শৈশবের কিছু ভ্রান্ত ধারনা – যেগুলো এখন শুনলে হাসি পায়:
১.আমি হাঁটলে চাঁদ ও আমার সাথে হাটে,আমি যেখানে যাই সেও সেখানেই যায়।
২. ইঁদুরের গর্তে দাঁত ফেললে দাঁত আরো সুন্দর চকচকে হয়।
৩. ফলের বিচি খেয়ে ফেললে পেটের ভিতর সেই গাছ জন্মায়,মাথা দিয়ে গাছ বের হবে হাত দিয়ে ছিঁড়ে খাবো।
৪. বিয়ে করলেই অটোমেটিক বাচ্চাকাচ্চা হয়।
৫.লাল পিপড়া মুসলমান কালো পিপড়া হিন্দু।
৬. দুজনের মাথায় গুতো লাগলে সেখানে সিং হয়।
৭. টিভির কাচ ভাঙলে মানুষ বের হয়ে আসবে। (যখন ভিলেন কে ধরতে পুলিশ দৌড়ে আসতো ভাবতাম টিভি ভেঙে আমাকে ধরতে আসতেছে। )
৮. পরিক্ষার আগে ডিম খেলে পরীক্ষায় ডিম / শূন্য পায়।
৯. প্লেনের নিচ থেকে ডাকাডাকি করলে প্লেন যাত্রীরা শুনতে পায়।
১০. বালিশের উপরে বসলে পশ্চাৎদেশে ফোড়া হয়।
১১. বই খোলা রাখলে শয়তান পড়ে।
১২. দোতলা বাসে দুইজন ড্রাইভার থাকে।
১৩. যমজ কলা খেলে যমজ বাচ্চা হবে।
১৪. এক গালে থাপ্পড় খেলে বিয়ে হয় না।
১৫. মাথায় যত গুলো পাক ততগুলি বিয়ে হবে।
১৬. সিনেমার নায়ক নায়িকা একে অপরকে স্পর্শ করে না;এগুলো ক্যামেরার কারসাজি।
১৭. প্রধানমন্ত্রী আর রাষ্ট্রপতি দুজন একই ব্যাক্তি।
১৮. আগুন নিয়ে খেললে রাতে প্রসাব করে ফেলবো বিছানায়।
১৯. চায়ের দোকানে খারাপ ছেলে মেয়ে যায়।
২০. কাওকে নিয়ে স্বপ্ন দেখলে বালিস উল্টালে সেই ব্যক্তিও একই স্বপ্ন দেখবে।
২১. আগে গেলে বাঘে খাবে,পড়ে গেলে সোনা পাবে। ( স্কুল এ যখন আগে খাতা জমা দেওয়ার জন্য সবাই গণ্ডগোল করত তখন স্যার এটা বলতেন। )
২২. রাতে লাল শাড়ি পরলে জিনেরা ধরে নিয়ে যাবে।
২৩. গরম চা খেলে মাথা দিয়ে ধোয়া উঠবে।
2৪. কেও আমাদের ছবি তুললে আমরা সেই ছবির ভিতরে আটকে থাকবো।
এগুলোর বাইরে আরো কত কি শোনা হয়েছে; এর মাঝে অনেক ধারণা আমাদের নিজেদের অনেক ধারণা আমাদেরকে ছোটো বেলাতেই মাথায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। যেমন ধরুন –আগে গেলে বাঘে খাবে, পড়ে গেলে সোনা পাবে; রাতে নতুন জামা পরো না, পরী এসে নিয়ে যাবে।
এসব কথা হয়তো আমাদের ছোটবেলায় বোঝাতে,শাসনে রাখতে বা নাছোড়বান্দা হওয়া থেকে বাঁচাতে বলা হতো। উদ্দেশ্য খারাপ ছিল না – তবে সমস্যা হলো "ভয় দেখিয়ে শেখানো,এবং অনেক সময় ভুল শেখানো। "
আজ এগুলো মজার মনে হলেও,ছোটো বেলায় এগুলো আমাদের মনে অজান্তেই ভয়ের ছাপ ফেলত। সেই ভয়,সেই অযৌক্তিক ধারণা অনেক সময় বড় হয়েও থেকে যায়।
এভাবেই কুসংস্কার ধীরে ধীরে সমাজে জমে ওঠে– কারণ আমরা প্রশ্ন করতে শেখার আগেই ভয় পেতে শিখে যাই।
শিশুকে ভয় দেখিয়ে নয়।
কুসংস্কার দিয়ে নয়
বরং সহজ করে,যুক্তি দিয়ে,সাহস দিয়ে,ভালোবাসা দিয়েই বোঝালেই যথেষ্ঠ।
ভয় নয়–বোঝা পড়াই হোক শৈশবের শিক্ষা।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।