Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

ফুরাবে বসন্ত, ফুরবে না ব্যথার দহন—

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
140 বার প্রদর্শিত
করেছেন (5,442 পয়েন্ট)   06 ডিসেম্বর 2025 "ইসলামিক গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

ফুরাবে বসন্ত, ফুরবে না ব্যথার দহন—

— রফিক আতা—



এক সময়ের বাগানবিলাসী গেটফুল গাছটি এখন আর নেই। কোনো এক বসন্তের পাতা ঝরা দিনে মাহিনকে ছেড়ে বিদায় নিয়েছিল সে-ও।



সেই গিয়ার সাইকেল—যা নিয়ে গ্রামের আঁকাবাঁকা পথে কত শত অপরাহ্ন পার করেছে মাহিন। আজ তা পড়ে আছে ধুলো জমে, পেছনের পুরনো ঘরে। যেখানে এখন কেবল মাকড়সার জাল আর নীরব কোলাহল।



সাইকেলটি কেনার জন্য কতদিন বাবার সঙ্গে রাগারাগি করেছিল মাহিন। অভিমানে কত বেলা ভাত না খেয়ে থেকেছিল মায়ের ওপর রাগ ঝেড়ে। বাবা বলেছিলেন—

“বেতনের টাকা হাতে পেলেই তোকে সাইকেল কিনে দেব।”

কিন্তু মাহিন মানেনি। সে বলেছিল—

“আমার সব বন্ধু সাইকেলে করে স্কুলে যায়, আমি কেন হেঁটে যাব?”



এদিকে মদি দোকানের বাকির খাতার ভার প্রতিদিন বাবাকে কুরে কুরে খাচ্ছিল। একদিকে ছেলের সাইকেলের চাপ, অন্যদিকে দোকানির তাগাদা। কিন্তু সেসব নিয়ে চিন্তার সময় কোথায় মাহিনের?



যাকগে সে কথা! অভিমান করার জন্য সেই মা, রাগ দেখানোর জন্য সেই বাবা—আজ আর কেউ বেঁচে নেই। কেবল ব্যথা জিইয়ে রেখেছে তাদের স্মৃতি।



সংসারের টানাপোড়েন দেখে একদিন মা টিকতে পারলেন না। দাদির রেখে যাওয়া একটি অলংকার—যা ছিল পারিবারিক উত্তরাধিকার, জাহানারা বেগমের শেষ স্মৃতি—অনিচ্ছাসত্ত্বেও বিক্রি করে দিলেন। সেই টাকা দিয়ে বাবার নাম কাটা গেল মদি দোকানের বাকির খাতা থেকে, আর বাকি অংশে কেনা হলো মাহিনের সেই কাঙ্ক্ষিত সাইকেল।

কারণ মা জানতেন, বাবার সামান্য বেতনে না সাইকেল কেনা সম্ভব, না হালখাতার দেনা শোধ করা।



কিন্তু বাবার কষ্ট, মায়ের ত্যাগ—তার প্রতিদান দিতে পারলো না মাহিন। ধীরে ধীরে খারাপ সঙ্গের অন্ধকারে তলিয়ে গেল। দিনদিন নেশার জগতে ডুবে যেতে লাগলো। রাত গভীর হলে ফিরতো, কখনো নেশাগ্রস্ত, কখনো অশালীন সঙ্গ নিয়ে।



বাবা একদিন ডাকতে গিয়েছিলেন, উত্তরে পেয়েছিলেন ছেলের হাতের আঘাত। মা বাধা দিয়েছিলেন, তাই নিষ্ঠুরভাবে ধাক্কা খেয়েছিলেন। চোখের সামনে আদরের ছেলেটাকে অন্ধকারে হারাতে দেখেও বাবা-মা অসহায় ছিলেন।



এক রাতে অফিস থেকে ফিরে হঠাৎ বাবার শরীরে চাপ বেড়ে গেল। প্রেশার, সঙ্গে হার্টের ব্যথা। বিছানায় কাতরাচ্ছিলেন তিনি। তখন মাহিন ছিল না ঘরে। একা মা অনেক চেষ্টা করেও গাড়ি পেলেন না। সেভাবেই বাবার শরীর নিথর হয়ে গেল।



বাবার মৃত্যুতে ভেঙে পড়লেন মা। অথচ সান্ত্বনা দেবার মতো পাশে ছিল না একমাত্র সন্তানটিও। স্বামীর শোকে ক্ষতবিক্ষত হৃদয় নিয়ে কিছুদিন পর তিনিও নিভে গেলেন।



যখন খবর এলো—মা নেই—তখনই যেন ঘোর কাটলো মাহিনের। ছুটে এসে দেখলো, মায়ের নিথর দেহ পড়ে আছে মেঝেতে। সেই দেহ বুকে চেপে ধরলো, কিন্তু কান্না এল না। কেবল শুকনো চোখে, ভেতরে ভেতরে ভাঙতে লাগলো।



এগুলো এখন বহু আগের ঘটনা। তখন বসন্তকাল ছিল। বাবা-মা দু’জনকেই হারালো মাহিন বসন্তেই। তারপর একে একে ফুরিয়েছে আরও বারোটি বসন্ত।



২০২৫ সাল। এখন মাহিন প্রতিষ্ঠিত একজন মানুষ। ভালো চাকরি করেছে, সংসার গড়েছে, সন্তান হয়েছে। তবু হঠাৎ একদিন তার ইচ্ছে হলো, ফিরে যাবে সেই পুরনো জরাজীর্ণ ঘরে—যেখানে তার শৈশব, বাবা-মায়ের স্মৃতি গাঢ় হয়ে আছে।



ঘরে ঢুকে কোণে পড়ে থাকা সেই পুরনো সাইকেলটির কাছে গেল মাহিন। হাঁটু গেড়ে বসলো। হঠাৎ করেই ফেটে পড়লো অঝোর কান্নায়—আকাশ প্রকম্পিত করা চিৎকার।


শব্দ শুনে ছুটে এলো স্ত্রী-সন্তান।

“আব্বু! কী হয়েছে? তুমি কাঁদছ কেন?” —বিস্মিত কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলো ছেলে।



মাহিন তখন বিড়বিড় করে বলতে লাগলো—

“আমিই আমার বাবা-মাকে হত্যা করেছি। আমিই তাদের মেরেছি… হ্যাঁ! আমিই তাদের হত্যাকারী…”



তখন বসন্তকাল ছিল। বাবা-মায়ের মৃত্যুতে সেই বসন্ত ফুরিয়ে গিয়েছিল। এরপর একে একে বারোটি বসন্ত চলে গেছে। এখনো ২০২৫-এর বসন্ত ফুরিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু মাহিনের হৃদয়ে জেগে থাকা ব্যথার ঝড় ফুরোয়নি। সে জানে—আরো শত শত বসন্ত ফুরাবে, কিন্তু তার বুকে বয়ে চলা দহনের আগুন কোনোদিন নিভবে না।image

আমি রফিক আতা, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 7 মাস 3 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 266 টি লেখা ও 11 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 5442। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া
Enolej ID(eID): 1807
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


স্মার্টফোনের দূষিত প্রলেপ: আঁধারের গল্প —রফিক আতা—  ১.  দশ গ্রামে আদনানের মতো ছেল[...] বিস্তারিত পড়ুন...
138 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
ইশকের জগতে তো কেবল ইশকই মানান, ‎প্রাপ্তির হিসাব সেখানে নিছকই বেমানান। ‎ ‎ইশক মা÷[...] বিস্তারিত পড়ুন...
408 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

আমি একটি কাব্যগ্রন্থ লিখবো। ‎গ্রন্থটি মলাটবদ্ধ করবো একশো পৃষ্ঠায়। ‎পুরো গ্রন্&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
380 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

. যখন  চারপাশে  সহস্র  শব্দের  ভিড়, ‎মেহবুবার নামে কাঁপে ইশকের নীড়। ‎আমি যেন এক&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
238 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
   ভুলে থাকার মন্ত্র খুঁজি        রফিক আতা যদি মনে পড়ে, যদি হৃদে জাগে— অভিমান ভুলে এসো &[...] বিস্তারিত পড়ুন...
373 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1333 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    66 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. শামীমা আকতার

    43 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    1 আইডিয়া ব্লগ

  3. Adiba jannat

    21 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    1 আইডিয়া ব্লগ

  4. রাকিব মুসাব্বির

    1 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    0 টি আইডিয়া ব্লগ

...