আম শৈশব স্মরণে উদাস দুপুর
—রফিক আতা—
আজকের দিনটি আমার কাছে বেস্ট। কারণ আমি আজ আরেকবার ফিরে গেলাম শৈশবে। আম শৈশবে। আমাদের সেই আম শৈশবে। যাকে হারিয়ে ফেলেছি আজ বহুদিন হয়ে গেলো।
আমাদের ঘরের সামনেই একটি আমগাছ। যেখানে ঝুলে আছে থোকায় থোকায় আমের দল।সবুজের রঙ মাখা। এতো সুন্দর আমের আকৃতি। মনো হলো কেউ নিজ হাতে এখানে রঙ মেখেছেন। মনে হলো কেউ নিজ হাতেই এই সব আমের আকৃতি তৈরি করেছেন।
এইগাছটি আমি বুঝ হওয়ার পর থেকেই দেখে আসছি। শত পালি আমের সবুজ নিয়ে প্রতি বছর গৃষ্মের শুরুতে দেখা দেয়। আমার শৈশব কেটেছে এই আমগাছের ডালে দোলনা দিয়ে।
বৃষ্টি আসার পূর্বে যখন আকাশ নিবিড় কালো আধার ধারণ করতো।বাতাসের তিব্র স্রোত বইতো।আমি তখন দাড়িয়ে থাকতাম ঘরের চৌকাঠে। একটি আম পড়তেই ভোঁ দৌড়। একলাফে আমার আগেই যেন আম পৌঁছে যেত ঘরে।
এরপর মাঝে মাঝে। ফুফাতো ভাই জিহাদ ফাহিম এরা যখন আমের মৌসুমে আমাদের বাড়িতে আসতো। তখনও সময়গুলো কাটতো বেশ আনন্দের মধ্য দিয়ে। গাছ থেকে কাঁচা কাঁচা আম পাড়া। কখনও ঝিলাম দিয়ে, কখনও বটকি দিয়ে আম কাটা।কখনও লবন মরিচ দিয়ে, কখনও দুধ চিনি দিয়ে আম বানানো ছিলো তখন আনন্দের আরেকনাম।
এখন আর এসব হয়না। এখন আর সেসব সময় আসে না। এখন আর সেই তারাও আসেনা। এখন আর আম শৈশবে ফিরিনা। এখন আর...
এইতো গাছের আমগুলো কিছুটা বড় হয়েছে। তবে এখনও সেভাবে খাওয়ার মতো হয়নি। তবুও আমি খাবো। আমি আম বানাবো। কারণ দুদিন বাদেই মাদ্রাসায় চলে যাবো।
আম পাড়া হলো বাসের লগি দিয়ে। অবশ্য এই গাছের কিছু আম নিচে থেকেই নাগাল পাওয়া যায়। আমগুলো বোটকুনি দিয়ে চিলা হলো। একটি শরীফ মেলামাইনের প্লেট। যার উপর সুন্দর আকৃতিতে শোভা পাচ্ছিলো কাঁচা আমের কাটা পিছগুলো। লবন মরিচ দিয়ে বানানো শেষ। এখন খাওয়ার পালা।
উফ! এখনকার আনন্দের চিত্র আমি লেখায় তুলে ধরি কি করে। কেমনে সেই অনুভুতি আচল লেখার পাটে বিছিয়ে দিই। কাঁচা আম। সুন্দর অনুভুতি। টক ঝাল....
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।