Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

বিদায়ের পরে

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
3 বার প্রদর্শিত
করেছেন (29,003 পয়েন্ট)   3 ঘন্টা পূর্বে "সাহিত্য(বিশ্লেষণ ধর্মী)" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

বিদায়ের পরেimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

বিশ্লেষণমূলক লেখা 

বিজয়া দশমি, সম্পর্ক ও সামাজিক মনস্তত্ত্ব

২১ অক্টোবর ২০২৬


সন্ধ্যা গড়িয়ে এসেছে। মণ্ডপের সামনে মানুষের ভিড় একটু একটু করে কমছে। কেউ শেষবারের মতো প্রতিমার দিকে তাকাচ্ছেন, কেউ পরিচিতজনের সঙ্গে ছবি তুলছেন। বিদায়ের আগে দুজন মানুষ হাত ধরে বললেন, “ভালো থাকবেন দাদা, আবার দেখা হবে।” কথাটা খুব সাধারণ। অথচ এর মধ্যে লুকিয়ে আছে একটা প্রশ্ন—আবার দেখা হওয়ার আগ পর্যন্তও কি মানুষ দুজন একে অপরের খোঁজ রাখবেন?


বিজয়া দশমির বিদায় আমাদের চোখে পড়ে। প্রতিমা বিসর্জন হয়, উৎসবের আয়োজন গুটিয়ে নেওয়া হয়, পরিচিত মুখগুলো বাড়ি ফিরে যায়। কিন্তু মানুষের সম্পর্কের মধ্যে যে দূরত্ব তৈরি হয়, তার কোনো দৃশ্যমান বিসর্জন নেই। সেখানে আলো নেভে নিঃশব্দে।


পূজার কয়েক দিনে কত মানুষের সঙ্গে দেখা হয়। পুরোনো বন্ধুর সঙ্গে গল্প, আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়া, প্রতিবেশীর সঙ্গে কুশল বিনিময়—সব মিলিয়ে মনে হয়, সম্পর্কগুলো বেশ জীবন্ত আছে। কারও হাতে মিষ্টির বাক্স, কারও ফোনে ছবি তোলার ব্যস্ততা। হাসিমুখে বলা হয়, “আবার আসবেন।” তারপর দিন বদলায়। ছবিগুলো ফোনের গ্যালারিতে থেকে যায়, কথাগুলো হারিয়ে যায় দৈনন্দিন ব্যস্ততার ভিড়ে।


যে মানুষটির সঙ্গে সেদিন অনেকক্ষণ গল্প হয়েছিল, কয়েক সপ্তাহ পর তাঁর কথা মনে পড়লেও ফোন করা হয় না। মনে হয়, পরে একদিন কথা বলা যাবে। সেই ‘পরে’ কখনো আসে, কখনো আসে না।


সম্পর্কের দূরত্ব সব সময় ঝগড়া দিয়ে শুরু হয় না। কখনো শুরু হয় ছোট ছোট অবহেলায়। একটি ফোন করার কথা ভুলে যাওয়া, অসুস্থতার খবর পেয়েও পরে খোঁজ নেওয়ার কথা ভাবা, কিংবা পরিচিত মানুষটির নীরবতাকে স্বাভাবিক ধরে নেওয়া—এভাবেই কাছের মানুষ ধীরে ধীরে দূরের হয়ে যান। কেউ দরজা বন্ধ করেন না, তবু দুজনের মাঝখানে অদৃশ্য একটা দরজা তৈরি হয়ে যায়।


বিজয়ার শুভেচ্ছা জানাতে আমাদের খুব বেশি আয়োজন লাগে না। একটি বার্তাই যথেষ্ট। কিন্তু সেই বার্তার পর মানুষটির জীবনে কী ঘটছে, তা জানার আগ্রহ কত দিন থাকে? তাঁর সংসারে অভাব চলছে কি না, অসুস্থ বাবা-মাকে নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় আছেন কি না, কিংবা সবার সামনে হাসলেও একা হলে মন খারাপ হয় কি না—এসব প্রশ্ন সাধারণত উৎসবের শুভেচ্ছাবার্তায় আসে না।


সব কষ্টের খবর সবাইকে জানানোও যায় না। অনেক মানুষ আছেন, যাঁরা বিপদে পড়েও কাউকে ফোন করেন না। তাঁরা জানেন, খোঁজ নেওয়ার মতো পরিচিত মানুষের অভাব নেই; অভাব হলো এমন কারও, যাঁকে নির্ভয়ে বলা যায়, ‘আমি ভালো নেই।’


এই জায়গাটাই ভাবায়। পরিচিত মানুষের সংখ্যা বাড়লেই কি আপন মানুষের সংখ্যা বাড়ে?


দুর্গাপূজা আমাদের একসঙ্গে আনন্দ করার সুযোগ দেয়। ভিন্ন ধর্মের প্রতিবেশী শুভেচ্ছা জানাতে আসেন, পুরোনো বন্ধু দেখা করতে আসেন, পরিচিতজনেরা কিছুক্ষণের জন্য হলেও দৈনন্দিন জীবনের দূরত্ব ভুলে যান। এই মিলনের সৌন্দর্য অস্বীকার করার উপায় নেই। প্রশ্ন হলো, উৎসবের সেই সৌহার্দ্য আমাদের আচরণে কতটা থেকে যায়।


যে প্রতিবেশীর পূজার আনন্দে আমরা অংশ নিলাম, তাঁর বিপদের দিনেও কি পাশে দাঁড়াতে পারব? যে বন্ধুকে বিজয়ার শুভেচ্ছা জানালাম, তাঁর সঙ্গে মতের অমিল হলে কি সম্মান বজায় রাখতে পারব? যে আত্মীয়ের সঙ্গে হাসিমুখে দেখা হলো, পুরোনো অভিমান সরিয়ে একদিন কি নিজে থেকে কথা বলতে পারব?


উত্তরগুলো বড় কোনো অনুষ্ঠানে পাওয়া যাবে না। পাওয়া যাবে সাধারণ দিনে, যখন কোনো উৎসব নেই, ছবি তোলার উপলক্ষ নেই, শুভেচ্ছা জানানোর নির্দিষ্ট কারণও নেই।


বিসর্জনের পর মণ্ডপ ফাঁকা হয়ে যায়। পড়ে থাকে কিছু ফুল, ছড়িয়ে থাকা কাগজ, হয়তো মাটিতে লেগে থাকা সিঁদুরের দাগ। পরদিন সেখানে আবার স্বাভাবিক জীবন ফিরে আসে। উৎসবের চিহ্নগুলো একসময় মুছে যায়।


সম্পর্কের ক্ষেত্রেও সময়ের সঙ্গে অনেক চিহ্ন মুছে যায়। কারও সঙ্গে দেখা কমে, কারও সঙ্গে কথাবার্তা বন্ধ হয়। তবু কিছু মানুষ মনে থেকে যান—কারণ তাঁরা শুধু আনন্দের দিনে পাশে ছিলেন না, প্রয়োজনের সময়ও হাত বাড়িয়েছিলেন। তাঁদের মনে রাখার জন্য ক্যালেন্ডারে কোনো বিশেষ দিনের দরকার হয় না।


বিজয়া দশমির বিদায় তাই আমার কাছে একটি সহজ প্রশ্ন রেখে যায়: যাঁদের আজ ভালো থাকার শুভেচ্ছা জানাচ্ছি, তাঁদের ভালো থাকার খবর কি পরে কখনো জানতে চাইব?


উৎসব ফিরে আসবে। আবার মণ্ডপ সাজবে, আলো জ্বলবে, পরিচিত মুখের ভিড় হবে। তার আগেই যদি কারও খোঁজ নেওয়া যায়, দীর্ঘদিনের অভিমান ভাঙানো যায়, কিংবা একাকী হয়ে পড়া মানুষটির পাশে কয়েক মিনিট বসা যায়, তাহলে বিদায়ের দিন বলা কথাগুলোরও একটি অর্থ তৈরি হয়।


বিজয়ার শুভেচ্ছা শুধু একটি দিনের জন্য নয়; মানুষের প্রতি মমতাটুকু যেন বিসর্জনের জলে হারিয়ে না যায়।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 1 বছর 3 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1435 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 29003। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 5041
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
পরে মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণমূলক | ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ গতকাল রাতে এক পরিচিত ম[...] বিস্তারিত পড়ুন...
34 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
পরে নয় মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী | ২২ আগস্ট ২০২৬ “সারাজীবন সে বলেছে, পরে õ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
47 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
গল্পের পরে মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  গদ্য কবিতা। ২৬ আগষ্ট, ২০২৬ কিছু গল্প শেষ হয়ে যায়, &#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
49 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
স্থিরতার পরে মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  গদ্য কবিতা। ৫ আগষ্ট, ২০২৬ স্থিরতার পরে অনেকটù[...] বিস্তারিত পড়ুন...
48 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
শব্দের পরে মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন গদ্য কবিতা ২৭ জুলাই, ২০২৬ একসময় মনে হতো,  সব অনু[...] বিস্তারিত পড়ুন...
62 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1419 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    7 মন্তব্য

    69 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    126 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. জামিনুল রেজা

    83 পয়েন্ট

    1 প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    4 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. শামীমা আকতার

    82 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    4 টি আইডিয়া ব্লগ

...