#আল_হাদীসের_অবৈজ্ঞানিক_ভুলের_বৈজ্ঞানিক_দৃষ্টিকোণ
সিরিজ পর্ব-৪
জাহান্নামের নিঃশ্বাস প্রশ্বাস এর কারণেই কি দুনিয়াতে তাপ কমে.....???
আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
প্রথমেই মূল হাদীসটা দেখে নেওয়া যাক
" আবূ হুরায়রা(রা)কে বলতে শুনেছি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, "জাহান্নাম তার রবের কাছে অভিযোগ করল “হে রব, আমার কিছু অংশ কিছু অংশকে খেয়ে ফেলছে। অতঃপর তাকে অনুমতি দিলেন দুটি নিঃশ্বাসের ব্যাপারে একটি নিঃশ্বাস শীতে আর একটি নিঃশ্বাস গ্রীষ্মে। অতঃপর সেটা হল গরম থেকে যে তীব্রতা অনুভব কর আর শীত থেকে যে তীব্রতা তোমরা অনুভব কর " ( মুসলিম -১৪৩২)
এখন এই হাদীস নিয়ে চুলকানি শুরু হয়েছে নাস্তিকদের। তারা বলে যে ' উক্ত হাদীস অনুসারে দুনিয়াতে শীত গ্রীষ্ম হয় জাহান্নামের নিঃস্বাস এর কারণে"।
প্রথম কথা
তাদের দাবি সম্পূর্ণ গাঁজাখুরি। হাদীসটা একটা বিবেকবান বাচ্চা পড়লেও বুঝতে পারবে যে " উক্ত হাদীস অনুসারে জাহান্নাম এর নিঃস্বাস এর কারণে গরম শীত হয় না বরং গরম ও শীতে জাহান্নাম তার নিঃস্বাস ত্যাগ করে " আর রাসূল সাঃ যে এরকমটা বুঝিয়েছেন সেটা কোরআন হাদীস দেখলেও বুঝা যায়। আর উক্ত হাদীস শ্রবণ করে কোনো সাহাবী তাবেইনরাও এমন দাবি করেন নি যে " জাহান্নাম এর নিঃস্বাস এর কারণেই গরম শীতকাল হয় " আর দাবি করার কথাও না কারণ তারা আমাদের বঙ্গীয় কলা বিজ্ঞানিদের মতো মগজ বিহীন ছিলেন না।
দ্বিতীয় কথা
হাদীসের শেষের অংশটা যদি খেয়াল করেন তাহলে বুঝতে পারবেন যে " তীব্রতার কথা বলা হয়েছে যেটা আমরা শীত ও গ্রীষ্মে অনুভব করি। এর দ্বারা বড়জোর এটা প্রমাণিত হয় যে " গরম ও শীতের তীব্রতা জাহান্নামের নিঃস্বাস এর কারণে হয় ( এখানে সাধারণ তাপের কথা বলা হয় নি যেটা আমাদের বডি অনুপাতে হয়ে থাকে) । প্রশ্ন হতে পারে যে এটা কি ভাবে সম্ভব??? মানে জাহান্নাম থেকে তাপ এখানে আসে কিভাবে কারণ পৃথিবী সহ সকল গায়েবি ও অগায়েবী এর মধ্যে তো এক অন্তরায় আছে যা ভেদ করা যায় না ; এছাড়াও হাদীস অনুসারে তো দুনিয়ার আগুনের চেয়ে শক্তিশালী ৭০ গুন জাহান্নামের আগুন, তাহলে সে তাপ দুনিয়াতে আসলে তো সব পুড়ে যাবে! তাই না!। তো দেখুন জাহান্নাম তার দেওয়াল ভেদ করে নিঃস্বাস এর তাপ দুনিয়াতে কিভাবে পাঠাই সেটা বুঝতে হলে কোয়ান্টাম টার্নেলিং সম্পর্কে জানতে হবে। পদার্থ বিজ্ঞানকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা যায় ( উল্লেখ্য সাধারণ তো ১০ ভাগ) । সেগুলো হলো
১. ক্লিসিক্যাল ফিজিক্স
২. মডার্ণ ফিজিক্স
৩. কোয়ান্টাম ফিজিক্স
তো কোয়ান্টাম ফিজিক্স এতে কোয়ান্টাম টার্নেলিং বলতে একটা টার্ম আছে। কোয়ান্টাম টার্নেলিং হলো
" কোনো দেওয়াল বা যে কোনো কিছু কোনো বাধা ছাড়াই ভেদ হয়ে যাওয়া "
উদাহরণস্বরূপ
" আপনি বিশাল বড় একটা পাহাড়ের সামনে দাড়িয়ে আছেন। এখন আপনি পাহাড়ের ওইপাশে যাবেন। তো আপনার কাছে দুটো পথ এবং সময় ১০ মিনিট। আপনাকে পাহাড়ের কিনার দিয়ে ওই পাশে যেতে হবে নয় তো পাহাড়ের উপর দিয়ে যেতে হবে ১০ মিনিটে। কিন্তু কথা হলে পাহাড়ের উপর দিয়ে বা পাশ দিয়ে যেতে ১০ মিনিট না বরং এর অধিক সময় লাগবে এই বিশাল পাহাড়ের ওইপাশ যেতে। তো আপনি যদি ১০ মিনিট এতে যেতে চান বিনা পরিশ্রমে ও বিনা বাধাতে এবং নিদিষ্ট সময়ে তাহলে আপনার কাছে একটাই পথ সেটা হলো কোয়ান্টাম টার্নেলিং করা । এতে আপনি বিনা বাধাতে যে কোনো বিশাল ঘনত্বের যে কোনো কিছু পার হয়ে যেতে পারবেন। আর এর নামও কোয়ান্টাম টার্নেলিং ( উল্লেখ্য সুবিধার জন্য নিজের ভাষাতে বুঝালাম। আরেকটা কথা এটা বর্তমান ক্লিসিক্যাল ফিজিক্স এতে সম্ভব না তবে কোয়ান্টাম ওয়ার্ল্ড এতে এটা সব সময় ঘটছে) । তো হতে পারে আল্লাহ রব্বুল আলামিনও এরকম কোনো মাধ্যম এতে এই কাজটা করে। তাই এটা অস্বাভাবিক কিছু না। আরেকটা কথা হলো " জাহান্নামের আগুন ৭০ গুন শক্তিশালী দুনিয়ার আগুন থেকে কিন্তু জাহান্নামের আগুনের তাপ না ( উল্লেখ্য তাপ আর তাপমাত্রার মধ্যে পার্থক্য আছে) । তাই আমাদের তেমন কিছু হয় না। যেই তাপ টা আসে আমাদের সহ্য ক্ষমতার ভিতরে তাই সহ্য করতে পারি।
তৃতীয় কথা
আল্লাহ রব্বুল আলামিন বলে
" মুক্তাকী তো তারাই যারা গায়েবে বিশ্বাস করে..... (বাকারা-৩)
আমরা মুসলিম। আর একজন মুসলিম হিসাবে আমরা অবশ্যই অবশ্যই গায়েবে বিশ্বাসি। আর এই সংক্রান্ত যেসব হাদীস আছে সেগুলোও গায়েবের অন্তর্ভুক্ত। তাই আমাদের বর্তমান বিজ্ঞান দ্বারা কখনোই এগুলো ১০০ ভাগ ব্যাখ্যা করা যাবে না। তার মানে এই না যে এগুলো বিজ্ঞানের বিপরীত বা ভুল। মনে রাখতে হবে এগুলো বিজ্ঞান এর উর্ধ্বে। বিজ্ঞান দ্বারা এগুলোকে ১০০ ভাগ ব্যাখ্যা করা কখনোই সম্ভব না। । তাই আমি আমার এই রিলেটেড লেখাতে " হতে পারে " শব্দ যুগল ব্যবহার করি। আমি শুধু এটা বুঝাতে চাই যে এগুলো আমাদের চেনা- পরিচিত বিজ্ঞান এর সাথে সাংঘর্ষিক না। নাস্তিকরা সব সময় বিজ্ঞান বিজ্ঞান ও দর্শন দর্শন করে। কিন্তু তারা মৌলিক বিষয়গুলো জানে না। বিজ্ঞান হলো পরীক্ষা - নিরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণযুক্ত জ্ঞান । কোনো কিছুকে অবৈজ্ঞানিক বলতে গেলে সেটার উপর গবেষণা করতে হবে তারপর গবেষণার ফল এর উপর ভিত্তি করে বৈজ্ঞানিক নাকি অবৈজ্ঞানিক সেই রায় আসবে। কিন্তু আজব ব্যাপার তারা বিনা গবেষণাতেই এগুলোকে অবৈজ্ঞানিক বলে ফেলে কতটা হাস্যকর। এছাড়াও ফিলোসফিতে মেটাফিজিক্স বলতে একটা বিষয় আছে যেগুলো আমাদের বিজ্ঞান........ তবুও তারা মেটা ফিজিক্স কে ফিজিক্স এর নলেজ দিয়ে বাতিল বলে ; কতটা তাজ্জব। আসলে এরা কি চাই সেটা আল্লাহ রব্বুল আলামিন ভালো জানে। আবার আমাকে বলে ত্যানাবাজ। তবে যাইহোক....... আশা করি কথা ক্লিয়ার।
[ উল্লেখ্য আমার যারা ক্লাসমেট আছেন তারা আবার ক্লাস টেন এর বই খুলে আবার কোয়ান্টাম টার্নেলিং খুজে... এগুলো আমাদের বই এতে পাবেন না। আউট নলেজ এর জন্য জার্নাল, প্রবন্ধ, বুক উপরের শ্রেণির বই পড়ুন। ধন্যবাদ ]
তো সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন
কলমে: মোঃ মেহেদী হাসান ✍️✍️✍️
আল্লাহ হাফেজ, আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
#প্রিন্স_ফ্রেরাসে
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।