#মিরাজ #ও #বিজ্ঞান
আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
প্রিয় বন্ধুরা কেমন আছেন সবাই, আশা করি আল্লাহ রব্বুল আলামীন এর অশেষ রহমতে সবাই ভালো আছেন।আলহামদুলিল্লাহ, আমিও ভালো আছি, আলহামদুলিল্লাহ । আজকে লেখব মিরাজ এর উপর। নাস্তিকরা মিরাজকে কেন্দ্র করে অনেক প্রশ্ন করে। সত্যি কথা বলতে আমাদের মনেও এই নিয়ে সংশয় আছে। তাই ভাবলাম আজকে এই বিষয়ে লেখি। লেখা শুরু করার আগে বলতে চাই যে এরকমটাই যে আল্লাহ রব্বুল আলামিন ঘটিয়েছে তা কিন্তু নয়। আমি শুধু বৈজ্ঞানিক দৃষ্টি কোণ থেকে মিরাজকে সত্য প্রমাণ করার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ । বাস্তবে যে এরকম হয়েছে আর তা কোনো কাকতালীয় না সেটাই এই লেখার মাধ্যমল তুলে ধরব ইনশাআল্লাহ ।
তো চলুন শুরু করা যাক।
আমরা যখন মিরাজ এর ঘটনা পড়ি বা শুনি তখন আমাদের মনে অনেক প্রশ্নের উদয় হয়, যেমন
১. মধ্যাকর্ষণ শক্তি ভেদ করে উপরে উঠা সম্ভব নয়, তাহলে নবীজি মিরাজে গেলেন কি করে❓❔
২.জড় জগতের নিয়ম শৃঙ্খলায় আবদ্ধ স্থূলদেহী মানুষের পক্ষে আকাশের বায়ু শুন্যস্তর ভ্রমণ করা অসম্ভব কারণ মধ্যকর্ষণ স্থূলদেহ সম্পূর্ণ বস্তুকে নিচের দিকে আকর্সণ করে, তাহলে নবীজি গেলেন কিভাবে ❓❔
৩. কয়েক সেকেন্ডে তিনি মিরাজ সংঘটিত করলেন কীভাবে❓❔
ইত্যাদি ইত্যাদি ❓❔
এরকম আরও প্রশ্ন আমাদের মনে ঘুরপাক খায়। আসলে প্রশ্নগুলো এতটা কঠিন না। একটা সময় ছিল যখন মানুষ ভাব তো যে পৃথিবীকে ভেদ করা সম্ভব না মানুসের পক্ষে । কিন্তু বর্তমান ফিজিক্স এর জ্ঞান থাকলে আপনারা হয় তো জানবেন যে কোনো বস্তু সেকেন্ডে প্রায় ৭ মাইল বেগে উপরের দিকে ছুড়লে সেটা পৃথিবীর সীমানা ভেদ করবে। আধুনিক বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলে মুক্ত গতি বা Escape velocity । আর কোনো ভাবে যদি ওি বস্তুটার গতি যদি সেকেন্ডে ৩ লক্ষ হয় তাহলে Gravitational force এর আলোচনাটা সম্পূর্ণ নিরর্থক, কারন আমরা জানি যে নবী বুরাকে ভ্রমণ করেছে। এই বুরাক শব্দটা এসেছে আরবি শব্দ বারকুন থেকে যার সেজা সাপ্টা বাংলা শাব্দিক অর্থ করলে হয় বিদ্যুৎ । আর বিদ্যুৎ মানে আলো, আর এি কথা আমরা সকলেই জানি যে আলো সেকেন্ড এতে প্রায় ৩....... ( কি লেখতে চাইছিলাম তা তো বুঝেই গেছেন, তাি ওইটুকুতে কিছু লেখলাম না) অতএব মিরাজের সফরকে মাধ্যকর্ষণ শক্তির যুক্তি দিয়ে অসম্ভব বলা সম্পূর্ণ মূর্খামি।
এই গেল প্রথম বিষয়, চলুন দ্বিতীয়টাতে প্রবেশ করি।
জড় জগতের নিয়ম শৃঙ্খলায় আবদ্ধ স্থূলদেহী মানুষের পক্ষে আকাশের বায়ুশূন্য স্তর ভ্রমণ করা অসম্ভব কিছু না। ক্লাসিকাল ফিজিক্স এর সূত্র অনুসারে কোনো বস্তু ভূ - পৃষ্ঠ থেকে যত উপরে উঠবে ততই তার ওজন কমে আসবে পলে উধ্ব গমন ক্রমেই সহজ হয়ে যায় এর মানে হল এই যে " পৃথিবী থেকে কোনো বস্তু যত উপরে উঠবে তাঁর ওজন তত কমবে। তাই স্থূলদেহ দারি ওজন ও কোনো বাধা এখানে সৃষ্টি করছে না, বরং উচুতে উঠার সাথে সাথে ভ্রমণ আরও সহজ হচ্ছে।
প্রথম দুই বিষয় গেল, এখন
আসি তৃতীয়টাই।
কয়েক সেকেন্ড এতে কিভাবে তিনি ভ্রমণ করলেন❓❔
প্রথম তো বলে রাখি নবীজি বুরাক এতে করে মিরাজ করেছেন, আর বুরাক শব্দটা আরবি শব্দ বারকুন থেকে উৎপত্তি , এখানে কিন্তু কিন্তু বারকুন শব্দ ব্যবহার করা হয় নায়, বুরাক শব্দ ব্যবহার করা হইছে যা কিনা বারকুন এর চেয়েও অধিক গতি সম্পূর্ণ কোনো কিছুকে বুঝায়। এখন আসি আরেকটা ব্যাপারে। ওয়ামহোল এর কথা তো শুনছেন। যাকে বলা হয় দ্যা শর্ট ওয়ে। এখন এই ওয়ামহোল দিয়ে যে কোনো জায়গায় সহজেই ভ্রমণ করা যায়। একে তো নবীজি বুরাক নিয়ে ভ্রমণ করেছে, তার উপর আবার ওয়ামহোলএর ভিতর দিয়ে, তাই এখানে সময় কোনো ব্যাপারই না। এখন আরেকটা প্রশ্ন হতে পারে, মহাকাশে তো অনেক গ্যাসীয় পিন্ড, ধূলিকনা মেঘ ইত্যাদি ইত্যাদি জিনিস আসে, সেসব থেকে রক্ষা পেল কি করে। দেখুন আমরা মানুষেরা এক সময় ভাবতাম যে পানিতে নামলে কাপড় ভিজবেই, কিন্তু এখন এই চিন্তা সম্পূর্ণ পাল্টিয়ে গিয়েছে, আর আমরা ওয়াটার প্রুফ আবিষ্কার করেছি। আগুনে প্রবেশ করলে মরণ নিশ্চিত, এটা ছিল এক সময়কার চিরন্তর সত্য, কিন্তু এখন আমরা ফায়ার প্রুফ জ্যাকেট বানিয়েছি। এখন চিন্তা করুন তো আল্লাহ রব্বুল আলামিন যে তার নবীকে এরম কোনো প্রুফ জ্যাকেট বা অন্য কিছু দিয়ে প্রটেক্ট করে নায় তার কি গ্যারান্টি আছে। এখন আবার হয় তো প্রশ্ন আসতে পারে তিনি ওয়ামহোল আর আলোর গতিতে চললে নবীজির সামনে সময় স্থির হবে কিন্তু নবীজি যে পৃথিবীতে এসেছিলেন কয়েক সেকেন্ড এতে মিরাজ করে আর এসে দেখলেন যেমনকার জিনিস ঠিক তেমনই আছে, এখানে তো দুনিয়ার সময় এগিয়ে যাওয়ার কথা সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেশন অনুসারে, কিন্তু তা হল না কেন ❓❔। তো ওইসব ব্যাক্তিদের আমি মোঃ মেহেদী হাসান শুধু একটা কথা বলতে চাই যে " আলোর গতিতে চললেই যে সময় স্থির হয় তা কিন্তু না, আমরা যদি কোনো কিছুর ভরকে সহসীগুন বাড়িয়ে দেয় তাহলে সেখানেও সময় ধীরে চলবে। যেমন ব্ল্যাক হোল। এই ব্ল্যাক হোল এর ভর অনেক বেশি যার কারণে সেখানে মধ্যকর্ষণ এর টান অনেক আর এই কারণে ওখানে সময়ও ধীর গতি। ইন্টারস্টেলার ছবিটা যদি দেখে থাকেন তাহলে বিষয়টা বুঝবেন। ঠিক একই রকম ভাবে এই পৃথিবীর ভরকে যদি তার বর্তমান ভরের চেয়ে সহস্র গুন বাড়িয়ে দেওয়া হয় তাহলে সময় এখানেও স্থির হয়ে যাবে। আশা করি এই বিষয়টাও বুঝিছেন। ওহহহ আমার মাথায় এই কয়েকটা প্রশ্নই এসেছিল লেখার আগে। আর আমি যতদূর সম্ভব বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেছি, আলহামদুলিল্লাহ ।
তো মিরাজ রিলেটেড হয় তো অনেক প্রশ্নের জবাব আপনারাও পেলেন।
আর হ্যা আরেকটা কথা বলে রাখি লেখাটা শেষ করার আগে " এই লেখাটা বিশ্বাসীদের জন্য যারা " আল্লাহ রব্বুল আলামিন চাইলে সব করতে পারেন এটা আমাদের আকিদাহ, যেহেতু নাস্তিকরা এই কথাটা মানে না তাই এখানে বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণটা তাদের জন্য করেছি, আশা করি বুঝেছেন।
তো আজকের মতো এই পযন্তই।
সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।
কলমে: মোঃ মেহেদী হাসান
আল্লাহ হাফেজ, আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
Nayeem Nashidd Md Johurul Islam Pakhi Akter Viral Topic MD Sumon Haydar Hawladar Eamin
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।