Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

শৈশবের ভোটস্মৃতি

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
142 বার প্রদর্শিত
করেছেন (5,852 পয়েন্ট)   22 ফেব্রুয়ারি "সাধারণ" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

হরেক রকম বুলি আওড়াতে আওড়াতে একটি সিএনজি হুস করে চলে যেত বাড়ির সামনের রাস্তা দিয়ে। আমরা কয়েকজন খালি পায়ে ছুটতাম তার পিছু পিছু। সিএনজি থেকে উড়ে আসত রঙচঙা পোস্টার। বাতাসে উড়তে উড়তে সেগুলো এসে পড়ত আমাদের হাতের মুঠোয়।

‎সেই পোস্টার জমাতে জমাতে একসময় বেশ অনেকগুলো হয়ে যেত। তারপর বিকেলের রোদ নরম হলে, উঠানের এক কোণে আমরা বানাতাম ছোট্ট একটা ঘর—কাগজের ঘর। দেয়াল পোস্টারের, ছাদও পোস্টারের। সেটাই ছিল আমাদের খেলাঘর, আমাদের স্বপ্নের সংসার।

‎রাজনীতি তখন বুঝতাম না, প্রতীক বুঝতাম না—শুধু রঙ চিনতাম, আর কাগজের গন্ধে খুঁজে পেতাম আনন্দ।

‎শৈশবের সেই ভোটস্মৃতি যতই রঙিন হোক, তনুমনে কোথাও যেন এক অদৃশ্য আতংকও বাসা বেঁধেছিল। শেষ দুই নির্বাচনের স্মৃতি আজও অগোছালোভাবে লিপিবদ্ধ আছে মনের খাতায়। বড়দের কথাবার্তা, চাপা স্বর, দরজা বন্ধ করে আলোচনা—সব মিলিয়ে এক ধরনের অস্বস্তিকর সময়।

‎মনে পড়ে, ভোটের আগের দিন সেনাবাহিনী এসে কেন্দ্র পরিদর্শন করে যেত। বিকেলের দিকে পুলিশ, আনসার—অনেকেই আসত। রাস্তায় হঠাৎ হঠাৎ কড়া জুতোর শব্দ শোনা যেত। আমার ছোট্ট মনে তখন প্রশ্নের ভিড়—কেন এত লোক? কেন এত টানটান ভাব?

‎বড়দের মুখে শুনতাম নানা অভিযোগ, নানা ভয়। কেউ কারও নাম উচ্চারণ করত ফিসফিসিয়ে। তখন বুঝতাম না রাজনীতি কী, কিন্তু ভয়টা ঠিকই বুঝতাম। সেই সময় থেকেই ইউনিফর্ম দেখলে কেমন যেন একটা অচেনা শঙ্কা কাজ করত মনে।

‎মনে পড়ে, আমার কাছে একটা খেলনা পিস্তল ছিল। প্লাস্টিকের, রঙিন। ভোটের দিন রাস্তা দিয়ে পুলিশ বাহিনী যাচ্ছিল। আমি দূর থেকে খেলনা পিস্তল তাক করে “ঠাস!” করে শব্দ করলাম। মনে হয়েছিল—আমি বুঝি খুব বড় কোনো কাজ করে ফেলেছি!

‎কিন্তু হায়, আমার প্লাস্টিকের গুলি তো কারও গায়ে লাগে না—লাগে শুধু শৈশবের কল্পনায়। আজ ভাবি, সেটাও ছিল এক ধরনের শিশুসুলভ প্রতিবাদ; না-বোঝা বয়সের সরল দম্ভ।

‎ভোটের দিন চারদিকে এক অদ্ভুত নীরবতা থাকত। দোকানপাট আধা খোলা, মানুষজন চাপা স্বরে কথা বলছে। খানিক পরপর সেনাবাহিনী এসে কেন্দ্র দেখে যেত। কখনো দেখতাম কাউকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে, কোথাও ছোটখাটো ধাক্কাধাক্কি। এসব দৃশ্য শিশুমনে গেঁথে যেত গভীর দাগ হয়ে।

‎তবু বিকেল নামলে আমরা আবার কাগজের ঘরে ফিরতাম। পোস্টারের দেয়ালে হেলান দিয়ে বসে আকাশের দিকে তাকিয়ে ভাবতাম—এই কাগজের ঘরটাই যেন আমাদের সত্যিকারের দেশ। যেখানে ভয় নেই, কড়া জুতোর শব্দ নেই; আছে শুধু রঙিন কাগজ আর অবুঝ হাসি।

‎আজ বড় হয়ে বুঝি—সেই পোস্টারগুলো ছিল ক্ষমতার ভাষা, আর আমাদের কাগজের ঘর ছিল স্বপ্নের ভাষা।

‎ভোট তখন ছিল আতংকের ছায়া, আর শৈশব ছিল তার মাঝেও রঙ খুঁজে নেওয়ার এক অদ্ভুত ক্ষমতা।

‎সময়ের সঙ্গে অনেক কিছু বদলে গেছে। কিন্তু কাগজের সেই ছোট্ট ঘরটি আজও ভাঙেনি—সে দাঁড়িয়ে আছে স্মৃতির উঠানে, রঙচঙা পোস্টারের দেয়াল নিয়ে, শৈশবের এক নিরীহ অথচ দৃঢ় সাক্ষী হয়ে।

‎রাত পোহালেই নির্বাচন। সবদিকে ঈদ ঈদ রব। এত্তো বচ্ছর পর মানুষ ছুটছে নির্বাচনের উদ্দেশ্যে—কারও চোখে প্রত্যাশা, কারও মুখে সংশয়, তবু সবার ভেতরেই যেন এক অদ্ভুত আলোড়ন।

‎আমি বারান্দায় দাঁড়িয়ে ভাবি—সময় কত বদলে দিয়েছে দৃশ্যপট, অথচ কিছু অনুভূতি একই রয়ে গেছে। রঙিন পোস্টার আজও উড়ে বেড়ায়, স্লোগান আজও ভেসে আসে বাতাসে; শুধু আমি আর সেই খালি পায়ের শিশুটি আর এক নই। এখন প্রতীক বুঝি, রাজনীতির ভাষা বুঝি, ক্ষমতার কৌশলও কিছুটা বুঝি। তবু কোথাও যেন সেই কাগজের ঘরটাকে খুঁজে ফিরি—যেখানে ভোট মানে ছিল রঙিন কাগজ, আর দেশ মানে ছিল খেলাঘর।

‎আজ বুঝি, নির্বাচন শুধু ক্ষমতার পালাবদল নয়—এটা মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার উৎসবও। ভয় আর সংশয়ের মাঝেও মানুষ লাইনে দাঁড়ায়, আঙুলে কালি লাগায়, নিজের ছোট্ট অধিকারটুকু প্রতিষ্ঠা করতে চায়। হয়তো এটাই আমাদের বড় হয়ে ওঠার গল্প—শৈশবের রঙ থেকে বাস্তবের ধূসরতায়, আবার সেই ধূসরতার মাঝেই নতুন রঙ খুঁজে নেওয়া।

‎স্মৃতির উঠানে দাঁড়িয়ে থাকা কাগজের ঘরটি আজও আমাকে শেখায়—ভয় যতই থাক, স্বপ্নের জায়গা কখনও ফাঁকা রাখা যায় না। কারণ দেশের গল্প শুধু ক্ষমতার নয়, মানুষেরও; শুধু কড়া জুতোর শব্দের নয়, খালি পায়ের ছুটে চলারও।

‎হয়তো কাল সকালেও কোথাও কোনো শিশু উড়ে আসা পোস্টার কুড়িয়ে নিয়ে বানাবে তার ছোট্ট কাগজের ঘর। আর সেই ঘরেই জন্ম নেবে এক নতুন দেশের স্বপ্ন—ভয়হীন, স্বচ্ছ, মানুষের জন্য।

‎শৈশবের ভোটস্মৃতি তাই কেবল আতঙ্কের নয়; তা এক আশাবাদের বীজ, যা জুলাইয়ের রক্তে চাপা পড়ে  কাল হয়তো মাথা তুলে দাঁড়াবে।

‎দিনলিপি

‎এগারো, দুই, ছাব্বিশ ইং 

‎বুধবার।

আমি রফিক আতা, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 9 মাস 1 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 286 টি লেখা ও 11 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 5852। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 3478
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
শৈশবের শবেবরাত — রফিক আতা — শৈশবের শবেবরাতের কথা মনে হলেই স্মৃতির খেরোখাতার পাতাõ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
181 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

শৈশবের কিছু ভ্রান্ত ধারনা – যেগুলো এখন শুনলে হাসি পায়: ১.আমি হাঁটলে চাঁদ ও আমার সাথে হাটে,আমি যেখানে যাই সেও সেখানেই যায়।  ২. ইঁদুরের গর্তে দাঁত ফেললে দাঁত আরো সুন্দর চকচকে হয়।  ৩. ফলের বিচ�[...] বিস্তারিত পড়ুন...
171 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
এক চিলতে শৈশবের কোলাহল  🖊️—রফিক আতা—  নীরব চারপাশ। থমথমে উঠান-বাড়ি। অদূরে মিটমি&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
146 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

শৈশবের দরদমাখা গদ্য ‘রঙিন মখমল দিন’ নিয়ে কিছু কথা —রফিক আতা— হিমেল, হেমন্তময় ডিস[...] বিস্তারিত পড়ুন...
130 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

অভিশপ্ত শৈশবের রেলগেইট —রফিক আতা— রিকশা পঞ্জি —২ রাত তখন প্রায় ১১টা। সারাদিনের &[...] বিস্তারিত পড়ুন...
151 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    2244 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    111 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. Monsoon Harmony

    904 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    45 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. Mayabi Ilmaz Megh

    828 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    41 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. রফিক আতা

    367 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    18 টি আইডিয়া ব্লগ

...