#আল_হাদীসের_অবৈজ্ঞানিক_ভুলের_বৈজ্ঞানিক_দৃষ্টিকোণ
সিরিজ পর্ব-১
আজওয়া খেজুর নিয়ে নাস্তিকদের ভ্রান্ত দাবি ও সংশয় নিরসন
আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
কিছু হাদীস দেখিয়ে ফালতু একটা দাবি করে কিছু মূর্খ নাস্তিকরা আর তা হলো " হাদীসে নাকি বলা হয়েছে আজওয়া খেজুর খেলে কোনো বিষ কাজ করে না, কিন্তু আমরা জানি খেজুর বিষের প্রতিকার করতে পারে না "। তো আমরা এখন সেই হাদীসগুলো পর্যালোচনা করব ইনশাআল্লাহ
তো চলুন শুরু করা যাক।
শৈশবকাল থেকে একটা হাদীস অবশ্যই শুনে আসছেন। সেটা হলো " সকালে উঠে সাতটা খেজুর খেলে সেই দিন বিষ ও জাদুটনা কোনে ক্ষতি করতে পারে না "( বুখারী- ৫৭৬৮)
হাদীসটাকে মুরব্বিরা এবং মসজিদের ইমামসহ কিছু আম পাবলিক এমন ভাবে উপস্থাপন করে যাতে মনে হয় সাতটা খেজুর খাওয়ার পর সাপের বিষ খেলে কোনো ক্ষতিই হবে না। নাস্তিকরা তো আরও উল্টা বুঝে। কিছু লোক দাবি করে " কোনো মোমিন আজওয়া খেজুর খাওয়ার পর বিষ খেয়ে মৃত্যু বরণ না করলে বুঝব কোরআন হাদীস ও ইসলাম সত্য আর আমরা ইসলাম গ্রহণ করব ইত্যাদি ইত্যাদি।
তো আমি প্রথমে একটা উসূল বলে দেই পয়েন্টে যাওয়ার আগে। হাদীসের একটা অন্যতম মূলনীতি হলো " কোনো বিষয় এর উপর হাদীস পর্যালোচনা করতে হলে উক্ত বিষয় সম্পর্কে প্রায় সকল হাদীস পর্যালোচনা করে রায় প্রদান করতে হবে "।
এখন আজওয়া খেজুর সম্পর্কে হাদীসগুলো দেখে নেন
" ১. হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আজওয়া জান্নাতের ফল, এতে বিষক্রিয়ার প্রতিষেধক রয়েছে…।’ (তিরমিজি: ২০৬৬)
২. হজরত সাদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, ‘যে ব্যক্তি ভোরে সাতটি আজওয়া খেজুর খাবে, সেদিন কোনো বিষ ও জাদুটোনা তার ক্ষতি করতে পারবে না।’ (বুখারি: ৫৭৬৮)
৩. আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেন, ‘মদিনার উঁচু ভূমির আজওয়া খেজুরে আরোগ্য রয়েছে।’ অথবা তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন সকালে এই খেজুর আহার করা বিষনাশক (প্রতিষেধক)।’ (মুসলিম: ৫১৬৮)
৪. আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেন, ‘সকালে সবার আগে (খালি পেটে) (মদিনার) উঁচু ভূমির আজওয়া খেজুর খেলে তা (সর্বপ্রকার) জাদু অথবা বিষক্রিয়ার আরোগ্য হিসেবে কাজ করে।’ (মুসনাদে আহমাদ: ২৩৫৯২) এখানে উঁচু ভূমি বলতে বোঝানো হয়েছে মদিনার পূর্ব দিকের কয়েক মাইল দূরের কয়েকটি গ্রাম।
৫. হজরত সাদ (রা.) বর্ণনা করেন, একবার আমি অসুস্থ হলে রাসুল (সা.) আমাকে দেখতে আসেন। এ সময় তিনি তাঁর হাত আমার বুকের ওপর রাখেন। আমি তাঁর শীতলতা আমার হৃদয়ে অনুভব করি। এরপর তিনি বলেন, ‘তুমি হৃদ্রোগে আক্রান্ত। কাজেই তুমি সাকিফ গোত্রের অধিবাসী হারিসা ইবনে কালদার কাছে যাও। কেননা, সে একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসক। আর সে যেন মদিনার আজওয়া খেজুরের সাতটা খেজুর নিয়ে বিচিসহ চূর্ণ করে তা দিয়ে তোমার জন্য সাতটি বড়ি তৈরি করে দেয়।’ (আবু দাউদ: ৩৮৩৫)
৬. উরওয়া (রহ.) বর্ণনা করেন, আয়েশা (রা.) পরপর সাত দিন সাতটি আজওয়া খেজুর খেয়ে সকালের উপবাস ভাঙার অথবা এই অভ্যাস তৈরি করার জন্য নির্দেশ দিতেন। (মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা: ২৩৯৪৫)
৭. হজরত আলি (রা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি সাতটি আজওয়া খেজুর প্রতিদিন আহার করে, তার পাকস্থলীর প্রতিটি রোগ নির্মূল হয়ে যায়।’ (কানজুল উম্মাল: ২৮৪৭২) "
তো আমরা আজওয়া খেজুর সম্পর্কে কয়েকটা হাদীস দেখলাম। এখন এখান থেকে কয়েকটা পয়েন্ট নোটিশ করব। সেগুলো হলোঃ
১. হাদীসগুলোর কোনো জায়গাতে বলা হয় নি যে " সাতটা আজওয়া খেজুর খেয়ে বিষ খেলে তার কোনো মৃত্যু হবে না বরং হাদীসে বলা হয়েছে কোনো ক্ষতি হবে না। নাস্তিকরা ক্ষতি আর মৃত্যু শব্দ এক করে ফেলেছে। দুটো শব্দের ভাব ও মানে সম্পূর্ণ আলাদা। মৃত্যু এর আক্ষরিক অর্থ হলো " জীবনের সমাপ্তি " আর ক্ষতি শব্দের আক্ষরিক অর্থ হলো " ক্ষয়প্রাপ্ত হওয়া অথবা কিছু হাড়ানো বা কিছু বাদ হয়ে যাওয়া ইত্যাদি ইত্যাদি ।
২. হাদীসগুলো ভালোভাবে নোটিশ করলে আমরা বুঝতে পারব যে এখানে বিষ শব্দটা " ব্যাথা" শব্দের সমার্থক হিসাবে ব্যবহৃত হয়েছে ( যেমন আমরা বলে থাকি " আমার বুক বিষ করছে অথবা আমার বুকে ব্যথা করছে। দুটো বাক্যের মানে কিন্তু একটাই যদিও আলাদা দুটো শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, কিন্তু শব্দ দুটো সমার্থক হওয়ার কারণে একই অর্থ প্রকাশ পাচ্ছে ।)
৩. আজওয়া খেজুর সম্পর্কে 'সাদ' এর বুকে ব্যাথা " এর ঘটনা থেকে বুঝতে পাচ্ছি যে এই খানে আজওয়া খেজুর দ্বারা ইন্টারনাল টক্সিন ( বিষ) এর কথা বলা হচ্ছে Not এক্সটার্নাল টক্সিন । অতএব নাস্তিকরা যে দাবি করে " বিষ খেয়ে উক্ত হাদীসের সত্যতা প্রমাণ করতে " সেই দাবি পুরোই হাস্যকর । কারণ হাদীসে ইন্টারনাল বিষ এর কথা বলা হয়েছে; যা দেহে উৎপন্ন হয়। আর ওইসব বিষ কোনো ক্ষতি করতে পারে না আজওয়া খেজুর খেলে নিয়মিত।
৪. সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো " রাসূল সাঃ যখন উক্ত হাদীসগুলল মক্কা মদিনাতে বর্ণনা করছিল তখন কোনো সাহাবী এমনকি কাফের মুশরিকরাও পযন্ত এরকমটা ভাবে নেই যে ' আজওয়া খেজুর খাওয়ার পর বিষ পান করলে মৃত্যু বা কোনো ক্ষতি হবে না। ইসলামি এর ১২ বছরেও এই হাদীসগুলোর উপর ভিত্তি করে কেও এরকম হাস্যকর দাবি করে নি আর কেও এরকম হাস্যকর মানেও বুঝে নি যা বর্তমান বঙ্গীয় কলা বিজ্ঞানিরা হাদীসগুলো পড়ার পর বুঝে।
৫. শেষ পয়েন্টে একটাই কথা বলতে চাই, সেটা হলো " রাসূল সাঃ এর কথার মানে যদি আমরা নাস্তিকদের মতো করে ধরে নেই তাতেও কোনো সমস্যা নেই; কারণ হাদীসগুলোতে বলা হয়েছে প্রতিদিন সাতটা করে খেজুর খেতে হবে খালি পেটে। তারপর বিষ খেলে কোনো কাজ করবে না। নাস্তিকরা হয় তো বলতে পারে যে এটা তো সোজা, বাজার থেকে আজওয়া খেজুর কিনে এনে খেলেই তো হয় তারপর একদিন জনসমুক্ষে বিষ খেয়ে প্রমাণ দিলেই তো হয়!। তো আমি তাদের বলতে চাই যে " বর্তমানে বাজারে ১০ থেকে প্রায় ১৫ ধরনের আজওয়া খেজুর পাওয়া যায়। এখন প্রশ্ন হলো রাসূল সাঃ হাদীসে কোন জাতের আজওয়া খেজুর এর কথা বলছে? যেটা খেলে বিষ কোনো ক্ষতি করতে পারবে না! আগে আপনারা সেটা প্রমাণ করুন। এখন নাস্তিকরা হয় তো আবারও বলতে পারেন যে " প্রতিদিন সব জাতের খেজুর সাতটা করে খেলেই তো হয়। তো আমি উত্তরে বলতে চাই যে এতই কাজ হবে না কারণ হাদীসে বলা হয়েছে ' প্রতিদিন খালি পেটে খেতে হবে ' তো আসল খেজুর যেহেতু ( হাদীসে বর্ণিত আজওয়া খেজুর) কোনটা জানি না তাই সবগুলো একসাথে খেলে হাদীসের একটা শর্ত ভঙ্গ হবে সেটা হলো ' প্রতিদিন খালি পেটে খাওয়ার শর্ত ' কারণ সবগুলো জাতেরটা খাওয়ার সময় আসলটা না খেয়ে অন্য জাতেরটা খেলে হাদীসের শর্তপূরণ হচ্ছে না তাই " বিষ খেলে ক্ষতি হবে না ' এই দাবিটার সত্যতাও পূরণ হচ্ছে না "। অতএব আপনারা আগে রাসূল সাঃ এর বর্ণিত প্রকৃত সেই আজওয়া খেজুর আগে আমুন তারপর আমরা না হয় পরীক্ষা দিয়ে উক্ত হাদীসের সত্যতা প্রমাণ করব কেমন।
তো এই পাঁচটা ছোট পয়েন্টে আশা করি বিষয়টা ক্লিয়ার হয়েছে।
[ আল- হাদীসের অবৈজ্ঞানিক ভুলের বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ সিরিজে হাদীস নিয়ে নাস্তিকদের ভ্রান্ত দাবির জবাব দেওয়া হবে ইনশাআল্লাহ ]
তো সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন
কলমে: মোঃ মেহেদী হাসান ✍️✍️✍️
আল্লাহ হাফেজ, আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
প্রিন্স ফ্রেরাসে
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।