[ লেখকের অনুমতি নিয়ে এই লেখাটা ই- নলেজ আইডিয়াতে আপলোড করা হচ্ছে ]
পর্ব ১১
তো রিয়ার ভাইয়ের মায়ের বন্দনা থামছেই না। আমি একটু অবাক হলাম যে মানুষ টা তাহলে অনেক কথা বলতে পারে। আমি তো সে অসুস্থ হবার কারনে ভেবেছিলাম গুরুগম্ভীর হয়ে গেছে। আমি তার কথার মাঝে আচমকা বললাম ভাইয়া আপনার পাশে গুলফাম ভাবীকে দেখতে পাচ্ছি। সে আমার কথা শুনে ফিক করে হেসে দিলো। এই প্রথম তাকে হাসতে দেখলাম। কি সুন্দর হাসি। কবি সাহিত্যিক রা শুধু গল্পের নায়িকাদের সুন্দর হাসি বোঝানোর জন্য নায়িকার দাত কে মুক্তার সাথে তুলনা করে। তাদের উচিত ছিলো রিয়ার ভাইয়ের হাসিটা দেখা। মুক্তো ঝরা ঝকঝকে শব্দহীন নারীর হ্নদয় উথাল পাথাল করে দেয়া হাসি। আচমকা আমার কথায় আচমকাই সে হাসলো, আচমকাই সেই হাসি তার মুখ থেকে মুছেও গেলো। সে চুপ করে আছে। আমিও চুপ করে আছি। পিনপন একটা নিরবতা ঘরে। হঠাৎ বাহিরে রিয়ার মায়ের গলার আওয়াজ পেলাম। সে ভেতরে আসবে। রিয়ার ভাই বললো আসো মা। রিয়ার মা রিয়ার ভাইকে চা দিতে এসেছে। সে ঘরে ঢুকলো, চায়ের কাপ টেবিলে রেখে চলে গেলো। আমার দিকে ফিরেও তাকালো না। একটি যুবতী মেয়ে, তার যুবক ছেলের সাথে ঘরে বসে কথা বলছে, এটা যেনো নরমাল কিছু। রিয়ার ভাই চায়ের কাপ হাতে নিয়ে বললো, চা খেয়েছেন? আমি বললাম দুইবার খাওয়া হয়েছে আপনাদের বাসায় এসে। কিন্তু আপনি তো বলেছিলেন চা খান না। রিয়ার ভাই বললো এটা ঠিক চা না। এক ধরনের ওষুধ। রিয়ার ভাই বললো আপনি বসুন। আমি বারান্দা থেকে আসি। সে ওষুধের কাপ হাতে বারান্দায় গেলো, আমি বসে আছি। প্রায় পাচ মিনিট পরে রিয়ার ভাই বারান্দা থেকে ঘরে আসলো। আমাকে বললো 'আমি অনেক কথা বলেছি এতোখন, আপনার সময় নষ্ট করেছি। আপনি নিশ্চয়ই শুধু আমার কথা শুনতে আসেন নাই। বলেন কি বলবেন। আমি বললাম, আপনি যদি শুধু শুনেন, আমার কথার মাঝখানে যদি কথা না বলেন, তাহলে খুশি হবো। সে নিচের দিকে তাকিয়ে বললো 'চেষ্টা করবো।
আমি শুরু করলাম। বললাম ভাইয়া আপনি যদি ইউটিউবে বা গুগলে জ্বীনের দেশ বা শহর লিখে সার্চ দেন, তাহলে কোহেকাফ নামটা আসবে। আমার জানামতে কোরান হাদীসে এই নাম নেই। হয়তো আছে, আমি জানি না। কোহেকাফ নামটা আপনি শুনেছেন ইন্টারনেট থেকে। আর গুলফাম নামটা শুনেছেন একটা তুর্কি ড্রামা থেকে।
তাছাড়া একজন হুজুর স্বয়ং আপনার রুকিয়াহ চিকিৎসা করেছেন। বাড়ি বন্ধ করেছেন। হুজুরের চিকিৎসায় আলহামদুলিল্লাহ আপনি সুস্থ হয়েছেন। তাহলে এখন গুলফামের আবির্ভাব হলো কিভাবে?
আমি দেখলাম রিয়ার ভাই ঘামছে। তার কপালে চিন্তার ভাজ। এতো চিন্তায় পড়ার কি হলো বুঝলাম না।
আমি আবার বললাম যদি আপনি স্বপ্নে বা কল্পনায় সর্বদা আপনার স্ত্রী গুলফামকে দেখে থাকেন, তাহলে একটা পরীক্ষা করা যায়। কয়েকদিন এই মধু খাবেন না। এবং আপনার ঘরে রাতে ঘুমাবেন না। মাত্র দুই দিন মধু না খেয়ে এবং বারান্দার ফুলের কাছে আপনার ঘরে না ঘুমিয়ে দেখুন। আপনার চাচার ঘরে বা আপনার ভাই দুজনের ঘরে দুই দিন ঘুমান। আশা করি এই দুই দিন এই ধরনের কিছু দেখবেন না যদি না আপনি কোনও নাটক না করে থাকেন।
এবার রিয়ার ভাই আমার দিকে তাকিয়ে বললো 'মানে? কি বলতে চান আপনি?
আমি বললাম, সিম্পল কথা বলতে চাই, আমার ধারনা আপনি নাটক করছেন। তবে কেনো করছেন সেটা এখনও বুঝতে পারছি না।
এবার রিয়ার ভাই আমার দিকে একদৃষ্টে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বললো 'আপনার বয়স কত? আচমকা এমন প্রশ্নে আমি একটু অপ্রস্তুত হলাম। কারন সাধারণত শিক্ষিত লোকেরা নারীদের হঠাৎ করে সরাসরি বয়স জিগেস করে না। আর যেহেতু আমরা নারীরাও বয়স সহজে বলতে চাই না। বললাম রিয়া আর আমি একি ব্যাচের। সে বললো সন্ধ্যা হয়ে যাচ্ছে, বাসায় চলে যান। এই বয়সী মেয়েদের বেশিক্ষন নিজের বাসার বাহিরে থাকা ঠিক না। এই কথার পরে আমি কিছু না বলে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাড়িয়ে ঘর থেকে বের হতে নিলাম, রিয়ার ভাই আমাকে পেছন থেকে বললো আরেকটি কথা শুনুন। আমি তার দিকে ফিরলাম। সে বললো অনেক সময় কোনো কিছু জেনে ফেললে বিপদ হয়। তাই কিছু কিছু বিষয় কম জানার চেষ্টা করবেন। আপনি মেয়ে মানুষ। নিজের সেইফটি মেইনটেইন করে চলবেন সবসময়। আমি মুচকি হেসে বললাম ভয় দেখাচ্ছেন? সে ও মুচকি হাসলো, আমি রিয়ার ভাইয়ের ঘর থেকে বের হলাম।
রিয়ার ঘরে এসে রিয়াকে বললাম, আগামী কাল তুই একবার আমার মামার বাসায় আসিস। তোর সাথে অনেক জরুরি কথা আছে।
আপনাদের বলে রাখি আমার মামার বাসা পুরান ঢাকায়, তবে অন্য এলাকায়। আমি মামার বাসায় বেড়াতে এসেছিলাম, সেখান থেকে মামাতো বোনকে নিয়ে রিয়াদের বাসায় আসি।
রিয়া বললো আমি তো যাইতে পারবো না, তবে তুই ই আসিস। আমি অনেক রিকোয়েস্ট করেও ওকে রাজী করাতে পারলাম না। বুঝলাম আমাকেই আসতে হবে।
আমরা এখন রিয়াদের বাড়ি থেকে চলে যাবো। আমার মামাতো বোন আর আমি রিয়ার ঘর থেকে বের হতে নিলাম, এমন সময়ে রিয়ার চাচাও ঘরে ঢুকতে নিলো, অল্প একটুর জন্য রিয়ার চাচার সাথে আমাদের ধাক্কা লাগতে নিয়েও লাগে নাই। কিন্তু অবাক ব্যাপার রিয়ার চাচা ছিটকে দশ হাত দূরে গিয়ে দাড়ালো, লোকটা এমন ভাবে দূরে সড়ে যাচ্ছে আর সারা শরীর ঝাড়ছে যেনো তার গায়ে কেউ পিপড়া বা বল্লা ছেড়ে দিয়েছে, সে এমন ছটফট করতে করতে সারা শরীর ঝাড়ছে, অথচ আমাদের গায়ের সাথেও তার কোনো টাচ লাগে নাই। যদি সে খুব ধার্মিক হতো তাহলে না হয় আমাদের দিকে তাকাতো না, কারন এটা ইসলাম ধর্মের আদেশ, পর নারীর দিকে তাকাতে নিষেধ করা হয়েছে। কিন্তু সে তো তাকানো দূরের কথা, শরীর ঝাড়ছে, যেনো আমরা কোনো নোংরা আবর্জনা দিয়েছি তার শরীরে। রিয়ার চাচার বয়স ৩৫ থেকে ৪০ এর ভেতরে হবে। আগেই তো আপনাদের বলেছি সে সুঠামদেহী হ্যান্ডসাম পুরুষ। এই বয়সী একজন সিঙ্গেল পুরুষ দুজন তরুনীর ছোয়া পেয়েছে ভেবে ছোটো বাচ্চাদের মতো হাত পা শরীর ঝাড়ছে।
আমরা অবাক
✍️ #ইমি_চৌধুরী
#Imi_Chowdhury
চলবে,,,, , ,,,,,
পর্ব ১০
https://www.facebook.com/share/p/NXMhEXGeD3L3n6uo/?mibextid=oFDknk