#রিয়ার_ভাই
[ লেখকের অনুমতি নিয়ে এই লেখাটা ই- নলেজ আইডিয়াতে আপলোড করা হচ্ছে ]
পর্ব ১২
#ইমি_চৌধুরী
#Imi_Chowdhury
আমি আর আমার মামাতো বোন চলে আসলাম আমার মামার বাসায়। ফিরতে ফিরতে সন্ধ্যার পর হলো। রাতে আমার ঠিকমতো ঘুম হয় নি। একটার পর একটা দু:স্বপ্ন দেখেছি। অর্ধেক অর্ধেক মিনিংলেস স্বপ্ন। দেখলাম আমি কোনো গহীন বনে হাটছি, পথ ফুরাচ্ছে না। ঘন জঙ্গলে আমি হারিয়ে গেছি। হঠাৎ দুইটা প্রকান্ড বিষধর সাপ আমাকে জঙ্গলের ভেতরে তাড়া করছে। আমি বাচার জন্য দৌড়াচ্ছি, দৌড়াতে দৌড়াতে আমার ঘুম ভেঙে গেলো,,,,,,,,,
আমি জানি স্বপ্নে সাপ দেখার অর্থ হলো শত্রুর আগমন হয়েছে জীবনে।
আমি পরদিন রিয়ার বাসায় যাবো। রিয়ার সাথে আমার জরুরি কথা আছে। কিন্তু ভাবছি কি প্রয়োজন আমার রিয়াদের বাসায় যাওয়ার, কি কারনে নিজেকে ওদের সাথে ইনভল্ভ করছি, তাছাড়া রিয়াকে সেদিন যা বোঝাতে চেয়েছি, শুনে রিয়া অনেক বাজে ভাবে রিয়েক্ট করেছে। কাল গিয়ে যদি জরুরি কথা বলা শুরু করি রিয়া হয়তো চিৎকার চেচামেচি করে আমাকে বাসা থেকেই বের করে দিবে। তবুও আমার রিয়ার ভাই এর জন্য মায়া হয়। আহা বেচারা,,,,,,,
সিদ্ধান্ত নিলাম রিয়াকে মুখে কিছু বলবো না, যা বলার লিখে বলবো, অর্থাৎ চিঠি। চিঠি নিয়ে ওর বাসায় যাবো, বলবো আমি যাওয়ার পরে কাগজটা খুলে পড়বি, আমি ওদের বাড়ি থেকে বের হবার পরে তো আর রিয়া আমার সাথে কোনো রিয়েক্ট করতে পারবে না। শুরু করলাম লেখা।
"রিয়া তুই যদি তোর বড় ভাই আর চাচাকে ভালোবাসিস, যদি তাদের জীবনের মঙ্গল চাস, তাহলে আমার কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে বোঝার চেষ্টা করিস। আচ্ছা তোর বড় ভাই আর চাচার যদি কখনও বিয়ে না হয়, যদি তাদের কোনো সন্তান না হয়, তারা নি:সন্তান মারা গেলে, তোদের সকল সহায় সম্পত্তি কে পাবে জানিস? তোর মায়ের পেটের ছোটো দুই ভাই। যদি তোর মা কট্টর হিন্দু নারী হয়ে থাকেন, তাহলে এই সম্পত্তির কিছুই তুই পাবি না, কারন হিন্দু শাস্ত্রমতে মেয়েরা পিতার সম্পত্তির ভাগ পাবে না। যদিও তোর বাবা মুসলিম। তার সম্পদ মুসলিম আইনে বন্টন হলেও, তুই চলে যাবি বিয়ের পরে শশুরবাড়ী। সুতরাং তোদের পরিবারে এই পর্যন্ত যা কিছু হয়েছে সব কিছুই তোর মা করেছে নিজের দুই ছেলের জন্য।এখন প্রশ্ন করতে পারিস কিভাবে? আমি শুধু ধারনা দিতে পারি, শোন তোর মা বহু আগে থেকেই তোর চাচা এবং ভাইয়ের উপরে জাদু টোনা করতো, হয়তো এটা তোর দাদা বা দাদী টের পেয়ে যায় বা বুঝতে পারে। তাই তাদেরকে দুনিয়া থেকে সড়ানোর প্রয়োজন ছিলো। তোর মায়ের কাছে একদিন দারোয়ান নারায়ণ আর মালির বৌয়ের পরকিয়া ধরা পড়ে যায়। এই সুযোগ টা তোর মা নেয়। সে তাদের ব্লাকমেইল করে তার কাজ করিয়ে নেয়। তাছাড়া দারোয়ানদের চাকরি তোর মা দিয়েছে। সুতরাং নারায়ণ এমনিতেই ছোটো মালিকিনের সব আদেশ পালন করবে।
হয়তো নারায়ন কে দিয়েই সাপুড়ে বা সাপ এনে ঘুমের ভেতরে তোর দাদা দাদীকে সাপের ছোবল দিয়ে হত্যা করা হয়। বাড়ির বাকি সবাই তখন গভীর ঘুমে ছিলো। হয়তো তোর মা সবাইকে গভীর ঘুমে রাখার জন্য খাবারে কিছু মিশাতেও পারে। আমি নিশ্চিত তোদের বাসায় তোর মা আমাকে যেই মধু খেতে দিয়েছে, সেটা কোনো সাধারন মধু নয়। এমন কোনো ফুলের মধু যা মানুষ কে নেশাগ্রস্থ করে বা তন্দ্রাচ্ছন্ন করে। তোর মা এখনও তোর ভাই এবং চাচার উপরে কালো জাদু করছে। তোর ভাইয়ের ঘরে যেই মধু আর বারান্দায় যেই ফুল, এগুলো কালো জাদুর ই অংশ। কিন্তু প্রশ্ন হলো ঐ পাকিস্তানী হুজুর তদবির বা রুকিয়াহ চিকিৎসা করার পরেও কেনো তোর মায়ের করা জাদু তোর ভাই আর চাচার উপরে প্রভাব ফেলছে, তা আমি জানি না। এখন প্রশ্ন করতে পারিস, তোর ভাই আর চাচাই যেহেতু তোর মায়ের পথের কাটা, তাহলে এই দুজনকে হত্যা না করে তোর দাদা দাদীকে কেনো হত্যা করলো? যদি এই দুজনকে হত্যা করতো তাহলে হয়তো তোর দাদা দাদী বুঝে যেতো যে খুনী কে? তাই তোর মা প্রথমে তোর দাদা দাদীকে হত্যা করলো। তারপরে স্লো পয়জনিং বা কালো জাদু দ্বারা তোর ভাই আর চাচাকে হত্যা করবে বা তাদের কখনও বিয়ে এবং সন্তান হতে দিবে না, যেনো কেউ কখনও কোনো সন্দেহ করতে না পারে। আমি জানি এই কথাগুলো শুনে তোর ইচ্ছা করছে আমাকে টুকরা টুকরা করতে। কিন্তু এটাই সত্যি হতে পারে বোন। তুই অনেক রেগে যাবি, এজন্যই আমি কথাগুলো তোকে লিখে জানালাম। তুই হয়তো আমার সাথে রাগ করে আর কোনো যোগাযোগ ই রাখবি না, তবুও আমি তোর ভালোর জন্য ই তোকে বিষয়গুলো বললাম। এখন তোর অনেক কিছু করার আছে। তুই যদি তোর ভাই আর চাচাকে বাচাতে চাস, তাহলে এদের দুজনকে তোর মায়ের থেকে অনেক দূরে রাখতে হবে। সবচেয়ে ভালো হয় যদি এই দুজন দেশের বাহিরে চলে যায়। তোর ভাই তন্ত্র সাধনা ছেড়ে এখন নিজের ধর্ম কর্ম পালন করছে। তাই পশ্চিমা দেশে তার যাওয়া হয়তো হুজুর রাজী হবে না। কারন এই বয়সের যুবক একটা ছেলে পশ্চিমে গেলে আবার ধর্ম কর্ম থেকে দূরে সড়ে যেতে পারে। তাই বেস্ট অপশন হচ্ছে এই দুজনকে যদি কোনো আরব দেশে পাঠানো যায়। তোর বাবা রাজী হবে না, কারন মিডেল ইস্টে বাংলাদেশ থেকে গেলে একেবারেই শ্রমিক পর্যায়ে কাজ করতে হয়। কিন্তু তোদের তো সহায় সম্পত্তির অভাব নেই। চেষ্টা করলেই তোর ভাই আর চাচা ওখানে কোনো একটা বিজনেস দাড় করাতে পারবে। মূল কথা হলো যেভাবেই হোক তুই তোর বাবাকে কনভিন্স করে তোর বড় ভাই আর চাচাকে বিদেশে পাঠিয়ে দিবি। তোর মায়ের নাগাল থেকে অনেক দূরে থাকতে হবে এদের। এখন জিগেস করতে পারিস, তোর ভাই আর চাচার জন্য আমি এতো দরদী হলাম কেনো? এর কারন আমি জানি না। হয়তো বেচারাদের জন্য আমার করুনা কাজ করছে। আমার উপরে রাগ করে থাকিস না সই। হ্যা আরেকটা কথা তোর মাকে নিয়ে আমি যা বলেছি তা তোদের কাহিনী জেনে এবং পরিবেশ পরিস্থিতি দেখে বিবেচনা করে বলেছি। আমার সন্দেহ ভুল ও হতে পারে। অর্থাৎ তোর মা নির্দোষ ও হতে পারে, কিন্তু তুই যেভাবেই হোক তোর বাবাকে রাজী করে বড় ভাই আর চাচাকে বিদেশ পাঠানোর ব্যবস্থা করবি"।
চিঠিটা নিয়ে পরদিন বিকালে আমি একা রওনা হলাম রিয়াদের বাড়ির দিকে। গেটের কাছে এসে দেখি, আজও নারায়ণ ডিউটিতে। আমি গেটের ভেতরে ঢুকলাম। আমার কেমন যেনো আজ একটু অস্থির লাগছে, ভয় লাগছে। মনে হচ্ছে যদি পারতাম একটা দৌড় দিয়ে কাগজ টা রিয়ার হাতে দিয়েই, আবার দৌড় দিয়ে যদি এই রহস্যময় বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতে পারতাম,,,,,,,,,,,, চারিদিকে কেমন যেনো একটা সুনসান নিরবতা। দারোয়ান বিষ্ণু, মালি, মালির বৌ কাউকেই বাগানের আশেপাশে দেখা যাচ্ছে না। আমি বাগানের ভেতর দিয়ে হেটে রিয়াদের বিল্ডিংয়ের দিকে আগাচ্ছি। হঠাৎ আমার পেছনে নারায়ণ এসে বললো "দিদিমনি বাগানের ঐ পাশে আছে। ঘরে নাই।আমার সাথে আসেন, আপনি একা যাইতে পারবেন না"। অর্থাৎ নারায়ণ রিয়ার কথা বলেছে, রিয়া বাগানের ঐ দিকে আছে। আমি শুনে খুশি ই হলাম। ভাবলাম ভালোই হলো রিয়াদের বাসার ভেতরে আজ আমার ঢোকা লাগবে না। বাগানেই রিয়ার হাতে চিঠিটা দিয়ে আমি দ্রুত চলে যাবো। দারোয়ান নারায়নের সাথে সাথে আমি বাগানের ঐ পাশে যাচ্ছি। রিয়াদের বাগান এরিয়া টা অনেক বড়। আগে খেয়াল করি নি, বিভিন্ন ধরনের বড় বড় ফল আর ফুলের গাছে বাগান ভরা। এমনকি তাল আর সুপারি গাছ ও আছে। একপাশে ছোট্র করে আছে বাশঝাড়। বাশ বাগানের পাশে দিয়ে একটা চিকন গলি দিয়ে নারায়ন আমাকে নিয়ে যাচ্ছে। আমি পেছন ফিরে তাকিয়ে খেয়াল করলাম, বাড়ির মেইন গেইট, মূল ফটক আর বিল্ডিং পাড় হয়ে আমরা অনেকটা দূরে চলে এসেছি। আমি নারায়ন কে জিগেস করলাম রিয়া আর কত দূরে আছে? এ তো দেখি একেবারে ঘন জঙ্গল। নারায়ন হাত দিয়ে খানিকটা দূরে একটা টিনের ছাপড়ি ঘর দেখিয়ে বললো, দিদিমনি ঐখানে আছে। আমি ভাবলাম আসর নামাজের ওয়াক্ত শেষ, মাগরিবের সময় ছুই ছুই করছে, এমন সময়ে রিয়া জঙ্গলের ভেতরে ঐ ঘরে করেটা কি? নারায়নের সাথে আমি হাটছি, নারায়ন একটু পিছে পড়েছে, আমি আগে আগে হাটছি।
ঐ ভাঙা টিনের ঘরের কাছাকাছি আসতেই হঠাৎ কে যেনো পেছন থেকে একটা রুমাল দিয়ে আমার নাক মুখ চেপে ধরলো, আমার দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, শ্বাস নিতে পারছি না, চোখ খোলা রাখতে পারছি না, আবছা আবছা চোখ খুলে দেখছি দারোয়ান নারায়ন আমার নাক মুখ চেপে ধরেছে, আর পা দিয়ে একটা লাথি দিয়ে টিনের ঘরের দরজাটা খুলে ফেললো, আমাকে ধাক্কা দিয়ে ঐ ঘরের ভেতরে ছুড়ে ফেললো। টিনের ঘরটার ফ্লোর হলো মাটির। আমি ঠাস করে ঘরের ভেতরের অপর প্রান্তে মাটিতে ছুড়ে পড়লাম, আমি বেহুশ হয়ে যাচ্ছি, নিশ্চয়ই রুমালে অজ্ঞান করার মতো কিছু ছিলো, আমি চিৎকার করতে চাইছি, কিন্তু পারছি না, আমার কোনো শক্তি নেই, চিৎকার করলেও এতো দূর থেকে আমার আওয়াজ রিয়াদের বাড়ির ভেতরে যাবে না। আমি দেখছি নারায়ন ঘরে ঢুকেছে, ঘরের দরজা টা লাগাচ্ছে, দরজাটা ভাঙাচোরা একটা কাঠের হালকা দরজা।
নারায়ন আমার দিকে ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে, আমি তো পড়েই আছি মাটিতে, নড়াচড়া করতে পারছি না, নারায়ন এগিয়ে আসছে আর জানোয়ারের মতো হিংস্র মুখ করে বলছে "ছোটো মালিকিনের হুকুম তোরে খতম করতে হবে, কিন্তু আমি নারায়ন চিন্তা করলাম তোরে খতম করার আগে একটু প্রেম পিরিতী করে নেবো, আমি খুব মজা দিতে পারি পিরিতী করার সময়, এই কারনেই তো মালির বৌ দিওয়ানা হইয়া থাকে আমার পিরিতী সোহাগ পাওয়ার জন্য। আজ একটু তোরেও সোহাগ করবো,,,,,
আমি আবছা চোখে দেখছি এই জানোয়ার গায়ের শার্ট প্যান্ট খুলতে খুলতে আমার দিকে এগিয়ে আসছে,,,,,,,,,,,,,,,,,
✍️ #ইমি_চৌধুরী
#Imi_Chowdhury
চলবে,,,,,,,,,,,
পর্ব ১১
https://www.facebook.com/share/p/96EsQfHzDGXBTwU8/?mibextid=oFDknk
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।