#আল_হাদীসের_অবৈজ্ঞানিক_ভুলের_বৈজ্ঞানিক_দৃষ্টিকোণ
সিরিজ পর্ব-১২
একটা হাদীস ও আমার সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা ( তাহকীক)
হাদীস-
পানি পান করানো।
৪২৩। ইবনে আব্বাস (রহঃ) বলেন আদম সন্তানের দেহে তিনশত ষাটটি সংযোগ অস্থি বা গ্রন্থি আছে। প্রতিদিন সেগুলোর প্রতিটির জন্য একটি সদাকা ধার্য আছে। প্রতিটি উত্তম কথা একটি সদাকা। কোন ব্যক্তির তার ভাইকে সাহায্য করাও একটি সদাকা। কেউ কাউকে পানি পান করালে তাও একটি সদাকা এবং রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরানোও একটি সদাকা (বাযযার, ইবনে হিব্বান)।
بَابُ سَقْيِ الْمَاءِ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ، قَالَ: حَدَّثَنَا لَيْثٌ، عَنْ طَاوُسٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَظُنُّهُ رَفَعَهُ، شَكَّ لَيْثٌ، قَالَ: فِي ابْنِ آدَمَ سِتُّونَ وَثَلاَثُمِئَةِ سُلاَمَى، أَوْ عَظْمٍ، أَوْ مَفْصِلٍ، عَلَى كُلِّ وَاحِدٍ فِي كُلِّ يَوْمٍ صَدَقَةٌ، كُلُّ كَلِمَةٍ طَيْبَةٍ صَدَقَةٌ، وَعَوْنُ الرَّجُلِ أَخَاهُ صَدَقَةٌ، وَالشَّرْبَةُ مِنَ الْمَاءِ يَسْقِيهَا صَدَقَةٌ، وَإِمَاطَةُ الأَذَى عَنِ الطَّرِيقِ صَدَقَةٌ.
( আল আদাবুল মুফরাদ-৪২৩ Hadithbd)
এই হাদীসটা নিয়ে এক নাস্তিককে দেখে অনেকগুলো অভিযোগ করতে। আর এই হাদীস নিয়ে অনেক সংশয় হয় তো প্রকাশ পেতে পারে , তাই ভাবলাম এটা নিয়ে কিছু কথা বলা উচিত। এই হাদীসটা রাসূল সাঃ এর কওল না, বরং ইবনু আব্বাস এর রেওয়াত। মানে হাদীসটা আমরা মারফু না বরং মাওকুফ হিসাবে বিবেচিত করব। আমরা এখন সনদে লক্ষ্য করি ।
সনদে পাঁচজন রাবী আছে। মুসাদ্দাদ, আব্দুল ওয়াহিদ, লাইস, তাওস এবং ইবনু আব্বাস। এই সনদে চারজন হাদ্দাসানা ও আন রুপে হাদীস বর্ণনা করেছে এবং ইবনু আব্বাস পযন্ত সনদটা মুত্তাসিল, আর রাবীগণ সিকাহ, অতএব সনদ সহীহ ইনশাআল্লাহ । ( উল্লেখ্য যে মুসাদ্দাদ, লাওস, তাউস কে আমি চিনি, তবে আব্দুল ওয়াহিদ আমার কাছে হালকা অপরিচিত , তবে মুহাদ্দিস গণ যেহেতু এর তাহকিকে বিশুদ্ধ বলেছে তাই তাদের মতের জন্য আমি এখানে আব্দুল ওয়াহিদের তাওসীক নিয়ে তাকেও সিকাহ উল্লেখ করেছি...)। সনদ হিসাবে সহীহ হলেও এই হাদীসে সমস্যা বিদ্যমান। প্রথমত আগে আগেই বলেছি যে এটা রাসূল সাঃ এর কথা সরাসরি না, কেননা এখানে " আযুন্নুহু রাফাআহ " বলা আছে, যার মানে " আমি মনে করি রাসূল সাঃ বলেছে " অর্থাৎ ইবনে আব্বাস এখানে ১০০% শিওর না যে তিনি সরাসরি এই কথাটা নবীজি থেকে শুনেছেন। দ্বিতীয়ত লাইস এখানে সন্দেহ প্রকাশ করেছে, যেমনটা বলা হয়েছে শাক্কা লাইস.. "। তৃতীয় তো৷ এই মতনে এই সনদের চেয়েও শক্তিশালী সনদ হলো সহীহ মুসলিম এর সনদ, আর উক্ত সনদে মা আয়েশা ডাইরেক্ট রাসূল সাঃ থেকে বর্ণনা করেছে ( সহীহ মুসলিম -২২২০ : হাদীস একাডেমি) এবং সেখানে মুফসিলিন শব্দে wa ( or / অথবা) ছাড়া বর্ণনা করেছে.... । যার মানে হলো " আদম সন্তানকে ৩৬০ টি মুফসিল বা অস্থিসন্ধি ( জয়েন্ট) এতে সৃষ্টি করেছেন..."। ব্যাস ঝালেমা শেষ! । তাই যারা আদাবুল মুফরাদ দিয়ে অভিযোগ করে যে নবীজি নিজেই জানতেন না এখানে ৩৬০ টি হাড্ডি হবে, নাকি গ্রন্থি হবে, নাকি অস্থিসন্ধি হবে... তাদের অভিযোগ ভুল প্রমাণিত হচ্ছে ।
বাই দা ওয়ে, যখন দুটো সহীহ সনদে বর্ণিত হাদীসের মতনে কিছু সূক্ষ্ম পার্থক্য ধরা পরে তখন মুহাদ্দিসগণ শক্তিশালী সনদ এর দিকে প্রত্যাবর্তন করতেন। আর আমরাও এই উসূল নিয়েই বলছি যে আদাবুল মুফরাদ এর রেওয়াতটা মতন বিচারে অবিশুদ্ধ এবং মুসলিম এর রেওয়াত রাইট! ।
অতএব সঠিক অনুবাদ হবে
" আদম সন্তানকে আল্লাহ ৩৬০ টি অস্থিসন্ধি ( জয়েন্ট )[1] এতে সৃষ্টি করেছেন "
মুসলিম -২২২০ ( হাদীস একাডেমি- বাংলা নাম্বার) ) বাংলা অনুবাদ লিংক -
https://www.hadithbd.com/hadith/link/?id=49307
মুসলিম -১০০৭( সুন্নাহ ডট কম - আন্তর্জাতিক নাম্বার) ইংরেজি-
https://sunnah.com/muslim:1007a
[1] Link -
https://www.researchgate.net/publication/338692569_Speed-dependent_and_mode-dependent_modulations_of_spatiotemporal_modules_in_human_locomotion_extracted_via_tensor_decomposition
আশা করি কথা ক্লিয়ার.....
লেখক: মোঃ মেহেদী হাসান ✍️
#প্রিন্স_ফ্রেরাসে
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।