৩.
দুই বছর পর—
দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা শেষে আমরা ছুটিতে যাই। এরই মধ্যে পার্শ্ববর্তী বন্ধুত্বে ঘাতক দেশ ভারত, ফেনীর সীমান্তে গুমতীর বাঁধ ছেড়ে দেয়। এর ফলে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ফেনীসহ বিবিধ জেলায় নেমে আসে স্বরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা। ফেনীর মতো শহর তখন গলা সমেত পানিতে নিমজ্জিত।
কয়েকদিনের মাথায় পানি নেমে গেলে আমি এবং আমার আরও দুজন সহপাঠী মাদরাসার পথে যাত্রা করি।
মধ্যরাত। ঘড়ির কাঁটা প্রায় দুইটা ছাড়িয়ে গেছে। আমরা মহিপালে এসে বাস ছেড়ে সিএনজি করে ট্রাংক রোডে নামলাম। শহরটা তখন অতলান্ত আঁধারের নিদারুণ বন্দিদশায়। বিদ্যুৎহীন শহরের গায়ে বন্যার দাগ স্পষ্ট— কোথাও ভাঙা দেওয়ালে শ্যাওলা, কোথাও প্লাস্টিকের ভেসে থাকা চিহ্ন। যেন হাজার বছরের পুরোনো কোনো পরিত্যক্ত মফস্বল নগর।
নগর যেন বিষাদের চিরকুট বয়ে বেড়াচ্ছে— ক্ষত, দাগ আর বিবর্ণতার ভাষায়। কোথাও কোনো মানুষজন নেই।
ল্যাম্পপোস্টের নিয়ন আলোয় উইপিন বৃক্ষের সরু পাতার নৃত্য। সড়কের ধারে মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে থাকা গাছ। ফুটপাতে কয়েকটি লা-ওয়ারিশ কুকুর, উচ্ছিষ্ট কোনো খাবারের সন্ধানে ঘ্রাণ নিতে নিতে হাঁটছে।
নিস্তব্ধ শহর তখন গভীর ঘুমে অচেতন। আর আমরা যেন এক মহা বিপদের মুখোমুখি— কোথাও কোনো যানবাহন নেই।
ঈষৎ দূরে হঠাৎ জালছবির মতো একটি ছায়া স্পষ্ট হয়ে উঠল— একটি রিকশা! আর একজন রিকশাওয়ালা…
#চলবে#..
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।