Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

গল্প, রিয়ার ভাই, অন্তিম পর্ব

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
29 বার প্রদর্শিত
করেছেন (7,514 পয়েন্ট)   30 ডিসেম্বর 2025 "ছোটগল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!
#রিয়ার_ভাই

   পর্ব ১৩ (শেষ পর্ব) 

[ লেখকের অনুমতি নিয়ে এই লেখাটা ই- নলেজ আইডিয়াতে আপলোড করা হচ্ছে ]

 #ইমি_চৌধুরী

  #Imi_Chowdhury

দারোয়ান নারায়ণ এগিয়ে আসছে আমার দিকে, আমি নড়তেও পারছি না, শরীরে কোনো শক্তি নেই, চিৎকার দেয়ার শক্তিও নেই। আল্লাহ কে ডাকছি, দোয়া দরুদ কিছুই মনে পড়ছে না। 

আমি মাগরেবের আজান শুনতে পাচ্ছি। হঠাৎ বিকট একটা শব্দ হলো, এই ছাপড়ি টিনের ঘরের ভাঙাচোরা দরজাটা ভেঙে তিনজন লোক ঢুকলো ঘরটার ভেতরে। ভাঙা দরজার বড় একটা অংশ ছিটকে এসে পড়লো আমার মুখের উপরে, মুখে জায়গায় জায়গায় ক্ষত বিক্ষত হয়ে গেলো। মাথায়ও প্রচন্ড আঘাত পেয়েছি। আমি তো হাত নাড়াতে পারছি না। চেহারার উপর থেকে ভারী কাঠ সড়াতেও পারছি না। কাঠের ফাকা দিয়ে দেখতে পাচ্ছি তিনজনের ভেতরে অতি সুদর্শন দুজন পুরুষ, এদের শরীর থেকে যেনো দ্যূতি ছড়াচ্ছে। সন্ধ্যার আধো আলো আধো ছায়ায় এই ভাঙা চোরা ঘরে যেনো জোছনার আলোয় আলোকিত হয়ে গেছে এদের আগমনে। এরা যেনো এই ভূবনের কেউ নয়, আচ্ছা আল্লাহর ফেরেশতারা দেখতে কেমন হবে? বা দেবদূতেরা দেখতে কেমন হয়?

তারা কি এই দুজন পুরুষ থেকেও সুদর্শন? নাকি আমার অবচেতন মনে বিপদ থেকে রক্ষা পাবার আশায় এই দুজন কে অন্য ভূবনের অসাধারণ কেউ মনে হচ্ছে,,,,,,, তাহলে তৃতীয়জন কে সুদর্শন লাগছে না কেনো? 

তিনজন লোকের দুজন নারায়ন কে ভারী কিছু দিয়ে বাড়ি দিলো এবং জাপটে ধরলো। অন্য জন এগিয়ে আসছে আমার কাছে। সে এসে আমার মুখের উপর থেকে ভারী কাঠ সড়ালো। খুব কাছে আসার কারনে দেখে চিনতে পারলাম সে আর কেউ নয়, রিয়ার ভাই। আমি মাথায় আঘাত পাবার কারনে পুরাপুরি অজ্ঞান হয়ে গেলাম। 

আমি কতক্ষন সেন্সলেস ছিলাম, জানি না। যখন জ্ঞান ফিরেছে, নিজেকে বিশাল বড় একটা সৌখিন অতি সুন্দর ঘরে আবিষ্কার করলাম। ঘরের দেয়ালে বিভিন্ন রকমের হাতে আকা প্রাকৃতিক দৃশ্যের পেইন্টিং। আমি ধীরে ধীরে বিছানা থেকে উঠে দাড়ালাম। মাথা ব্যাথায় ঝিম ঝিম করছে, ঘরে একটা দেয়াল আয়না আছে। সেখানে আমার চোখ পড়লো। নিজের চেহারা দেখে আৎকে উঠলাম, মুখের বিভিন্ন জায়গায় মেডিকেল ট্যাপ লাগানো, মনে পড়লো মুখে আঘাত পেয়েছিলাম, ক্ষত বিক্ষত হয়েছিলো। আরো মনে করার চেষ্টা করলাম ঐ ঘরে তখন আমাকে উদ্ধার করার জন্য রিয়ার ভাই, চাচা আর মালি ঢুকেছিলো। বুঝলাম 

কেউ হয়তো পরম যত্নে আমার চেহারায় মেডিসিন আর ট্যাপ লাগিয়ে দিয়েছে। আমার গায়ে বোরখা ছিলো, মাথায় হিজাব ছিলো, হিজাব টা মাথায় আগলা হয়ে গেছে এবং জায়গায় জায়গায় ছিড়ে গেছে। বোরখার উপরে বিভিন্ন জায়গায় জায়গায় হালকা মাটি লাগানো দেখলাম। ঘরের দরজা টা লাগানো ছিলো। আমি দরজা খুলে বের হলাম। বুঝতে পারলাম আমি এখন আছি রিয়াদের ডুপ্লেক্স বাড়ির ভেতরে। পুরা বাড়িতে কারো সাড়াশব্দ পাচ্ছি না। তবে হ্যা পুরা বাড়ির ভেতরে সব জায়গায় ই আলো জ্বলছে। আমি রিয়ার ঘরে, রিয়ার বাবা মায়ের ঘরে কোথাও কাউকে দেখলাম না। এসে দাড়ালাম রিয়ার ভাইয়ের ঘরের সামনে, ঘরের দরজা টা খোলা। আমি দেখলাম রিয়ার ভাই নামাজ পড়ছে। এটা ঠিক কোন ওয়াক্তের নামাজ সে পড়ছে, আমি তখন বুঝতে পারি নাই, কারন আমার কাছে তখন সময়ের হিসাব নাই। রিয়ার ভাই নামাজের শেষ সালাম ফিরিয়ে আমাকে দেখতে পেলো এবং মিষ্টি একটা হাসি দিয়ে বললো "আলহামদুলিল্লাহ আপনি উঠেছেন।আসুন ভেতরে আসুন, ভয় ই পাইয়ে দিয়েছিলেন"। 

আমি ঘরে ঢুকে পানি খেতে চাইলাম। দেখলাম সে দ্রুত ঘর থেকে বের হলো এবং একটু পরে হাতে করে একটা ট্রেতে কিছু হালকা খাবার, জুস আর পানি নিয়ে আসলো। টেবিলের উপরে ট্রে টা রেখে রিয়ার ভাই আবার সুমিষ্ট স্বরে বললো, নিন কিছু মুখে দিন। এই কথা বলে সে ঘর থেকে বের হয়ে গেলো। রিয়ার ভাই চূড়ান্ত পর্যায়ের ভদ্রলোক বুঝতে পারলাম। হয়তো ভেবেছে তার সামনে খেতে আমি লজ্জা পাবো। 

খাবারগুলো দেখে আমি ক্ষিধা টের পেলাম। এবং কোনো সংকোচ ছাড়াই খাওয়া শুরু করলাম একটা শর্মা, তিন পিচ কেক, ম্যাংগো জুস আর পানি। ঠিক দশ পনেরো মিনিট পরে আমার খাওয়া শেষ হলে রিয়ার ভাই ঘরের বাহিরে থেকে আমাকে আওয়াজ দিয়ে ঘরে ঢুকলো। 

রিয়ার ভাই আর আমি মুখোমুখি বসে আছি। আমি তার ঘরের এক প্রান্তে একটা চেয়ারে, সে খানিকটা দূরে আরেকটা চেয়ারে বসেছে। কতকিছু হয়ে গেলো সিনেমার মতো, ভেবে অবাক হয়ে যাই। 

আমি তাকে জিগেস করলাম বাড়ির সবাই কোথায়?রিয়ার ভাই নিচের দিকে তাকিয়ে বললো তারা কুমিল্লা এক আত্মীয়ের বাড়িতে গেছে আজ ভোরে। আমি জিগেস করলাম কবে ফিরবে সবাই? সে উত্তর দিলো তিন চারদিনের মধ্যে আসবে। আমি তার দিকে তাকিয়ে ই কথা বলছি। জিগেস করলাম আপনি যান নি কেনো? সে বললো আমি আর চাচা ইচ্ছা করেই যাই নি। আমাদের কিছু কাজ ছিলো। এবার রিয়ার ভাই আমার দিকে তাকিয়ে বললো আপনি চলে আসায় আমাদের কাজের প্লানে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটেছে। আজ আবার এই বাড়িতে কেনো এসেছেন আপনি? 

এমন সরাসরি হঠাৎ এভাবে জিগেস করায় আমি একটু এমবেরেস্ড হয়েছি। বললাম অপমান করছেন, তাই তো? অবশ্য আদর যত্নে লালন পালন করে যদি রয়েল কে বলি দিতে পারেন, তাহলে আমার মতো সামান্য একজনকে অপমান করতে আর আপনার বাধবে কেনো? সে লজ্জিত হলো। আমি পরিস্কার দেখতে পেলাম তার চেহারা লজ্জায় লাল হয়ে গেছে। সে নিচের দিকে তাকিয়ে বললো রয়েল কে বলি না দিলে ওরা আমাকে বলি দিতো। আমি বললাম মানে কি? সে বললো অন্য সময় বলবো, আগে আপনি বলেন আজ আবার আমাদের বাড়ি কেনো এসেছেন? 

আমি ভেনিটি ব্যাগ থেকে রিয়ার উদ্দেশ্যে আমার লেখা চিঠিটা বের করে তার হাতে দিয়ে বললাম, রিয়াকে এই কাগজ টা দেয়ার জন্য এসেছিলাম। সে কাগজটা খুলে পড়ছে আর অবাক হয়ে আমাকে দেখছে। পড়া শেষে সে অকস্মাৎ কাগজটা ছিড়ে ফেললো। আমি অবাক হয়ে বললাম ছিড়লেন কেনো আমার পার্মিশন ছাড়া? রিয়ার ভাই এবার অধিকারের সাথে আমার চোখের দিকে তাকিয়ে বললো, ভাগ্য ভালো কাগজটা রিয়ার হাতে পড়ে নাই। যদি পড়তো তাহলে আমি আর চাচা আমাদের প্লান মতো কখনও আগাতে পারতাম না। 

আমি অবাক হয়ে জিগেস করলাম আপনার কথা আমি কিছুই বুঝতে পারছি না। 

সে সামান্য উত্তেজিত হয়ে বললো সবাইকে তার কাজের প্রতিদান হিসেবে পাওনা বুঝিয়ে দেয়া হবে। কিন্তু এই চিঠিটা রিয়া যদি পেতো, তারপরে মায়ের যদি কিছু হতো, তাহলে রিয়া যে আমাকে আর চাচাকে সন্দেহ করতো, এইটুকু জ্ঞান কি আপনার হলো না? এতো কিছু বুঝেন আর বুদ্ধি দিয়ে এইটুকু বুঝলেন না? 

আমি একটু নমনীয় হয়ে জিগেস করলাম মায়ের কি হবে? এবার রিয়ার ভাই বললো সে এই যাবৎ যা কিছু করেছে সবকিছুর প্রতিদান তাকে দেয়া হবে। আমি রিয়ার ভাইয়ের দিকে তাকালাম, বললাম আমাকে কি একটু খুলে বলবেন? সে বললো "না। প্রশ্নই আসে না। এমনিতেই প্রয়োজনের অতিরিক্ত আপনি জেনে গেছেন। আর কিছু না জানা আপনার জন্য ই মঙ্গল"। 

সে এবার চুপ করলো, আমিও চুপ করে আছি। দুজনেই কিছুক্ষন নিরব হয়ে ছিলাম। আমি নিরবতা ভেঙে বললাম আপনার চাচা কোথায়? সে বললো চাচা আর মালি দারোয়ান নারায়ন কে নিয়ে একটা কাজে গেছে। আমি বললাম ওকে পুলিশে দিবেন না? এবার রিয়ার ভাই প্রান খুলে হেসে উঠলো, "বললো পুলিশ কে কি বলবো? আপনার চিঠির কথা কি পুলিশ বিশ্বাস করবে? কোনো প্রমাণ আছে আপনার কাছে? নাকি আজ আপনার সাথে যা ঘটতে যাচ্ছিলো, তা নিয়ে কোনো মামলা করবেন? সে আমাকে স্ট্রঙ্গলি জিগেস করলো বলেন চুপ করে আছেন কেনো? পুলিশ কে বলতে পারবেন নারায়ণ আপনার সাথে কি করতে নিয়েছিলো, সাক্ষী দিতে পারবেন? 

আমি এবার দমে গেলাম। ভাবলাম ঠিকি তো, আমি তো কখনই মান সম্মানের ভয়ে কাউকে বলতে পারবো না কতটা ভয়াবহ পরিনতি হতে যাচ্ছিলো আমার সাথে। আমি নিচের দিকে তাকিয়ে রিয়ার ভাইকে বললাম আপনাকে ধন্যবাদ। আপনি আমাকে ঐ শয়তানের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। রিয়ার ভাই বললো "চাচা আর মালি না থাকলে আমি একা হয়তো কিছুই করতে পারতাম না। তবে চিন্তা করবেন না, নারায়ন কে তার পাওনা আজ বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। 

আমি ভয়ে ভয়ে বললাম কি করেছেন নারায়ন কে? 

সে বললো এটা আপনার না জানলেও চলবে। যতো বেশি জানবেন ততোই বিপদে পড়বেন। এবার একটু আমাদের জন্য করুনা বা দয়া মায়া কম করুন।

আমি বুঝলাম চিঠিতে রিয়াকে লিখেছিলাম তার ভাই আর চাচার জন্য আমার মায়া আর করুনা হয়, সেই পরিপ্রেক্ষিতেই সে ঐ কথাটা বললো। আমি চুপ করে আছি। সেও চুপ। আবার আমাদের কিছুখন নিরবতা। এবার নিরবতা ভেঙে সে আবার বললো আজ প্রমাণ পেলেন কেনো আল্লাহ নারীদের দূরে কোথাও একা যেতে নিষেধ করেছে? আল্লাহর আদেশ কোনো নারী অভিভাবক বা মাহরাম পুরুষ ছাড়া দূরে কোথাও যাবে না। 

আমি বললাম এই যুগে এই নিষেধ এখন আর কেউ মানে না। আমি একলা কেনো মানবো? 

রিয়ার ভাই উত্তেজিত হয়ে আবার বললো না মানলে এভাবেই বিপদে পড়তে হবে। আমি তার দিকে তাকিয়ে আছি, সে নিচের দিকে তাকিয়ে লেকচার দিয়ে যাচ্ছে কলেজের লেকচারারের মতো। সে বলছে আপনাদের একটা নষ্ট ধারনা হয়েছে যে ধর্ম এবং পরিবার আপনাদের সব কিছুতেই সীমাবদ্ধতা বা আটকে রেখেছে।ধর্ম নারীবিদ্বেষী। বিষয়টা তো এভাবেও দেখা যায় সৃষ্টিকর্তার কাছে নারী জাতি অত্যন্ত প্রিয়। কারন এই জাতী আল্লাহর সর্বোত্তম নমনীয় জাতি। এই জাতীর নিরাপত্তার জন্য ই তিনি নিয়ম নীতি দিয়েছেন যেনো আপনাদের কোনো ক্ষতি না হয়। কারন কেয়ামত পর্যন্ত এই পৃথিবীতে শয়তানের অনুসারী মানুষ রুপী পাপী আর জানোয়ারেরা থাকবে। এরা যেনো আপনার কোনো ক্ষতি করতে না পারে, এজন্যই আপনাদের উচিত আল্লাহর দেয়া আদেশ নির্দেশ মেনে চলা। পরিবার বা মা বাবার বেলাতেও একি কথা। মা বাবা বংশের প্রদীপ ছেলেকে ঠিকি একা রাতে বাহিরে যেতে দেয়। কিন্তু মেয়েকে দেয় না। কারন তাদের মেয়ের গায়ে তারা একটা টোকা পড়তে দিতে চায় না। একটি মেয়ে তার পরিবারের কাছে ঝিনুকের ভেতরে থাকা মুক্তার মতো দামী। আর এই দামকে বা ভালোবাসাকে আপনারা আপনাদের উন্নয়নের বাধা মনে করেন। দু:খজনক। 

আমি মন্ত্র মুগ্ধের মতো তার বলা কথাগুলো শুনলাম। তাকে জব্দ করার জন্য বললাম আপনার অসুস্থ থাকাকালীন সময়গুলো কি আপনার মনে আছে? তখন কি মনে ছিলো না তন্ত্র সাধনা করা আপনার ধর্মে নিষিদ্ধ। সে এবার মৃদু হেসে বললো "আমাকে ষড়যন্ত্র করে পাঠানো হয়েছিলো ভারতে বলি দেয়ার জন্য। ওরা আমাকে বলি দিতো। আমি এটা বুঝতে পেরে ওদের শিষ্য হয়ে গেলাম। আমি নিজেই ওদের সাথে শয়তানের পূজা করা শুরু করলাম। ওদেরকে বুঝালাম আমি ওদের ই লোক। শয়তানের পূজারীরা সানন্দে আমাকে ওদের দলে নিলো। আমি প্রানে বাচলাম। হাসপাতালে যখন অসুস্থ ছিলাম, তখন আমার সেন্স ছিলো না, কিন্তু আমি মাঝে মাঝেই অনেক কিছু শুনতে পেতাম, টের পেতাম। আমি বুঝতে পারছিলাম একজন হুজুর দ্বারা আমার চিকিৎসা হচ্ছে। আবার অন্যদিকে আরেকজন আমাকে কালো জাদু করছে। তাই চোখ খুলেই আমাকে গুলফামের আশ্রয় নিতে হলো। যেনো আমার মা বুঝতে পারে তার জাদু কাজ করছে। চাচার মতো আমিও আর বিয়ে শাদি করবো না। সে যেনো নিশ্চিন্ত হতে পারে। কিন্তু আপনি যে একটু খানি মেয়ে আমার নাটক টা বুঝে ফেললেন, এতে আমি অবাক হয়েছি। কারন আমার মায়ের মতো চালাক মহিলাই বোঝে নাই, কিন্তু আপনি ঠিকি ধরে ফেলেছেন। 

আমি মুচকি হেসে বললাম সেদিন কাপে ঐটা কিসের ওষুধ ছিলো? সে বললো সেই ওষুধ ও মায়ের জাদুর ই অংশ, কিন্তু আমি খাই না। আমি বারান্দায় গিয়ে টবে ফুলের গোড়ায় ওষুধগুলো ফেলে দেই। এজন্যই আমার বারান্দার ফুলের ঘ্রাণ এতো কড়া, আপনার তো সেদিন ঐ কড়া ঘ্রাণে মাথা ব্যাথা হয়েছিলো, আমি বুঝতে পেরেছিলাম। আমি বললাম মায়ের দেয়া মধু খাচ্ছেন নিয়মিত? সে বললো মা জানে আমি খাচ্ছি। কিন্তু আমি ফেলে দেই প্রতিদিন এক দুই চামচ করে"। 

আমি বললাম আপনার মায়ের বেডের নিচে একটা পরিস্কার তেল মাখা বাশ দেখেছিলাম। সে হয়তো আবার এই বাশের আঘাতে আপনার বা আপনার চাচার কোনো ক্ষতি করতে চায়, তেল কি তার জাদুর অংশ? রিয়ার ভাই বললো হতে পারে। তবে এই বাশের বয়স ১০০ এর উপরে। এখনও কোনো পোকায় বা ঘুনে ধরেনি। বাশটা মায়ের বাপের বাড়ির মন্দিরে থাকতো। মা এটা সাথে করে নিজের সাথে কেনো নিয়ে এসেছে আমি জানি না। নারীর মন মানেই রহস্য।

আমি বললাম নারায়ণ যে আমাকে একটা ঘরে বন্দী করেছে, তা আপনারা জেনেছেন কিভাবে? সে বললো আমরা গত এক মাস থেকে জানতাম আজ বাসার সবাই কুমিল্লা যাবে। দারোয়ান বিষ্ণু আর মালির বৌ ও যাবে। সেই মোতাবেক খালি বাড়িতে নারায়ন কে নিয়ে আমাদের একটা প্লান ছিলো। ওকে ওর পাওনা বুঝিয়ে দিতে হবে। আমরা নারায়নের সাথে বোঝাপড়া করার জন্য তিনজনে ওকে খুজছিলাম। গেটে না পেয়ে বাগানের ভেতরে আসি। কাকতালীয়ভাবে আপনি রক্ষা পেয়েছেন। আপনি যে এসেছেন আমরা কেউ যদি প্রথমেই দেখতাম, তাহলে হয়তো আরও আগে আপনাকে সেইফ করতে পারতাম। আমি আবার জিগেস করলাম নারায়ন কে কি করেছেন? সে রহস্যময় ভঙ্গিতে হেসে বললো, বলেছি তো ওকে ওর পাওনা বুঝিয়ে দিতে হবে। 

আমি বললাম রাত হয়ে গেছে আমি বাসায় যাবো। 

সে বললো চলুন আমি আপনাকে পৌছে দেই। আর একটা অনুরোধ আগামী দুই থেকে আড়াই বছরের ভেতরে আর এই বাড়িতে আসবেন না এবং রিয়ার সাথে কোনও রকম যোগাযোগ করবেন না। যদি করেন কোনো না কোনোভাবে বিপদে পড়বেন। 

আমি প্রায় তিন বছর পরে রিয়ার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করি। কিন্তু রিয়ার সাথে আমার আর কখনোই কোনো কথা হয় নি। আমাদের আরেক ফ্রেন্ডের কাছে জানতে পারি রিয়ার মা মারা গেছে। সাপের কামড়ে। আপনারা অবাক হয়েছেন তাই না? না অবাক হবার কিছু নেই। এটা শুনেই আমার রিয়ার ভাইয়ের কথা মনে পড়লো সে বলেছিলো সবাইকে সবার পাওনা বুঝিয়ে দেয়া হবে। নারায়নের সাথে শেষ পর্যন্ত কি হয়েছিলো আমি জানতে পারি নি। তবে রিয়ার মায়ের মৃত্যুর পরে রিয়ার বাপ চাচা তাদের সহায় সম্পত্তি সব বিক্রি করে দিয়ে পরিবারের সবাইকে নিয়ে পাকিস্তানের কাশ্মীর চলে গেছে। কাশ্মীর থেকেই তাদের পূর্ব পুরুষ বাংলাদেশে এসেছিলো।

আমার মনে পড়ছে, রিয়ার ভাইয়ের সাথে কাটানো কিছু সুন্দর মূহুর্তের কথা। সেদিন রিয়ার ভাই আমাকে আমার মামার বাসায় পৌছে দিয়েছিলো। মামা মামীর সাথে দেখা করেছিলো। এরপর আমাদের আর কখনোই দেখা হয় নি। আমি মামার বাসায় ফেরার মূহুর্ত টা মনে করার চেষ্টা করছি। 

আমরা চাদনী রাতে পাশাপাশি দুজন হেটে যাচ্ছিলাম। পুরান ঢাকার একটি পার্কের ভিতর দিয়ে আমরা হাটছিলাম। চারিদিকে জোছনার আলোয় আলোকিত। পার্কের ফুলের ঘ্রাণে চতুর্দিক ম ম করছে। আমি একজন সুদর্শন যুবকের পাশে হেটে যাচ্ছি। যার সামনে আমার জন্য পর্দা করা ফরজ। 

সে আমার আত্মীয় কেউ নয়, প্রেমিক ও নয়, বন্ধুও নয়। নিতান্তই একজন পর পুরুষ। তবুও মনে হচ্ছে কত আপন,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,, 

                           <সমাপ্ত>                        

✍️ #ইমি_চৌধুরী

       #Imi_Chowdhury

(বি:দ্র:- আমার নাম ইমি চৌধুরী। মেহেরবানী করে কেউ আমার লেখা চুরি করবেন না, কপি পেস্ট করবেন না। নিজের নামে চালাবেন না। আপনি যদি আমার কাহিনী চুরি করেন, আমি না দেখলেও আপনার সৃষ্টিকর্তা ঠিকি দেখবে। আপনাকে সৃষ্টি কর্তার কাছে জবাব দিতে হবে। একান্তই যদি গল্প টা ভালো লাগে, তাহলে শেয়ার বাটনে ক্লিক করে শেয়ার করুন। 

আমার পাঠকদের বলতে চাই, আমি বিখ্যাত কেউ নই। যারা নতুন লেখক, এখনও ফেমাস হয় নি, অসৎ লোকদের সুবিধা হয় এই নতুন লেখকদের লেখা চুরি করতে। তাই আপনারা অন্য কোথাও যদি আমার লেখা দেখতে পান, আশা করি আমাকে ভালোবেসে চোরদের আইডিতে রিপোর্ট করবেন এবং আমার পোস্ট এবং আইডি লিংক ওখানে কমেন্ট করে জানাবেন যে মূল লেখক ইমি চৌধুরী। 

আপনারা যদি চান আমি আরো লিখি তাহলে আমার সাথেই থাকুন। এই কাহিনী কেমন লেগেছে জানাবেন। পরবর্তীতে আর কি ধরনের কাহিনী চান, সেটাও জানাবেন। পাঠকদের এক একটি লাইক লাভ রিয়েক্ট এবং কমেন্ট এবং ফলোয়ার, একজন লেখকের জন্য অনেক মূল্যবান। ) 

পর্ব ১২:

https://www.facebook.com/share/p/apmRvG1z7ZjFq3cJ/?mibextid=oFDknk
আমি প্রিন্স ফ্রেরাসে, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 5 মাস ধরে, এবং এ পর্যন্ত 372 টি লেখা ও 6 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 7514। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
প্রথম প্রকাশিত সোর্স
Enolej ID(eID): 2435
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


#রিয়ার_ভাই [ লেখকের অনুমতি নিয়ে এই লেখাটা ই- নলেজ আইডিয়াতে আপলোড করা হচ্ছে ] পর্ব ১২   #ইমি_চৌধুরী  #Imi_Chowdhury আমি আর আমার মামাতো বোন চলে আসলাম আমার মামার বাসায়। ফিরতে ফিরতে সন্ধ্যার পর হলো। রাতে �[...] বিস্তারিত পড়ুন...
24 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

#রিয়ার_ভাই [ লেখকের অনুমতি নিয়ে এই লেখাটা ই- নলেজ আইডিয়াতে আপলোড করা হচ্ছে ]   পর্ব ১১ ö[...] বিস্তারিত পড়ুন...
25 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

[ লেখকের অনুমতি নিয়ে এই লেখাটা ই- নলেজ আইডিয়াতে আপলোড করা হচ্ছে ] #রিয়ার_ভাই পর্ব ১০ আমাদের কে দেখেই নারায়ন মালির বৌকে ছেড়ে গোসলখানা থেকে বের হয়ে দিলো একটা দৌড়। আমি আর রিয়া তো গোসল খানা দ[...] বিস্তারিত পড়ুন...
25 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

#রিয়ার_ভাই পর্ব ৯ [ লেখকের অনুমতি নিয়ে এই লেখাটা ই- নলেজ আইডিয়াতে আপলোড করা হচ্ছে ] ১৮+ 18+ রিয়ার কাছে এই পর্যন্ত সবি শুনলাম। মনে আছে তো আপনাদের বলেছিলাম যে রিয়ার সুদর্শন ভাইকে চা ঢেলে দিয়েছ�[...] বিস্তারিত পড়ুন...
20 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

[ লেখকের অনুমতি নিয়ে এই লেখাটা ই- নলেজ আইডিয়াতে আপলোড করা হচ্ছে ] #রিয়ার_ভাই  পর্ব ৮  রিয়ার ভাই হুশ ফিরে চোখ খুলেই বলেছিলো "গুলফাম আমার গুলফাম।  এবার আসুন ঘটনা কি হয়েছিলো দেখি।  আপনারা তো জা[...] বিস্তারিত পড়ুন...
23 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    932 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    46 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    127 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. আল-মামুন রেজা

    84 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    4 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. Fatematuj Johora

    43 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    2 টি আইডিয়া ব্লগ

...