রহস্যময় রিহলাহ
বৃহস্পতির জীবন পাঠ।
— রফিক আতা —
১.
সারাটা কক্ষ জুড়ে পাক খাচ্ছে নিঃশব্দ রাত। শাঁ শাঁ শব্দে নিস্তব্ধতা ভঙ্গ করে রাতের আইন লঙ্ঘন করছে কয়েকটি পাখা। মধ্যরাতে এসেও মনে হচ্ছে মধ্যদুপুর—যেখানে পুড়ে পুড়ে ভস্ম হয়ে যায় গ্রীষ্মের রঙ।
আমি এক হতভাগা নিশাচর—সিলিং ফ্যান থেকে দশ ফুট দূরত্বে শুয়ে গরমের তীব্রতায় কাতরাচ্ছি এক দীর্ঘ রাত জুড়ে। অথচ এদিকে সালমানটা স্ব-শব্দে নাক ডেকে ঘুমাচ্ছে। মশাদের দুর্বোধ্য মিছিল পর্যন্ত তার ঘুমে বিন্দুমাত্র ব্যাঘাত ঘটাতে পারছে না।
আমার পাশের সীটে আফনান নেই। তবে আজ তার না-থাকাটা আমার কাছে আর তেমন কৌতূহল বা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। কারণ, গত দুই বছর ধরে বৃহস্পতি এলেই আফনানের অনুপস্থিতি আমাকে দেখতে হয়। প্রথম প্রথম অবাক হতাম। প্রত্যেক বৃহস্পতির গভীর রাত পর্যন্ত সে উধাও থাকতো।
কেন? কোথায়? কিভাবে?
একরাশ কৌতূহল জমে থাকতো বুকের ভেতর। তার বাড়ি লক্ষীপুরে, সুতরাং বাড়ি যাওয়া অসম্ভব। আবার নিকটে তার কোনো আত্মীয়ের বাসাও নেই। তাহলে সে যায় কোথায়!
মাঝে মাঝে বৃহস্পতির রাত পেরিয়ে শুক্রবারে ঢুকে পড়তো, অথচ আফনানের দেখা মিলত না। অনেকবার জিজ্ঞেস করেছি—
"কিরে বন্ধু! তুই কোথায় যাস?"
কিন্তু বৃহস্পতির রহস্য সে কোনোদিনই বলেনি।
অতঃপর আমি বুকসেলফ থেকে ডায়েরিটা নামিয়ে লিখে রাখি—আফনান! আমি জানি না, তোর বৃহস্পতির রহস্য কী। প্রতি বৃহস্পতির রাতেই তোর শূন্য সীট আমার বুকের ভেতর এক গভীর শূন্যতা জাগায়। আমি রহস্য ভেদ করার মানুষ নই। শুধু ভাবি— একদিন হয়তো তুই নিজেই বলবি, অথবা নীরব প্রকৃতি হঠাৎ এসে জানিয়ে দেবে। তখন হয়তো আমার এই দীর্ঘ কৌতূহল কিছুটা হলেও প্রশমিত হবে। কিন্তু হায়! কে জানে, প্রকৃতি তার রহস্যময় আঙুল কবে, কীভাবে আমার চোখের সামনে উন্মোচন করবে…"
এরপরও আমি ব্যর্থ ঘুমের অবিচ্ছেদ্য চেষ্টায়।
অতঃপর কল্পনায় বাতায়নের গ্রীল গলিয়ে ছুটে যাই ল্যাম্পপোস্টের কাছে। তার বিক্ষিপ্ত, বিচ্ছিন্ন, দুর্বল আলোয় খুঁজি ক্লান্তি বিমোচনের পথ। দখিনা বাতাসের মৃদু ঝাপটায় হেঁটে হেঁটে যাই কালিদাস পাহালিয়ার তীরে।
নদীর বুকসমান পানি, বহতা সুর আর কাশফুলের শুভ্র দোলায় স্পন্দনে স্পন্দনে শিহরিত হই। মনে হয় যেন পুরনো কালের শত গল্প ভেসে যাচ্ছে বহতা নদীর বুক চিরে।
হঠাৎ ভূতের অণ্ডকোষের মতো বিড়ালের দুটো চোখ দেখে কল্পনার লাগাম টেনে কক্ষে ফিরে আসি।
অতঃপর আবারো নির্ঘুম চোখে নিঃশব্দ চটপটানি।
২.
ছটপট করতে করতে এক সময় পরম ও চরম কষ্টে চক্ষুপটে এসে ভিড় জমালো এক খণ্ড নিদ্রা। তন্দ্রাচ্ছন্ন হতেই আমি মুখোমুখি হলাম এক ভয়াবহ স্বপ্নের।
দেখি—
আমি দাঁড়িয়ে আছি ফেনী শহরের ট্রাংক রোডের জেল মোড়ে। হাতে একটি কালো ব্যাগ। মনে হচ্ছে, যেন কোথাও যাচ্ছি। আচমকা লক্ষ্য করলাম একটি এক্সিডেন্ট। ভয়াবহ! হৃদয় আঁতকে ওঠার মতো!
একটি প্যাডেল রিকশা মৌলভীবাজার দিক থেকে আসছে। জেল মোড় থেকে বামে পার হচ্ছে দ্রুত, বেখেয়ালে। সিগনাল দেওয়া হয়নি। আচমকা একটি মিনি ট্রাক এসে ধাক্কা দিল—অতঃপর ছিটকে পড়ল শহরের ব্যস্ততম সড়কে।
মানুষ জড়ো হয়ে চারপাশে জটলা পাকাচ্ছে। মনে হলো, শহর তার সমস্ত ব্যস্ততা মুহূর্তের জন্য গুছিয়ে ফেলেছে। থমকে গেছে চারদিক। নিষ্প্রভ হয়ে পড়েছে গাড়ির হর্ণ, স্তব্ধ হয়েছে চলাচলের ছন্দ।
আমি বোঝার চেষ্টা করলাম, আসলে কী হয়েছে! আরে না, আলহামদুলিল্লাহ, তেমন কিছু হয়নি। সামান্য রক্ত প্রবাহিত হচ্ছে বাহু ফেটে। বাকি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অক্ষুণ্ণ। মানুষজন ধরে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছে। হয়তো সামান্য চিকিৎসা দিলেই ঠিক হয়ে যাবে।
কিন্তু আহত, বিবর্ণ, বিশীর্ণ রিকশাওয়ালার মুখে হঠাৎ চোখ পড়তেই আমি নিস্তব্ধ থেকে আতকে উঠলাম—
আরে! এ তো আফনান!..
অগ্নিসদৃশ ভয় আর অপরিমেয় আতঙ্কে বিব্রত হয়ে জেগে উঠলাম একশত বিশ মিনিটের এই দীর্ঘতম ঘুম থেকে। সমস্ত দেহ ঘামে ভিজে একাকার। চোখ কচলাতে কচলাতে পাশে তাকালাম— দেখি, আফনানটা নিষ্পাপ এক শুদ্ধতম ঘুমে বিভোর। কখন এসে শুয়ে পড়েছে, জানি না।
ফজর আদায় করে এসে ব্যালকনিতে দাঁড়ালাম। কী স্নিগ্ধ আবহ! কী অপূর্ব এক ভোর, প্রকৃতিময়। বিন্দু বিন্দু রোদ্দুর ঘাসফুলের ক্ষুদ্র পাপড়িতে লেগে আছে শিশিরের মতো। এই মুহূর্তে রাতের সেই স্বপ্নের কথা মনে উঠল।
আমি জানি, আফনানকে নিয়ে এখন আর আমার ভেতরে কোনো কৌতূহল নেই—এটা নিছক আমার মনের দাবি। অথচ বারবার যেন সেই অজানিত রহস্যের সামনে এসে জটলা পাকাচ্ছি। ভাবছি—আফনানের সঙ্গে ফেনী শহর, রিকশা, এসবের সম্পর্ক বা সংযোগ কোথায়!
স্বপ্নটি কি নিছক কাকতালীয়, নাকি…
৩.
দুই বছর পর—
দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা শেষে আমরা ছুটিতে যাই। এরই মধ্যে পার্শ্ববর্তী বন্ধুত্বে ঘাতক দেশ ভারত, ফেনীর সীমান্তে গুমতীর বাঁধ ছেড়ে দেয়। এর ফলে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ফেনীসহ বিবিধ জেলায় নেমে আসে স্বরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা। ফেনীর মতো শহর তখন গলা সমেত পানিতে নিমজ্জিত।
কয়েকদিনের মাথায় পানি নেমে গেলে আমি এবং আমার আরও দুজন সহপাঠী মাদরাসার পথে যাত্রা করি।
মধ্যরাত। ঘড়ির কাঁটা প্রায় দুইটা ছাড়িয়ে গেছে। আমরা মহিপালে এসে বাস ছেড়ে সিএনজি করে ট্রাংক রোডে নামলাম। শহরটা তখন অতলান্ত আঁধারের নিদারুণ বন্দিদশায়। বিদ্যুৎহীন শহরের গায়ে বন্যার দাগ স্পষ্ট— কোথাও ভাঙা দেওয়ালে শ্যাওলা, কোথাও প্লাস্টিকের ভেসে থাকা চিহ্ন। যেন হাজার বছরের পুরোনো কোনো পরিত্যক্ত মফস্বল নগর।
নগর যেন বিষাদের চিরকুট বয়ে বেড়াচ্ছে— ক্ষত, দাগ আর বিবর্ণতার ভাষায়। কোথাও কোনো মানুষজন নেই।
ল্যাম্পপোস্টের নিয়ন আলোয় উইপিন বৃক্ষের সরু পাতার নৃত্য। সড়কের ধারে মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে থাকা গাছ। ফুটপাতে কয়েকটি লা-ওয়ারিশ কুকুর, উচ্ছিষ্ট কোনো খাবারের সন্ধানে ঘ্রাণ নিতে নিতে হাঁটছে।
নিস্তব্ধ শহর তখন গভীর ঘুমে অচেতন। আর আমরা যেন এক মহা বিপদের মুখোমুখি— কোথাও কোনো যানবাহন নেই।
ঈষৎ দূরে হঠাৎ জালছবির মতো একটি ছায়া স্পষ্ট হয়ে উঠল— একটি রিকশা! আর একজন রিকশাওয়ালা…
৪.
— "এই খালি যাবেন?" বলতেই নিকটে এসে দাঁড়ালো সে। আমরা আর অতশত না ভেবে রিকশায় চেপে বসলাম।
সে আমাদের তিনজনকে নিয়ে জেল মোড় পেরিয়ে গলিপথে প্রবেশ করল। রাতের নিরবতা ভেদ করে এগিয়ে চলল মৌলভীবাজার রেলগেটের উদ্দেশ্যে। সহপাঠীদ্বয় আঁধারের বুকে এঁকে দিচ্ছিল শব্দ-শব্দ গল্প। আর আমি নিঃশব্দে নিবিড় হয়ে তাকিয়ে আছি অস্থির দুটি কদমের প্রতি— যার প্যাডেলে চাপ ছাপিয়ে গেছে জীবনধারণের অগণিত গল্প।
ছেলেটা আমাদের সমবয়সি। খুব শক্তিশালী নয়, অথচ আমাদের তিনজনকে নিয়েই এগিয়ে চলেছে পথ মন্থন। সত্যিই ওর বড় কষ্ট হচ্ছিল।
আমি আনমনে উদাস হয়ে ভাবনায় ডুবে যাই—
কোন সে তাড়া, যার ফলশ্রুতিতে সে আজ রিকশা হাতে? কী সেই তাগিদ আর দুর্বোধ্য তাড়না, যা তাকে পড়ার টেবিল থেকে সরিয়ে এনে দাঁড় করিয়েছে এক নির্মম বাস্তবতায়?
যেখানে পুরো শহর ঘুমিয়ে আছে— সেখানে কেন এক শীর্ণ সত্তা নির্ঘুম চোখে অসহ্য অস্থিরতায়? হাজারো প্রশ্নের মিছিল চুপি চুপি ভাবনার দিগন্তে উদয় হয়ে আবার মিলিয়ে যাচ্ছে প্রকৃতির দেওয়ালে।
তিনটি সত্তাকে কেবল একটি শীর্ণ সত্তা বয়ে নিয়ে চলেছে— আমাকে নিদারুণ ধিক্কারে জর্জরিত করে তুলছিল রিকশা আর রিকশাওয়ালার অস্থিরতা।
অতঃপর একসময় রেলগেট গিয়ে রিকশা থামল। আমরা নেমে ভাড়া দিতে গেলাম। ঠিক তখনই ঘটল এক সমাপ্তিময়, অথচ অনভিপ্রেত ঘটনা।
রিকশাচালক ভাইটা এই প্রথম মুখ খুলল— স্নিগ্ধ কণ্ঠে বলল: "ভাইয়া! আপনাদের ভাড়া দিতে হবে না। আমি রশীদিয়ার কারো কাছ থেকে ভাড়া নেই না।"
তার মুখ থেকে সদ্য নিসৃত এই কথা শুনে আমি যেন সহসাই চমকে উঠলাম। ভাড়া না নেওয়ার বিষয়টা আমাকে যতটা আশ্চর্য করল, তার চাইতে বহুগুণ বেশি চমকে দিল তার কণ্ঠস্বর।
এই সুর—এই উচ্চারণ—এই অভিব্যক্তি!
অনেক দিনের চেনাজানা একটি সুর! মনে হলো যেন মানুষটা আমার খুব আপন কেউ।
আমি তার চেহারাটাকে কণ্ঠের সঙ্গে মেলানোর নিখুঁত চেষ্টা চালাচ্ছিলাম। ভেঙে ভেঙে একটি প্রতিচ্ছবি করোটিতে আঁকলেই তা আবার মুছে যায়। শত সহস্র এলোমেলো ভাবনা তখন হৃদয়ের তটে এসে আছড়ে পড়তে লাগলো।
অর্ধ আঁধার আর অর্ধ জোছনার দোটানায় আমি তাকে চিনতেও পারছিলাম না।
ঠিক তখনই লক্ষ্য করলাম— একটি ট্রাক খুব জোরে আমাদের দিকে এগিয়ে আসছে।
হঠাৎই দুই বচ্ছর পূর্বের সেই নির্ঘুম রাতের দেখা ভয়াবহ স্বপ্নটির কথা মনে পড়ে গেল। মনে পড়ল ফেনীর ট্রাংক রোড, রিকশা, আর রক্তাক্ত এক যাত্রার ছবি। এবং মনে পড়ল আফনানের কথা ।
তবে কি!
এই চেনা সুরের মানুষটাই আফনান?
আর এ-ই কি সেই মিনি ট্রাক, যে ব্রেকফেল হয়ে ছুটে আসছে?
৫.
আমরা তিনজন দ্রুত রিকশাচালক ভাইটাকে সতর্ক করতে করতে সরে পড়লাম। কিন্তু সে রিকশার কারণে সরে উঠতে পারল না। প্রচণ্ড শব্দে ট্রাক এসে ধাক্কা দিল— এক মুহূর্তেই ছিটকে পড়ল সে। সেই সাথে এক হৃদয় জর্জরিত করা চিৎকার মিলিয়ে গেল রাতের অন্ধকারে।
আমরা দৌড়ে গিয়ে তাকে ধরলাম। আল্লাহর রহমতে তখনই কাছে একটি সিএনজি পেয়ে যাই। তাকে সদর হাসপাতালে নিয়ে ছুটলাম।
হাসপাতালে পৌঁছে আলোতে যখন মুখ দেখলাম—
পৃথিবীর সব বিস্ময় ও বিমূঢ়তা যেন একসঙ্গে ভেঙে পড়ল আমার চোখে। আরে! এ তো অন্য কেউ নয়— আমাদেরই সহপাঠী আফনান!
আমরা যেন জমাট বরফের মতো থমকে গেলাম। বাকরুদ্ধ, বিস্মিত। মনে হচ্ছিল শতাব্দী প্রাচীন এক অদৃশ্য রহস্য হঠাৎ উন্মোচিত হলো আমাদের সামনে।
ডাক্তার জানালেন, আফনান কেবল সামান্য আঘাত পেয়েছে। অল্প ট্রিটমেন্টেই সেরে উঠবে ইনশাল্লাহ! আমরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললাম, আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করলাম।
হাসপাতালের করিডোরে দাঁড়িয়ে আমি হারিয়ে গেলাম প্রাচীন স্মৃতির গহ্বরে। মনে পড়তে লাগল একে একে সবকিছু—
শীত ও গ্রীষ্ম এবং বসন্ত ও হেমন্তের অগণিত বৃহস্পতির রহসময় রাতগুলোর কথা,
আমারর পাশে ফাকা পড়ে থাকা আফনানের সীট, আর দুই বছর আগেকার সেই ডায়েরির লেখা—
"আফনান! আমি জানি না, তোর বৃহস্পতির রহস্য কী। কখনোই হয়তো আমি তার জটিল জাল ছিন্ন করতে পারব না। আমি তোর অনুপস্থিতির ফাঁকা সীটের দিকে তাকিয়ে থেকেছি বহুরাত— যেন সেটাই আমার বুকের গভীর শূন্যতা হয়ে উঠেছে। আমি লিখেছিলাম, যদি তুই একদিন নিজেই খুলে বলিস, কিংবা প্রকৃতি নিজে এসে সব বলে দেয়— তবে তোর এই নিঃশব্দ বন্ধুর কৌতূহল হয়তো কিছুটা হলেও প্রশমিত হবে। কিন্তু হায়! আমি কি জানতাম, প্রকৃতি এত নির্মম, অথচ এত রহস্যময় ভঙ্গিতে তোর রহস্য উন্মোচন করবে…!"
মনে পড়তে লাগল নায়েব হুজুরের সেই গল্প—
"তোমাদের মাঝে এখনো এমন কিছু ছাত্র আছে, যারা শহরের বুকে রিকশা চালায়। শুধু পড়াশোনার খরচ আর জীবন চালানোর তাগিদে।"
আজ বুঝলাম, সেই গল্পের নায়ক আফনানই।
তাহলে প্রতিটি বৃহস্পতিবার রাতে তার সীট ফাঁকা থাকত কেন? কেন বৃহস্পতির রহস্যময় অনুপস্থিতি? সব প্রশ্নের উত্তর যেন আজ খুঁজে পেলাম।
আফনানের চোখে তখনো হাসপাতালের আলোতে আমি দেখলাম দৃঢ়তা— যেন কষ্ট নয়, বরং গৌরব।
যেন দারিদ্র্য নয়, বরং সংগ্রামকে আলিঙ্গন।
আমি নিঃশব্দে ভাবলাম—
এই শহরের রিকশার চাকায় যে ঘাম ঝরে, সেই ঘামের ফোঁটা দিয়েই হয়তো কোনো মাদ্রাসার আলো জ্বলে ওঠে। এই মেহনতের শিক্ষাই আমাদের জন্য এক জীবন্ত পাঠ: মানুষের প্রকৃত শক্তি শুধু তার পড়াশোনায় নয়, বরং সংগ্রামের ভেতরেও লুকিয়ে আছে।
রাত গভীর হলো। হাসপাতালের করিডোরে দাঁড়িয়ে মনে হলো, আফনানের গল্প কেবল একটি সহপাঠীর নয়— বরং এক অমোঘ শিক্ষা,
যা আমাদের শেখায়—
জীবন ও জ্ঞান অর্জনের পথে ঘাম ঝরানোও এক প্রকার ইবাদত। আর আমি অনুভব করলাম—
প্রতিটি বৃহস্পতি রাত আসলে ছিল এক রহস্যের ছায়ালিপি,
যার বাখ্যা লিখে গেছে আফনানের রিকশার চাকায় ঘুর্ণায়মান সংগ্রামের ধ্বনি। তার সেই অদ্ভুত রহস্য আজও যেন বাতাসে ভেসে থাকে—
নিস্তব্ধ রাতের বুকে,
রিকশার ঘণ্টার শব্দে,
আর আমাদের ভেতরকার অমোচনীয় বিস্ময়ে।
(বি:দ্র: সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত)
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।