ডায়েরির ধূসর পাতায় আঁকা গল্প
—রফিক আতা—
ধূসর-কালো চামড়ার মলাটে বাঁধা এক পুরোনো খাতা। পাতাগুলো খসখসে, খরখরে, হলুদে ঢেকে গেছে সময়ের সাক্ষ্যে। সেই মলাটবদ্ধ নিঃশব্দে বেঁচে থাকা খাতাটিতে আমি মাঝে মাঝে কিছু লিখি—তবে সেগুলো একান্ত ব্যক্তিগত নয়, বরং স্মৃতিচারণ, অনুলেখন, হযরতের কথা, নায়েব সাহেব হুজুরের কথা, মেহমানদের বলা কিছু হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া মুহূর্তের কথা।
আজ হঠাৎ একটি পাতা উল্টাতে গিয়ে চোখে ভেসে উঠল এক অস্পষ্ট হাতের লেখা—
একটি অনুলিখিত বাণী, যা পড়তেই অজান্তেই লোম খাড়া হয়ে যায়। ‘মন কেমন করা’ এক অনুভূতি ভর করে বুকের ভেতর।
বুঝে যাই— এ কোনো সাধারণ কথন নয়,
এ এক মহান হৃদয় থেকে নির্গত পবিত্র বাণী।
এই মূল্যবান বচন উচ্চারিত হয়েছিলো জামেয়া রশীদিয়া-এর প্রাঙ্গণে, আর যিনি তা উচ্চারণ করেছিলেন তিনি হাটহাজারীর প্রখ্যাত আলেম,
মাওলানা দিদার আহমদ (হাফিজাহুল্লাহ)।
এক সময় জামেয়া রশীদিয়ায় এসেছিলেন হাটহাজারী থেকে একগুচ্ছ গুণী আলেম।
তাঁদের মধ্যেই একজন ছিলেন মাওলানা দিদার আহমদ। তিনি তাঁর বয়ানে বলেছিলেন—
“দুনিয়ার সবাই চায়— আমি সবার বড় থাকি, সবার ওপরে থাকি, আমার ওপরে যেন কেউ না থাকে। কিন্তু ব্যতিক্রম একটি সম্পর্ক—
আর সে হল পিতা। দুনিয়ার সব পিতাই চান তাঁর সন্তান হোক তাঁর চেয়েও বড়। সন্তানের উৎকর্ষতা যেন ছাড়িয়ে যায় তাঁকেও।”
এরপর তিনি বলেছিলেন—
“জামেয়া রশীদিয়া হাটহাজারীর সন্তান।
আজ এই জামেয়া রশীদিয়া হাটহাজারীকেও ছাপিয়ে গেছে। আর সেই সন্তানকে দেখে পিতা হাটহাজারী আজ গর্বিত।”
সুবহানাল্লাহ!
কি অসাধারণ ও অপার্থিব কথন!
এ যেন এক আধ্যাত্মিক আবেগের অশ্রুসিক্ত ভাষ্য,
যেখানে আত্মমর্যাদা, ভালোবাসা ও ত্যাগ একাকার হয়ে গেছে।
📆 মঙ্গলবার
দিনলিপি
৩/১২/২০২৪ ইং
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।