#ঈশা_নবী_প্রসঙ্গে_আনিত_অভিযোগ_ও_তার_খন্ডন
আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
নাস্তিকসহ বি- ধর্মীরা নবী ঈশাকে কেন্দ্র করে অনেক প্রশ্নই করে থাকে। তো আজকে এরকম চারটা প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ ।
তো চলুন শুরু করা যাক।
যে চারটি কমন প্রশ্ন
১৷ কোরআনে নাকি বলা হয়েছে নবী ঈশার পিতা আছেন???
২. পিতা ছাড়া জন্ম কিভাবে হলো???
৩. কোরআনে ঈশা ইবনে মারিয়াম কেন বলা হলো???
৪. ঈশা নবীর মাকে সম্বোধন করাতে কি কোরআনে কোনো ভুল আছে???
পয়েন্ট আকারে জবাব দিচ্ছি ; কেমন।
পয়েন্ট নাম্বার ওয়ান
____________________
প্রথম প্রশ্নটা দেখে হয় তো অবাক হয়েছেন। হ্যা আমিও আজ রাত তিনটাই অবাক হয়েছিলাম। আজ রাতে তিনটার সময় Somewhereing blog এতে একটা আর্টিকেল পড়লাম, যেটা পড়ার পর হাসবো নাকি কান্না করব বুঝতে পারছিলাম না। আসলে এই লোকটা সমাজে ফেতনা ছড়াতে চাই হয় তো। আপনারা হয় তো কেও আগে এরকমটা শুনেন নায় যে " আল কোরআনে ঈশার পিতার কথা বলা আছে। তো আগে এটা ক্লিয়ার করি। সূরা আনআম এর ৮৩ থেকে ৮৬ পযন্ত সর্ব মোট ১৮ জন নবীর নাম এসেছে, এর মধ্যে ঈশা নবীও আছেন। এই সূরার ৮৭ নাম্বার আয়াতে বলা হচ্ছে যে" وَ مِنۡ اٰبَآئِہِمۡ وَ ذُرِّیّٰتِہِمۡ وَ اِخۡوَانِہِمۡ ۚ وَ اجۡتَبَیۡنٰہُمۡ وَ ہَدَیۡنٰہُمۡ اِلٰی صِرَاطٍ مُّسۡتَقِیۡمٍ ﴿۸۷﴾
ওয়া মিন আ-বাইহিম ওয়া যুররিইইয়া-তিহিম ওয়া ইখওয়া-নিহিম ওয়াজতাবাইনা-হুম ওয়া হাদাইনা-হুম ইলা-সিরা-তিম মুছতাকীম।
আর এদের বাপ-দাদা, সন্তান, সন্ততি ও ভাইদের মধ্যে অনেককে আমি মনোনীত করে সঠিক ও সোজা পথে পরিচালিত করেছি।
And also some of their fathers and their progeny and their brethren, We chose them, and We guided them to a Straight Path. "
এই আয়াতে বলা হচ্ছে যে " তোমাদের পতৃপুরুষদেরকে সরল সোজা পথে মনোনীত করেছি। ঈশা নবীর কথা যেহেতু এই সূরার ৮৩ থেকে ৮৬ নাম্বার আয়াতে আছে আর শেষে যেহেতু ' বাপ-দাদা' শব্দদয় আছে তাই তারা এখান থেকে প্রমাণ করতে চাই যে ঈশা নবীরও পিতা ছিল। আসলে এরকম কথা শুনলে বা পড়লে নিজেকে আর কন্টোল করতে পারি না। সেই ভাই হয় তো আরবি ব্যাকরণ এর একটা নিয়মের কথা জানে না, আর তা হলো " আরবি ব্যাকরণ অনুসারে সংখ্যালগরিষ্ঠদের উল্লেখ এর সময় সংখ্যালঘুদের উল্লেখ কোনোভাবে জরুলি নয়, তবে কেও করতে চাইলে করতে পারবে, সমস্যা নেই। একটা আয়াত দেখলে এই বিষয়টা বুঝতে পারবেন, আল্লাহ রব্বুল আলামিন বলছেন যে " وَ اِذۡ قُلۡنَا لِلۡمَلٰٓئِکَۃِ اسۡجُدُوۡا لِاٰدَمَ فَسَجَدُوۡۤا اِلَّاۤ اِبۡلِیۡسَ ؕ اَبٰی وَ اسۡتَکۡبَرَ ٭۫ وَ کَانَ مِنَ الۡکٰفِرِیۡنَ ﴿۳۴﴾
ওয়া ইযকুলনা- লিলমালাইকাতিছজু দূলিআ-দামা ফাছাজাদূ ইল্লা ইবলীছা আবা-ওয়াছতাকবারা ওয়া কা-না মিনাল কা-ফিরীন।
এবং যখন আমি মালাইকা/ফেরেশতাদেরকে বলেছিলাম যে, তোমরা আদমকে সাজদাহ কর, তখন ইবলীস ব্যতীত সকলে সাজদাহ করেছিল; সে অগ্রাহ্য করল ও অহংকার করল এবং কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেল।
And (remember) when We said to the angels: Prostrate yourselves before Adam.. And they prostrated except Iblis (Satan), he refused and was proud and was one of the disbelievers (disobedient to Allah). "
এটা দুই নাম্বার সূরা, সূরা বাকারার ৩৪ নাম্বার আয়াত।
এই আয়াত পড়লে কিন্তু মনে হবে যে ইবলিশ সে হয় তো ফেরেশতা, কিন্তু আমরা জানি যে সে কোনো ফেরেশতা না। এই আয়াতে ব্যাকরণ এর নিয়মটা বলা হয়েছে। আরেকটু ক্লিয়ার করি চলুন। ধরুন একটা ক্লাস এতে ১০ জন ছাত্র এবং দু- জন ছাত্রী, এখন স্যার এসে যদি বলেন যে ছাত্ররা দাড়াও তখন কিন্তু ছাত্রসহ ছাত্রীরাও দাড়াবে, তাদের আর আলাদাভাবে উল্লেখ করতে হয় না, এই আয়াতটাও ঠিক সেই রকম। আশা করি কথা ক্লিয়ার। তিনি আবার তাঁর লেখায় আরেকটা যুক্তি দিচেন, আর সেটা হল " আল্লাহ রব্বুল আলামীন এর বিধান নাকি পরিবর্তন হয় না, তাই ঈশারও বাবা থাকা প্রয়োজন, প্রমাণ হিসাবে পেশ করেছে সূরা ফাতহ এর ২৩ নাম্বার আয়াত, যেখানে আল্লাহ রব্বুল আলামিন বলছেন যে " سُنَّۃَ اللّٰہِ الَّتِیۡ قَدۡ خَلَتۡ مِنۡ قَبۡلُ ۚۖ وَ لَنۡ تَجِدَ لِسُنَّۃِ اللّٰہِ تَبۡدِیۡلًا ﴿۲۳﴾
ছুন্নাতাল্লা-হিল্লাতী কাদ খালাত মিন কাবলু ওয়া লান তাজিদা লিছুন্নাতিল্লা-হি তাবদীলা-।
ইহাই আল্লাহর বিধান, প্রাচীনকাল হতে চলে আসছে; তুমি আল্লাহর এই বিধানে কোন পরিবর্তন পাবেনা।
That has been the Way of Allah already with those who passed away before. And you will not find any change in the Way of Allah."
এটা ৪৮ নাম্বার সূরার ২৩ নাম্বার আয়াত। আসলে তিনি চালাকি করছে৷ এই সূরাটার শানে নূযুল পড়লেই বুজতে পারবেন এই আয়াত কিসের ইঙ্গিত করছে। আচ্ছা শানে নুযূল পড়ার দরকার নেই, আমিই বলে দিচ্ছি। খেয়াল করুন সূরাটার নাম। ফাতহ অর্থ বিজয়, এখানে বিজয়কে কেন্দ্র করে সূরার সকল আয়াত নাযিল হয়েছে। আমরা যদি এই সূরার প্রথম আয়াত থেকে শেষ পযন্ত পড়ি তাহলেি বুজতে পারব যে এই ২৩ নাম্বার আয়াতের মানে কি৷ আমি সংক্ষিপ্ত আকারে বলছি। এই সূরার ১৭ আঠারো থেকে শুরু করি কেমন। ১৮ নাম্বার আয়াতে বলা হচ্ছে বাইয়াতের কথা, ১৯ নাম্বার আয়াতে বলা হচ্ছে গনিমতের কথা, ২০ নাম্বার আয়াতেও তাই, মানে গনিমতের ওয়াদা করা হচ্ছে আর কি( যাইহোক আপনারা আল কোরআন থেকে পড়ে নিবেন, একটু কষ্ট করে) ২১ নাম্বার আয়াতে বিজয়ের ওয়াদা করা হচ্ছে, ২২ এতে বলা হচ্ছে যে ' মুমিনদের কাছে কাফেররা হেরে যাবে। আর ২৩ নাম্বার আয়াতে বলছেন যে " এটা আল্লাহ রব্বুল আলামিন এর বিধান, যা আগে থেকেই চলে আসছে "। এখন আশা করি বুজতে পেরেচেন এই আয়াতটার মানে কি, এর মানে হলো সত্য সব সময় জয় হয়, আর এটাই আল্লাহ রব্বুল আলামিন এর বিধান। আশা করি কথা ক্লিয়ার। তাই এই আয়াত দ্বারা খনো এটা বুঝাচ্ছে না যে ' বাপ ছাড়া কোনো মানুষের জন্ম হবে না।
এই গেল যুক্তি খন্ডন পরব। এখন ঈশা নবী যে পিতা ছাড়া জন্ম গ্রহণ করছে তাঁর সুস্পষ্ট প্রমাণ দেয় আল কোরআন থেকে। আল্লাহ রব্বুল আলামিন বলছেন যে " قَالَتۡ رَبِّ اَنّٰی یَکُوۡنُ لِیۡ وَلَدٌ وَّ لَمۡ یَمۡسَسۡنِیۡ بَشَرٌ ؕ قَالَ کَذٰلِکِ اللّٰہُ یَخۡلُقُ مَا یَشَآءُ ؕ اِذَا قَضٰۤی اَمۡرًا فَاِنَّمَا یَقُوۡلُ لَہٗ کُنۡ فَیَکُوۡنُ ﴿۴۷﴾
কা-লাত রাব্বি আন্না-ইয়াকূনু লী ওয়ালাদদুওঁ ওয়া লাম ইয়ামছাছনী বাশারুন কা-লা কাযা-লিকিল্লা-হু ইয়াখলুকুমা-ইয়াশা-উ ইযা-কাদা-আমরান ফাইন্নামা-ইয়াকূলু লাহু কুন ফাইয়াকূন।
সে বলেছিলঃ হে আমার রাব্ব! কিরূপে আমার পুত্র হবে? কোন পুরুষ মানুষতো আমাকে স্পর্শ করেনি; তিনি বললেনঃ এরূপে আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন, সৃষ্টি করে থাকেন, যখন তিনি কোন কাজের মনস্থ করেন তখন তিনি ওকে ‘হও’ বলেন, ফলতঃ তাতেই হয়ে যায়।
She said: O my Lord! How shall I have a son when no man has touched me. He said: So (it will be) for Allah creates what He wills. When He has decreed something, He says to it only: Be! and it is."
এটা ৩ নাম্বার সূরার ৪৭ নাম্বার আয়াত, । আর এই আয়াতে মা মরিয়ম বলছেন যে " আমাকে তো কোনো পুরুষ স্পর্শ করি নি, তাহলে সন্তান হবে কেমন করে" আর এই কথাটার মাধ্যমেই বুঝা যায় যে ঈশা নবী পিতা ছাড়া জন্ম গ্রহন করেছে৷ আশা করি সব ক্লিয়ার।
দ্বিতীয় পয়েন্ট
_____________
কোনো পুরুষের হস্তক্ষেপ ছাড়া সন্তান আসলো কয় থেকে??
আসলে নাস্তিকদের এই কথার মাধ্যমে প্রমান হয় যে তাঁরা দ্বিমুখী আচরন করে। তারা বিজ্ঞান বিজ্ঞান করলেও ইসলামকে অবৈজ্ঞানিক প্রমাণ করার জন্য বিজ্ঞানকেও মাঝে- মধ্যে এড়িয়ে যায়। এই প্রকৃতিতে অনেক উদাহরণ আছে কোনো পুরুষ লিঙ্গ ছাড়া স্ত্রী লিঙ্গের ডিম্বাণু নিষিক্ত হওয়ার৷ ডর্্যাগন গিরগিটি নামে এক ধরনের গিরগিটি আছে যারা কোনো পুরুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই বাচ্চা জন্ম দেয়৷ এই গিরগিটি আবিস্কার হয় আজ থেকে প্রায় ১৬০ বছর আগে। তাঁর আগে মানুষ এর ব্যাপারে তেমন কিছু জান তো না, যদিও এরা কোটি কোটি বছর ধরে পৃথিবীতে বসবাস করছে। এই প্রাণীটাই প্রমান করে যে পুরুষের হস্তক্ষেপ ছাড়া কোনো সন্তান হওয়া সম্ভব। একন প্রশ্ন হলো আমাদের বঙ্গীয় কলা বিজ্ঞানিরা কি এই ব্যাপারে জান তো না। আচ্ছা এই কথা না জানলেও তো মৌমাচির ব্যাপারে জানে। তবুও কেন তাঁরা ঈশা নবীর জন্ম নিয়ে প্রশ্ন করে। এটা কি প্রমাণ করে না তাঁরা দ্বিমুখী মানুষ। আর এছাড়াও তো বর্তমান ক্লোনিল পদ্ধতিও বলছে যে মানুষ কোনো শুক্রাণু ছাড়াও জন্ম হতে পারে৷ তাই এতে কোনো সন্দেহ নেয় যে ঈশা নবীর জন্মও কোনো পুরুষের হস্তক্ষেপ ছাড়া হয়েছিল। আশা করি কথা ক্লিয়ার।
[ চতুর্থ প্রশ্নের উত্তর দেখুন, আমার কথার সপক্ষে প্রমাণ পেয়ে যাবেন ইনশাআল্লাহ ; যেটা অখন্ডনীয় ; কোনো নাস্তিক এর বাপেরও সাহস নেই সেটা খন্ডন করবে আর আমি মোঃ মেহেদী হাসান আমাকে ভুল প্রমাণ করবে ; যদি করতে পারে তাহলে কতা দিচ্ছি আর কখনো লেখা- লেখিই করব না ]
তৃতীয় পয়েন্ট
____________
ছোট করে উত্তরটা দিচ্ছি। ঈশা নবী যে পিতা ছাড়া জন্মগ্রহণ করেছে এটা তাঁর উম্মতরা মেনে নিতে পারে নাই, তাই বলে বলে দিল সে নাকি আল্লাহ রব্বুল আলামিন এর পুত্র ( আল্লাহ রব্বুল আলামিন মাফ করুক)।
যদিও বাইবেল বলে অন্য কথা। আপনারা যদি রোমীও এর অধ্যায় ৮ এবং শ্লোক ১৪ পড়েন, তাহলে বুজতে পারবেন যে যীশু ইশ্বরের পুত্র নয়। আর এই অপবাদকে মিথ্যা প্রমান করার জন্য, আল্লাহ রব্বুল আলামিন ঈশাকে ঈশা না বলে ঈশা ইবনে মারিয়াম বলেছে। অন্য নবীদের মতো শুধু নাম্বার ধরে ডাকে নি, আশা করি কথা ক্লিয়ার।
চতুর্থ পয়েন্ট ও শেষ প্রশ্ন
______________________
*ঈশা নবীর মাকে সম্বোধন করাতে কি কোরআনে কোনো ভুল আছে???
জবাব: প্রথমে আয়াতটা দেখুন
আল্লাহ রব্বুল আলামিন বলেন
وَ مَرۡیَمَ ابۡنَتَ عِمۡرٰنَ الَّتِیۡۤ اَحۡصَنَتۡ فَرۡجَہَا فَنَفَخۡنَا فِیۡہِ مِنۡ رُّوۡحِنَا وَ صَدَّقَتۡ بِکَلِمٰتِ رَبِّہَا وَ کُتُبِہٖ وَ کَانَتۡ مِنَ الۡقٰنِتِیۡنَ ﴿٪۱۲﴾
আরও দৃষ্টান্ত দিচ্ছেন ইমরান তনয়া মারইয়ামের, যে তার সতীত্ব রক্ষা করেছিল, ফলে আমি তার মধ্যে রূহ ফুঁকে দিয়েছিলাম এবং সে তার রবের বাণী ও তাঁর কিতাবসমূহ সত্য বলে গ্রহণ করেছিল; সে ছিল অনুগতদের একজন।
উক্ত আয়াতটা সাধারণ মনে হলেও এখানে অসাধারণ মিরাক্কেল লুকিয়ে আছে। লক্ষ্য করুন মারিয়াম এর জন্য আরবিতে " ফীহি " শব্দটা ব্যবহার হয়েছে। " ফীহি" শব্দটা র পুরুষবাচক; আর মারিয়াম হলেন নারী, এখন প্রশ্ন হলো " এখানে পুরুষবাচক শব্দ ব্যবহার না হয়ে নারীবাচক শব্দ ব্যবহার হলো কেন??? এটা কি ব্যাকরনভাবে ভুল না!। যদি মনে এরকম প্রশ্ন জেগে থাকে তাহলে বলব যে আল- কোরআন সঠিক শব্দ প্রয়োগ করেছে। আমরা জানি যে মারিয়াম এর গর্ভে ঈশা নবী জন্মগ্রহণ করেছে ; আর এটাও জানি যে তিনি কোনো পুরুষ এর হস্তক্ষেপ ছাড়া ঈশা নবীকে জন্ম দিছে ( কোরআন ১৯/২০-২৭) নাস্তিকরা আমাদের প্রশ্ন করে " কোনো পুরুষের শুক্রাণু ছাড়া সন্তান কোনোভাবে জন্ম দেওয়া সম্ভব না! তাহলে মারিয়াম কীভাবে জন্ম দিলো ঈশাকে??? ।
প্রথম কথা পুরুষের শুক্রাণু ছাড়া সন্তান জন্ম দিতে পারে না এই ধারণা আংশিক ভুল। প্রকৃতিতে এমন অনেক প্রাণি আছে যারা কোনো পুরুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই সন্তান জন্ম দিতে সক্ষম । এদেরকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় "হার্মাফ্রোডাইট " বলা হয়। এই প্রাণীগুলোর শরীলে শুক্রাণু এবং ডিম্বাণু দুটোই থাকে যার কারণে এরা নিজের শরীলে নিজেই ডিপ্লয়েড ও হ্যাপ্লয়েড সংগঠিত হয়। আর এসব প্রাণীগুলোর কোনো আলাদা কোনো পুরুষ লিঙ্গের কোনো মাধ্যম এর দরকার হয় না শুক্রাণু নেওয়ার জন্য।
আশা করি হার্মাফ্রোডাইট বিষয়টা ক্লিয়ার। এখন যদি আমরা কোরআন -৬৬/১২ আয়াত লক্ষ্য করি তাহলে বুঝতে পারব যে মারিয়াম ছিলেন হার্মাফ্রোডাইট। এখন আসি তাহরীম -১২ নং আয়াতে। প্রথমেই বলে দিসি মারিয়াম এর উদ্দেশ্যে আরবিতে পুরুষবাচক শব্দ " ফীহি " ব্যবহার করা হয়েছে ; আর এই শব্দ ব্যবহারের মূল কারণ হলো মারিয়াম সাধারণ নারী ছিলেন না, তিনি হার্মাফ্রোডাইট ছিলেন। যখন কোনো কিছু নারী বা পুরুষ অভয়ের গুন ধারণ করে তখন সেখানে পুরুষবাচক শব্দের প্রয়োগ করা হয়। এরকম শব্দ মূলত নিত্য নারী বা পুরুষ বাচক হয়। রাষ্টপতি নিত্য পুরুষবাচক শব্দ হলেও এটা নারী পুরুষ দু- জনের জন্য প্রযোজ্য এবং এর কোনো নারীবাচক শব্দও নেই, তাই কোনো নারী রাষ্টপতি হলেও তাকে আলাদা করে নারীবাচক শব্দের ব্যবহার করতে হয় না, নিত্য পুরুষবাচক শব্দ রাষ্ট্রপতি ব্যবহার করা হয়। আর এটা ব্যাকরণের নিয়ম। আর আরবিতেও তাই ; এমনকি প্রত্যেক ইসম পুরুষবাচক ধরা হয় (ক্ষেত্র বিশেষ আলাদাও আছে) । আর মারিয়াম এর ক্ষেত্রে ফীহি শব্দের ব্যবহার কোনো ব্যাকরণের ভুল না বরং নিয়ম অনুসারে ( নারী আর পুরুষ দুটোর বৈশিষ্ট্য নিয়ে আসলে পুরুষবাচক প্রয়োগ) সঠিক এবং আল্লাহ রব্বুল আলামিন একানে সুপ্ত ভাবে বিজ্ঞানের এক বিশেষ জ্ঞানের দিকে ইঙ্গিত করেছে। বর্তমান বিজ্ঞান কৃত্রিম শুক্রাণু তৈরি করার ক্ষমতা রাখে এবং আমরা এটাও জানি যে বিজ্ঞানের কল্যানে আজ পুরুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই নারী গর্ভবতী হচ্ছে । আর বর্তমানের বায়োলজির এই নলেজ আল্লাহ রব্বুল আলামিন ২৫০০ বছর আগের প্রয়োগ করে দেখিয়েছেন সুবহানাল্লাহ সুবহানাল্লাহ সুবহানাল্লাহ । তো আমরা বুঝতে পারলাম যে ঈশা নবীর জন্ম বিজ্ঞান সম্মত এবং তিনি কোনো পুরুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই হয়েছে। আশা করি নতুন কিছু জানতে পেরেছেন
"
যতটা সম্ভব সংক্ষিপ্ত আকারে এই উত্তর টা দিলাম। তো এই ছিল চারটা ঈশা নবী কেন্দ্রিক কিছু প্রশ্নের উত্তর।
তো আজকের মতো লেখা এই পযন্তই, আবার দুপুরে/বিকালে বা রাতে আসছি অন্য কোনো পোস্ট নিয়ে।
[ উল্লেখ্য, যে কেও কপি করতে পারেন এবং নিজ আইডি বা অন্য কোনো গ্রুপ এতে পোস্ট করতে পারেন, অনুমতির দরকার নেই এবং আমার কোনো ক্রেডিট ও চাই না ]
সবাই ততক্ষণ ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।
#লেখক: মোঃ মেহেদী হাসান ✍️✍️✍️
আল্লাহ হাফেজ, আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
#প্রিন্স_ফ্রেরাসে_3_আইডির_সকল_লেখা_সমূহ_এর_লিংকের_তালিকা
#প্রিন্স_ফ্রেরাসে_3_মেহেদী
#প্রিন্স_ফ্রেরাস
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।