Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

অপেক্ষা করতে শেখা

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
18 বার প্রদর্শিত
করেছেন (27,228 পয়েন্ট)   07 সেপ্টেম্বর "সাহিত্য(বিশ্লেষণ ধর্মী)" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

অপেক্ষা করতে শেখাimage

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

বিশ্লেষণধর্মী। ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬


সবকিছু সময়মতো এনে দিতে দিতে বাবা-মা কখনো কখনো সন্তানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতাটাই নষ্ট করে দেন—অপেক্ষা করার ক্ষমতা।


বাবা বললেন,

“এখন না। কয়েকদিন পর কিনে দেব।”


ছেলের মুখটা একটু মলিন হয়ে গেল।


বাবা বেশিক্ষণ থাকতে পারলেন না। পরদিনই খেলনাটা কিনে আনলেন।


মেয়েটা মোবাইল চাইছে। মা বললেন,

“একটু পরে দেব।”


মেয়েটা বিরক্ত হলো।


কিছুক্ষণ পর মা মোবাইলটা তার হাতে দিয়ে দিলেন।


বাচ্চা কাঁদছে। কোনো কিছু নিয়ে অস্থির হয়ে উঠেছে। তাকে একটু সময় দেওয়া, অন্যদিকে মন ফেরানো কিংবা নিজের অস্বস্তিটা সামলানোর সুযোগ দেওয়ার বদলে দ্রুত তার হাতে কিছু একটা তুলে দেওয়া হলো।


ঘটনাগুলো খুব ছোট।


কিন্তু এগুলোর ভেতর দিয়ে একটা বড় শিক্ষা তৈরি হতে থাকে—


“আমি কিছু চাইলে আমাকে অপেক্ষা করতে হয় না।”


চাইলে পাওয়া যায়।


বিরক্ত হলে কিছু পাওয়া যায়।


কষ্ট হলে কেউ এসে ঠিক করে দেয়।


সমস্যা হলেই সমাধান হাজির।


শিশুর চাওয়া থাকবে, আবদার থাকবে, অধৈর্যতাও থাকবে—এটাই স্বাভাবিক। সমস্যা চাওয়ায় নয়।


সমস্যা হয় তখন, যখন আমরা প্রতিবার তার অস্বস্তিটা সহ্য করার আগেই সরিয়ে দিই।


আজ খেলনা।


কাল নতুন পোশাক।


তারপর মোবাইল।


তারপর ভালো ফল।


তারপর চাকরি।


তারপর জীবনের আরও অনেক কিছু।


প্রতিবার যদি তার ভেতরের তাগিদটা হয়—“আমি এখনই চাই”, তাহলে বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অপেক্ষা তার কাছে শুধু দেরি মনে হবে না; মনে হবে, তাকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।


তখন সে শুধু সফল হতে চাইবে না।


সে দ্রুত সফল হতে চাইবে।


পড়াশোনা শুরু করে ফলের জন্য অস্থির হবে।


কাজ শুরু করে সঙ্গে সঙ্গে স্বীকৃতি চাইবে।


কয়েকবার চেষ্টা করে ফল না পেলে আবার চেষ্টা করার বদলে অন্য পথে চলে যেতে চাইবে।


কারণ ছোটবেলা থেকেই তার ভেতরে একটা ধারণা তৈরি হয়েছে—


“যা চাই, তা দ্রুত না পেলে কোথাও একটা সমস্যা আছে।”


অথচ জীবনের বড় অর্জনগুলোর প্রায় সবকিছুর জন্যই অপেক্ষা করতে হয়।


বীজ মাটিতে পুঁতে পরদিন গাছ পাওয়া যায় না।


একটা সম্পর্ক গভীর হতে সময় লাগে।


একজন মানুষ কোনো কাজে দক্ষ হতে সময় নেয়।


নিজেকে তৈরি করতেও সময় লাগে।


কখনো মাস যায়, কখনো বছর।


অপেক্ষার ভেতরেই মানুষ কিছু অমূল্য জিনিস শেখে।


অপূর্ণতা সহ্য করতে শেখে।


নিজের ইচ্ছাকে একটু থামাতে শেখে।


আজ না হলে কাল হতে পারে—এই বিশ্বাস তৈরি হয়।


আর সবচেয়ে বড় কথা, সে বুঝতে শেখে—সব ইচ্ছা পূরণ হওয়া জরুরি নয়।


বাবা-মায়ের জন্য অবশ্য এটা সহজ নয়।


সন্তান কষ্ট পেলে বুকটা কেঁপে ওঠে। কাঁদলে কিছু একটা করে দিতে ইচ্ছে করে। সামর্থ্য থাকলে সন্তানকে কেন অপেক্ষা করাবেন—এই প্রশ্নও আসে।


কিন্তু সামর্থ্য থাকা আর প্রতিবার সঙ্গে সঙ্গে দিয়ে দেওয়া এক জিনিস নয়।


কখনো বাবা বলতে পারেন,


“তুমি এটা চেয়েছ, আমি জানি। কিন্তু এখনই কিনছি না। কিছুদিন পরে কিনব।”


সন্তান হয়তো মুখ ভার করবে। রাগ করবে। বারবার চাইবে।


তবু তাকে সেই অপেক্ষাটুকুর মধ্য দিয়ে যেতে দিন।


মা যদি বলেন,


“তুমি এখন খুব বিরক্ত হচ্ছ। একটু সময় দাও। তারপর আমরা কথা বলব।”


তাহলে তিনি সন্তানের কষ্টকে অস্বীকার করছেন না।


শুধু শেখাচ্ছেন—কষ্ট হলেই সঙ্গে সঙ্গে কিছু একটা দিয়ে সেই কষ্ট বন্ধ করতে হয় না।


এটা নিষ্ঠুরতা নয়।


এটা জীবনের জন্য প্রস্তুত করা।


কারণ একদিন বাবা-মা সবকিছু করে দিতে পারবেন না।


চাকরির ফল প্রকাশের জন্য সন্তানকে অপেক্ষা করতে হবে।


কোনো উত্তর আসার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।


কোনো স্বপ্ন পূরণের জন্য মাসের পর মাস, কখনো বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হবে।


সেদিন পাশে কেউ থাকবে না যে বলবে,


“মন খারাপ করো না, এখনই তোমার যা চাই তা এনে দিচ্ছি।”


থাকবে শুধু সে আর তার অপেক্ষা।


তাই সন্তানকে সবকিছু সময়মতো দেওয়া ভালোবাসা।


কিন্তু সবকিছু সঙ্গে সঙ্গে দিয়ে দেওয়া সবসময় ভালোবাসা নয়।


কখনো ভালোবাসা মানে সন্তানের চাওয়ার সামনে একটু থেমে দাঁড়ানো।


তার বিরক্তিটাকে সঙ্গে সঙ্গে মুছে না দেওয়া।


তার অপূর্ণতাকে একটু জায়গা দেওয়া।


কারণ যে শিশু অপেক্ষা করতে শেখে, সে শুধু ধৈর্যশীল হয় না।


সে বুঝতে শেখে—


সবকিছুর একটা সময় আছে।


সব দরজা সঙ্গে সঙ্গে খোলে না।


সব চেষ্টার ফল তাড়াতাড়ি আসে না।


আর দেরি হওয়া মানেই ব্যর্থ হওয়া নয়।


জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান কিছু জিনিসের জন্য অপেক্ষা করতেই হয়।


তাই একবার নিজেকে প্রশ্ন করুন—

আপনি সন্তানকে সবকিছু সময়মতো দিচ্ছেন, নাকি তার চাওয়ার আগেই সবকিছু দিয়ে দিয়ে তাকে অপেক্ষা করতে ভুলিয়ে দিচ্ছেন?

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 11 মাস 2 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1348 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 27228। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4827
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
দুঃখিত বলতে শেখা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী। ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ যে সন্ত&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
18 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
সীমারেখা শেখা শক্তি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন মোটিভেশনাল গল্প। জানুয়ারি ০৫,২০২৬ আজ স&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
119 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
বিকেলের অপেক্ষা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ছোট গল্প।  ২৩ জুন,২০২৬ বৃদ্ধ মানুষটা প্রতি[...] বিস্তারিত পড়ুন...
87 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
অপেক্ষা    মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ছোটগল্প। ১৬ জুন ২০২৬ আসরের আজান শেষ হতেই আবদুল õ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
78 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

 সমুদ্র, গমক্ষেত ও একটি অপেক্ষা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন সাহিত্যিক ছোটগল্প। ১৭ মে, ২০২&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
360 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1129 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    56 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. রফিক আতা

    269 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    13 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. আল-আমিন (আলো)

    117 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    5 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    62 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    3 টি আইডিয়া ব্লগ

...