#নাস্তিক_ও_বিধর্মীদের_মিথ্যাচারের_জবাব
সিরিজ পর্ব-৪১১
আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
কুরআনের আয়াত পরিবর্তন করা আর নাযিল হওয়া বিধানের পর্যায়ক্রমিকতা (নাসখ)এই দুইটা এক জিনিস না। যারা এগুলো গুলিয়ে ফেলে, তারাই এমন প্রশ্ন তোলে।
আল্লাহ আয়াত বদলান না, বরং বিধান পর্যায়ক্রমে দেন
কুরআনে স্পষ্ট বলা আছে -
"আমি কোনো আয়াত রহিত করলে বা ভুলিয়ে দিলে, তার চেয়ে উত্তম বা সমপর্যায়ের আয়াত নিয়ে আসি"(সূরা বাকারা -১০৬)
এখানে নাসখ মানে আগের বিধানের সময়সীমা শেষ হওয়া,
টেক্সট পরিবর্তন নয়, ভুল নয়, সংশোধনও নয়। আর এটা দুর্বলতা নয়, বরং প্রজ্ঞার প্রমাণ। মানুষ একদিনে সব আইন মানতে পারে না। মদ নিষিদ্ধ করা হয়েছে তিন ধাপে যেমনটা আমরা সকলেই জানি। জিহাদ, উত্তরাধিকার, দণ্ডবিধি সবই এসেছে সমাজ প্রস্তুত হওয়ার সাথে সাথে.... । বিষয়টা ছোট উদাহরণ দিলে আশা করি ভালো বুঝবেন -
"একজন শিক্ষক ক্লাস ওয়ানে যে নিয়ম দেয়, ক্লাস টেনে সেটা পরিবর্তন করে।তাহলে কি শিক্ষক আগের নিয়ম ভুল ছিল?
না ছাত্রের যোগ্যতা বদলেছে। ঠিক একই রকম ভাবে প্রাথমিক অবস্থানে মুসলিমদের যে জ্ঞান ও মানসিকতা + তাদের যে পরিস্থিতি ছিল তখন বিধানের বিষয়টা ছিল আলাদা, পরবর্তীতে গিয়ে যখন তারা সম্পূর্ণ ভাবে ইমান ও ইসলামের সাথে খাপ খাওয়িয়ে নেই তখন আল্লাহ আরও উত্তম বিধান দিয়ে দেন.."
যদি এটা পরিবর্তন হতো, তাহলে কুরআন সংরক্ষিত থাকত না ।আল্লাহ নিজেই বলেছেন -
“নিশ্চয়ই আমি কুরআন নাযিল করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষক” (সূরা হিজর- ৯)
কুরআনের একটাও আয়াত ইতিহাসে হারায়নি, পাল্টায়নি, বিকৃত হয়নি।নাসখ মানে আইন কার্যকর থাকার সময় শেষ, আয়াত মুছে যাওয়া নয়। বাইবেলেও একই জিনিস আছে পুরাতন শরিয়াহ পরবর্তী যীশুর মাধ্যমে “নতুন আইন” যেমন-
খৎনা ফরজ - বাতিল ( বিতর্কিত)
খাদ্য আইন - পরিবর্তিত
তাহলে প্রশ্ন হওয়া উচিত
“ঈশ্বর কেন বিধান পরিবর্তন করলেন?”
কিন্তু ওরা সেটা বলে না, কারণ নিজের ধর্মেই আছে।
আমার মূল কথা হলো কুরআনে “পরিবর্তন” নেই, আছে পরিকল্পিত ধাপে ধাপে হিদায়াত। যে এটাকে দুর্বলতা বলে, সে আসলে মানব সমাজ বোঝে না, কুরআন তো দূরের কথা......।
#প্রিন্স_ফ্রেরাসে
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।