[ লেখকের অনুমতি নিয়ে এই লেখাটা ই- নলেজ আইডিয়াতে আপলোড করা হচ্ছে ]
#রিয়ার_ভাই
পর্ব ৪
সেদিন রিয়ার মামা মেহমান হয়ে এসে রিয়ার ভাইয়ের কারনে অসুস্থ হবার পরে রিয়ার বাবা রিয়ার ভাইকে কোথা থেকে একটা বাশ পেয়ে বেধরক পেটালেন। আপনারা এই বাশের কথাটা মনে রাখবেন। এবং আবারও বলছি রিয়ার ভাইয়ের প্রতি তার বাবা মায়ের আচরন খেয়াল রাখবেন। তবে রিয়ার বাবা ছেলেকে বেলেন্স রেখেই মেরেছেন। হাতের বাহুতে আর পায়ে পিটিয়েছেন। রিয়ার ভাই একটি কথাও বলে নাই, মাইর খাচ্ছিলো আর বিড় বিড় করে মন্ত্র পড়ছিলো। মাতালদের যেমন লাল চোখ থাকে, তেমন চোখে বার বার প্রহার করা বাপের দিকে তাকাচ্ছিলো।
দিন কেটে যায়, রিয়ার ভাই এলাকার একটা পুরনো শুকনা জীর্ন শীর্ন খয়েরী রঙের কুকুরকে খুব যত্ন করা শুরু করলো পরম মায়ায়। রাস্তায় কুকুরটারে দেখলেই খেতে দিত। নিজে নিয়মিত গোসল না করলেও কুকুরটারে এক দিন পর পর গোসল করাতো। এই এলাকায় রিয়াদের অনেক বনেদী আত্মীয়স্বজন আছে। তাদের অনেকের বাড়িতে আগের আমলের পুরনো পুকুর আছে। সেখানে কুকুরকে নিয়ে গোসল করাতো। রিয়ার ভাই কুকুরটার নাম দিলো রয়েল। রিয়ার ভাই রয়েল কে ভেকসিন দিলো, ছাদে একটা ছোটো টিনের ছাপড়ি ঘর করলো রয়েলের জন্য। রয়েল ও রিয়ার ভাইকে মনিব হিসেবে অনেক ভালোবাসতো। কিন্তু রিয়ার বাপ চাচা বাড়ির ভেতরে কুকুর রাখার পক্ষে ছিলো না। তাদের কথা হলো কুকুর পাহারাদার বা শিকারী হিসেবে ঠিকাছে, কিন্তু বাড়ির ভেতরে বিড়ালের মতো রাখা যাবে না। বিড়াল পবিত্র, কিন্তু কুকুর নয়। রিয়ার মা ছিলো ছেলের পক্ষে। এজন্য বাপ চাচার নিষেধ আর টিকলো না।
আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে উত্তম আর রিয়ার ভাই ভারতের একজন তান্ত্রিকের কাছে গিয়েছিলো এবং ফেরার সময়ে সে বাংলাদেশের চট্রগ্রামের পাহাড়ী এলাকার একজন হিন্দু তান্ত্রিকের ঠিকানা দিয়েছিলো। রিয়ার ভাই কিন্ত ভারত থেকে আসার পরে তিন মাস পর পর চট্রগ্রামের সেই তান্ত্রিকের কাছে যেতো।
রিয়ার ছোটো চাচার বয়স ৩৫ বছর। কিন্তু সে এতোই লম্বা, চওড়া এবং মেদহীন একজন হ্যান্ডসাম পুরুষ যে তাকে দেখলে মনে হয় বয়স ২৫-৩০ এর বেশি না। তার বিয়ে ঠিক হয়েছে। মেয়ের বয়স ১৬ বছর। পড়ে ক্লাস নাইনে। আপনারা অবাক হয়েছেন তাই না? যে ১৯ বছরের ছোটো একটি মেয়ের সাথে তার বিয়ে ঠিক হলো। আসলে এরা দুজন পাশাপাশি দাড়ালে মনেই হয় না যে মেয়েটা ১৯ বছরের ছোটো। মনে হয় এই সাত আট বছরের ছোটো হবে। কথা পাকাপাকি হয়েছে। যেদিন আংটি পড়াবে, সেদিন ই কাবিন করা হবে, অর্থাৎ কলেমা পড়া হবে। কিন্তু উঠিয়ে আনা এবং বৌভাত হবে মেয়ের মেট্রিক পরীক্ষার পরে।
রিয়ার চাচা নিজের রুমের বারান্দায় দাড়িয়ে সিগারেট খাচ্ছে। রিয়ার ভাই আসলো রয়েল কে নিয়ে চাচার রুমের বারান্দায়। রিয়াও আছে এই ঘরে। চাচার কম্পিউটারে মুভি দেখছে। রিয়া শুনতে পাচ্ছে ভাই আর চাচার আলাপ।
চাচা বিরক্তির সাথে রয়েলের দিকে তাকিয়ে বললো কুত্তা টা নিয়া আমার ঘরে আসবি নাতো। নাপাক জিনিস।
রিয়ার ভাই স্বভাব সুলভ খেই খেই করে কুৎসিত হলুদ দাতের হাসি দিয়ে বললো সিগারেট টা মনে হয় খুব পাক। এতো ধর্ম কপচাও, অথচ জুমার দিন ছাড়া নামাজ পড়ো না। হা হা হা। খালি রয়েলের বেলায় ই জায়েয নাজায়েয মনে পড়ে,,,,,, (আরো কিছু কটাক্ষজনক কথা)। তারপর হঠাৎ গম্ভীর হয়ে রিয়ার ভাই বললো, কাকা তোমার ঘরে থাকমু না বেশিক্ষন। তোমারে একটা জরুরি কথা কইতে আইসি। তুমি বিয়াটা কইরো না, মাইয়াডা ভালা না। এবার রিয়ার চাচা অবাক হয়ে রিয়ার ভাইয়ের মুখের দিকে তাকালো। বললো আমি জানি তুই কারন ছাড়া কিছু বলবি না। কারন টা কি?
রিয়ার ভাই রয়েলের মাথায় হাত বোলাতে বোলাতে বললো, মাইয়াডা কুমারী না। একটা প্রেমিক ছিলো মাইয়াডার। দুই বছর সম্পর্ক ছিলো,,,,,, এবার রিয়ার চাচা হো হো করে হেসে উঠলেন, বললেন তুই এই যুগে প্রেম ছাড়া একটা পোলা বা মাইয়া কৈ পাবি? এবার রিয়ার ভাই বললো মাইয়াডা ১৪ বছর বয়সেই আরেক পোলার লগে শুইসে কাকা। এবার চাচা একটু বিরক্ত হয়ে বললো তোর তো মুখেই কিছুই আটকায় না। তান্ত্রিক হইতে হইলে কি বেশরমের মতো কথা কইতে হয়? যাতো এইখান থেইকা। কুত্তা নিয়া সড়। এই মাইয়ার যেমন অতীত আছে, আমারও তো অতীত আছে। এবার রিয়ার ভাই কিছুটা অস্থির হয়ে বললো, তোমার বিষয়টা বৈধ ছিলো, কিন্তু এই মাইয়ার বিষয়টা বৈধ না। চাচা বললো হ তুই যেমন কাচা মাংস র****ক্ত খাস, সেগুলি তো খুব বৈধ। যা যা। তোর কুত্তা নিয়া তোর ঘরে যা। আমি মানুষের অতীত নিয়া থাকি না। এই মাইয়া বিয়ার পরে উল্টাপাল্টা কিছু না করলেই হইলো। রিয়ার ভাই বললো কাকা তুমি কেমনে শিওর হইলা যে বিয়ার পরে তোমারে ধোকা দিবো না,,,,,,,,,,,,
রিয়ার ভাই চাচাকে বোঝাতে না পেরে থেমে গেলো। কিন্তু রিয়ার চাচা মনে মনে একটু মনক্ষুন্ন অবশ্যই হয়েছেন। কিন্তু তিনি কাউকে বুঝতে দেন নি।
এবার শুনুন রিয়ার চাচার অতীত,,,,,,,,,,,,,,,,,,
✍️ #ইমি_চৌধুরী
#Imi_chowdhury
চলবে,,,,,, ,,,,
পর্ব ৩
https://www.facebook.com/share/p/oDSukiLnMQ8Nt4ps/?mibextid=oFDknk
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।