#রিয়ার_ভাই
পর্ব ২
[লেখকের অনুমতি নিয়ে আপলোড করা হচ্ছে ]
(রিয়ার ভাইয়ের চেহারা বিশ্রি হবার প্রথম দিকের জীবন কাহিনী)
রিয়ার ভাইয়ের যখন ১৭ বছর বয়স, তখন তার এক হিন্দু বন্ধু + প্রতিবেশীর মা মারা যায়। রিয়ার ভাইয়ের বন্ধুর নাম আমি ভুলে গেছি। লিখার সুবিধার্থে একটা নাম দিলাম ধরুন উত্তম।
কেটে গেলো কিছুদিন। একদিন মা হারানো পাগল প্রায় উত্তম এলো রিয়ার ভাইয়ের সাথে দেখা করতে রিয়াদের বাসায়। বলাই বাহুল্য উত্তম কে দেখে অসুস্থ ই মনে হয়। রিয়ার ভাই উত্তম কে নিয়ে বাড়ির ছাদে গেলো নিরিবিলি কথা বলার জন্য। উত্তম প্রথম যেই কথাটা বললো তা হলো ছোটোবেলা থেকে আমরা জানের দোস্ত। এবার তোর পরীক্ষা দেয়ার সময়। রিয়ার ভাই অবাক হয়ে বললো এগুলো কি ধরনের কথা? কিসের পরীক্ষা দিবো আমি? উত্তম বললো আমি ইন্ডিয়ার একটা বড় তান্ত্রিকের খোজ পেয়েছি, আমার মাকে পূনর্জন্ম করে দিতে পারবে, নয়তো আমার মায়ের আত্মাই আমার কাছে এনে দিবে সব সময়ের জন্য। আমি ঐ তান্ত্রিকের কাছে যাবো। কিছু টাকা খরচ হবে ঐটা কোনো বেপার না, তুই শুধু আমার সাথে যাবি। রিয়ার ভাই চমকে উঠে বললো তুই পাগল হয়েছিস, তোকে সাইক্রিয়াটিস্টের কাছে নিতে হবে, তান্ত্রিকের কাছে না। এগুলো কুসংস্কার। মানুষের মৃত্যুর পরে তার পুনর্জন্ম হয় না এবং তার আত্মাও আনা যায় না। রিয়ার ভাই কিছুতেই রাজী হলো না উত্তমের কথায়। এভাবে কেটে গেলো কিছুদিন। রিয়ার ভাই পরিবারের সবাইকে বিষয়টা জানালো। রিয়ার বাবা খুব শক্ত করে বলে দিলো ছেলেকে তুই উত্তম থেকে দূরে থাকবি। এসব তান্ত্রিকের ঝামেলায় জড়াবি না। কিন্তু রিয়ার মা যেনো পরম বন্ধু রিয়ার ভাইয়ের। সে রিয়ার ভাইয়ের পক্ষ নিয়ে বললো, আহা যাক না উত্তমের সাথে। সেই সুযোগে উত্তমের খরচে ভারত ভ্রমন ও হয়ে যাবে।
(আপনারা এখানে রিয়ার ভাইয়ের প্রতি রিয়ার বাবা মায়ের আচরন টা মনে রাখবেন)
অবশেষে প্রায় এক বছর পরে পরিবারের পারমিশন নিয়েই রিয়ার ভাই আর উত্তম রওনা হয় ভারতে। সাথে উত্তমের মামা ও ছিলো একজন গাইড হিসেবে।
ভারত থেকে তাদের ভাষ্যমতে তারা তন্ত্র বিদ্যা বা তন্ত্র সাধনা করে এসেছে। ভারতীয় তান্ত্রিক বাংলাদেশী একজন হিন্দু তান্ত্রিকের ঠিকানা দিয়েছে যে থাকে চট্রগ্রাম পাহাড়ী এলাকায়।
কেটে যায় দিন। রিয়ার ভাইয়ের আচরনে পরিবর্তন। খাওয়া দাওয়ায় পরিবর্তন, সেই সাথে চেহারা ভেঙে নষ্ট হতে শুরু করলো। অনেক রাত অব্দি বাড়ির ছাদে একা একা থাকতে শুরু করলো। ভারতে থেকে আসার পর থেকে নামাজ পড়া একেবারেই ছেড়ে দিয়েছে। গোসল করে না ঠিকমতো। একি জামা কাপড় পড়ে থাকে মাসকে মাস। কি এক্টা নোংরা অবস্থা।
একদিন রাতে বাসার সবাই ঘুমায়। রিয়া মাঝরাতে উঠেছে পানি খাবে। ডাইনিং রুমে গিয়ে দেখে রিয়ার ভাইয়ের রুমের দরজা হাল্কা ফাকা, সেখান থেকে গোঙানির মতো আওয়াজ আসছে। রিয়া ভাবলো ওর ভাই হয়তো ঘুমের মধ্যে স্বপ্ন দেখে এমন করছে। রিয়া ঠান্ডা পানি মিক্সড করে খাওয়ার জন্য ফ্রিজের কাছে গিয়ে দেখে ফ্রিজের নিচে ফোটা ফোটা র****ক্ত, র****ক্তের চিহ্ন গিয়েছে ভাইয়ের ঘর পর্যন্ত, একে তো ভাইয়ের ঘর থেকে বিশ্রি গোঙানির শব্দ আসছে আবার এই র****ক্ত, রিয়ার মনে হলো সামথিং ইজ রং। রিয়া দৌড়ে দরজা ঠেলে ওর ভাইয়ের ঘরে ঢুকলো।
রিয়া আৎকে উঠলো। ঘরে ডিম লাইটের আধো আলো ছায়ায় ও যেনো দেখলো ভাইয়ের চোখ দুইটা জলছে আর ভাই কি যেনো কামড়ে কামড়ে খাচ্ছে। রিয়া সাথে সাথে লাইট অন করে দেখলো ওর ভাই পলিথিন থেকে নিয়ে নিয়ে কাচা মাংস খাচ্ছে, রিয়া একটা বিকট চিৎকার দিলো।
রিয়ার চিৎকারে বাড়ির বাকি সদস্যরাও উঠে পড়েছে, রিয়ার ছোটো দুই ভাই, রিয়ার চাচা, বাবা মা।
(ভাইয়ের চোখ দুইটা যে জলতে দেখেছে, এটা রিয়া বলেছে, জোরালোভাবেই বলেছে।
আমি বিশ্বাস করি নি। তবে আপনারা বিশ্বাস করবেন কি করবেন না, তা আপনাদের বিষয়)
✍️ #ইমি_চৌধুরী
#Imi_Chowdhury
চলবে,,,,,,
পর্ব ১
https://www.facebook.com/share/p/XaiK4X2TuoTHL719/?mibextid=oFDknk
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।