Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

ভুলের দাগ

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
15 বার প্রদর্শিত
করেছেন (27,228 পয়েন্ট)   07 সেপ্টেম্বর "সাহিত্য(বিশ্লেষণ ধর্মী)" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

ভুলের দাগimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

বিশ্লেষণধর্মী। ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬


কিছু বাবা-মা সন্তানের ভুল ক্ষমা করেন না—তার চেয়েও ভয়ংকর, তাঁরা সন্তানের ভুলের অস্তিত্বই থাকতে দেন না।


ছেলেটা কারও সঙ্গে ঝামেলা করেছে। বিষয়টা বড় হয়ে গেছে। বাড়িতে খবর পৌঁছাতেই মা ছেলেকে কিছু জিজ্ঞেস না করে ফোন তুলে নিলেন।


‘ও তো এমন ছেলে না। হয়তো কোনো ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে।’


কিছুক্ষণ কথা বলার পর বিষয়টা মিটে গেল।


ছেলেটা হাঁফ ছেড়ে বাঁচল। মাও নিশ্চিন্ত।


কিন্তু যে জিনিসটা সেদিন মিটল না, সেটা হলো ছেলেটার ভুলের সঙ্গে তার সম্পর্ক।


সে জানল না, ভুল করলে কীভাবে তার মুখোমুখি দাঁড়াতে হয়। শুধু জানল—বিপদ হলে মা আছেন।


শৈশবে এই নিশ্চয়তাটা খুব মিষ্টি।


বড় হওয়ার পর সেটাই বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।


টাকা-পয়সার ব্যাপারেও একই ঘটনা ঘটে।


সন্তান অসাবধানতায় টাকা হারিয়েছে। ভুল করে কোনো জিনিস নষ্ট করেছে। বন্ধুকে টাকা ধার দিয়ে ফেরত পায়নি। কোনো ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তে ক্ষতি করেছে।


বাবা এসে ক্ষতিটা পূরণ করে দিলেন।


‘এসব নিয়ে ভাবিস না। আমি দেখছি।’


সন্তানও আর ভাবল না।


একবার, দুবার, তিনবার।


ক্ষতির সঙ্গে মানুষের একটা অদ্ভুত সম্পর্ক আছে। নিজের পকেটের টাকা হারালে যে ব্যথাটা হয়, বাবার পকেট থেকে টাকা গেলে সেই ব্যথা হয় না।


তাই ভুলের দাম যদি বারবার অন্য কেউ দিয়ে দেয়, ভুল করার ভয়টাও একসময় কমে যায়।


এখানে বাবা-মায়ের উদ্দেশ্য খারাপ নয়।


বরং বেশির ভাগ সময় উল্টোটা সত্যি।


তাঁরা সন্তানের কষ্ট দেখতে চান না। সন্তানকে অপমানিত হতে দিতে চান না। ব্যর্থতার সময় পাশে দাঁড়াতে চান। নিজের জীবনের কষ্ট সন্তানকে যেন না পেতে হয়—এই ইচ্ছাটাও তাঁদের থাকে।


কিন্তু একটা জায়গায় এসে ভালোবাসা আর দায়িত্বের সীমা গুলিয়ে যায়।


সন্তানের কষ্ট কমিয়ে দেওয়া আর সন্তানের ভুলের পরিণতি মুছে দেওয়া এক জিনিস নয়।


এই দুটির পার্থক্য খুব সূক্ষ্ম।


ধরা যাক, সন্তান বন্ধুর সঙ্গে অন্যায় করেছে।


মা যদি বলেন, ‘তুই ভুল করেছিস। ওর কাছে গিয়ে কথা বল’—তাহলে তিনি সন্তানের পাশে আছেন, কিন্তু ভুলটা সন্তানের কাছেই রেখে দিলেন।


আর যদি মা নিজেই বন্ধুর মায়ের কাছে গিয়ে সব মিটিয়ে আসেন, সন্তান হয়তো সম্পর্কটা ফিরে পেল, কিন্তু নিজের ভুল স্বীকার করার অভিজ্ঞতাটা পেল না।


এই অভিজ্ঞতাগুলোই পরে চরিত্রের অংশ হয়ে যায়।


ছোটবেলায় যে শিশু নিজের ভুলের পরিণতি এড়িয়ে যেতে শেখে, বড় হয়ে সে সবসময় খারাপ মানুষ হয় না। কিন্তু দায় নেওয়াটা তার কাছে অস্বস্তিকর হয়ে উঠতে পারে।


ভুল হলে সে কারণ খুঁজবে।


কারও ওপর দোষ চাপাবে।


পরিস্থিতিকে দায়ী করবে।


‘আমি তো এমন করতে চাইনি।’


‘ও আমাকে বাধ্য করেছে।’


‘সবাই তো এমন করে।’


‘আমার কোনো দোষ ছিল না।’


কথাগুলো একদিনে তৈরি হয় না।


শৈশবের অনেক ছোট ছোট ঘটনা মিলে এগুলো তৈরি হয়।


যে শিশুর হয়ে বারবার বাবা-মা কথা বলেছেন, সে হয়তো বড় হয়ে নিজের হয়ে কথা বলতেও শিখবে না।


যে শিশুর প্রতিটি ক্ষতি বাবা পূরণ করেছেন, সে হয়তো ক্ষতির হিসাব করতে শিখবে না।


যে শিশুর প্রতিটি ভুল মা ব্যাখ্যা করে দিয়েছেন, সে হয়তো একদিন নিজের ভুলের ভাষাটাই ভুলে যাবে।


তবে এর মানে এই নয় যে সন্তানকে ভুল করলে একা ফেলে দিতে হবে।


বরং তখনই বাবা-মায়ের আসল ভূমিকা শুরু হয়।


সন্তান ভুল করেছে। তাকে বলা যেতে পারে, ‘আমি আছি।’


কিন্তু সেই সঙ্গে এটাও বলা দরকার, ‘এবার তুমি ঠিক করবে কীভাবে বিষয়টা সামলাবে।’


সন্তান কারও সঙ্গে অন্যায় করেছে?


ক্ষমা চাইতে হবে তাকে।


টাকা নষ্ট করেছে?


সম্ভব হলে সেই ক্ষতি পূরণের দায়িত্বও তাকে বুঝতে হবে।


বাবা পাশে থাকবেন। মা-ও থাকবেন।


কিন্তু তাঁরা সন্তানের জায়গায় দাঁড়াবেন না।


কারণ জীবনে এমন কিছু শিক্ষা আছে, যা কোনো উপদেশ দিয়ে শেখানো যায় না।


নিজের ভুলের পরিণতি সামনে এসে দাঁড়ালে মানুষ যে অস্বস্তি অনুভব করে, সেই অস্বস্তির মধ্যেই অনেক সময় বিবেক তৈরি হয়।


সন্তানকে প্রতিটি কষ্ট থেকে বাঁচাতে গেলে হয়তো আজ সে খুশি থাকবে।


কিন্তু কাল যখন তার জীবনে এমন কোনো ভুল হবে, যার ক্ষতি পূরণ করার মতো কেউ পাশে থাকবে না, তখন?


তখন তাকে নিজের ভুলের সঙ্গে একাই বসতে হবে।


সেদিন বাবা হয়তো ফোন করতে পারবেন না।


মা হয়তো গিয়ে কারও সঙ্গে কথা বলে বিষয়টা মিটিয়ে দিতে পারবেন না।


সন্তানের সামনে শুধু একটা প্রশ্ন থাকবে—


‘আমি যা করেছি, তার দায় কি আমি নেব?’


হয়তো একজন মানুষের বড় হয়ে ওঠার শুরুটা সেখানেই।


ভুল না করার মধ্যে নয়।


ভুল করার পরও আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে বলতে পারার মধ্যে—


‘হ্যাঁ, এটা আমার ভুল ছিল।’


সন্তানের ভুল মুছে দেওয়া যায়।


কিন্তু ভুল করার পর নিজেকে সংশোধন করার যে শিক্ষা, সেটা মুছে দিলে একদিন হয়তো মানুষটাই অসম্পূর্ণ থেকে যায়।


তাই কখনো কখনো সন্তানের কষ্টটা একটু থাকতে দিতে হয়।


ভুলটার দাগটাও।


কারণ সব দাগ মুছে ফেলতে নেই।


কিছু দাগ মানুষকে পরেরবার একই জায়গায় পা রাখতে দেয় না।


আর বাবা-মায়ের সবচেয়ে কঠিন দায়িত্ব হয়তো সেখানেই—


সন্তান পড়ে গেলে তাকে তুলে দেওয়া, কিন্তু তার হয়ে হাঁটা নয়।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 11 মাস 2 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1348 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 27228। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4819
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
সিরিজ- থ্রিলার টাইম মানচিত্রের শেষ দাগ মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন অভিযানভিত্তিক থ্রিল[...] বিস্তারিত পড়ুন...
14 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
সিরিজ- থ্রিলার টাইম মানচিত্রের শেষ দাগ মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন অভিযানভিত্তিক থ্রিল[...] বিস্তারিত পড়ুন...
14 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
ভুলের বাগান মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন গদ্য কবিতা। ১৩ আগস্ট, ২০২৬ ভুলগুলো যদি ফুল হয়ে ফ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
44 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
একটি সিদ্ধান্তের দাম   পর্ব–১ : ভুলের শুরু   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ধারাবাহিক গলú[...] বিস্তারিত পড়ুন...
44 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

নিশি উপাখ্যান সিরিজ   গল্প-৪   কথার দাগ   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ২৯, জুন, ২০২৬ অভিক কোনো দিন নিশিকে বলেনি,  “আমি তোমাকে ঘৃণা করি।”  এমনও বলেনি,  “তুমি আমার জীবনের বোঝা।”  তবু একসময় নিশি নিজে[...] বিস্তারিত পড়ুন...
42 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1129 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    56 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. রফিক আতা

    269 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    13 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. আল-আমিন (আলো)

    117 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    5 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    62 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    3 টি আইডিয়া ব্লগ

...