তোমরা মুসলমান না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন
প্রবন্ধ | জানুয়ারি ০৫, ২০২৬
মৃত্যু অবধারিত। এতে কোনো সন্দেহ নেই। আল্লাহ তা‘আলা কুরআনে ইরশাদ করেন, “প্রত্যেক প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে।” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) অথচ আমরা অধিকাংশ সময় এ থেকে গাফেল। একজন মুসলিমের জন্য সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো মৃত্যুকে বেশি বেশি স্মরণ করা এবং তার জন্য সর্বদা প্রস্তুত থাকা। দুনিয়ার এই সীমিত সময়টুকুই আমাদের মূলধন। এটাকে যদি আখিরাতের পাথেয় সঞ্চয়ে ব্যয় করি, তবেই লাভ। আর যদি গুনাহ ও পাপে নষ্ট করি এবং এ অবস্থায় আল্লাহর সামনে হাজির হই, তাহলে আমরাই সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত।
বুদ্ধিমান সেই, যে আল্লাহ তার কাছ থেকে হিসাব নেওয়ার আগেই নিজের হিসাব নিয়ে ফেলে। গুনাহ থেকে দূরে থাকে ধ্বংসের পথে পা দেওয়ার আগেই। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম অবস্থায় মৃত্যুবরণ করো ব্যতীত অন্য কোনো অবস্থায় নয়।” (সূরা আল-ইমরান: ১০২)
আল্লাহ তা‘আলা আরও ইরশাদ করেন:
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো যথাযথ ভয় করার মতো এবং তোমরা মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।” (সূরা আল-ইমরান: ১০২)
এই আয়াতই আজকের এই লেখার শিরোনাম। এটি আমাদের জন্য সর্বোচ্চ সতর্কবাণী। মৃত্যু কখন আসবে, কেউ জানে না। তাই প্রতি মুহূর্তে প্রস্তুত থাকতে হবে—পূর্ণ ঈমান নিয়ে, পূর্ণ ইসলামের ওপর অবিচল থেকে।
প্রকৃত মুসলিম কে?
শুধু মুখে “আমি মুসলিম” বললেই হবে না। মুসলিম শব্দের অর্থ আত্মসমর্পণকারী। যে ব্যক্তি একমাত্র আল্লাহকে রব হিসেবে মেনে নেয়, তাঁর সঙ্গে কাউকে শরিক করে না এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দেখানো পথে জীবন পরিচালনা করে—সে-ই প্রকৃত মুসলিম। হালালকে হালাল, হারামকে হারাম বলে মানে; নামাজ কায়েম করে, রোজা রাখে, যাকাত দেয়, হজ করে (সামর্থ্য থাকলে)।
আল্লাহ বলেন, “আল্লাহর কাছে একমাত্র গ্রহণযোগ্য দ্বীন হলো ইসলাম।” (সূরা আল-ইমরান: ১৯)
এবং “আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পরিপূর্ণ করে দিলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন হিসেবে পছন্দ করলাম।” (সূরা আল-মায়িদা: ৩)
ঈমানের ভিত্তি
জিবরাঈল (আ.)-এর প্রশ্নের উত্তরে রাসুল (সা.) বলেছেন, “ঈমান হলো—আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতা, কিতাব, রাসুল, আখিরাত এবং ভালো-মন্দ তাকদিরের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা।” (সহিহ বুখারি: ৫০; সহিহ মুসলিম: ১)
মৃত্যুর পর পুনরুজ্জীবনের প্রতিও ঈমান আনতে হবে। এই সাতটি বিষয়ে অটল বিশ্বাস ছাড়া ঈমান পূর্ণ হয় না।
প্রকৃত মুসলিমের উপমা
প্রকৃত মুসলিমের জীবন একটি সচল দেয়াল ঘড়ির মতো। ঘণ্টার কাঁটা ফরজের মতো, মিনিটের কাঁটা ওয়াজিবের মতো, সেকেন্ডের কাঁটা সুন্নতের মতো। ব্যাটারি ফুরিয়ে গেলে ঘড়ি থেমে যায়—তেমনি শয়তানের ধোঁকায় ঈমান দুর্বল হলে তাজা করতে হবে কুরআন পড়ে, হাদিস অধ্যয়ন করে, ওয়াজ শুনে, তাওবা করে। তবেই ঈমান জীবন্ত থাকে।
ইসলাম একটি তাঁবুর মতো—যা রোদে ছায়া দেয়, বৃষ্টিতে আশ্রয় দেয়, ঝড়ে রক্ষা করে। ঠিক তেমনি ইসলামই পরকালের আজাব থেকে রক্ষা করে।
হে ভাই-বোনেরা! মৃত্যু কখন আসবে জানি না। কিন্তু এটুকু নিশ্চিত—আমরা সবাই যাব। তাই আজ থেকেই তাওবা করি। গুনাহ ছেড়ে দিই। পূর্ণ ঈমান ও ইসলামের ওপর অবিচল থাকি। আল্লাহ আমাদের সবাইকে হুসনুল খাতিমা দান করুন—মুসলিম অবস্থায় মৃত্যুবরণ করার তাওফিক দিন। আমিন।
তথ্যসূত্রসমূহ:
১. মৃত্যুর অবধারিততা:
পবিত্র কুরআন, সূরা আল-ইমরান, আয়াত: ১৮৫
২. মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ না করার নির্দেশ:
পবিত্র কুরআন, সূরা আল-ইমরান, আয়াত: ১০২
৩. ইসলামই একমাত্র গ্রহণযোগ্য দ্বীন:
পবিত্র কুরআন, সূরা আল-ইমরান, আয়াত: ১৯
৪. দ্বীনের পরিপূর্ণতা:
পবিত্র কুরআন, সূরা আল-মায়িদা, আয়াত: ৩
৫. ঈমানের সংজ্ঞা (জিবরাঈল হাদিস):
সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫০; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১
#মুসলিমঅবস্থায়মৃত্যু #হুসনুলখাতিমা #ঈমানতাজা #ইসলামিজীবন #তাওবা
#পরকালেরপ্রস্তুতি #কুরআনহাদিস #মৃত্যুরস্মরণ #আল্লাহররহমত #প্রকৃতমুসলিম
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।