#রিয়ার_ভাই
[ লেখকের অনুমতি নিয়ে এই লেখাটা ই- নলেজ আইডিয়াতে আপলোড করা হচ্ছে ]
পর্ব ৫
(রিয়ার চাচার অতীত)
রিয়ার চাচার আর দাদা দাদীর কাহিনী জানার পরে আপনারা বুঝতে পারবেন যে এই পরিবারে ঘটেছে একটার পর একটা দূর্ঘটনা।
আমি যতোদূর দেখেছি পুরান ঢাকাইয়া কুট্টি যারা, বিশেষ করে বনেদী রক্ষনশীল মুসলিম পরিবার যদি হয়, এইসব পরিবারের ছেলেদের এবং মেয়েদের দ্রুত বিয়ে করানো হয়, হারাম সম্পর্ক থেকে হেফাজতে থাকার জন্য এবং দ্রুত বংশের প্রদীপ দেখার জন্য। এরা সন্তানদের পড়াশোনা এবং ক্যারিয়ার করার নামে আধা বুড়া হলে বিয়ের বিপক্ষে। বরং দ্রত বিয়ের পক্ষে।
যদিও এখন চিত্র ভিন্ন ও হতে পারে। তবে মেক্সিমাম পরিবার একি রকম।
তখন রিয়ার দাদা দাদী জীবিত ছিলো।
তো রিয়ার চাচার যখন ১৭ বছর বয়স, তখন তাকে প্রথম বিয়ে করানো হয়। পাত্রীর বয়স ছিলো ১৫। দুজনেই সুন্দর এবং দুজনকেই দারুন মানিয়েছে। কিন্তু বিয়ের এক বছর পরে দূর্ভাগ্যবশত কোনো এক অমাবস্যার রাতে রিয়ার চাচা নিজেদের ডুপ্লেক্স বাড়ির ছাদ থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করে। সেদিন ই দুপুরে বাড়ির সবাই জানতে পেরেছিলো যে রিয়ার চাচী প্রেগন্যান্ট। সুতরাং বাড়ির সবাই খুব আনন্দিত ছিলো। রিয়ার চাচাও খুব খুশি ছিলো। আত্মহত্যা করতে চাওয়ার কোনো কারন ই ছিলো না।
রিয়ার চাচা গুরুতর আহত হয়। হাসপাতালে কোমায় থাকে ছয় মাস। ছয় মাসের ভেতরে আরেকটা দূর্ঘটনা ঘটে, রিয়ার চাচীর পেটের বাচ্চাটা নষ্ট হয়ে যায়।
রিয়ার চাচার জ্ঞান ফেরার পরে তাকে জিজ্ঞেস করা হয় কেনো সে আত্মহত্যা করতে চেয়েছে? রিয়ার চাচা বলেছিলো "আমি কিছুই জানি না। কেনো লাফ দিলাম, আমার মোটেও মরনের ইচ্ছা নেই, আমি ছাদে এমনি হাটতে গিয়েছিলাম, হঠাৎ কি মনে করে আমি লাফ দিয়েছি জানি না"
এই দূর্ঘটনায় তার শরীরের বাম সাইড পেরালাইসিস হয়ে যায়। এই পেরালাইসিস অবস্থার এক বছরের মাথায় রিয়ার চাচী নিজের আপন খালাতো ভাইয়ের সাথে পরকিয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়ে। ঘন ঘন বাপের বাড়ী যেতো। চাচীর মা ছিলো মেয়ের এই পরকিয়া প্রেমের সাপোর্টে। একটা পর্যায়ে রিয়ার চাচীর বাড়ি থেকে তালাক নোটিশ আসে। প্রায় দুই বছর লেগেছে রিয়ার চাচার সুস্থ হতে। সাধারণত পেরালাইসিস রুগীর সুস্থ হতে অনেক সময় লাগে। রিয়ার দাদা দাদী ছেলের চিকিৎসার জন্য পানির মতো টাকা ঢেলেছে। কোনো কমতি রাখে নাই চিকিৎসায়।
রিয়ার চাচা সুস্থ হবার এক বছরের মাথায় আকস্মিকভাবে রিয়ার দাদা দাদী মারা যায় সাপের কামড়ে।
কি অবাক হলেন?
হ্যা আমিও যখন রিয়ার মুখে ঘটনা শুনছিলাম, আমিও অবাক হয়েছিলাম। কোনো এক সকালবেলা রিয়ার দাদা দাদীর রুমে গিয়ে দেখা যায় দুজনের ই সারা শরীর হালকা নীল হয়ে আছে, মুখ দিয়ে ফেনা বেরোচ্ছে। চোখ আধখোলা। বাড়ির সবাই কেউ ই কিন্ত তখন বোঝে নি যে সাপে কামড়েছে। বাড়ির সবাই দুজনকে পানির ছিটা দিয়ে শরীর ঝাকিয়ে জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টা করাতে কিছুটা সময় নষ্ট হয়েছে। হাসপাতালে নেয়ার পরে ডাক্তাররা মৃত ঘোষণা করেছে। ডাক্তাররাও প্রথমে বোঝেনি যে সাপে কামড়েছে। অনেক পরে দুজনের কাপড়ের ভেতরে পায়ে দাগ দেখে বোঝা যায় সাপের কামড়। সাপ কিভাবে বাড়িতে ঢুকেছে, এটা একটা রহস্য। রিয়ার বাবা বন বিভাগের লোক এবং সাপুড়ে উভয়কে ডেকে সারা বাড়ীর ভেতরে তন্ন তন্ন করে খুজেও সাপ পায় নি। অন্তত সাপুড়েরা এমন কিছু করে, যার জন্য ঘরের কোথাও সাপ লুকিয়ে থাকলে তা বেরিয়ে আসে। সিনেমার মতো দৃশ্য না হলেও সাপুড়ে এবং সাপের মধ্যে কিছু রিচুয়াল আছে যা আমরা বুঝবো না। কিন্তু কোথাও কোনো সাপ ছিলো না। রিয়ার বাবার রিকোয়েস্টে বন বিভাগের কর্মী বাড়ির বাহিরে চতুর্দিকে কার্বলিক এসিড দিয়ে দেয়।
প্রায় ১৮ বছর পরে আবার রিয়ার চাচার বিয়ে ঠিক হলো। কিন্তু রিয়ার ভাইয়ের কথা শোনার পর থেকে রিয়ার চাচার মনটা খারাপ। এটা স্বাভাবিক। সে তার হবু স্ত্রীর এলাকায় একটু খোজ খবর নেয়ার চেষ্টা করলেন। কিন্তু পাত্রীর সম্পর্কে নেগেটিভ কিছুই জানা যায় নি। অতঃপর একদিন শুক্রবার ঘরোয়া আয়োজনে বিয়ের দিন ধার্য হলো,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
✍️ #ইমি_চৌধুরী
#Imi_Chowdhury
চলবে,,,,,,,,,
পর্ব ৪
https://www.facebook.com/share/p/Qqkq5Nhihq5FQQ3d/?mibextid=oFDknk
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।