Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

আল-হোসেন রেস্টুরেন্ট, ব্যাংকক

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
30 বার প্রদর্শিত
করেছেন (16,743 পয়েন্ট)   21 নভেম্বর 2025 "সাহিত্য(বিশ্লেষণ ধর্মী)" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

আল-হোসেন রেস্টুরেন্ট, ব্যাংককimage   

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন  

ভ্রমণকাহিনি। ২১ নভেম্বর ২০২৫  


থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে এসে সুকুমভিটের নানা প্লাজার সয়াই থ্রিতে পা রেখেছেন, অথচ আল-হোসেন রেস্টুরেন্টে একবারও বসে খাননি; এমন মানুষকে খুঁজে পাওয়া সত্যিই দুষ্কর।  


আমি নিজেও এই রেস্টুরেন্টের পুরোনো খদ্দের। বারবার এসেছি, বারবার খেয়েছি। প্রতিবারই দেখেছি, বাংলাদেশ থেকে আসা মানুষের ঢল। কেউ চিকিৎসা করাতে এসেছেন বামরুণগ্রাদ হাসপাতালে, কেউ বেড়াতে, কেউ ব্যবসা করতে; শেষমেশ সবাই এসে ঠেকেন এখানে।  


এবারেও রেস্টুরেন্টটা যেন ছোট্ট বাংলাদেশ। হঠাৎ বাইরের টেবিলে চোখ পড়তে দেরি হলো না, আমার খুব চেনা একটা মুখ বসে আছে। ছোটবেলার পাড়ার ভাই, রাসেল। অনেক বছর আগে সপরিবারে থাইল্যান্ডে চলে গিয়েছিল। এখন দুটো ছেলেমেয়ে নিয়ে ব্যাংককেই সেটেল।  


আমি দূর থেকে হাত নাড়তেই ও চিনতে পেরে উঠে দাঁড়াল। “জাহিদ ভাই?!” চিৎকার করে ছুটে এল। জড়িয়ে ধরল এমনভাবে যে পাশের টেবিলের লোকজনও হেসে ফেলল। ওর ছোট মেয়ে, বছর আটেক হবে, লজ্জা পেয়ে বাবার পেছনে লুকাল, কিন্তু চোখ দুটো কৌতূহলে ঝকঝক করছে।  


“ভাই, আপনি কবে এলেন? কতদিন থাকবেন? কোথায় উঠেছেন?” প্রশ্নের বন্যা। আমিও ওদের খবর নিলাম। জানলাম, ও এখন সুকুমভিটেই একটা ছোট্ট বিজনেস করে। ছেলে থাই স্কুলে পড়ে, মেয়ে বাংলা-ইংরেজি-থাই তিন ভাষায় কথা বলে। ওর বউ থাই মেয়ে, কিন্তু বাংলা বোঝে, একটু একটু বলতেও পারে। “আঙ্কল আসছেন?” বলে মেয়েটা আমাকে হাত ধরে টানল।  


পাঁচ মিনিটের মধ্যেই আমরা দুই টেবিল জুড়ে বসে পড়লাম। রাসেল বলল, “ভাই, আজ আমার ট্রিট। আপনি শুধু খান।” আমি হাসতে হাসতে বললাম, “তোর বয়স হয়েছে আমার ট্রিট খাওয়ার?” শেষে দুজনেই হাসতে হাসতে হেরে গেলাম।  


ওর মেয়ে আমার প্লেট থেকে আলু ভর্তা চুরি করে খেতে খেতে বলল, “আঙ্কল, বাংলাদেশে কি সবাই এত ঝাল খায়?” আমি হেসে ওর নাক টিপে দিলাম। রাসেল বলল, “দেশে গেলে ওর মা ওকে ঝাল খেতে দেয় না, এখানে এসে বাংলাদেশি হয়ে যায়।”  


সেই পনেরো-কুড়ি মিনিটের আড্ডা যেন বছর দশেক পেছনে টেনে নিয়ে গেল। বিদেশের মাটিতে হঠাৎ পুরোনো পাড়ার ভাইয়ের সঙ্গে দেখা হলে বুকের ভেতরটা কেমন যেন ভরে যায়। মনে হয়, আমরা যত দূরেই যাই, একটা অদৃশ্য সুতোয় সবাই বাঁধা আছি।  


বিদায়ের সময় রাসেল বলল, “ভাই, পরশু আবার আসবেন। বাসায় নিয়ে যাব।” আমি শুধু মাথা নাড়লাম। চোখ দুটো একটু ভিজে গিয়েছিল বলে মুখ ফিরিয়ে নিলাম।  


টেবিলে বসতেই চারদিকে বাংলা কথার ফুলঝুরি। পাশের টেবিলে গুলশান-বনানীর এক পরিবার। সবার গালগোপ্পা নাদুসনুদুস, হাসিঠাট্টায় মুখর। বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশি মেয়েরা যেন আরেকটু বেশি খোলামেলা হয়ে যান, যা ইচ্ছা পরেন, যেমন ইচ্ছা হাসেন। দেখে মনে মনে হাসি।  


রেস্টুরেন্টের মালিক একজন বাংলাদেশি ভাই, বয়স পঞ্চাশের কোঠায়। স্ত্রী থাই। ছেলে থাই সেনাবাহিনীতে চাকরি করে। আগে নিজে এখানে কর্মচারী ছিলেন, পরে পুরো ব্যবসা কিনে নিয়েছেন। এখনো দেখি কাউন্টারে দাঁড়িয়ে নিজের হাতে হিসাব করছেন, গ্রাহকদের সঙ্গে হেসে কথা বলছেন।  


তিনি মধ্যপ্রাচ্যের আরবি খাবারের পাশাপাশি বাঙালির জিভের স্বাদকে এত যত্নে ধরে রেখেছেন যে, মনে হয় দেশেই বসে আছি। ওয়েটাররা বহুভাষী। বাংলাদেশি মুখ দেখলেই বাংলায় এসে বলে, “কী খাবেন ভাই?” বিদেশে মাতৃভাষা শুনে বুকটা যেন ঠান্ডা হয়ে যায়।  


বসতেই প্রথমে আসে পানি, তারপর সালাদ আর সেই বিখ্যাত লাল ঝাল চাটনি; এক চামচ মুখে দিলেই লালা ঝরে! আমরা মেনু দেখিনি, মুখে মুখেই অর্ডার। আলু ভর্তা ছাড়া কি চলে? আল-হোসেনের আলু ভর্তা এখন লিজেন্ড।  


আমার বিশেষ পছন্দ টমেটো পেস্টে তাজা তেলাপিয়া ভুনা। রান্না হতে প্রায় আধ ঘণ্টা লাগে, কিন্তু অপেক্ষার প্রতিটি মিনিট মূল্যবান। মাছের টুকরো মুখে দিতেই চোখ বুজে আসে; যেন মায়ের হাতের রান্না।  


ওয়েটার ভাইয়েরা অসাধারণ। একজন বললেন, “ভাই, তেলাপিয়াটা অনেক বড়, দুজনে একটা খেয়েও শেষ করতে পারবেন না।” আরেকদিন রাতে রুটি-সবজি খেতে গিয়ে শুনি, “এক বাটি সবজিতেই হয়ে যাবে, মুগডাল বাদ দেন।” সত্যি কথা; আমরা খেতে খেতে হেরে গিয়েছিলাম!  


বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশিদের এত সাফল্য দেখলে বুক ভরে যায়। মনে হয়, একদিন হয়তো পৃথিবীর সব রেস্টুরেন্টের সাইনবোর্ডে বাংলা নামই জ্বলবে। সেই স্বপ্ন এখানে বসে একটু একটু করে সত্যি হতে দেখি।  


যারা ব্যাংকক আসবেন, সয়াই থ্রির সেই ছোট্ট গলিতে একবার ঢুকে পড়বেনই। সন্ধ্যা নামলেই জায়গা পাওয়া দায়। কিন্তু একবার বসলে আর উঠতে ইচ্ছে করবে না। কারণ এখানে শুধু খাবার নয়, এক টুকরো বাংলাদেশ পরিবেশন করা হয় প্লেট ভর্তি করে।  


#আলহোসেন_রেস্টুরেন্ট #ব্যাংকক_ডায়েরি #বাংলাদেশি_স্বাদ_বিদেশে #সয়াইথ্রি #বাঙালির_ঠিকানা #থাইল্যান্ড_ভ্রমণ #মোহাম্মদজাহিদহোসেন #বাংলা_খাবার_ব্যাংকক #হালাল_ফুড #প্রবাসী_জীবন #বাংলাদেশি_প্রবাসী

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 6 মাস 3 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 830 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 16743। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
"নিজস্ব আইডিয়া"
Enolej ID(eID): 1508
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


আমরা মূলত আশির দশকের শেষভাগ থেকে নব্বইয়ের দশকে বড় হওয়া এক মধ্যবর্তী প্রজন্ম। যাদের শৈশব কেটেছে এনালগ সময়ে, আর যৌবনের দরজায় দাঁড়িয়েই হঠাৎ ঢুকে পড়েছে ডিজিটাল পৃথিবী। পুরোনো দিনের হাত ধরেই আ�[...] বিস্তারিত পড়ুন...
28 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
সরি বলতে জানতে হবে মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী। ডিসেম্বর ২৬,২০২৫ যারা “স&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
29 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
এক দেশের দুই চেহারা মোহাম্মাদ জাহিদ হোসেন   বিশ্লেষণধর্মী | ডিসেম্বর ২৬, ২০২৫ একট&#[...] বিস্তারিত পড়ুন...
30 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
শুভ বড়দিন ২০২৫   মোহাম্মাদ জাহিদ হোসেন   প্রবন্ধ।  ডিসেম্বর ২৫, ২০২৫   ডিসেম্ব[...] বিস্তারিত পড়ুন...
35 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
বড়দিনের অপ্রকাশিত রাখালদের গল্প মোহাম্মাদ জাহিদ হোসেন   প্রবন্ধ | ডিসেম্বর ২৪, ২[...] বিস্তারিত পড়ুন...
40 বার প্রদর্শিত 1 প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    973 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    48 টি আইডিয়া ব্লগ

  2. প্রিন্স ফ্রেরাসে

    127 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    6 টি আইডিয়া ব্লগ

  3. আল-মামুন রেজা

    84 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    4 টি আইডিয়া ব্লগ

  4. Fatematuj Johora

    43 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    2 টি আইডিয়া ব্লগ

...