[ লেখকের অনুমতি নিয়ে এই লেখাটা ই- নলেজ আইডিয়াতে আপলোড করা হচ্ছে ]
#রিয়ার_ভাই
পর্ব ১০
আমাদের কে দেখেই নারায়ন মালির বৌকে ছেড়ে গোসলখানা থেকে বের হয়ে দিলো একটা দৌড়। আমি আর রিয়া তো গোসল খানা দরজা বরাবর অনেকটা দূরে দাড়িয়েছিলাম। নয়তো আমাদের সাথেই ওর ধাক্কা লাগতো। মালির বৌ মুখ ঢেকে বসে পড়লো, গায়ে ভেজা কাপড় দিলো ঠিকমতো। একটু পরে রিয়ার দিকে তাকিয়ে দুই হাত জোর করে বললো দিদিমনি মাফ কইরা দেন, কাউরে কিছু কইয়েন না। আমার আর রিয়ার সহজ হতে একটু সময় লাগলো। রিয়া হয়তো কখনোই ভাবে নাই এমন কিছু ও দেখবে। রিয়া চোয়াল শক্ত করে বললো কতদিন ধরে চলে এসব? মালির বৌ কানতে কানতে বললো, হিসাব নাই।
আমি জিগেস করলাম এই বাড়ির আর কে কে জানে আপনেগো বিষয়ে? মালির বৌ চুপ করে আছে, কোনো কথা বলে না। আমি আবার একি কথা জিগেস করলাম। তবুও কিছু বলে না, ঢং করে কাদে। আমি রিয়ার কানে কানে বললাম এই বেটিরে জোরে একটা ধমক দিয়া জিগেস করতো, বাড়ির আর কেউ জানে কিনা। রিয়া সেটাই করলো। অনেক জোরে ধমক দিয়ে বললো কথা কও না কেন? নারায়ন আর তোমার কথা আর কে কে জানে? মালির বৌ কাপতে কাপতে বললো "দিদিমনি দিদিমনি,,, খালি আপনের আম্মা জানে, আর কেউ জানে না। রিয়া অবাক হয়ে গেলো। রিয়া বললো আম্মার কাছেও কি কোনোদিন এইভাবে ধরা পড়ছিলা? বুয়া উত্তর দিলো " হুম"।
এবার আমি কি মনে করে জানি না, আচমকা জিগেস করলাম তোমার আর নারায়নের সম্পর্কের কথা রিয়ার আম্মা কি তার শশুড় শাশুড়ি মারা যাবার আগে থেকেই জানতো? মালির বৌ উত্তর দিলো "হুম"। মালির বৌ রিয়ার পা ধরে মাফ চাইতে আসলো, বার বার ই রিকোয়েস্ট করলো দিদিমনি কাউরে কইয়েন নাগো। এমুন কাম আমি আর করুম না।
আমরা উপরে উঠে আসলাম। সবাই লাঞ্চ শেষ করলো। শুধু রিয়া বাকি। রিয়া খেতে বসবে। আমাকে আর আমার মামাতো বোনকে সাধলো ওর সাথে খেতে। আমার ইচ্ছা হয় নি। এমন একটা অদ্ভুত পরিবারে কিছু খেতে মোটেও ইচ্ছা হয় নি। রিয়ার মাও এসে আমাদের অনেক সাধলো। আমি তবুও খাই নি। রিয়ার মায়ের পেছন পেছন তার ঘরে ঢুকলাম। বিশাল বড় রিয়ার আব্বা আম্মার বেড রুম। তাদের সিলিং হবে দেড় তালার সমান। অর্থাৎ দুই তালা বাড়ি হবে সাড়ে তিন থেকে চার তালা সমান। আমি আরো কিছু পুরান ঢাকার আগের আমলের বাড়ি দেখেছিলাম। যেগুলোর একেকটা ঘরের সিলিং অনেক উচুতে। রিয়ার মা অনেক সুন্দরী। বড় বড় চোখ। তার যে রিয়ার মতো এতো বড় একটা মেয়ে আছে দেখলে বোঝা যায় না। সে জানালার সামনে মেশিনে সেলাই করতে বসলো। আমাকে ইশারা দিয়ে ঘরে একটি চেয়ারে বসতে বললো। আমি বসলাম। সে সেলাই করছে। এভাবে হয়তো দশ মিনিট গেলো। তারপরে হঠাৎ সেলাই থামিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে বললো, ভাত খাও নি, অন্যকিছু খাবে? আমি বললাম না আন্টি ঠিকাছে। আমি কিছু খাবো না। আমরা এখনি চলে যাবো। সে বললো, চা খাবে? আমি বললাম জী না আন্টি। একেবারেই ক্ষিধা নেই। সে আবার বললো বসো এখানে, আমি আসতেসি, সে সেলাই রেখে উঠে গেলো। আমাকে যেহেতু রুমেই বসে থাকতে বলেছে, আমি আর তার রুম থেকে বের হই নি। রিয়ার বাবা মায়ের ঘরে এখন আমি একা। রিয়ার বাবা রিয়ার বড় ভাই আর রিয়ার ইমিডিয়েট ছোটো ভাইকে নিয়ে মসজিদে জামাতে নামাজ পড়তে গেছে। আমি চেয়ার থেকে উঠে রিয়ার মায়ের ঘরে একটু হাটাহাটি করছি। আমার নজর যাচ্ছে ঘরের আনাচে কানাচে। কারও বেডরুম এতো খুটিয়ে খুটিয়ে দেখা উচিত না। তবুও আমি দেখছি। এই বেডরুম একজন হিন্দু নারীর, এটা দেখে বোঝার কোনো উপায় নেই। ঘরে এমন কোনো চিহ্ন নেই যাতে বুঝতে পারি আন্টি হিন্দু। আমার নজর গেলো তাদের খাটের নিচে। খাট তো নয়, এ যেনো জমিদারি পালঙ্ক। আমি দেখলাম খাটের নিচে লম্বা একটা বাশ। আমি একটু আতঙ্কিত হলাম এই কি সেই বাশ, যা দিয়ে রিয়ার ভাইয়ের মাথা ফাটানো হয়েছিলো। যদি সেই বাশ ই হয়, সেটা এখনও কেনো বাড়িতে রেখে দেয়া হবে। আর যদি সেই বাশ নাও হয় অন্য কোনো বাশ ও যদি হয়, সেটা কেনো এতো পরিস্কারভাবে খাটের নিচে থাকবে। বাশটা ধরে দেখি তেল তেল করছে। অর্থাৎ বাশটায় তেল লাগানো হয়েছে। কিন্তু কেনো? এটা আবার কেমন কথা?
হঠাৎ রিয়ার মায়ের কথার আওয়াজে আমি তড়িৎ উঠে দাড়ালাম। সে বললো খাটের নিচে কি করছো? আমি কি বলবো বুঝতে পারছিলাম না। বললাম আন্টি বাগান থেকে একটা ফুল নিয়েছিলাম। হাত থেকে পড়ে গেলো, ভাবলাম খাটের নিচে গেছে কিনা, তাই খুজছিলাম।
তার হাতে একটা ট্রে। একটা পিরিচে টোস্ট, আরেকটা পিরিচে খয়েরি রঙের আঠালো কি তখন বুঝি নি, আরেকটা পিরিচে দুই পিচ সমুচা আর দুই গ্লাস পানি, আমাকে বললো তোমার কাজিন কে এই ঘরে আসতে বলো। আমি বললাম আন্টি কষ্ট করলেন কেনো, আচ্ছা ট্রে টা আমার কাছে দিন, আমার মামাতো বোন রিয়ার ঘরে আছে, আমি ওখানে নিয়ে একসাথে খাচ্ছি। তিনি একটু জোর দিয়েই বললেন, না তোমার বোনকে ডেকে এখানে আসতে বলো। আমি আমার মামাতো বোনকে ডেকে নিয়ে আসলাম। অনিচ্ছা সত্বেও ট্রেতে দেয়া খাবারগুলো আমরা দুজনে খেলাম। পিরিচের ঐ আঠালো জিনিস টা হচ্ছে মধু। আন্টি বললো টোস্টের সাথে মধু লাগিয়ে খাও। খাটি মধু এটা।
আমরা বেড রুম থেকে বের হয়ে রিয়ার ঘরে আসলাম। আমার খুব ঘুম পাচ্ছে। মাথা ঝিম ঝিম করছে। আমার খুব ইচ্ছা রিয়ার বড় ভাইয়ের সাথে একটু কথা বলার। ওরা মসজিদ থেকে ফিরেছে কিনা কে জানে কিন্ত আমার খুব ঘুম পাচ্ছে। বাসায় ফিরতে হবে। বাসায় ফেরার আগে রিয়ার ভাইয়ের সাথে দেখা করে যেতেই হবে। আমি অপেক্ষা করছি।
অবশেষে তারা মসজিদ থেকে ফেরার কিছুক্ষন পরে আমি রিয়ার বড় ভাইয়ের ঘরে গেলাম। রিয়াকে সাথে নিয়ে এসেছিলাম। রিয়ার ভাইয়ের দরজা চাপানো ছিলো। ঘরের বাইরে দরজার এপাশ থেকে রিয়া আওয়াজ দিলো, ভাইয়া আসলাম। রিয়ার ভাই এর ভারী কন্ঠস্বর 'আয়। রিয়ার সাথে আমাকে ঘরে ঢুকতে দেখে রিয়ার ভাই একটু অপ্রস্তুত হয়ে পড়লো। হয়তো কখনো ভাবেনি আমি তার ঘরে আসবো। আমি ইশারা দিয়ে রিয়াকে ঘর থেকে চলে যেতে বললাম।
রিয়ার ভাইয়ের ঘরের বর্ননা একটু দেই আপনাদের। এটাও বিশাল বড় ঘর। ঘরে একটি অদ্ভুত সুগন্ধ। সারাটা ঘর মিষ্টি ঘ্রানে শোভিত।ঘরের ভেতরে এটাচ্থড বাথরুম এবং বিশাল বড় একটা বারান্দা। বারান্দায় অনেকগুলো ফুলের টব। সবগুলো টবে একি কালো রঙের ফুল। অদ্ভুত ফুল। আমি আগে দেখিনি কখনও এই ফুল। তবে আমি বুঝলাম অদ্ভুত ঘ্রান এই ফুলের ই। হয়তো বিদেশি কোনো ফুল। বা দেশিও হতে পারে। দেশের সব ফুল তো আর আমি দেখি নি।আমি একটি টবের কাছে গিয়ে একটা ফুল নিলাম। ফুলটা নাকের কাছে আনতেই টাস করে আমার মাথাটা ধরে উঠলো। যেনো কেউ হাতুড়ি দিয়ে আমার মাথায় একটা বাড়ি দিয়েছে। একে তো আমার অনেক ঘুম পাচ্ছিলো। এখন ঘুম কেটে যোগ হলো মাথা বেথা। চোখে রিনুঝিনু দেখছি। যেনো মাথা ঘুরে এখনি পড়ে যাবো। আমি বারান্দা থেকে এসে রিয়ার ভাইয়ের ঘরের ভেতরের একটি চেয়ারে বসলাম। আমার যেনো কেমন লাগছে। রিয়ার ভাই কে দেখছি যেনো অনেক দূরে বসে আছে ধোয়াশা আবছা।
কতখন আমার এই মাথা ঝিমুনিটা ছিলো আমি জানি না। একটু স্বাভাবিক হবার পরে সামনের দিকে তাকিয়ে দেখি রিয়ার ভাই তার বেডের পাশে দাড়িয়ে আমার দিকে বলদের মতো তাকিয়ে আছে। আমার তো মুখে নেকাব ছিলো, সে আমার চেহারা দেখে নি। তবে আমি যে কপাল ধরে মাথা ঝিমুনির জন্য চেয়ারে এসে বসে পড়েছিলাম, আমার যে কোনো একটা সমস্যা হচ্ছে এটা সে বুঝতে পেরেছিলো, তার চেহারা দেখে বুঝলাম। সে আমাকে বললো আপনি কি আমাকে কিছু বলবেন? আমি দেখলাম ঘরে একটা টেবিল। টেবিলের উপরে বইপত্র। আর একটা কাচের কৌটা। আমি বললাম আপনি কি ভর্তি হয়েছেন? সে নিচের দিকে তাকিয়ে বললো 'হুম। অনেক বছর গ্যাপ গেলো তো। বিবিএ ভর্তি হলাম। জিগেস করলাম কাচের বয়ামে কি? সে বললো মধু। আমি বললাম বারান্দার ফুলগুলোর নাম কি? সে বললো 'জিনিয়া। আমি বললাম জিনিয়ার তো ঘ্রান এতো কড়া না। সে নিচের দিকে তাকিয়ে থেকেই অনেকগুলো কথা বললো। বলতেসে তার মা তার জন্য খাটি মধু ব্যবস্থা করেছে, বারান্দায় বিদেশি ফুলের টব সাজিয়েছে। কথার আগে পিঠে শুধু বলছে মা মা মা মা আর মা।
রিয়ার ভাইয়ের সাথে আমার অনেকক্ষন কথা হলো। গুলফাম কে নিয়েও কথা হলো। সব আপনাদের বলবো। কিন্তু সমস্যা হলো রিয়ার ভাইয়ের সব কথায় মা মা আর মা শুনে আমার নব্বই দশকের একটি হিন্দি সিনেমার কথা মনে পড়লো। সিনেমার নাম "বেটা"। অনিল কাপুর আর মাধুরীর সিনেমা। এই সিনেমায়ও নায়কের থাকে একজন সৎ মা। সৎ মা নায়ক কে অনেক ভালোবাসে। নায়কের কষ্ট হবে তাই ছোটোবেলা থেকে লেখাপড়া করায় নাই। নায়ক ও মাকে অনেক ভালোবাসে। কিন্তু এক পর্যায়ে সৎ মা নায়ককে খাওয়ার জন্য এক গ্লাস দুধে বি***ষ মিশিয়ে দেয়। সিনেমার একটা বিখ্যাত গান আছে।
রিয়ার ভাইয়ের সাথে বাকি আলাপ লিখবো। ডালিমকুমারের সাথে আমার কথোপকথন লেখার আগে গানটা একটু শুনে আসি,,,,,
" ধাক ধাক কারনে লাগা, ও মোরা জিয়ারা ডারনে লাগা, সাইয়া বাইয়া ছোড়না, কাচ্চি কালিয়া তোড়না,,,,,,,
✍️ #ইমি_চৌধুরী
#Imi_Chowdhury
চলবে,,,,,,,,
#রিয়ার_ভাই
পর্ব ৯
https://www.facebook.com/share/p/TRFJwd21SyQbiP6V/?mibextid=oFDknk
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।