আদর্শ পরিবার: বিবাহোত্তর কু-প্রথা ও স্বামীর কর্তব্য (ষষ্ঠ পর্ব)
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
প্রবন্ধ। ডিসেম্বর ২৯, ২০২৫
বিবাহোত্তর কিছু কু-প্রথা:
বিবাহের পর অনেক প্রথা সমাজে চালু আছে, যা শরীয়তসম্মত নয়। এগুলো পরিত্যাগ করা জরুরি।
১. বরকে দাঁড় করিয়ে সালাম দেওয়ানো রাসুল (সা.) ও ছাহাবীগণ থেকে প্রমাণিত নয়।
২. মুরুব্বীদের কদমবুসি করা কু-প্রথা। কদমবুসি রাসুল (সা.) ও ছাহাবীগণ থেকে প্রমাণিত নয়। হিন্দুয়ানী প্রণাম গ্রহণ করা মুমিনের জন্য কাম্য নয়।
৩. বরকে কনের আত্মীয়-স্বজনের সাথে পর্দাহীন পরিচয় করিয়ে দেওয়া শরীয়তবিরোধী।
৪. নববধূকে পুরুষ-মহিলা সকলে দেখা ও উপহার দেওয়া শরীয়তসম্মত নয়।
৫. বরের সাথে প্রাপ্তবয়স্কা শ্যালিকা ও কনের সাথে দেবরের হাসি-তামাশা, অশালীন আচরণ হারাম।
৬. বিবাহোত্তর ওয়ালীমা না করে সন্তান জন্মের পর ‘বউ তুলে আনা’ ও আড়ম্বরপূর্ণ ভোজ অপচয় ও বিদআত। শরীয়তে এর নযীর নেই।
স্ত্রীর প্রতি স্বামীর দায়িত্ব ও কর্তব্য:
১. পরিবারে ইসলামী অনুশাসন বজায় রাখা: ইসলামী অনুশাসন না থাকলে প্রেম-মায়া নষ্ট হয়, অশান্তি বাড়ে। স্যাটেলাইটের অপসংস্কৃতি থেকে রক্ষা করতে ছেলে-মেয়েদের সততা, ন্যায়, আদব শেখান। সাত বছরে ছালাত শিক্ষা, দশে শাস্তি।[1] রাসুল (সা.) বলেন: শিষ্টাচারের লাঠি তুলে নিও না।[2]
২. হাসিমুখে থাকা ও উত্তম কথা বলা: হাসি ছাদাকা।[3] উত্তম কথা ছাদাকা।[5] রাসুল (সা.) বলেন: হাসিমুখে কথা বলা ভালো কাজ।[4]
৩. উত্তম ব্যবহার: আল্লাহ বলেন: সদ্ভাবে বসবাস করো।[নিসা ৪/১৯] ইবনে কাছীর বলেন: সুন্দর কথা ও আচরণ করো।[6] রাসুল (সা.) বলেন: অপসন্দ হলেও পসন্দের গুণ দেখো।[7]
৪. একান্তে বসে খোশগল্প: আয়েশা (রা.) বলেন: রাসুল (সা.) ছালাতের পর জেগে থাকলে আমার সাথে কথা বলতেন।[9][10]
৫. সুসজ্জিত ও সুবাসিত হওয়া: ইবনে আববাস (রা.) বলেন: স্ত্রীর জন্য সাজি যেমন তার জন্য সাজা পসন্দ করি।[11]
৬. বাড়িতে প্রবেশে সালাম: রাসুল (সা.) বলেন: বাড়িতে প্রবেশে সালাম দাও, বরকত হবে।[12]
৭. স্ত্রীর পরিবারকে সম্মান: এতে মহব্বত বাড়ে।
৮. অসুস্থতায় সেবা: ওছমান (রা.)-এর স্ত্রী অসুস্থে রাসুল (সা.) ছওয়াব দিয়েছেন।[14] রাসুল (সা.) দো‘আ করে হাত বুলাতেন।[15]
৯. সহযোগিতা: রাসুল (সা.) বাড়ির কাজ করতেন।[16-18]
১০. ত্রুটি ক্ষমা ও ধৈর্য: রাসুল (সা.) বলেন: অপসন্দ হলেও পসন্দের গুণ দেখো। নারী পাঁজর থেকে সৃষ্ট, সোজা করতে গেলে ভাঙ্গবে।[19-21]
১১. সুধারণা: আল্লাহ বলেন: অধিক সন্দেহ থেকে বিরত থাকো।[হুজুরাত ৪৯/১২] রাসুল (সা.) বলেন: সন্দেহ মিথ্যা কথা।[22]
১২. চাহিদা পূরণ: রাসুল (সা.) বলেন: স্ত্রীর হক আছে।[23][24]
১৩. পরামর্শ ও গুরুত্ব: রাসুল (সা.) খাদিজা (রা.) ও উম্মু সালামা (রা.)-এর পরামর্শ নিয়েছেন।[25][26]
১৪. দ্বীনী ইলম শিক্ষা: রাসুল (সা.) বলেন: পরিবারকে শিক্ষা দাও।[27]
১৫. পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ: আয়েশা (রা.) পিতৃগৃহে গিয়েছেন।[28]
১৬. দ্বীনী নির্দেশ: আল্লাহ বলেন: পরিবারকে ছালাতের নির্দেশ দাও।[ত্ব-হা ২০/১৩২] রাসুল (সা.) স্ত্রীদের ছালাতে জাগাতেন।[29]
১৭. বাড়ি ছাড়া ত্যাগ না করা: রাসুল (সা.) বলেন: ঘরের মধ্যেই পৃথক রাখো।[30]
১৮. একাধিক স্ত্রীতে ন্যায়: রাসুল (সা.) বলেন: ন্যায়পরায়ণরা জ্যোতির মিম্বরে।[31] অসমতায় দেহ ভাঙ্গা অবস্থায় আসবে।[32][33]
১৯. উপদেশ: বিদায় হজে রাসুল (সা.) বলেন: স্ত্রীদের সাথে উত্তম ব্যবহার করো।[34]
২০. মারধর না করা: রাসুল (সা.) কখনো স্ত্রীকে প্রহার করেননি।[35] দাসীর মত মারপিট করে শয্যাসঙ্গী হওয়া নিন্দিত।[36-38]
আসুন, কু-প্রথা পরিত্যাগ করে স্বামীর কর্তব্য পালন করি। পরিবারে শান্তি ও বরকত নেমে আসবে।
[চলবে]
তথ্যসূত্র:
[1] আবু দাউদ হা/৪৯৫।
[2] আহমাদ, সহিহ আত-তারগিব হা/৫৭০।
[3] তিরমিযী হা/১৯৭০।
[4] আবু দাউদ হা/৪০৮৪।
[5] বুখারী হা/২৯৮৯।
[6] তাফসীর ইবনে কাছীর ২/২৪২।
[7] মুসলিম হা/১৪৬৯।
[9] বুখারী হা/১১৬১।
[10] আবু দাউদ হা/১২৬২।
[11] তাফসীর কুরতুবী ৫/৯৭।
[12] তিরমিযী হা/২৬৯৮।
[13] সহিহ ইবনে হিববান হা/৪৯৯।
[14] বুখারী হা/৩১৩০।
[15] বুখারী হা/৫৭৪৩।
[16-18] বুখারী, আদাবুল মুফরাদ প্রভৃতি।
[19-21] মুসলিম হা/১৪৬৮।
[22] বুখারী হা/৫১৪৩।
[23] বুখারী হা/১৯৭৫।
[24] বুখারী হা/৬১৩৯।
[25] বুখারী হা/৪৯৫৩।
[26] বুখারী হা/২৭৩২।
[27] বুখারী হা/৬৩১।
[28] বুখারী হা/২৬৬১।
[29] বুখারী হা/৭০৬৯।
[30] আবু দাউদ হা/২১৪২।
[31] মুসলিম হা/১৮২৭।
[32] তিরমিযী হা/১১৪১।
[33] নাসাঈ হা/৩৯৪২।
[34] তিরমিযী হা/১১৬৩।
[35] মুসলিম হা/২৩২৮।
[36-38] বুখারী, মুসলিম।
ইন্টারনেট।
#আদর্শপরিবার #স্বামীরকর্তব্য #কুপ্রথা #ইসলামীজীবন #পারিবারিকশান্তি #IslamicHusband #AvoidBidah #FamilyDuties
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।