Enolej Idea-তে লেখা প্রকাশের নিয়ম জানতে পূর্ণ নির্দেশনা দেখুন...
ই-নলেজ আইডিয়া হলো এমন একটি চিন্তানির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষ শুধু তথ্য নয়, চিন্তা শেয়ার করে। এখানে জ্ঞানীরা একত্র হন, নতুনরা পথ খুঁজে পান, এবং সবাই মিলে তৈরি হয় একটি জ্ঞানভিত্তিক উম্মাহ। এটি জ্ঞানচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোর একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখা, ভাবা ও শেখা—সবই হয় মুক্তভাবে।আজই যোগ দিন!নিবন্ধন করতে এখানে ক্লিক করুন...।

-: ই-নলেজ আইডিয়া :-

আপনার লেখার কপিরাইট সুরক্ষা, স্বীকৃতি এবং ফ্রী প্রমোশন, সব এক প্ল্যাটফর্মে!

লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম আপনার লেখার অভিজ্ঞতাই বদলে দিবে। (পড়ুন...)

যদি আপনি হন পাঠক, কিংবা লেখক হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন:

যদি আপনার লেখাগুলোর কপিরাইট সুরক্ষা, সুশৃঙ্খলতা, আপনার ভেরিফাইড লেখক পোর্টফলিও এবং লেখক-পাঠকের কেন্দ্রীয় কমিউনিটিতে যুক্ত হতে চান, তাহলে নিবন্ধন করুন লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম “ই-নলেজ আইডিয়া” -এ!

এখানে অনেক প্রতিভাবান লেখক বিভিন্ন সিরিজে লিখছেন। আপনিও চাইলে আপনার লেখাগুলো সিরিজ আকারে সাজাতে পারবেন।

আপনার লেখক প্রোফাইল হবে একদম জীবন্ত পোর্টফলিও, এক ধরনের জীবন্ত বই। এখানে শুধু লেখক নয়, থাকবে পাঠকেরও সংস্পর্শ। ব্যাজ, পয়েন্ট, স্বীকৃতি এবং কপিরাইট সুরক্ষা তো থাকছেই, লেখাগুলো স্ক্যান করলেই আপনার নাম ভেসে উঠবে।

এটি তাই লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক....

পূর্ণ নির্দেশনা [Full Guideline]

ই-নলেজ আইডিয়া – লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম!

হারিয়ে যাওয়া গ্রামের গল্প শেষ পল্লীগানের আসর

0 পছন্দ 0 অপছন্দ
2 বার প্রদর্শিত
করেছেন (24,116 পয়েন্ট)   5 ঘন্টা পূর্বে "সাহিত্য(বিশ্লেষণ ধর্মী)" বিভাগে লেখা প্রকাশিত
পোষ্ট আইডি(eID) কার্ড↓ - লেখনীর স্বত্ব ও গুণের পরিচয়!

হারিয়ে যাওয়া গ্রামের গল্পimage

শেষ পল্লীগানের আসর

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

বিশ্লেষণধর্মী | ০২ আগষ্ট,  ২০২৬


একটা সময় ছিল, গ্রামের রাত মানেই ছিল পল্লীগানের আসর। কারও বাড়ির বড় উঠোনে, কখনো বটগাছের ছায়ায়, সন্ধ্যা নামলেই মানুষ জড়ো হতে শুরু করত। একজন হারমোনিয়াম নিয়ে বসেছেন, পাশে দোতারা। খবর ছড়িয়ে পড়তেই একে একে সবাই চলে আসত। কেউ মাদুর হাতে, কেউ পিঁড়ি নিয়ে, কেউ আবার দাঁড়িয়েই শুনবে বলে ভিড়ের পাশে জায়গা করে নিত।


রাত যত গভীর হতো, আসর তত জমে উঠত। গানের ফাঁকে গল্প, হাসি, খুনসুটি—সব মিলিয়ে এমন এক পরিবেশ তৈরি হতো, যেন পুরো গ্রাম এক উঠোনে এসে বসেছে। তখন গান শুধু শোনার বিষয় ছিল না, মানুষে মানুষে সম্পর্ক গড়ে তোলারও এক সহজ উপলক্ষ ছিল।


পল্লীগানের ভেতরেই ছিল গ্রামের জীবন। মাঠের কথা ছিল, নদীর কথা ছিল, প্রেম ছিল, বিচ্ছেদ ছিল, অভাব ছিল, আশা ছিল। যারা শুনত, তারা অন্যের কণ্ঠে নিজের জীবনেরই প্রতিধ্বনি খুঁজে পেত। তাই রাত কেটে ভোর হয়ে গেলেও কারও বিরক্তি আসত না।


আজ গ্রামে মাইক আছে, বড় বড় সাউন্ড বক্স আছে, আলো ঝলমলে অনুষ্ঠানও হয়। কিন্তু সেই পল্লীগানের আসর আর তেমন চোখে পড়ে না। আগে সন্ধ্যা নামলে মানুষ উঠোনে বেরিয়ে আসত, এখন বেশির ভাগ মানুষ ঘরে বসেই মোবাইলের পর্দায় ডুবে থাকে। কেউ ভিডিও দেখে, কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সময় কাটায়। একই বাড়িতে থেকেও একসঙ্গে বসে গল্প করার অভ্যাস যেন ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে।


তবে এর জন্য শুধু প্রযুক্তিকে দোষ দিলে বাস্তবতাকে অস্বীকার করা হবে। সময় বদলেছে, মানুষের জীবনযাত্রা বদলেছে, বিনোদনের ধরনও বদলেছে। নতুন প্রজন্ম নতুন গান শুনবে, নতুন মাধ্যম বেছে নেবে—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু নতুনকে গ্রহণ করতে গিয়ে যদি নিজের শিকড়কেই ভুলে যাই, তখনই উদ্বেগের কারণ তৈরি হয়। কারণ পল্লীগান শুধু একটি গানের ধারা নয়; এটি আমাদের লোকজ সংস্কৃতি, আমাদের ইতিহাস এবং আমাদের পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।


আমাদের গ্রামেও এমন কয়েকজন মানুষ ছিলেন, যাঁদের গানের আসর বসবে শুনলেই আলাদা করে কাউকে ডাকতে হতো না। মানুষ নিজে থেকেই চলে আসত। তাঁদের হয়তো প্রাতিষ্ঠানিক সঙ্গীতশিক্ষা ছিল না, কিন্তু কণ্ঠে ছিল এক অদ্ভুত টান। তাঁরা গান শুরু করলে কখন রাত পেরিয়ে ভোর হয়ে যেত, কেউ টেরই পেত না।


আজ তাঁদের অনেকেই আর বেঁচে নেই। তাঁদের সঙ্গে হারিয়ে গেছে অসংখ্য গানও। কারণ সেই গানগুলোর অনেকই কখনো লিখে রাখা হয়নি। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সেগুলো শুধু মানুষের মুখে মুখেই বেঁচে ছিল। মানুষ হারিয়েছে, আর তার সঙ্গে হারিয়ে গেছে স্মৃতির এক অমূল্য ভাণ্ডার।


তবু আশার কথা আছে। এখনো দেশের অনেক গ্রামে পল্লীগানের আসর বসে। অনেক তরুণ পুরোনো গান সংগ্রহ করছেন, মোবাইলে রেকর্ড করে সংরক্ষণ করছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এই ছোট ছোট উদ্যোগই প্রমাণ করে, লোকসংস্কৃতির প্রতি মানুষের ভালোবাসা এখনো পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি।


প্রশ্ন হলো, আমরা কী করতে পারি?


প্রথমত, গ্রামের মেলা, নবান্ন উৎসব কিংবা ঈদের পরের দিনের আয়োজনে অন্তত এক ঘণ্টার জন্য হলেও পল্লীগানের একটি আসর রাখা যেতে পারে। আধুনিক গানের পাশাপাশি লোকগানেরও একটি সম্মানজনক স্থান থাকা দরকার।


দ্বিতীয়ত, নতুন প্রজন্মকে এই গানের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে। শুধু বই পড়ে লোকসংস্কৃতিকে জানা যায় না। প্রবীণ শিল্পীদের স্কুল বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়ে তাঁদের গান ও অভিজ্ঞতা শোনানোর ব্যবস্থা করা গেলে শিশু-কিশোরেরা নিজেদের সাংস্কৃতিক শিকড়কে নতুনভাবে চিনতে শিখবে।


তৃতীয়ত, এখনো মানুষের মুখে মুখে যে গানগুলো টিকে আছে, সেগুলো যত দ্রুত সম্ভব সংরক্ষণ করতে হবে। খাতায় লিখে রাখা, মোবাইলে রেকর্ড করা কিংবা ভিডিও ধারণ—যেকোনো উপায়েই হোক, এই সম্পদ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রেখে যেতে হবে।


শেষ পর্যন্ত বিষয়টি শুধু গানের নয়; বিষয়টি মানুষের। একটি সমাজ তখনই প্রাণবন্ত থাকে, যখন তার মানুষ একসঙ্গে বসে, গল্প করে, গান শোনে এবং একে অন্যের কথা মন দিয়ে শোনার সময় বের করে। পল্লীগানের আসর সেই মিলনমেলারই একটি সুন্দর নাম।


আজও কোথাও হঠাৎ হারমোনিয়ামের সুর ভেসে এলে পা থেমে যায়। মনে হয়, যদি আর একবার গ্রামের সেই উঠোনে এমন একটি আসর বসত! এক পাশে প্রবীণেরা নীরবে শুনছেন, অন্য পাশে শিশুরা দৌড়ে বেড়াচ্ছে, আর সন্ধ্যার নরম অন্ধকার ভেদ করে ভেসে আসছে দোতারার সুর। তখন হয়তো আবার মনে হবে, গান কখনো হারিয়ে যায় না। হারিয়ে যায় আমাদের অভ্যাস, আমাদের সময়, আমাদের একসঙ্গে থাকার ইচ্ছেটুকু।

আমি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, ই-নলেজ এর একজন যাচাইকৃত লেখক। আমি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত আছি প্রায় 10 মাস 1 সপ্তাহ ধরে, এবং এ পর্যন্ত 1194 টি লেখা ও 0 টি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছি। আমার অর্জিত মোট পয়েন্ট 24116। ই-নলেজ আমার চিন্তা, জ্ঞান ও কণ্ঠকে সবার মাঝে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে।
সংযুক্ত তথ্য
নিজস্ব আইডিয়া, ই-নলেজ আইডিয়া এ প্রথম প্রকাশিত
Enolej ID(eID): 4546
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।

এই লেখকের অন্যান্য সিরিজ


বিজ্ঞাপন: Remembering...

Image

এই ব্লগটির প্রতিক্রিয়া দিতে দয়া করে প্রবেশ কিংবা নিবন্ধন করুন ।

সংশ্লিষ্ট ব্লগগুচ্ছ


image
উপন্যাসঃ-ছইয়ের নিচে জীবন গল্প-৬-হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ২৬ জù[...] বিস্তারিত পড়ুন...
2 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
নিশি উপাখ্যান সিরিজ   গল্প-৫   হারিয়ে যাওয়া আমি   মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন   ২৯, জু[...] বিস্তারিত পড়ুন...
23 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
হারিয়ে যাওয়া গ্রামের গল্প গ্রামের উৎসবের বদলে যাওয়া দিন মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন [...] বিস্তারিত পড়ুন...
1 বার দর্শন 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
হারিয়ে যাওয়া গ্রামের গল্প গ্রামের হাটের বদলে যাওয়া রূপ মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ব[...] বিস্তারিত পড়ুন...
3 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ

image
গল্প লিখতে গিয়ে যা হারিয়ে ফেলি মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বিশ্লেষণধর্মী | ১৩ মার্চ ২০২[...] বিস্তারিত পড়ুন...
437 বার প্রদর্শিত 0 টি প্রতিক্রিয়া
0 পছন্দ 0 অপছন্দ
📢 Notice Board
No active notices
ই-নলেজ আইডিয়া(Enolej Idea) হলো লেখালেখির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে যেকোনো ধরনের লেখা—সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা নোট, মতামত, প্রতিবাদী লেখা, ধর্মীয় চিন্তা, ব্যক্তিগত নোট বা দৈনন্দিন ভাবনা—নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়। এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে থাকা অগোছালো কনটেন্টকে একটি ভেরিফাইড, রেফারেন্সযোগ্য ডিজিটাল পোর্টফোলিওতে রূপান্তর করে, যা ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচিতি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলে। প্রতিটি লেখার জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডি (eID) ও কপিরাইট সুরক্ষা প্রদান করা হয়, ফলে লেখা চুরি হলেও আসল লেখক সহজে শনাক্তযোগ্য থাকে। ধারাবাহিক কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো, এক ক্লিকেই ই-বুক বা বইয়ের খসড়ায় রূপান্তর, ব্যক্তিগত খসড়া গোপন রাখা এবং একটি সক্রিয় কমিউনিটির মাধ্যমে পাঠকের সাথে সরাসরি সংযোগ—সব সুবিধাই এখানে একসাথে পাওয়া যায়। ই-নলেজ আইডিয়া মূলত ব্যক্তির চিন্তা ও জ্ঞানকে একটি স্থায়ী, সুরক্ষিত ও সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত ডিজিটাল লেখক ইকোসিস্টেমে রূপ দেয়। IDEA = Independent Digital Expression & Authorship.
  1. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন

    282 পয়েন্ট

    0 টি প্রতিক্রিয়া

    0 মন্তব্য

    14 টি আইডিয়া ব্লগ

...