রাসূল সাঃ এর পিতার ব্যাপারে বিভ্রান্তকর অভিযোগর জবাব
আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
এটার জবাব অনেক আগে থেকেই দেওয়া হচ্ছে । আমি আমার পুরানো লেখাটা না পাওয়ার কারণে আবার নতুন করে এই বিষয়ে লেখা শুরু করছি। আমি এখানে পয়েন্ট টু পয়েন্ট জবাব দিব ইনশাআল্লাহ ।
তো চলুন শুরু করা যাক।
তার দেওয়া কপি পেস্ট কমেন্ট এর প্রথমে একটা ঘটনা দেওয়া আছে যেটা উম্মে হানীর কাছে নবীজি এর বিয়ের প্রস্তাব পাঠানোর ঘটনা, ঘটনাটাতে রাসূল সাঃ এবং আরেক ব্যক্তি উম্মে হানীকে বিয়ের প্রস্তাব পাঠাই, আর নবীজির প্রস্তাব বাদ দিয়ে দ্বিতীয় ব্যক্তির প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়, নবীজি তার প্রস্তাব গ্রহণ না করার কারণ জানতে চাইলে আবু তালিব বলে " সম্মানীওদের সমকক্ষ সম্মানীওরাই হয়ে থাকে " আর এতটুকু অংশ দেখিয়ে নাস্তিকরা বলে যে " আবু তালিব এবং মুহাম্মদ ( সাঃ) একই বংশের হওয়ার পরেও তার সাথে নিজ কন্যার বিয়ে না দেওয়া প্রমাণ করে নবীজি..... ( নাউজুবিল্লাহ ) ।। তো এই ঘটনার রেফারেন্স হিসাবে বলা হয় " আসহাবে রাসূলের জীবন কথা -৬/৯৮ "। আমি উক্ত রেফারেন্স চেক করি এবং ওইখানে এই ঘটনার কোনো সনদসহ সূত্র পায় নি এবং এই ঘটনার পক্ষে বই এর লেখক এক আজব রেফারেন্স প্রদান করে টীকাতে, যেখানে লেখা ছিল ' নিসা-৪/১৪ ' । এই ঘটনার সাথে নিসার উক্ত আয়াতের কি সম্পর্ক আমার মাথাই ঢুকল না! যাইহোক আমি এই বিষয়ে জানার চেষ্টা করি যে এই রেওয়াত সহীহ কিনা। পরে জানতে পারি যে উক্ত ঘটনা সহীহ না ( মাসিক আত তাহরীক ২০১৯ মার্চ - প্রশ্নোউত্তর পর্ব -৩/২০৩)
লিংক -
https://at-tahreek.com/
তারা যে বর্ণনা এর উপর ভিত্তি করে আজগুবি যুক্তিতে নবীজির জন্মকে প্রশ্নবৃদ্ধ করতে চেয়েছে সে রেওয়াত বিশুদ্ধ সনদে প্রমাণিত না হওয়ার কারণে আমরা তাদের প্রথম প্রমাণ বাতিল হিসাবে প্রত্যাখ্যাত করছি.....।
তো পরবর্তীতে কপি পেস্ট এর দ্বিতীয় অংশে ছাগলের তিন নাম্বার বাচ্চার মতো উল্টা- পাল্টা ক্যালকুলেট করে শেষে রায় দিলো যে " মা আমেনার গর্ভে নবীজি ৩/৪ বছর ছিল, আর এটা সম্ভব না, যা প্রমাণ করে নবীজি... "। তাদের ক্যালকুলেট এতে কিছু সমস্যা আছে, যেমন সেখানে দাবি করা হয়েছে " একই দিনে আব্দুল মুত্তালিব এবং আবদুল্লাহ বিয়ে করে " কিনা বাস্তব কথা হলো তারা একই বংশে বিয়ে করে একই দনে বিয়ে করে এই মর্মে শক্তিশালী বর্ণনা মওজুদ নেই। তারপর বলা হয়েছে হামযার জন্ম নাকি ৫৬৬ সালে! , কিন্তু মজসর ব্যাপার হলো হামজার জন্ম কত সালে এই ব্যাপারেও বিশুদ্ধ কিছু জানা নাই না বরং ইতিহাসবিদরা বলেন যে হামযার জন্ম আনুমানিক ৫৬৬-৫৭০ খ্রিষ্টাব্দ, আর উইকিপিডিয়াতেও এরকমটাই উল্লেখ করা আছে।
লিংক -
https://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%AF%E0%A6%BE_%E0%A6%87%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A7%87_%E0%A6%86%E0%A6%AC%E0%A6%A6%E0%A7%81%E0%A6%B2_%E0%A6%AE%E0%A7%81%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%AC
তো আমরা এখানে দুটো গলদ পেলাম।
১. এখই দিনে বিয়ের দাবি ভুল
২. হামযার জন্মসাল নিদিষ্ট নয়
তাই হামযার জন্মসালের ( অর্থাৎ ৫৬৬ সালের) আগে আবদুল্লাহ এবং আমেনার বিয়ে হয়েছিল এরকম দাবিটাও ভুল। আর এখান থেকেই নাস্তিকরা ত্যানা পেচিয়ে বলে যে বিয়ের অল্প কিছু দিনে আবদুল্লাহ মারা যান( হামযার বয়স ৫৬৬ ধরে ওরা হিসাব করে) আর এর ৩/৪ বছর পর নবীজি জন্ম গ্রহণ করে যা প্রমাণ করে যে নবীজি.. ( নাউজুবিল্লাহ ) ।
কিন্তু আমরা দেখিয়ে দিলাম যে তারা যে ক্যালকুলেট করেছে তা ভুল এবং সেই হিসাবে তাদের সামারিটাও বাতিল বাতিল বাতিল। । বাস্তব কথা হলো আবদুল্লাহ এবং আমেনার বিয়ের বয়স এবং আবদুলাহ কত বছর বয়সে মারা যান এই ব্যাপারে নিদিষ্ট কোনো গ্রহণযোগ্য মত পাওয়া যায় না। আর নাস্তিকরা যে দাবি করে যে আবদুলাহ এর মৃত্যুর ৩/৪ বছর পর রাসূল সাঃ এর জন্ম হয় এটা সম্পূর্ণ ভূয়া ভূয়া। কেননা রাসূল সাঃ এর পিতা যখন মারা যায় তখনই তিনি তার মা আমেনার গর্ভে ছিলেন ( রেফারেন্স : রাহিকুল মাখতুম -৩১/৮০)
রেফারেন্স
* ইবনে ইসহাক -১/৩৭/৯০
* ইবনে হিশাম - ১/১১৪/১৪২
*সীরাত বিশ্বকোষ -২/১/১৩৫
* মুহাম্মদ দা ফাইনলা ম্যাসেনজার -১/১/৬৬ ( সংগৃহীত..)
আবার অন্য মত হলো রাসূল সাঃ এর পিতা যখন মৃত্যু বরণ করে তখন নবীজি জন্মগ্রহণ করেন ( রেফারেন্স :রাহিকুল মাখতুম -৩১/৮০)
তো আমরা দেখতে বিশুদ্ধ সীরাত এর আলোকে দেখতে পাচ্ছি যে নবীজির পিতা মৃত্যু বরণ করার সময় সে তার মায়ের গর্ভে ছিলেন এবং কতদিন পরই জন্মগ্রহণ করেন......। অতএব এখানে এসে নাস্তিকদের ত্যানাবাজি করে যে দাবি তা ভুল সাবিত হয়ে গেলো..... ।
তারপরে এই কপি পেস্ট বুকাচুদা এমন একটা দাবি করে যেটা ইতিহাসের সেরা মিথ্যা এবং বিকৃতি করেছে বললেও ভুল হবে না। মূর্খ প্রতিবন্ধি ব্রেনলেস দাবি করে যে আলি নাকি রাসূল সাঃ এর চাচাতো ভাই না বরং ফাতেমা এর চাচাতো ভাই! । এই মূর্খ প্রতিবন্ধি লেখক রাসূল সাঃ এর জন্মে দোষ দেওয়ার জন্য প্রথম অংশের ঘটনার যে রেফারেন্স পেশ করে সেই রেফারেন্স এতেও বলা হয়েছে যে আবু তালিব নবী মুহাম্মদ সাঃ এর চাচা এবং তার পুত্র হলো আলি ( দেখুন : আসহাবে রাসূলের জীবন কথা-৬/৯৮) । এখন আসি নাস্তিকরা যে হাদীসের ( তাদের দেওয়া দলীল বুখারী -৪২৮) দিয়ে প্রমাণ করার চেষ্টা করেছে যে আলি রাসূল সাঃ না বরং ফাতেমার চাচতো ভাই সেই হাদীসটার ব্যাপারে নাসরুল বারীতে বাখ্যা প্রদান করা হয়েছে এবং সেখানে বলা হয়েছে যে "
আলি ফাতেমা না বরং রাসূল সাঃ এর চাচাতো ভাই ছিল! এখন প্রশ্ন হতে পারে যে এখানে ফাতেমার চাচাতো ভাই কেন বলা হয়েছে! এর জবাব হলো ' আরবদের পরিভাষাতে আত্মীও স্বজনদেরকেও চাচার ছেলে বলা হয় ( নাসরুল বারী-৩/৪৮)
অর্থাৎ এটা আরবদের এক ধরনের ভাষাগত ব্যাপার ছিল। আর এই সেই ভাষা রীতির প্রয়োগকান্তেই রাসূল সাঃ এখানে আলিকে ফাতেমার চাচাতো ভাই বলে, ফাতেমার পিতা নবীজি এর আত্মীও ছিল আলি আর সেই ক্ষেত্রে তার পিতা আলিকে তার পুত্র বিশেষ ধরে ফাতেমার চাচাতো ভাই বলে উল্লেখ করেছেন.......।
সর্বশেষ তারা তাদের কথিত বড় প্রমাণ নাকি পেশ করে আর তা হলো রাসূল সাঃ এর মুখের স্বীকারোক্তি! । রাসূল সাঃ নিজেকে তার দাদা আব্দুল মুত্তালিব এর পুত্র বলে দাবি করেছে! । অনেক বর্ণনা আছে যেখানে নবীজি নিজেকে আব্দুল মুত্তালিব এর পুত্র বলেছেন। মাথামোটা গুলোর বুঝা উচিত পুত্র বলতে ঔরসজাত পুত্র না বরং বংশীও সম্বন্ধও বুঝানো হয়ে থাকে। আমাদের বলা হয় আদম পুত্র এর মানে কি আমরা বাবা আদমের বীর্যে জন্ম হওয়া পুত্র ? উত্তর হলো না, একদমই না! । আরবীওদের মধ্যে এটা নরমাল ব্যাপার যে বংশের প্রভাবশালী এবং মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তি এর সাথে সম্বন্ধ বুঝাতেও তার পুত্র বলে নিজেকে উপস্থাপন করা হতো। নবীজির দাদা ছিল তার বংশে মর্যাদাবান ব্যক্তি আর সেই কারণে বংশীও সম্পর্কের সম্বন্ধ বুঝাতে রাসূল সাঃ অনেক সময় নিজেকে তার পুত্র বলে পরিচয় দিয়েছেন......। আর এটা শুধু রাসূল সাঃ করেন নি। বাইবেল এতেও যীশুকে ডেভিড ( দাউদ) পুত্র বলা হয়েছে ( নিউ টেস্টামেন্ট , মথি - ৯/২৭) আর এখানে দাউদ পুত্র বলতে যে দাউদের বীর্যে জন্ম নেওয়া পুত্র বলা হয় নি তা তো আমরা জানিই.... । আবার মহাভারতেও পিতামত ভীস্ম পান্ডব পুত্রদের নিজ পুত্র বলতেন, এর মানে কি পান্ডুরা তার ঔরসজাত সন্তান?। এরকম করে অনেক উদাহরণ পেশ করা যাবে, যা দ্বারা বিবেকবান মানুষও বুঝতে পারে যে রাসূল সাঃ আব্দুল মুত্তালিব পুত্র বলে নিজেকে আব্দুল মুত্তালিব এর জন্মগত পুত্র উদ্দেশ্য নেন নি.......। আর সবচেয়ে বড় কথা হলো রাসূল সাঃ নিজেকে আবদুল্লাহ এর পুত্রও বলেছে ( আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া-২/৪৭৫) , কিন্তু নাস্তিকরা এটা উল্লেখ না করে নবীজি নিজেকে আব্দুল মুত্তালিব পুত্র বলেছে শুধু সেটাই উল্লেখ করে থাকে........ যা দ্বারা প্রমাণ হয় যে এরা আংশিক বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করে থাকে........।
আশা করি কপি পেস্ট এর পয়েন্ট টু পয়েন্ট উত্তর কপি পেস্টকারী পেয়েছেন এবং আপনারাও সত্যটা জানতে পেরেছেন..... ।
তো সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন
লেখক : মোঃ মেহেদী হাসান ✍️
আল্লাহ হাফেজ, আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
#প্রিন্স_ফ্রেরাসে
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।