২.
ছটপট করতে করতে এক সময় পরম ও চরম কষ্টে চক্ষুপটে এসে ভিড় জমালো এক খণ্ড নিদ্রা। তন্দ্রাচ্ছন্ন হতেই আমি মুখোমুখি হলাম এক ভয়াবহ স্বপ্নের।
দেখি—
আমি দাঁড়িয়ে আছি ফেনী শহরের ট্রাংক রোডের জেল মোড়ে। হাতে একটি কালো ব্যাগ। মনে হচ্ছে, যেন কোথাও যাচ্ছি। আচমকা লক্ষ্য করলাম একটি এক্সিডেন্ট। ভয়াবহ! হৃদয় আঁতকে ওঠার মতো!
একটি প্যাডেল রিকশা মৌলভীবাজার দিক থেকে আসছে। জেল মোড় থেকে বামে পার হচ্ছে দ্রুত, বেখেয়ালে। সিগনাল দেওয়া হয়নি। আচমকা একটি মিনি ট্রাক এসে ধাক্কা দিল—অতঃপর ছিটকে পড়ল শহরের ব্যস্ততম সড়কে।
মানুষ জড়ো হয়ে চারপাশে জটলা পাকাচ্ছে। মনে হলো, শহর তার সমস্ত ব্যস্ততা মুহূর্তের জন্য গুছিয়ে ফেলেছে। থমকে গেছে চারদিক। নিষ্প্রভ হয়ে পড়েছে গাড়ির হর্ণ, স্তব্ধ হয়েছে চলাচলের ছন্দ।
আমি বোঝার চেষ্টা করলাম, আসলে কী হয়েছে! আরে না, আলহামদুলিল্লাহ, তেমন কিছু হয়নি। সামান্য রক্ত প্রবাহিত হচ্ছে বাহু ফেটে। বাকি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অক্ষুণ্ণ। মানুষজন ধরে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছে। হয়তো সামান্য চিকিৎসা দিলেই ঠিক হয়ে যাবে।
কিন্তু আহত, বিবর্ণ, বিশীর্ণ রিকশাওয়ালার মুখে হঠাৎ চোখ পড়তেই আমি নিস্তব্ধ থেকে আতকে উঠলাম—
আরে! এ তো আফনান!..
অগ্নিসদৃশ ভয় আর অপরিমেয় আতঙ্কে বিব্রত হয়ে জেগে উঠলাম একশত বিশ মিনিটের এই দীর্ঘতম ঘুম থেকে। সমস্ত দেহ ঘামে ভিজে একাকার। চোখ কচলাতে কচলাতে পাশে তাকালাম— দেখি, আফনানটা নিষ্পাপ এক শুদ্ধতম ঘুমে বিভোর। কখন এসে শুয়ে পড়েছে, জানি না।
ফজর আদায় করে এসে ব্যালকনিতে দাঁড়ালাম। কী স্নিগ্ধ আবহ! কী অপূর্ব এক ভোর, প্রকৃতিময়। বিন্দু বিন্দু রোদ্দুর ঘাসফুলের ক্ষুদ্র পাপড়িতে লেগে আছে শিশিরের মতো। এই মুহূর্তে রাতের সেই স্বপ্নের কথা মনে উঠল।
আমি জানি, আফনানকে নিয়ে এখন আর আমার ভেতরে কোনো কৌতূহল নেই—এটা নিছক আমার মনের দাবি। অথচ বারবার যেন সেই অজানিত রহস্যের সামনে এসে জটলা পাকাচ্ছি। ভাবছি—আফনানের সঙ্গে ফেনী শহর, রিকশা, এসবের সম্পর্ক বা সংযোগ কোথায়!
স্বপ্নটি কি নিছক কাকতালীয়, নাকি…
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।