শেষ পর্বঃ
বিদায় ভুটান — স্মৃতিতে চিরস্থায়ী ছোঁয়া
শেষ দিন সকালে পারো শহরের আকাশের দিকে তাকিয়ে আমার মনে এক অদ্ভুত শূন্যতা ভর করল। পাহাড়ের মাথায় জড়ানো সাদা মেঘ, দূরের নদীর কলকল ধ্বনি, আর চারপাশে সবুজ বন যেন নীরবে বিদায় জানাচ্ছিল আমাকে। বারান্দায় দাঁড়িয়ে মনে হচ্ছিল, এই মাটির প্রতিটি শ্বাসে শান্তি মিশে আছে, প্রতিটি দৃশ্যে অমলিন কবিতা লেখা।
সকালে হাঁটতে হাঁটতে পারোর স্থানীয় বাজারে ঢুঁ মারলাম। বাজার যেন রঙের এক উৎসব—হস্তশিল্পের থাংকা পেইন্টিং, কাঠের খোদাই করা মুখোশ, হাতে বোনা স্কার্ফ, সুগন্ধি চা আর পাহাড়ি মধু। প্রতিটি দোকানদারই আমাকে হাসিমুখে স্বাগত জানাল, যেন আমি কোনো বিদেশি নই, তাদেরই একজন। স্যুভেনির হিসেবে কিছু স্থানীয় চা, ছোট্ট কাঠের মুখোশ এবং রঙিন প্রার্থনা পতাকা কিনলাম—মনে হলো এই জিনিসগুলোই ভুটানের স্মৃতি বহন করবে আমার ঘরে।
বিদায়ের আগের সেই বিকেলটি পাহাড়ি নীরবতায় কাটালাম। হোটেলের বারান্দায় বসে এক কাপ গরম চা হাতে নিয়ে দূরে তাকিয়ে ছিলাম। পাখিদের ডাকে পাহাড় কেঁপে উঠছিল, আর নদীর স্রোত যেন আমার হৃদয়ের সাথে মিশে যাচ্ছিল।
ফ্লাইটের সময় ঘনিয়ে আসতেই মন ভারাক্রান্ত হয়ে উঠল। পারো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে পাহাড়ের দিকে শেষবারের মতো তাকালাম। মনে হচ্ছিল এই দেশ শুধু পাহাড়-নদীর নয়, বরং শান্তি, সংস্কৃতি আর মানুষের অতিথিপরায়ণতার এক অনন্য জগৎ।
বিমানের সিটে বসে জানালা দিয়ে নিচের দিকে তাকিয়ে দেখলাম, ভুটানের পাহাড়গুলো ধীরে ধীরে মেঘের আড়ালে মিলিয়ে যাচ্ছে। আমার মনে তখন একটাই কথা প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল—“ভুটান আমাকে শুধু ভ্রমণের আনন্দ দেয়নি, দিয়েছে শান্তির চিরস্থায়ী ছোঁয়া।”
#আমারভুটানভ্রমণ #BhutanTravel #ভ্রমণকাহিনী #ParoValley #ভ্রমণপ্রেমী #TravelWithZahid #ভুটানীসংস্কৃতি #PeacefulEscape #BhutanSouvenirs #MountainMemories #ভ্রমণদিনপঞ্জি #বিদায়ভুটান #মোহাম্মদজাহিদহোসেন
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।