বিজ্ঞানের আলোকে জান্নাতে মানুষ অনন্তকাল বেঁচে থাকবে কি করে
আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
বয়সের সাথে সাথে মানুষ বৃদ্ধ হবে এবং এক সময় মানুষ মৃত্যুবরণ করবে, ছোট বেলা থেকে এরকমটাই আমরা জেনে এসেছি। কিন্তু বড় হলে যখন ধর্মীও গ্রন্থগুলো পড়া শুরু করি তখন দেখি যে, সেখানে বলা হচ্ছে জান্নাতে মানুষ আমৃত্যু জীবিত থাকবে তাও আবার চিরো যৌবন নিয়ে। বর্তমানে বিজ্ঞানের যুগ তাই অনেকে এগুলোকে উদ্ভব ভাবতে পারেন। সময়ের সাথে সাথে চিন্তা- ভাবনা চেন্স হচ্ছে আমরা এখন সব কিছুতে বিজ্ঞান বিজ্ঞান করি তাই আমি আজকে চেষ্টা করব এই বিজ্ঞানের ফ্যাক্ট ও থিওরি এর আলোকে বিষয়টা ব্যাখ্যা করতে ইনশাআল্লাহ ।
[ উল্লেখ্য এখানে যেসব বিষয় লেখব, সেগুলোর উদ্দেশ্য হলো এটা বুঝানো যে আসলে বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এটা অসম্ভব কিছু না, আর হ্যা এরকম করেই যে সকল কিছু ঘটানো হবে বিষয়টা তাও না, আল্লাহ রব্বুল আলামিন কিভাবে জান্নাতে আমাদের অমর রাখবেন, সেটা তিনিই ভালো জানেন,আমি তো শুধু নাস্তিকদের ভ্রান্ত দাবিটাকে খন্ডন করতে চাই, আর যেসব মুসলিমরা সংশয়ে আছে তাদের সংশয়টুকু দূর করতে চাই, ধন্যবাদ ]
তো চলুন শুরু করা যাক।
" জান্নাতে সর্বশেষ যে ব্যাক্তি যাবে সে দুনিয়ার থেকে দশগুন অধিক পাবে ( মিশকাত হা/৫৩৪৩) "
[ এটা একটু বড় হাদীস, ঘটনাটা হয় তো শুনে থাকবেন যে জান্নাতে একজন ব্যাক্তি যাবে যিনি কিনা সর্বশেষ, তিনি কয়েক বার জান্নাতে প্রবেশ করবে কিন্তু বার বার বাহির হয়ে আসবে তারপর আল্লাহ রব্বুল আলামীন কে বলবেন যে জান্নাত তো ভরপুর, তখন আল্লাহ রব্বুল আলামীন বলবেন তুমি কতটুকু চাও ( এরকম কিছুই বলবে আর কি) .... তো আল্লাহ রব্বুল আলামীন তখন তাকে দুনিয়ার চেয়ে দশগুন...... ]
এই হাদীসটা মাথাই রাখুন।
[ ওহহহ এই হাদীসটা বলার কারন হলো জন্নাতের বিশালত্ব কতটুকু সেটা বুঝানোর জন্য, এছাড়াও একটা হাদীস আছে যেখানে দুনিয়ার সকল মানুষ ( জান্নাত বাসীকে) আল্লাহ রব্বুল আলামীন নিজের রুপ দেখাবেন ( রিয়াদুস সালেহীন, হাদীস নং ১৮৯৭) আল্লাহ রব্বুল আলামীন নিজের কুদরিত সত্তা নিয়ে ওইখানে অবস্থান করবেন এর থেকেও জান্নাতের বিশালত্ব বুঝা যায় ]
যাইহোক এই তো গেলো দুটো হাদীস।
এখন আসি মূল পয়েন্টে
" জান্নাতে .. " এটাই তো কথা, তাই না??
তো আমরা একটা কথা জানি যে যদি কোনো ব্যাক্তি আলোর গতিতে কোনো রকেট এতে ভ্রমণ করে এবং দুনিয়াতে আসে দীর্ঘ সময় পর তাহলে সে দুনিয়াতে যাদের রেখে গেছিলো তারা বৃদ্ধ হবে আর সে আগের মতোই থাকবে ( থিওরি অব রিয়েলিটিভি) এই কথা টা তো আমরা কম বেশি সবাই জানি। কিন্তু এটা ছাড়াও আরেক ভাবে আপনি সময়কে থামিয়ে দিয়ে আগের মতো থাকতে পারবেন
" যদি কোনো স্থানের ভর অধিক ( অধিক ঘনত্ব বস্তু) অনেক অনেক বাড়িয়ে দেওয়া হয় তাহলে সময় সেখানে সংকুচিত হয়ে যাবে।
যেমন :ধরুন ব্যাক্ল হোল এর কথা,
[ ইন্টারস্টেলার ( নামটা ঠিক মনে আসছে না) মুভিতে তো দেখেছেন ব্যাক্ল হোল এর মধ্যে কিছু সময় কাটানোর জন্য অন্য স্থানের থেকে সময় কত কম.... এছাড়াও বাবার চাইতে মেয়ে কিভাবে..... ]
কৃষ্ণগহ্বর ( ব্যাক্ল হোল এর বাংলা) এর ভর অনেক যার কারণে সময় সংকুচিত হয়ে যায় এবং ওইখানে অবস্থান করলে আপনি কখনো.....
আসলে ভর যত বেশি হবে সময় তত সংকুচিত হবে এবং টাইম স্লো হয়ে যাবে।
এখন ধরুন আপনি আপনার শিশু মেয়েকে দুনিয়াতে রেখে গেলেন যার বয়স পাঁচ, আর আপনি কোনো মহাকাশযানে বসে আলোর গতিতে বা অধিক ভর যুক্ত কোনো স্থান থেকে ঘুরে আসলেন একটা নিদিষ্ট সময় পযন্ত ( ধরি ২০ বছর) আর দুনিয়াতে আসলেন নিদিষ্ট সময় পার হওয়ার পর, এখন দুনিয়াতে এসে যদি দেখেন যে আপনার চাইতেও বয়সে আপনার মেয়ে বড় তাহলে বিষয়টা কি আপনি বিশ্বাস করবেন। ( হ্যা এটাই বিজ্ঞান , আপনার সন্তানের চেয়ে আপনার বয়সও কম হওয়া সম্ভব )
তো আমরা দেখতে পেলাম যে দুটো মাধ্যমে মানুষ.........
এখন আসি জান্নাতের ব্যাপারে।
প্রথমেই উল্লেখ করেছি
যে " একজন ব্যাক্তি, যিনি সর্বশেষ জান্নাতে যাবে, যাকে দুনিয়ার চেয়ে দশগুন......."
এছাড়াও বলেছি যে
" আল্লাহ রব্বুল আলামিন সকল জান্নাত বাসীকে নিজের দর্শন দিবেন"
আমরা তো এই কথা জানি বর্তমানে দুনিয়াতে ৮৫০ কোটি মানুষ আছে
[ বর্তমানেরটাই ধরি, পৃথিবীর শুরু থেকে শেষ হওয়া পযন্ত কত শত যে মানুস আসবে সেটা আমি অথবা আপনি কেও জানি না ]
এখন প্রত্যেকে যদি জান্নাতে ওই শেষ ব্যাক্তির মতো বিশাল ... তাহলে জান্নাতের...
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে জান্নাতের বিশালত্ব অসীম সংখ্যক হবে।
তো এই পরিমাণ ভর যুক্ত কোনো স্থানে যদি মানুষরা থাকে তাহলে সময় বাহিরের অবস্থান থেকে...
যেমনটা রকেট এতে ঘটে,
রকেট এর ভিতরে যেমন কেও থাকলে অন্যের সাপেক্ষে সময় জিরো
ঠিক ওই রকমি জান্নাতে....
তো আমরা বুঝতে পারছি যে এটা অসম্ভব কিছু না।
[ অথবা আলোর গতিতেও যদি অনন্তকাল জান্নাত সমাই নিয়ে চলতে( বা ঘুরতে থাকে) তাহলেও সময় কোনো প্রভাব ফেলবে না যার কারণে আমরা কখনো সময়ের মায়াজালে বৃদ্ধ হবো না ]
প্রথমেই বলে দিয়ে ছিলাম যে ঠিক এরকমই যে হবে বিষয়টা তা না, আমি শুধু " আপেক্ষিক তত্ত্বের মাধ্যমে দেখালাম যে এরকমটা হওয়া সম্ভব ।
[ বাক বাকি আল্লাহ রব্বুল আলামীন কি ভাবে করবেন সেটা তিনিই জানেন, আমরা মুসলিম আমাদের আকিদা হলো এই যে আল্লাহ রব্বুল আলামিন সবই পারেন, কিন্তু নাস্তিকরা তো আবার বিজ্ঞান ছাড়া কিছু বুঝে না, তাই লেখাটা...
তো ভুল হলে আমাকে দয়া করে মাফ করে দিবেন।
তো সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন
কলমে: মোঃ মেহেদী হাসান
আল্লাহ হাফেজ, আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।