ওরাও জামেয়ার এক মহার্ঘ সম্পদ
রফিক আতা
দিনটি ছিলো শুক্রবার। বিকাল থেকেই আকাশ ছিলো মেঘাচ্ছন্ন। প্রতিদিনের ন্যায় সেদিনও রশীদি উদ্যানে বৃক্ষের পল্লবাধার জুড়ে অবুঝ খুনসুটি চক্রে বসেছিলো পাখিদের টকশো। সুর্য তখন দিনের কপালে।দিন ফুরিয়ে ফুরিয়ে রাত যতো ঘনিয়ে আসছিলো, মেঘেদের অবাধ বিচরণে পৃথিবী জুড়ে নেমে আসছিলো আঁধারের ঘনঘটা। মাগরিবের আযান হলো।
আমরা নামাজে দাঁড়ালাম। সালাত শেষ হতে না হতেই বইতে শুরু করলো প্রচন্ড দমকা হাওয়া। বিজলি বজ্রধ্বনি ও মেঘের গগনবিদারী অট্টহাসিতে সব কিছু প্রকম্পিত হতে শুরু করলো।এরপর শুরু হলো আকাশ ভাঙা বৃষ্টি। প্রচন্ড দমকা হাওয়া ও ঝড়ের তীব্রতায় দুমড়ে মুচড়ে যেতে লাগলো বৃক্ষ পল্লব। উড়তে লাগলো ডালপালা।
ঝড়ের কবল থেকে বাঁচতে রশীদি উদ্যানে আশ্রিত পাখিরা দিগ্বিদিক হয়ে উড়তে লাগলো। কিন্তু হায়! ওরা তখন বেশিক্ষণ টিকে থাকতে পারেনি।ঝড়ের মুখে ধরাশায়ী হয়ে এক সময় চরম ব্যর্থতা নিয়ে ঝরে পড়ে ক্যাম্পাস বাগানে জমে থাকা পানিতে।
এদিকে পাখিদের ব্যাথায় ব্যথিত হতে লাগলেন আমাদের হযরত ওয়ালা দা. বা.।ঝড়ের রাতে দুর্যোগের মুখে পড়া পাখিদের জন্য মায়াকান্না র ঝড় উঠে এই আল্লাহ ওয়ালা র হৃদয়ে। এভাবেই কতগুলো অবোলা প্রাণ নিমিষেই শেষ হয়ে যাবে! তাও হযরতের মতো ব্যক্তিত্বের চোখের সামনে!
না। এ হতে পারেনা। হযরত ওয়ালা দা. বা. একজন শিক্ষক কে জিম্মাদার বানিয়ে পাঠিয়ে দিলেন আহত পাখিদের কে উদ্ধারের জন্য। সেই শিক্ষকের সাথে কাজ করছিলো যারা তন্মধ্যে আমিও একজন। এখনও জলছবির ন্যয় স্মৃতিপটে ভাসমান সেই রাত। আমরা শরহে বেকায়া র চারজন সাথী। সাথে একটি টর্চ লাইট। বৃষ্টি র তীব্রতা ও প্রচন্ড মাত্রার ঝড়ো হাওয়াকে পিছন ফেলে, বেরিয়ে পড়লাম আহত পাখিদের উদ্ধারে।
জড়ের ঝাপটায় পড়ে জবুথবু হয়ে পড়া পাখিদের কে উদ্ধার করে করে মাদ্রাসা র ভেতরে নিয়ে যাচ্ছিলাম। জামেয়ার উত্তর পাশের ভবনের নিচ তলায় ও দ্বিতীয় তলায় মশারী টাঙিয়ে বানানো হয়েছিলো অস্থায়ী ক্লিনিক। ঝড়ো হাওয়ার বিভীষিকায় হৃদকম্পন হচ্ছিল পাখিদের। তাদের মাঝে উষ্ণতা ফিরিয়ে আনতে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা করেন উচ্চ হিট ও ভোল্টেজ বিশিষ্ট ভাস্বর আলোর বাল্ব। আল্লাহর রহমতে অর্ধশতেরও বেশি পাখি উদ্ধার করা হয়। অল্পকিছু পাখিই শুধু মারা পড়েছিলো।
সুবহানাল্লাহ!
ভাবা যায়! এ যুগে এসেও পাখিদের প্রতি সেই নবী যুগের আদর্শ স্থাপন। সেই নববী দরদ। নববী দিলের ধরকন। হযরত ওয়ালা দা.বা. মনে করেন ওরাও জামেয়ার এক মহার্ঘ সম্পদ।ওরা জামেয়ার জন্য রহমত স্বরূপ। তাইতো পাখিদের নিরাপত্তার জন্য পাহারাদার নিযুক্ত করেছেন। যারা রাতভর নির্ঘুম চোখে তাদের পাহারা দেয়।
বিংশ শতাব্দীতে এসে এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যাবে, যারা....। হযরত ওয়ালা দা. বা. এর চিন্তা চেতনা নিঃস্বার্থ আবেগ ও পয়গম্বরি আদর্শের কারণে সেদিন এত্তোগুলো পাখি ফিরে পেয়েছিলো নতুন জীবন।সেদিনের সেই সুন্নাতি মিশনে শরীক থাকতে পেরে আজও যেন হৃদয়টা অবিভাজ্য আনন্দে ভরে উঠছে।
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।