[ লেখকের অনুমতি নিয়ে এই লেখাটা ই- নলেজ আইডিয়াতে আপলোড করা হচ্ছে ]
#রিয়ার_ভাই
পর্ব ৬
১৮+) 18+ (১৮ বয়সের নিচে যারা আছো, এটা স্কিপ করো)
তো এক পবিত্র জুম্মার দিন শুক্রবারে সম্পূর্ণ ঘরোয়া আয়োজনে রিয়ার চাচার বিয়ের দিন ধার্য হলো। দুই পক্ষের সিদ্ধান্ত খুব ধুমধাম হৈ চৈ হবে না। এখন শুধু বিয়ে পড়ানো হবে। পাত্রীর মেট্রিক পরীক্ষার পরে বড় করে অনুষ্ঠান হবে। রিয়াদের পক্ষ থেকে যাবে বিশেষ কাছের ১৫ জন আত্মীয়। এতোই ছোটো আয়োজন।
রিয়ার ভাইকে কিছুতেই চাচার বিয়েতে যাওয়ার জন্য রাজী করানো গেলো না। সে কোনোমতেই যাবে না। রিয়ার বাবা প্রচন্ড রেগে আছে। ছেলের কাছে না যাওয়ার কারন জানতে চাইছে। কিন্তু ছেলে কিছুই বলছে না। রিয়ার মা এসে রিয়ার বাবাকে শান্ত করলো ছেলের ঘর থেকে তাকে বের করলো , তারপর ছেলের দিকে তাকিয়ে বললো কিরে খোকা যাবি না ক্যান? রিয়ার ভাই খুব আনন্দিত হয়ে বললো আজ আমার সাধনার দিন। গুরুজি আসবে চট্রগ্রাম থেকে। আম্মা আমি আইজ গুরুমন্ত্র হাসিল করবো, আমার সাধনা পুরা হবে। রিয়ার ভাইয়ের পিশাচের মতো চেহারা আর চোখে কি দারুন উল্লাস। সে রয়েলের মাথায় আদরে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। তার পায়ের কাছে তার আদরের কুকুর রয়েল বসে আছে। তারপর বললো তোমরা তো বাড়ি ফিরতে অনেক রাইত হইবো। আইজ তোমরা কিছুতেই ছাদে উঠবা না। আম্মা তুমি সবাইরে কইয়া দিও, কেউ ই যেনো ছাদে না ওঠে আজ।
তো সবাই রিয়ার ভাইকে ছাড়াই রওনা দিলো পাত্রীর বাড়ী। রিয়ার চাচা কে শেরওয়ানি তে আগের যুগের জমিদারের মতো লাগছে। এতোই সুন্দর লাগছে তাকে।
কিন্তু কনে বাড়িতে গিয়ে সবার আনন্দে ভাটা পড়লো। কনে বাড়ি থেকে পালিয়েছে প্রতিবেশী এক হিন্দু দাদার সাথে। অনেক দিন পরে অবশ্য জানা যায় কনে নাকি প্রেগন্যান্ট হয়ে পড়েছিলো, এজন্যই কনের পরিবার তার অমতেই রিয়ার চাচার সাথে বিয়ে ঠিক করেছিলো।
আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে, রিয়ার ভাই এই বিয়ের বিপক্ষে ছিলো। চাচাকে নিষেধ করেছিলো বিয়েটা করতে,,,,,,,,,,,,,,,
সবাই বাড়িতে ভারাক্রান্ত মনে ফিরে আসলো, এটাই স্বাভাবিক। রিয়ার চাচা গাড়িতে পুরোটা রাস্তা কোনো কথা বলে নাই, লোকটা মারাত্মক আপসেট। রিয়ার বাবার মেজাজ মারাত্মক খারাপ হয়েছে। সে যদি পারতো কনে বাড়ির লোকদের জবাই করতো। সবাই যখন বাড়িতে ঢুকলো, সারা বাড়িতে অদ্ভুত একটা বিশ্রি গন্ধ পেলো। আর ছাদের উপরে ধুপ ধুপ করে জোরে জোরে শব্দ হচ্ছে। শব্দটা অনেকটা হাতুড়ি দিয়ে কাঠ পেটার মতো। সবাই বুঝলো রিয়ার ভাই অবশ্যই ছাদে কিছু করছে। রিয়ার বাবার তো মেজাজ আগে থেকেই খারাপ ছিলো, সে অগ্নিরুপে ছাদের দিকে রওনা দিলো, লোকটা অনেক রেগে আছে এজন্য তার পেছনে পেছনে তাকে থামাতে সবাই চললো। রিয়ার মা, চাচা, রিয়া নিজে।
সেদিন ছিলো জোছনা রাত। ছাদে চতুর্দিকে ফকফকা। সবাই দেখলো ছাদের ঠিক মাঝখানে চতুর্দিকে মোমবাতি জালিয়ে তিনটা লোক গোল হয়ে বসে আছে। রিয়ার ভাই, চট্রগ্রাম থেকে আসা সেই হিন্দু তান্ত্রিক, আর একজন লোক যার মাথা থেকে পা পর্যন্ত চাদরে মোড়ানো। লোকটার চেহারা দেখা যাচ্ছে না, কারন সে ছাদের দরজার দিকে পিঠ করে বসা। আর অদ্ভুত বিষয় হলো তাদের সামনে ঠিক মাঝখানে রিয়ার ভাইয়ের কুকুর রয়েল বসে আছে। আপনারা যদি বিভিন্ন ড্রামায় কালো জাদু বা তান্ত্রিকদের তন্ত্র সাধনা বা শয়তানের পূজা এই জাতীয় সিন দেখে থাকেন তাহলে ছাদের এই তন্ত্র সাধনার সিনটা কেমন বুঝতে পারবেন। তাদের সাথে আরো অনেক সরঞ্জাম আছে, যেগুলো সাধারণত এই তন্ত্র সাধনায় মাস্ট থাকে। আমি এতোকিছুর নাম জানি না বিধায় বলতে পারছি না। ও হ্যা মানুষের হাড়গোড় ছিলো। সবাই ছাদের দরজায় দাড়িয়ে রিয়ার ভাইয়ের তন্ত্র বিদ্যা বা সাধনা দেখছে। তান্ত্রিক বিড় বিড় করে যা বলছে, রিয়ার ভাই ও তাই বলছে, আর জনাব তান্ত্রিক হাতুড়ির মতো একটা কিছু দিয়ে এক হাতে জোরে জোরে একটা মাটির ঢিবির মতো কিছু একটা সেটাতে বাড়ি দিচ্ছে, আরেক হাতে মানুষ মরা পোড়ানো ছাই উড়াচ্ছে, এটা যে মরা পোড়ানো ছাই, এটা ঘটনার সময়ে না, পরে জানা যায়।
এবার একটু খেয়াল করুন।
হঠাৎ তান্ত্রিক জোরে একটা চিৎকার দিলো, রিয়ার ভাইও দিলো, চিৎকার দিয়েই রিয়ার ভাই বসা থেকে উঠে দাড়ালো, কোথা থেকে বের করেই তান্ত্রিক রিয়ার ভাই এর হাতে একটা রাম দা দিলো, আর রিয়ার ভাই আরেকটা বিকট চিৎকার দিয়েই ধা***রালো রাম দা দিয়ে মাঝে বসে থাকা রয়েলের ঘাড়ে দিলো একটা কো****প। রয়েলের মাথাটা ছিটকে এসে পড়লো রিয়ার বাবার পায়ের কাছে। আর এই দৃশ্য দেখে সবাই ভয়ে একটা চিৎকার দিয়ে উঠলো। সবার চিৎকার শুনেই ঐ চাদরে মোড়ানো লোকটা পিছনে ফিরে সবার দিকে তাকালো। সবাই চাদরে মোড়ানো লোকটার চেহারা দেখে আবার চিৎকার দিলো। কারন এটা পুরাপুরি কোনো মানুষের চেহারা না। হয়তো মানুষ, কিন্তু পুরাপুরি মানুষ না।
মোমের আলো আর জোছনার আলোয় পরিস্কার দেখা যাচ্ছে যে এটা একটা অস্বাভাবিক কিছু। ঠিক মানুষ না, আবার জানোয়ারও না।
এইটা গায়ের চাদর ফেলে ছাদের দরজার কাছে দাড়িয়ে থাকা সবার দিকে ছুটে আসতে লাগলো। অদ্ভুত বিষয় হলো এটা অর্ধেক মানুষ অর্ধেক জানোয়ারের মতো দুই হাত দুই পা দিয়ে অর্থাৎ চার পায়ী প্রানীর মতো হামাগুড়ি দিয়ে সবার দিকে আসতে লাগলো। জিনিসটার একটা লেজ আছে,,,,,,,,,
ঐটা কাছে আসার আগেই সবাই ভয়ে ছাদ থেকে বের হয়ে ছাদের দরজা বাহিরে দিয়ে লাগিয়ে দিলো। আর ঐটা ছাদের অপরপ্রান্তে দরজায় জোরে জোরে আচড়াচ্ছে, ধাক্কা দিচ্ছে, আর বিকট ভয়ঙ্কর আওয়াজে মুখ দিয়ে গর্জন করছে। এতো জোরে শক্তিতে গেট ধাক্কাচ্ছে যে মনে হচ্ছে লোহার গেইট ভেঙে ঐটা এখনি বেড়িয়ে আসবে।
কিছুক্ষন পরে রিয়ার ভাইয়ের কন্ঠ শোনা গেলো, দরজা খোলো তোমরা। রিয়ার বাবা ছাদের দরজা খুলে দেখলো ঐ জানোয়ার টা আর নেই। ছাদের মাঝখানে আগের জায়গাতেই তান্ত্রিক বসে আছে। তার সামনে রয়েলের মস্তক বিহীন শরীর টা, আর রয়েলের মাথাটা যেখানে এসে পড়েছিলো সেখানে নাই। রিয়ার বাবা ছেলের দিকে তাকিয়ে চিৎকার করে বললো আমার বাড়িতে থাইকা তুই এগুলি করতে পারবি না, এক্ষুনি আমার বাড়ি থেইকা বাইর হ। রিয়ার ভাই অগ্নি ঝরা লাল চোখে রিয়ার মায়ের দিকে তাকিয়ে বললো, তোমারে তো বলসিলাম যতো যাই হোক আজ তোমরা ছাদে উঠবা না। নিষেধ করসিলাম। আইসা তোমরা আমার সাধনা ভঙ্গ করসো। আমার ক্ষতি করসো।
রিয়ার বাবা আবার চেচিয়ে বললো তুই আমার সাথে কথা বল্। তোরে বাইর হতে বলসি। এবার রিয়ার ভাই জোরে হেসে উঠলো, মুখ দিয়ে কেমন একটা হিস হিস শব্দ করে বাজখাই গলায় বললো এই বাড়ি কি তোর একার? রিয়ার মায়ের দিকে আঙুল দেখিয়ে বললো "এই বেটিরে বিয়ার আগে মন্দিরের পিছনে নিয়া কি করসিলি কমু সবাইরে? আবার বিকট হাসি, আবার ডুয়েল গলায় বিশ্রি গর্জনে কয়টা কথা বললো, রিয়া বললো ভাইয়া চুপ কর্। ভাই রিয়ার দিকে তাকিয়ে বললো, কেন? চুপ করমু কেন? তোর জন্মের ইতিহাস শুনবি না? আবার বাবার দিকে তাকিয়ে বললো এই বেটিরে মন্দিরের পিছনে নিয়া পেটিকোটের ভেতরে,,,,,,,,, ,,, (লেখার অযোগ্য কথা) এই বেটিরে বিয়ার আগেই বেজন্মা রিয়ারে পেটে লাগাইসোস কমু সবাইরে???? এবার রিয়ার বাবা বিকট চিৎকার দিয়া বললো সূয়ো***" রের বাচ্চা চুপ কর্। আইজকাই তোরে মাইরা ফালামু, বলেই তিনি দৌড়ে পানির টেঙ্কির সাথে ঠেশ দিয়ে রাখা একটা বাশ নিয়ে রিয়ার ভাইয়ের মাথায় জোরে গায়ের সমস্ত শক্তি দিয়ে দিলেন একটা বাড়ি। রিয়ার ভাই তৎক্ষনাৎ নিচে লুটিয়ে পড়লো।
র***ক্তে ছাদ ভেসে যাচ্ছে,,,,,,,,,, মানুষ আর কুকুরের র***ক্ত,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
✍️ #ইমি_চৌধুরী
#Imi_Chowdhury
চলবে,,,,,,,,,,,
পর্ব ৫
https://www.facebook.com/share/p/CPUzfzrKZn7GVPgv/?mibextid=oFDknk
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।