প্রথম পর্ব: স্বপ্নের যাত্রা — ঢাকা থেকে কাঠমাণ্ডু
আমার নেপাল ভ্রমণের প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল প্রায় দুই মাস আগে। ঢাকা থেকে কাঠমাণ্ডু পর্যন্ত বিমান টিকিট বুকিং, ভিসা প্রক্রিয়া, ট্রাভেল গাইড খোঁজা এবং ট্রেকিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহ—সব মিলিয়ে প্রস্তুতিটা ছিল এক উত্তেজনাপূর্ণ অভিজ্ঞতা।
ঢাকা বিমানবন্দর — যাত্রার সূচনা
যাত্রার দিন সকালে আমি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাই। বিশাল অভ্যর্থনা হল, উজ্জ্বল আলো, বিভিন্ন দেশের মানুষের কোলাহল—সবকিছু মিলে মনে হচ্ছিল যেন কোনো উৎসবের প্রাঙ্গণ। নিরাপত্তা চেক, ভিসা যাচাই এবং ব্যাগেজ স্ক্যান শেষ করে আমি অপেক্ষার গেটের দিকে এগোলাম।
ঢাকা বিমানবন্দর এখন আন্তর্জাতিক মানের নানা সুবিধা প্রদান করে—বিশাল লাউঞ্জ, ফাস্ট ফুড শপ, বই ও গ্যাজেটের দোকান। অপেক্ষার সময় আমি একটি কফি শপে বসে কফি ও নাস্তা উপভোগ করলাম। আশেপাশের যাত্রীদের মধ্যে অনেকেই নেপাল ভ্রমণকারী, যারা গাইডবুক হাতে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
যাত্রার সময়কাল
ঢাকা থেকে কাঠমাণ্ডু সরাসরি ফ্লাইটের সময়কাল প্রায় ২ ঘণ্টা ১৫ মিনিট। সকাল ৯টার দিকে আমরা ঢাকা বিমানবন্দর ত্যাগ করি এবং সকাল ১১টা ১৫ মিনিট নাগাদ কাঠমাণ্ডুতে পৌঁছাই। জানালা দিয়ে নিচের দৃশ্যগুলো দেখে মনে হচ্ছিল—মেঘের ভেলায় ভেসে চলেছি, আর নিচে ছোট ছোট গ্রাম, নদী আর সবুজ পাহাড় যেন চোখে মিষ্টি এক স্বপ্ন এঁকে দিচ্ছে।
বিমানের খাবার
ফ্লাইটে সাধারণত হালকা নাশতা বা স্ন্যাকস পরিবেশন করা হয়। আমার ফ্লাইটে পরিবেশন করা হয়েছিল,
চিকেন বা ভেজিটেবল স্যান্ডউইচ
মিষ্টি কেক
একটি ছোট প্যাকেট বিস্কুট
ফলের টুকরো
বোতলজাত পানি বা কমলার রস
কেবিন ক্রুরা বিনীত হাসি দিয়ে খাবার পরিবেশন করছিল। সেই মুহূর্তে মনে হচ্ছিল—এটা শুধু খাবার নয়, বরং আমার স্বপ্নযাত্রার প্রথম স্বাদ।
কাঠমাণ্ডু বিমানবন্দর — নতুন জগতে প্রবেশ
বিমান অবতরণের পর কাঠমাণ্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবেশ করলাম। ছোট হলেও প্রাণবন্ত এই বিমানবন্দর আমাকে নতুন দেশের স্বাগত জানাল—শীতল পাহাড়ি বাতাস, কাঠের নকশা, আর নেপালি সঙ্গীত। বাইরে বের হয়ে শহরের রঙিন, জীবন্ত দৃশ্য চোখে পড়ল—যেন বলছে, “তুমি এখন এক স্বপ্নের দেশে এসে পৌঁছেছ।”
হোটেলে ওঠা — Hotel Yak & Yeti
বিমানবন্দর থেকে বের হয়ে আমি রওনা দিলাম থামেল এলাকার চারতারা মানের অভিজাত হোটেল “Hotel Yak & Yeti”-তে।
হোটেলের পরিবেশ
শহরের ব্যস্ততম এলাকায় অবস্থিত হলেও হোটেলটি এক শান্ত ও আরামদায়ক অভিজ্ঞতা দেয়। প্রবেশদ্বারে বড় গেট, দৃষ্টিনন্দন লবি আর নেপালি শিল্পকর্ম—সব মিলিয়ে মনে হলো, এটি শুধু হোটেল নয়, এক ধরনের সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা। রিসেপশনে নেপালি কারুকাজ ও পাহাড়ের ছবি প্রথম মুহূর্তেই উষ্ণতা এনে দিল।
রুমের বর্ণনা
আমার রুমটি ছিল তৃতীয় তলায়। বড় জানালা দিয়ে শহরের কোলাহল আর দূরের পাহাড় দেখা যাচ্ছিল। রুমে ছিল,
আরামদায়ক কিং-সাইজ বিছানা
ওয়াই-ফাই সুবিধা
টিভি
একটি ছোট বারান্দা
সুন্দরভাবে সাজানো বাথরুম, যেখানে ছিল গরম পানির ব্যবস্থা ও নেপালি সাবান
রুমে বসে জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে শহরের কোলাহল, মানুষের চলাফেরা আর দোকানের আলো দেখছিলাম। হাতে এক কাপ গরম চা, মনে হচ্ছিল—এখন থেকে আমার নেপাল ভ্রমণ সত্যিকারের শুরু হলো।...........(চলবে)
#NepalTravel #KathmanduDiaries #FirstDayJourney #AirportVibes #TravelNepal #TravelStory #AdventureAwaits #WindowSeatView #FlyingHigh #CloudsAndMountains
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।