#রিয়ার_ভাই
[ লেখকের অনুমতি নিয়ে এই লেখাটা ই- নলেজ আইডিয়াতে আপলোড করা হচ্ছে ]
পর্ব ৭
এতোক্ষন যারা ভৌতিক বা পেরানরমাল ফিল পাওয়ার জন্য এই কাহিনীর সাথে ছিলেন, তাদের বলি এখন আর ভৌতিক কিছু নেই এখানে, তবে এতোকিছু কেনো হলো, তার একটা ধারনা পাবেন।
রিয়ার ভাইকে তৎক্ষনাৎ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঐ তান্ত্রিক কে পুলিশে দেয়া হয়। কিন্ত অবাক বিষয় তান্ত্রিক কে পুলিশ ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। ক্ষমতাসীন দলের দুজন মন্ত্রী এবং এমপির আদেশে। এই তান্ত্রিক গুরুর নাকি উপরে মহলে অনেক মুরীদ আছে। তান্ত্রিকের জাদু টোনা বা আশির্বাদে তারা নিজেদের দলের ই প্রতিপক্ষকে হারিয়ে মন্ত্রী বা এমপি হয়েছে। (আসতাগফিরুল্লাহ)।
এই ঘটনা ২০১৭,১৮ সালের। আপনারা নিশ্চয়ই জানেন তখন কোন দল বা পার্টি ক্ষমতায় ছিলো।
রিয়ার ভাইয়ের অবস্থা গুরুতর। ডিপ হেড ইনজুরি হয়েছে। অনেক রক্তক্ষরন হয়েছে। জীবন মরন সঙ্কট। একেবারে ICU তে কোমায় চলে গেছে।
এই পর্যন্ত শুনে আমি রিয়াকে থামালাম। আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে রিয়াদের বাসায় এসেছিলাম এবং রিয়ার কাছে তার ভাইয়ের কাহিনী শুনছিলাম। এবার আমি রিয়াকে কিছু প্রশ্ন করছি। যেই প্রশ্নগুলো এতোক্ষনে আপনাদের মনেও এসেছে।
একটু খেয়াল করুন আমার প্রশ্ন এবং রিয়ার জবাবে।
তোর বড় ভাই কি তোর বাবা মায়ের পালক সন্তান? অর্থাৎ দত্তক নিয়েছিলো?
রিয়া অবাক হয়ে বললো কি যে বলিস যা তা কথা। ভাইয়া আব্বার আর তার প্রথম স্ত্রীর ছেলে। আমার সৎ ভাই। ভাইয়ার মা মারা যাবার পরে আব্বা আমার আম্মাকে বিয়ে করে।
আমি কিছুটা অস্বস্তি নিয়ে রিয়াকে আবার বললাম, তোর ভাইয়ার সেদিন ছাদের কথায় তো মনে হয়, বিয়ের আগেই তোর বাবা মায়ের রিলেশন ছিলো এবং সেই সুবাদেই তোর জন্ম। আমি চাইছিলাম রিয়া বূঝে নিক যে আমি কি বলতে চাইছি, সরাসরি তো আর ওকে আমি বেজন্মা বলতে পারি না।
রিয়া চালাক মেয়ে বুঝে গেছে। আমার দিকে তাকিয়ে বললো এসব কিছুই আমি জানি না। ছি:। তাছাড়া আমার জন্ম ঠিক মতোই হয়েছে। আব্বা আম্মার বিয়ের ঠিক দশ মাসের মাথায় আমার জন্ম হয়েছে। তখন ভাইয়ার বয়স ছিলো ৭। আর আমার পরে আমার আরো দুইটা ছোটো ভাই হয়।
আমি এবার শান্তভাবে জিগেস করলাম তো মন্দিরের পিছনে তোর বাবা মা দেখা করতো কেনো?
রিয়া এবার আমার চোখের দিকে তাকালো, বললো মন্দির আমার নানা বাড়িতে আছে। আম্মা হিন্দু ঘরের মেয়ে।
আমি একটা ধাক্কা খেলাম। কারন এতোদিন ধরে রিয়ার মাকে দেখছি, কোনোদিন বুঝতে পারি নি যে আন্টি হিন্দু। তাছাড়া রিয়াদের বাসায় কোনো মূর্তিও নেই। আমি আন্টিকে কখনোই পূজা করতে দেখি নি।
আমি পুরাই অবাক হয়ে রিয়াকে বললাম তোর আব্বা মুসলিম, মা হিন্দু। এই বিয়ে তো বৈধ নয়। ইসলাম ধর্ম, হিন্দু ধর্ম, কোনো ধর্ম মতেই এই বিয়ে বৈধ নয়। ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত হলে বিয়ে জায়েয। কিন্তু হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী ধর্মান্তরিত হলেও বিয়ে জায়েয হবে না। কারন হিন্দু ধর্মে জাত প্রথার বাহিরে বিয়ে নিষিদ্ধ বেদ শাস্ত্র মতে।
রিয়া বিরক্ত হয়ে আমাকে বললো, তুই মারাত্মক বেকডেটেড। আজকাল এসব কেউ মানে না। বাংলাদেশের আইনে ভিন্ন ধর্মের মানুষ বিয়ে করতে পারে। আমি জিগেস করলাম তোর আম্মা কি এখনও হিন্দু? রিয়া বললো অবশ্যই হিন্দু। আমি বললাম ঘরের কোথাও তো মূর্তি ভাস্কর্য দেখছি না। রিয়া বললো আছে আম্মার আলমারিতে। আম্মা প্রতিদিন ই তার সব ভগবানদের পূজা করে। আমি আবার বললাম তুই কি হিন্দু নাকি মুসলিম? রিয়া বললো সব ধর্মের বইপত্র ই মোটামুটি পড়েছি। কিন্তু এখনও কোনোটাই পালন করি না। তবে আমার নামের সাথে তো আব্বার মুসলিম সারনেম।
আমি যেহেতু মুসলিম, স্বাভাবিকভাবেই চাইবো রিয়াও ইসলাম ধর্ম পালন করুক। বললাম তোর আব্বা যেহেতু মুসলিম, তুইও মুসলিম। রিয়া বিরক্ত হয়ে বললো ধ্যাৎ মুসলিম হলে দিনে পাচবার নামাজ পড়তে হবে। এটা আমার কাছে বিরক্ত লাগে। (আসতাগফিরুল্লাহ)।
আমি আবার বললাম তোর ছোটো দুই ভাইয়ের ধর্ম কি? রিয়া বললো 'একজন মাদ্রাসায় পড়ে, সম্পূর্ণ মুসলিম। অন্যজন মাদ্রাসায় কয়দিন পড়ার পরে আর পড়তে চায় নাই, ও জেনারেল লাইনে পড়ে। এই ভাই আর আমি সেইম। কোনো ধর্ম পালন করি না। ইসলাম হিন্দু দুই ধর্মকেই আমরা শ্রদ্ধা করি'।
আমি জিগেস করলাম তোর দাদা দাদী নানা নানী তোর আব্বা আম্মার বিয়ে মেনে নিয়েছিলো? রিয়া বললো প্রথমে দুই বাড়ীর অভিভাবক মেনে নেয় নি। অনেক ঝামেলার পরে শেষ পর্যন্ত মানতে হয়েছে।
আমি এবার রিয়াকে জিগেস করলাম উত্তমের কথা। আপনাদের মনে আছে তো কাহিনীর শুরুতে রিয়ার ভাইয়ের বন্ধু উত্তমের এন্ট্রি হয়েছিলো। মা মরা ছেলে মাকে পুনর্জন্ম করার জন্য ভারতের তান্ত্রিকের কাছে গিয়েছিলো, সঙ্গী হিসেবে গেছিলো রিয়ার ভাই, মনে আছে তো??
তো আমি রিয়াকে কিছুটা ফানি ভাবে বললাম উত্তমের কি খবর?? ওর মায়ের আত্মার শেষ পর্যন্ত কি হয়েছে?
রিয়া বললো "উত্তম দা বুঝতে পেরেছে এসব কুসংস্কার। সে ভারত থেকে আসার কিছুদিন পরেই তন্ত্র মন্ত্র ছেড়ে দেয়"।
আমি অবাক হলাম রিয়ার কথা শুনে। যেই উত্তমের সাথে ভারতে গিয়েই রিয়ার ভাইয়ের আজ এই অবস্থা, সেই উত্তম নাকি তন্ত্র সাধনা করে নাই, অথচ,,,,,,, রিয়ার ভাই প্রায় পাগল হয়ে গেছিলো।
আমি আবার বললাম ঐ উত্তম কোথায় থাকে, আমি কি একটু ওর সাথে দেখা করতে পারবো? রিয়া বললো "আমার নানা বাড়ির পাশেই উত্তমদের বাড়ি। উত্তম আম্মার আত্মীয় হয়"।
এই কথা শুনে আমি দুইয়ে দুইয়ে চার মিলালাম। ধারনা করে কিছু বলা ঠিক না, তবুও আমি দুইয়ে দুইয়ে চার মিলাচ্ছি।
মিলাতে চাই রিয়ার দাদা দাদীর ঢাকা শহরে ডুপলেক্স বাড়ির আলিশান বাসায় সাপের কামড়ে অস্বাভাবিক মৃত্যু। রিয়ার চাচার এক্সিডেন্ট, বিয়ে না হওয়া, সর্বশেষ রিয়ার ভাইয়ের এই দশা। এগুলো সব হিসাব মিলাতে হলে রিয়াদের টোটাল সম্পত্তির ভাগ বাটোয়ারা ওয়ারিশ সম্পর্কে দাদা দাদী কি করে গেছে সেটা জানা খুব প্রয়োজন। কিন্তু সম্পত্তির বিষয়টা ডিরেক্ট রিয়াকে জিগেস করা যাচ্ছে না। উল্টা আমাকে যদি অন্য কোনো সন্দেহ করে বসে। তবে এই বিষয়ে জিগেস করার আগেই রিয়া আমাকে আরেকটা কথা বলে চমকে দেয়,
সেটা হলো
রিয়ার ভাই হাসপাতালে নয়মাস ICU তে কোমায় থাকার পরে প্রথম যখন চোখ খোলে, হুশ ফিরে, তার মুখ দিয়ে প্রথমেই যেই শব্দ টা বের হলো, তা হলো
"গুলফাম" আমার গুলফাম"
✍️ #ইমি_চৌধুরী
#Imi_Chowdhury
চলবে,,,,,,,,,,
#রিয়ার_ভাই
পর্ব ৬
https://www.facebook.com/share/p/HjgRv68PcvxgRDaZ/?mibextid=oFDknk
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।