Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

মৃত ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে প্রচলিত বিদ‘আত ও কুসংস্কার

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
198 বার প্রদর্শিত
করেছেন (28,277 পয়েন্ট)   20 জানুয়ারি "ধর্ম ও আধ্যাত্মিক বিশ্বাস" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

মৃত ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে প্রচলিত বিদ‘আত ও কুসংস্কার

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

প্রবন্ধ | জানুয়ারি ২০, ২০২৬


মৃত্যু—মানুষের জীবনের সবচেয়ে অনিবার্য সত্য। অথচ এই নিশ্চিত বাস্তবতাকে ঘিরেই সমাজে সবচেয়ে বেশি ভুল ধারণা, কুসংস্কার ও বিদ‘আত গড়ে উঠেছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এসবের অনেকগুলোই ধর্মের নামে চালু, অথচ কুরআন ও সহীহ সুন্নাহর সঙ্গে এগুলোর কোনো সম্পর্ক নেই। অজ্ঞতা, আবেগ ও প্রথার সম্মিলনে আমরা এমন কিছু কাজকে “ইসলাম” ভেবে পালন করছি, যা প্রকৃতপক্ষে ইসলামের শিক্ষা নয়; বরং তার পরিপন্থী।


এই লেখায় মৃত ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে সমাজে প্রচলিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিদ‘আত ও কুসংস্কার বিশ্লেষণ করা হলো—দলীল, তাহক্বীক্ব ও বাস্তবতার আলোকে।


১. মুমূর্ষু বা মৃত ব্যক্তির পাশে সূরা ইয়াসীন পাঠ

আমাদের সমাজে বহুল প্রচলিত একটি ধারণা হলো—মৃত্যুপথযাত্রী ব্যক্তির পাশে সূরা ইয়াসীন পড়লে তার মৃত্যু সহজ হয়, ফেরেশতারা নাযিল হন, এমনকি জান্নাতের পানীয় পান করানো হয়। এই বিশ্বাস এতটাই দৃঢ় যে, কেউ প্রশ্ন তুললে তাকে “দ্বীনের শত্রু” বানিয়ে ফেলা হয়।


কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। সূরা ইয়াসীনের ফযীলত সম্পর্কে যেসব বর্ণনা প্রচলিত, সেগুলোর সবই যঈফ বা জাল। সহীহ হাদীস দ্বারা এ ধরনের কোনো ফযীলত প্রমাণিত নয়। মুহাদ্দিসগণ স্পষ্টভাবে বলেছেন—এই বর্ণনাগুলোর সনদে মিথ্যুক ও দুর্বল রাবী রয়েছে। সুতরাং মৃত্যুপথযাত্রীর পাশে বিশেষভাবে সূরা ইয়াসীন পড়াকে সুন্নাহ মনে করা একটি স্পষ্ট বিদ‘আত।


ইসলাম আবেগ দিয়ে নয়, দলীল দিয়ে চলে—এ কথা আমাদের মনে রাখতে হবে।


২. মৃত্যুর পর ক্বিবলার দিকে মাথা রাখা

অনেক এলাকায় দেখা যায়, কেউ মারা গেলে সঙ্গে সঙ্গে তার মাথা পশ্চিম দিকে ঘুরিয়ে ক্বিবলার দিকে করা হয়। ধারণা করা হয়, এতে নাকি বিশেষ কল্যাণ আছে।


অথচ এই আমলের পক্ষে যে হাদীসটি প্রচলিত, তা যঈফ ও মুরসাল। সহীহ কোনো দলীল নেই যা প্রমাণ করে যে, মৃত্যুর পর মৃত ব্যক্তির মাথা ক্বিবলামুখী করা সুন্নাহ। দ্বীনের নামে এমন কাজ চালু রাখা মানেই হলো—মানুষকে ভুল পথে অভ্যস্ত করা।


৩. মৃত স্বামী বা স্ত্রীকে গোসল করানো নিষেধ—এই ভ্রান্ত ধারণা

সমাজের সবচেয়ে হৃদয়হীন ও অমানবিক কুসংস্কারগুলোর একটি হলো—স্বামী বা স্ত্রী মারা গেলে অপরজন নাকি তাকে দেখতে বা গোসল করাতে পারে না; কারণ “তালাক হয়ে যায়”।


এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং সুন্নাহবিরোধী ধারণা।


রাসূলুল্লাহ ﷺ নিজেই বলেছেন—তিনি যদি আয়েশা (রাঃ)-এর আগে মারা যেতেন, তবে আয়েশাই তাঁকে গোসল দিতেন, কাফন পরাতেন ও দাফন করতেন। আরও প্রমাণ রয়েছে যে, আলী (রাঃ) ও আসমা বিনতে উমাইস (রাঃ) ফাতিমা (রাঃ)-কে গোসল দিয়েছিলেন।


অতএব স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে গোসল দেওয়ার ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি হকদার। এর বিপরীত কথা বলা মানে সরাসরি সুন্নাহ অস্বীকার করা।


৪. মৃত্যুর পর চুল, নখ কাটা

মৃত ব্যক্তির গোসলের সময় চুল, নখ কাটা কিংবা শরীর “পরিষ্কার” করার নামে নানান বাড়াবাড়ি আমাদের সমাজে খুব সাধারণ বিষয়। অথচ এ সবের কোনো সহীহ দলীল নেই।


যে বর্ণনার ওপর এই কাজগুলো চালু আছে, তা দুর্বল। বরং মৃত ব্যক্তিকে যেভাবে পাওয়া যায়, সেভাবেই গোসল দিয়ে কাফন পরানোই সুন্নাহ। কুলুখ করানো, দাঁত খিলাল করা, পেট টিপে ময়লা বের করার মতো কাজগুলো স্পষ্ট বিদ‘আত।


৫. তিনের বেশি কাপড়ে কাফন—একটি প্রচলিত ভুল

পুরুষ ও নারীর জন্য কাফনের ক্ষেত্রে সহীহ সুন্নাহ হলো—তিন কাপড়। নারীদের জন্য পাঁচ বা সাত কাপড়ের যে ধারণা সমাজে প্রচলিত, তার পক্ষে কোনো সহীহ হাদীস নেই। এ সংক্রান্ত বর্ণনাগুলো সবই যঈফ বা মুনকার।


রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে তিন কাপড়েই কাফন দেওয়া হয়েছিল—এটি সহীহ বুখারী ও মুসলিম দ্বারা প্রমাণিত। ওমর (রাঃ) স্পষ্টভাবে বলেছেন—সীমা লঙ্ঘন করা যাবে না; আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীদের পছন্দ করেন না।


আরও কিছু প্রচলিত বিদ‘আত ও কুসংস্কার


মৃত্যুর আগে বা পরে বিশাল খানার আয়োজন

মৃতের নামে এমন সদকা, যা সবাই মিলে খায়

জানাযার পেছনে উচ্চস্বরে তাকবীর ও যিকির

কবরে গোলাপ জল ছিটানো

খাটলির কাপড়ে আয়াত লেখা

শোক দিবস পালন

নির্দিষ্ট দিনে কবর যিয়ারত বাধ্যতামূলক করা

মাইকে কুরআন বাজানো

শবে বরাত বা শবে মিরাজে কবরস্থানে রাত জাগা


মাজার, দরগাহে মানত করা—এগুলো সরাসরি শিরকের দিকে নিয়ে যায়


মৃত্যু আমাদের অহংকার ভাঙার জন্য আসে, অথচ আমরা সেই মৃত্যুকেই বিদ‘আত ও কুসংস্কারে ঢেকে ফেলি। দ্বীন আবেগের নাম নয়—এটি আল্লাহর নির্ধারিত বিধান। যে আমলের পক্ষে সহীহ দলীল নেই, তা যত জনপ্রিয়ই হোক, গ্রহণযোগ্য নয়।


আজ আমাদের প্রয়োজন প্রশ্ন করা, যাচাই করা এবং সুন্নাহয় ফিরে আসা। মৃতের উপকার হবে আবেগে নয়—সঠিক আমলে।


#বিদআতবিরোধী

#সহীহসুন্নাহ

#ইসলামেরনামেকুসংস্কার

#ReturnToSunnah

#StopBidah

#ইসলাম_বুঝে_চলিimage

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 1 বছর 2 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1399 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 28277। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 3114
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
ইসলাম কি সত্যিই প্রচলিত দাসপ্রথাকে সমর্থন করে   আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লা[...] বিস্তারিত পড়ুন...
213 বার প্রদর্শিত 1 প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
নিজেকেই কেন্দ্র করে মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণমূলক লেখা | ৪ অক্টোবর ২০২৬ কিছু [...] বিস্তারিত পড়ুন...
25 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

বিজ্ঞানের আলোকে জান্নাতে মানুষ অনন্তকাল বেঁচে থাকবে কি করে  আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ  বয়সের সাথে সাথে মানুষ বৃদ্ধ হবে এবং এক সময় মানুষ মৃত্যুবরণ করবে, ছোট বেলা থেকে এরকমটাই আমরা জে�[...] বিস্তারিত পড়ুন...
156 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

কুসংস্কার অশিক্ষা না মানুষের গভীর মনস্তত্ত্ব মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, প্রাবন্ধিক নিবন্ধ। এপ্রিল ১০, ২০২৬ রাত অনেক হয়েছে। হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেল। শহরের ফ্ল্যাট, তবুও চারপাশটা অচেনা লাগতে শুরু ক�[...] বিস্তারিত পড়ুন...
516 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

কুসংস্কার কেন গল্পে এত আকর্ষণীয় মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, প্রাবন্ধিক নিবন্ধ। এপ্রিল ১০, ২০২৬ মানুষের মানসিক গঠনের ভেতরে এক ধরনের টানাপোড়েন কাজ করে—একদিকে জানার তীব্র আগ্রহ, অন্যদিকে অজানাকে[...] বিস্তারিত পড়ুন...
455 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    673 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    6 মন্তব্য

    33 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    125 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. জামিনুল রেজা

    83 পয়েন্ট

    1 প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    4 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. শামীমা আকতার

    82 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    4 টি আইডিয়া ব্লগ

...