কবি বে নজির এর বেনজির গল্প
—রফিক আতা—
গত শতাব্দীর অন্যুন ষাটের দশকের এক অনন্য অধ্যায়—
দৈনিক “আজ”-এর অফিসে প্রতি অপরাহ্ণে জমে উঠত এক চায়ের আড্ডা, যা ছিল কেবল আড্ডা নয়, এক প্রকার সাহিত্য সভা।
সেই আলোকিত আসরে উপস্থিত থাকতেন কবি বে-নজীর আহমদ, কবি ফররুখ আহমদ, কবি গোলাম মোস্তফা এবং আরও কত শত গদ্য ও পদ্য সাহিত্যিক, যাঁদের সৃষ্টির পরশে বাংলা সাহিত্য পেয়েছে নতুন আঙ্গিক ও আবেগ।
এসব কথা আমি পড়েছি মাওলানা মহি উদ্দিন খান (রহ.)-( সম্পাদক—মাসিক আল মাদিনা) এর আত্মজৈবনিক গ্রন্থ “জীবনের খেলাঘরে”-তে। বইটির প্রতিটি পৃষ্ঠায় যেন মিশে আছে হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া আবেগের জোয়ার। যতটুকু পড়েছি, ততটুকুই অভিভূত হয়েছি। হয়েছি আবেগাপ্লুত।
সেখানে একটি ঘটনা উল্লেখ করেছেন লেখক—
কবি বে-নজীর আহমদ প্রায়ই পাঁচ-ছয় মাইল পথ হেঁটে আসতেন “আজ”-এর অফিসে। কোনো কোনো দিন টাউন সার্ভিসে করেও যেতেন।
একদিন মাওলানা মহি উদ্দিন খান তাঁকে প্রশ্ন করলেন—
“আল্লাহ আপনাকে এত ধন-সম্পদ দিয়েছেন, আপনি তো রিকশায় করেও আসতে পারেন!”
বে-নজীর আহমদের উত্তরটি ছিল এক প্রকার চিন্তার বিস্ফোরণ। লেখকের ভাষায়— “আমি একেবারে লা-জওয়াব হয়ে গেলাম।” কারণ, কবি বে-নজীর বলেছিলেন—
“একজন মানুষ হয়ে আরেকজন মানুষকে বয়ে নিয়ে যাবে—এটা আমার বিবেকে বাধে।”
এই বাক্যটি পড়ে আমি যেন থমকে গেছি।
মনে হলো— শুধু নামেই নয়, প্রকৃত মানুষ হিসেবেও তিনি ছিলেন ‘বেনজীর’—তুলনাহীন, অনন্য।
আজকের দিনে দাঁড়িয়ে ভাবি—
কালচক্রের ঘূর্ণনে সেই বেনজীর মানুষগুলো একে একে হারিয়ে গেছেন। তাঁদের আদর্শ, জীবনদর্শন, মানবিক মূল্যবোধ যেন ক্রমশ আমাদের সমাজ থেকে মুছে যেতে বসেছে।
আহা! যদি আজও এমন মানুষদের ছায়া পেতাম...
📆বুধবার
দিনলিপি
১৮/১২/২০২৪ইং
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।