টুপি পতন সমাচার
রফিক আতা
হুজুর!টুপি খুলতে হবে।
কেন?
টুপি নিয়ে আইডি কার্ড ফটো তোলা যাবেনা।
কেন?
এ্যালাও না।
আমার পাল্টা প্রশ্ন কেন?এ্যালাও না কেন?
এই নেক্সট।পরের জন আসুন। আপনার এতো
কেন র উত্তর আমার কাছে নেই।
—আইডি কার্ডের ছবি তোলার জন্য যখন ভোটার তালিকা হালনাগাদ কর্মসূচি অফিসে যাওয়া হয়। এটি তখনকার এক অনভিপ্রেত ঘটনা।
—মাইগ্রেনের ব্যথা যেন হঠাৎ করেই বেড়ে গেলো। মাথায় প্রচন্ড রকম আঘাত পড়লো। আত্মমর্যাদা ও ব্যাক্তিত্বেও চরমভাবে লাগলো। আশ্চর্য! রাসুল সা. এর সুন্নাহ টুপি পড়ার কারনে ছবি তুলতে দেওয়া হলোনা। কোনভাবে নিজেকে মানিয়ে নিতে চাইলাম। কিন্তু পারলাম না। সিদ্ধান্ত নিলাম যে করেই হোক আমি টুপি সহকারেই ফটো তুলবো।
—মেঝো ভাইয়ার নিকট বিষয়টি কল করে জানিয়ে দিলাম। ভাইয়া কিছুক্ষনের মধ্যেই মহিলা মেম্বার নিয়ন্তা সহায়ক কে নিয়ে এলেন। তিনি সেখানে কর্মরত পুলিশ অফিসারের সাথে কথা বলেন। এবং ক্যামেরাম্যন কে উক্ত বিষয়ে জিজ্ঞেস করেন। সে উত্তরে তার বসের দিকে ইশারা করে বলেন। এটি উনার নির্দেশ। টুপি এবং চশমা এ্যালাও না।
তার বস কে জিজ্ঞেস করা হলে সে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কর্মসূচি প্রধান অফিসারের সাথে কথা বলার জন্য বলেন।
এদিকে আমি বিষয়টি নিয়ে সাবেক মেম্বার মুফতি নুরুল্লাহ খালেদ সাহেবের সাথে আলোচনা করি। তিনি উপস্থিত সেখানে কর্মরত সেই প্রধান অফিসার জনাব ইকবাল সাহেবের সাথে কথা বলেন। এবং টুপি সহকারে ছবি তোলার জন্য বলেন। আমি এ টুপি পতন ষড়যন্ত্র বিষয়ে আমাদের স্কুলের মেম কেও জানিয়েছি। তিনিও ইকবাল স্যারের সাথে কথা বলেছেন। সব মিলিয়ে শেষ মুহূর্তে আমার ছবি টুপি সহকরে তোলার সিদ্ধান্ত হয়।
—বাহিরে যখন এ বিষয়ে কথা তুলেছি। স্যারের সাথে আলোচনা করেছি।সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষ গুলোও অজস্র লোকারণ্যে সমালোচনার ঝড় বইয়ে দিলো। হ্যা! ঠিক তো! হুজুর তো ঠিকই বলেছে! কেন টুপি খুলবে! টুপি নিয়েই ছবি তুলতে হবে! এক কথায় সাধারণ মানুষ গুলোও টুপি পতন বিরোধে সাপোর্ট দিলো।
—ছবি তুলতে গিয়ে আবারো ক্যামেরা ম্যান কিছুটা কূটতর্কে লিপ্ত হয়। বললাম, আমার গায়ের সাদা পাঞ্জাবি যদি এ্যালাও থাকতে পারে তবে টুপি কেন এ্যালাও না।এটাও তো আমি একজন মুসলিম হিসেবে পোশাকের অন্তর্ভুক্ত।
—সে বললো-আসছে! উনি এখানে নতুন আইন চালু করতে।প্রতুত্তরে বললাম- নতুন আইন মানে! আপনাকে আমি কয়টি অতীত আইডি কার্ড দেখাবো। যেখানে টুপি সহই ফটো তোলা হয়েছে। বরং আপনারই তো নতুন আইন চালু করেছেন। তাছাড়া টুপি নিয়ে ছবি তুলবে এটি আবার আইনের কি আছে।
এটাতো ইজরায়েল নয়। তাহলে কেন আমাকে টুপি নিয়ে এতোটা দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
— এখন ("অ" মাহযুফ) ভদ্রলোক কিছুটা স্বর নিচু করে বললেন।আসলে বলতে চাইছিলাম কি। টুপি, চশমা, মহিলাদের হিজাব ছবি তুলতে অসুবিধে সৃষ্টি করে।
—আরে ভাই! আপনারা কি শুরু করেছেন।বলা হয়েছে আমার ছবি টুপি সহ তোলা হবে।তাহলে....
আপনারা আজকে আইন করলেন টুপি খুলতে হবে।কাল বলবেন পাঞ্জাবি খুলতে হবে।এরপরে এক সময় বলা শুরু করবেন দাঁড়ি কাটতে হবে।
এখন আমার তো মনে হচ্ছে। এসবের অন্তরালে ইয়াহুদী খ্রিষ্টানদের হাত রয়েছে। এটা তো বড় ধরনের এক ষড়যন্ত্র। আর কিছু কাল পর আইন করে বসবেন যে উলঙ্গ হয়ে ছবি তুলতে হবে। ঠিক আছে তোলেন আমি এখনই উলঙ্গ হয়ে ছবি তুলবো।
—এরপর অ,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,ভদ্রলোক আর কিছুই বললেন না। চুপচাপ ছবি তুলে নিলেন। টুপি সহ। এতোক্ষণ পর মনে হলো একটু শান্তি পেলাম।মনে হলো যেন এক অন্যরকম যুদ্ধে বিজয় অর্জন করলাম।
—অসম্ভবের কিছু নয়। এটা কোন নীরব চাল,ষড়যন্ত্র। না হয় কেন টুপি নিয়ে তাদের এতো মাথাব্যাথা। এতো আনাড়িপনা। এতো বাকবিতন্ডা। হতে পারে এটিও কোন বুদ্ধি বৃত্তিক ক্রুসেড। মানুষ বলতেই পারবেনা। কিভাবে তার মাথা থেকে টুপি সরে যাচ্ছে। মুখ থেকে দাঁড়ি উদাও হয়ে যাচ্ছে। মহিলাদের কে বস্ত্রহীন করে পেলা হচ্ছে।
—যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসি সাংবাদিক ইলিয়াসের কথা শুনলে গা আৎকে উঠে।এ যে এক মহাষড়যন্ত্র তাও স্পষ্ট হয়ে যায়। সে এক প্রতিবেদনে বলেছে—
দেখেন ভাই! আলেমদের প্রতি সম্মান রেখেই বলছি।দাড়ি টুপি রেখে না সব জায়গায় সবকিছু করা যায়না।দাঁড়ি টুপি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। দাড়ি টুপির চেয়েও এদেশে ইসলাম থাকছে কিনা সেদিকে বেশি মনোযোগী হওয়া উচিৎ। এরা যেটা করে। দাঁড়ি টুপি দেখিয়ে ইন্টার্নেশনালি কিছু সুযোগ সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করে।
—সুতরাং এর থেকে স্পষ্ট হয়ে যায়।দেশের বর্তমান অবস্থা।বাকিটা আপনার মনোজগতে ছেড়ে দিলাম,
একটু ভাবুন.......
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।