Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

মেরিনা বিচে কিছুটা সময়

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
2 বার প্রদর্শিত
করেছেন (25,089 পয়েন্ট)   4 ঘন্টা পূর্বে "গল্প" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

মেরিনা বিচে কিছুটা সময়image

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

ভ্রমণ কাহিনি। ১৮ আগষ্ট, ২০২৬



চেন্নাইয়ে এসেছিলাম চিকিৎসার সূত্রে। ভেলোরের সিএমসিতে ডাক্তার দেখানো, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, রিপোর্ট হাতে নিয়ে আবার চিকিৎসকের কাছে ছোটা—দিনগুলো যেন একই গোল চক্করের মধ্যে ঘুরছিল। সেদিন চেন্নাইয়ে ছিলাম ফলো-আপের কাজে। সকালে ডাক্তার দেখানো শেষ করে হোটেলে ফিরতেই শরীর জানান দিল, সকাল থেকে তেমন কিছু খাওয়া হয়নি।


হোটেলের পাশের গলির ছোট্ট একটা দোকানে ঢুকে পড়লাম। কড়াইয়ে পরোটা ফুলছে, পাশে ডিম ভাজা হচ্ছে। ধোঁয়া ওঠা এক কাপ চা নিলাম। আহামরি কিছু নয়। কিন্তু হাসপাতালের লম্বা করিডোর আর রিপোর্টের দুশ্চিন্তার পর ওই সাধারণ নাশতাটুকুই সেদিন খুব আপন মনে হলো। চায়ের কাপটা হাতে নিয়ে মনে হলো, অনেক দিন পর একটু স্বাভাবিকভাবে বসে আছি।


চা শেষ করতে করতে ঠিক করলাম, আজ আর রিপোর্ট নিয়ে ভাবব না। কয়েক ঘণ্টার জন্য কোথাও ঘুরে এলে ক্ষতি কী?


হোটেলে ফিরে খানিক জিরিয়ে একটা অটো নিলাম। গন্তব্য—মেরিনা বিচ।


অটো ছুটছিল চেন্নাইয়ের ব্যস্ত রাস্তা ধরে। জানালার বাইরে একের পর এক দোকান, পুরোনো বাড়ির গায়ে নতুন সাইনবোর্ড, বাস, গাড়ি আর মানুষের ভিড়। এত কিছু চোখের সামনে দিয়ে যাচ্ছিল, কিন্তু সেদিকে মনই বসছিল না। মনের ভেতর শুধু একটাই কথা ঘুরছিল—আর কতক্ষণ পরে সমুদ্র দেখা যাবে?


মেরিনা বিচে পৌঁছে অটো থেকে নামতেই প্রথম যে জিনিসটা আমাকে থামিয়ে দিল, তা কোনো স্থাপনা নয়। সামনে হঠাৎ খুলে গেল বিশাল আকাশ।


সামনে বালির বিস্তার, তার পরেই বঙ্গোপসাগর। দূরে শুধু জল আর জল। ঢেউয়ের গর্জন কানে এসে লাগছে। চেন্নাইয়ের এত ব্যস্ততার মধ্যে এমন খোলা জায়গা আছে, শহরের ভেতর থেকে বোঝার উপায় নেই।


কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলাম।


তারপর জুতা খুলে হাতে নিলাম। বালির ওপর খালি পায়ে হাঁটতে শুরু করলাম। কোথাও বালি রোদে গরম হয়ে আছে, কোথাও পায়ের নিচে নরম হয়ে ডেবে যাচ্ছে। প্রতিটি পা ফেলার সঙ্গে মনে হচ্ছিল, পায়ের নিচের বালিটাও স্থির নয়, একটু একটু করে সরে যাচ্ছে।


ধীরে ধীরে একেবারে জলের ধারে গিয়ে দাঁড়ালাম।


প্রথম ঢেউটা এসে শুধু পায়ের পাতা ছুঁয়ে গেল। ঠান্ডা জলের সেই ছোঁয়ায় শরীরটা একটু কেঁপে উঠল। পরের ঢেউটা আরও কাছে এসে গোড়ালি ভিজিয়ে দিল। আমি নড়লাম না।


কিছুক্ষণ ওভাবেই দাঁড়িয়ে রইলাম।


গত কয়েক দিন ধরে মাথার মধ্যে শুধু চিকিৎসা, ওষুধ আর রিপোর্ট ঘুরছিল। সমুদ্র তার কোনো সমাধান দেবে না, আমি জানি। তবু ঢেউয়ের আসা-যাওয়া দেখতে দেখতে মনটা একটু শান্ত হয়ে এলো।


সমুদ্র কিছু বলছিল না। কোনো সান্ত্বনাও দিচ্ছিল না। শুধু ঢেউ আসছিল, পা ভিজিয়ে আবার ফিরে যাচ্ছিল।


কিছুক্ষণ পর বালিতে ফিরে এলাম। দূরের দিগন্তের দিকে তাকিয়ে থাকলাম। আকাশ আর জল কোথায় গিয়ে মিশেছে, বোঝা যাচ্ছিল না। কোনো স্পষ্ট রেখা নেই। শুধু এক বিশাল নীলের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা।


সেদিন মেরিনায় আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছিল এই দিগন্তটাই।


দুপুরের দিকে ক্ষুধা পেল। বিচের ধারের একটা দোকান থেকে অল্প কিছু খেয়ে নিলাম। খাওয়ার পর আবার কিছুক্ষণ হাঁটলাম। হাঁটতে হাঁটতে চোখে পড়ল ডাবওয়ালা।


সমুদ্রের ধারে ডাব দেখলে না খেয়ে থাকা যায় না। একটা ডাব নিয়ে বসলাম। লোকটা কাত হয়ে থাকা কাঠের গুঁড়ির ওপর ডাব রেখে দা দিয়ে চটাস করে মাথা কাটল।


ডাবটা হাতে নিয়ে প্রথম চুমুক দিতেই মনে হলো, এর চেয়ে ঠিক সময়ের পানীয় আর হতে পারে না। ঠান্ডা জলটা গলা দিয়ে নামছিল। চারপাশে সমুদ্রের বাতাস, শরীরে রোদের ক্লান্তি, পায়ের নিচে বালি—সব মিলিয়ে মুহূর্তটা বেশ ভালো লাগছিল।


পানি শেষ করে ভেতরের নরম শাঁসটুকু চামচ দিয়ে তুলে খেলাম। খুব সাধারণ একটা ঘটনা। কিন্তু আজ এতদিন পরও সেই স্বাদটা মনে আছে।


বিকেলের দিকে মেরিনা বিচের চেহারা বদলে গেল। আলো নরম হয়ে এসেছে। মানুষের ভিড় বাড়ছে। কেউ পরিবার নিয়ে এসেছে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে। শিশুরা বালিতে ঘর বানাচ্ছে। তরুণ-তরুণীরা ছবি তুলছে। বয়স্ক মানুষেরা ধীরে ধীরে হাঁটছেন। খাবারের দোকানগুলোতেও ভিড় জমেছে।


আমি একটু দূরে দাঁড়িয়ে সব দেখছিলাম।


এত মানুষ, কেউ কাউকে চেনে না। সবার জীবন আলাদা, চিন্তা আলাদা। তবু সবাই যেন একই কারণে এখানে এসেছে—কিছুক্ষণ নিজের ব্যস্ত জীবন থেকে বাইরে দাঁড়াতে।


সন্ধ্যা নামার আগে শেষবারের মতো সমুদ্রের দিকে তাকালাম।


সকালে যে মানুষটা হোটেল থেকে বেরিয়েছিল, তার কাঁধে ছিল রিপোর্টের ভার। আর এখন যে মানুষটা ফিরছে, তার ব্যাগে সেই ভার আছেই, কিন্তু মনটা আগের মতো ভারী লাগছে না।


অটো আবার শহরের দিকে ছুটল।


জানালার বাইরে চেন্নাই তার নিজের ব্যস্ততায় ফিরে গেছে। গাড়ির শব্দ, মানুষের ভিড়, দোকানের আলো—সব মিলিয়ে শহরটা আবার নিজের ছন্দে চলছে।


আমি চুপ করে বসে ছিলাম।


কিন্তু কানের ভেতর তখনো মেরিনা বিচের ঢেউয়ের শব্দ বাজছিল।


সেই ঢেউ, যে কিছুই বলেনি—শুধু এসে পা ভিজিয়ে দিয়ে ফিরে গিয়েছিল।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 10 মাস 3 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1242 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 25089। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4674
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
সময় হলে বলা যায়   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ছোটগল্প। ২৫ জুন, ২০২৬ অভিকের বাবা একটা[...] বিস্তারিত পড়ুন...
23 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
সময় হলে বলা যায়   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ছোটগল্প। ২৫ জুন, ২০২৬ অভিকের বাবা একটা [...] বিস্তারিত পড়ুন...
20 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

সময় দাও আমায় সবাইকে তো সময় দাও, একটু সময় দাও আমায়, হাজার কথার ভিড়ের মাঝে একটু নীরবতায়। আমি কোনো দাবি নই, নই কোনো অভিমান, শুধু তোমার ব্যস্ত দিনের একটু ছোট্ট বিরাম। কিছু কথা জমে আছে, বল[...] বিস্তারিত পড়ুন...
18 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
 যে স্বপ্নের দাম বেশি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  ছোট গল্প। ১৭ আগষ্ট, ২০২৬ মেঘলা একদিন হ&[...] বিস্তারিত পড়ুন...
5 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
সিএমসিতে একদিন মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ভ্রমণ কাহিনি। ১৬ আগস্ট ২০২৬ ভ্রমণ বলতেই আমা&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
8 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    1255 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    62 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. Monsoon Harmony

    904 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    45 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. রফিক আতা

    367 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    18 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. Mayabi Ilmaz Megh

    81 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    4 টি আইডিয়া ব্লগ

...