্পর্কে মানে শূদ্র সম্পর্কে সনাতন কি বলেছে তা আগে জেনে আসুন এবং নিজেই বিচার করুন সনাতন সেরা নাকি ইসলাম!...
সর্বশেষ আমি প্রিন্স ফ্রেরাসে শুধু এতটুকু বলব যে অযথা আপনি যা আমাকে বলেছেন কমেন্টে সেটা ইসলামের জন্য না বরং আপনার নিজ ধর্প্রিন্স ফ্রেরাসেপ্রযোজ্য!
তো সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন
লেখক : মোঃ মেহেদী হাসান ✍️
আল্লাহ হাফেজ, আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
[ পুরাতন পোস্ট আবার নতুন করে পোস্ট করলাম...]
#প্রিন্স_ফ্রেরাসে
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।