#আল_হাদীসের_অবৈজ্ঞানিক_ভুলের_বৈজ্ঞানিক_দৃষ্টিকোণ
সিরিজ পর্ব-৫
আল্লাহ তাআলা প্রথম আসমানে নেমে আসেন এ কথার অর্থ কী?
আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
দাবিঃ আল্লাহ নাকি রাতের বেলা প্রথম আসমানে নেমে আসে এখন প্রশ্ন হলো পৃথিবী তো গোল আর পৃথিবীর কোনো না কোনো অংশে রাত থাকে তার মানে কি আল্লাহ দিন রাত চব্বিশ ঘন্টাই পৃথিবীতে তাকে। আসলে মোহাম্মদ( সাঃ) জানত না যে পৃথিবী গোল তাই তিনি সমতল ভেবে এটা আল্লাহর নামে চালিয়ে দিসে।
[ আমি হুবুহুব দাবিটা উপস্থাপন করতে পারলাম না, তবে উক্ত হাদীস নিয়ে এরকম দাবিগুলোই নাস্তিক ও ইসলাম বিদ্বেষীরা করে থাকে ]
অতি দুঃখের সাথে মূল টপিকে যাওয়ার আগে একটা কথা বলতে হচ্ছে যে " নাস্তিকরা কেন আমাদের মুসলিমরাই ইমামদের কওল না জেনে ডাইরেক্ট কোরআন ও হাদীসের শব্দের বাহ্যিক অর্থ গ্রহণ করে যা মারাত্মক ভুল " এই হাদীসের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দেওয়ার প্রয়োজন নেই কারণ যারা উক্ত দাবি করা তারা জাহেল + জাত মূর্খ। এই হাদীস বৈজ্ঞানিক দৃষ্টি কোণ থেকে ভুল না তা লেখাটা পড়লেই বুঝতে পারবেন ইনশাআল্লাহ ।
তো চলুন শুরু করা যাক।
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের বুঝঃ-
আরবী “নূজুল” শব্দের অর্থ ‘নেমে আসা’ সৃষ্টির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আল্লাহর শানে এমন অর্থ করা মানানসই নয়। আল্লাহ তাআলা স্থান কাল পাত্র থেকে পবিত্র। সকল কিছুই তার অধীনে। তার কোথাও যেতে হয় না। তিনিই সকল কিছুকে বেষ্টন করে রেখেছেন। তিনি মুহীত। তাই তার কোথাও যেতে হয় না। কোথাও নামতে হয় না।
স্রষ্টার ক্ষেত্রে ‘নুজুল” শব্দের হাকীকী অর্থ একমাত্র আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন। এ বিষয় নিয়ে আমাদের অতিরিক্ত ঘাটাঘাটি করা নিষেধ।
___________________________
ইমাম বদরুদ্দীন আইনী রহিমাহুল্লাহ বলেন :
তুমি যেনে রাখো যে, অবতীর্ণ হওয়া, উর্ধ্বে গমন করা ও নড়াচড়া হলো দেহ আকার-আকৃতির গুণ।আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা এসব থেকে পবিত্র। কতিপয় হাদিস বিশারদ নুযুল এর ব্যাখ্যায় বলেছেন :
প্রতি রাতে আল্লাহ তায়ালা মহামহিম গুণ থেকে দয়া ও পূর্ণতার গুণে পরিবর্তিত হোন।
আবার কেউ বলেছেন :
বান্দার প্রতি দয়া, রহমত, অনুগ্রহ অবতীর্ণ করেন। অথবা এই উদ্দেশ্যও হতে পারে :
তিনি এই রাত্রে বিশেষ ফেরেস্তা প্রেরণ করেন। তারা মহান রবের বিবৃতি বর্ণনা করেন।
আবার কেউ এটাও বলেছেন :
এসব বিষয় মুতাশাবিহাত (সৃষ্টির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ এমন অস্পষ্ট বিষয় যার জ্ঞান আল্লাহ তায়ালা দান করেন না)
এর অন্তর্ভুক্ত। (তাই চুপ থাক উত্তম)
-শারহু সুনানি আবি দাউদ হা/১২৮৫
▪ইমাম ইবনু হাজার আসকালানী রহিমাহুল্লাহ বলেন
ইমাম শামসুদ্দীন কিরমানী রহিমাহুল্লাহ বলেন :
নুযুল তথা অবতীর্ণ হওয়া আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লার শানের খেলাফ। কেননা অবতীর্ণ হওয়ার বাস্তবতা হলো উপর দিক থেকে নিচে নামা। অকাট্য দলিল প্রমাণাদি এই কথা প্রমাণ করে যে,তিনি (এসব সৃষ্টির গুণাবলী) থেকে পবিত্র।
তো উক্ত নুযুল শব্দকে এভাবে ব্যাখ্যা করা উচিত-
(ক) রহমতের ফেরেস্তা (আল্লাহর হুকুমে) অবতীর্ণ হয়।
(খ) অথবা নুযূল এর উদ্দেশ্যেকে তাফউদ্ব তথা আল্লাহর জ্ঞানে ন্যস্ত করা।
-ফাতহুল বারী হা/৬০৯৯
ইবনে হাজার আসকালানী রাহ লিখেন-
ইমাম বায়জাবী বলেছেনঃ
অকাট্য দলিল দ্বারা প্রমাণিত যে, আল্লাহর দেহ হওয়া বা কোন যায়গাতে সীমাবদ্ধ হওয়া অসম্ভব ফলে এই “নামা” শব্দকে আল্লাহর ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা অসম্ভব সুতরাং এই নামার অর্থ হলঃ “তার রহমতের নুর নেমে আসে” । ( ফাতহুল বারী ৩ / ৩৬ )
ইবনে হাজার বলেনঃ এই নামাকে দুই ভাবে তাবীল করা যায়ঃ
.
ক – আল্লাহর নির্দেশ অথবা আল্লাহর নির্দেশে ফেরেশতা নেমে আসে।
খ – ইসতেয়ারা অর্থাৎ যারা শেষ রাত্রে ডাকেন আল্লাহ তাদের ডাকে সাড়া দেন।( ফাতহুল বারী ৩ / ৩৬ )
ইমাম মালেক বলেনঃ
ينزل أمره
আল্লাহর নির্দেশ নামে।
( তামহীদ ৭ / ১৪৩ – সিয়ার ৮ / ১০৫ – আল মিনহাজ ৬ / ৩৬ )
আকিদার ক্ষেত্রে সাদৃশ্যবাদী কে ইবনে হাজার আসকালানী রহ: তার ফাতহুল বারীতে নুজুল (অবতরণ) সম্পর্কে আলোচনায় বলেন,
.
অর্থ: নুজুলের অর্থ নিয়ে আলেমগণ মতবিরোধ করেছেন। একদল নুজুল এর বাহ্যিক ও আক্ষরিক অর্থে বিশ্বাস করে, এরা হল সাদৃশ্যবাদী। আল্লাহ তায়ালা এদের বক্তব্য থেকে মহাপবিত্র।
(ফাতহুল বারী, খ:৩, পৃ:৩০)
এখানে ইবনে হাজার আসকালানী রহ: স্পষ্টভাষায় বলেছেন, যারা নুজুলের আক্ষরিক ও বাহ্যিক অর্থে বিশ্বাস করে, তারা হল সাদৃশ্যবাদী। সমস্ত সালাফ এই সাদৃশ্যবাদী চিন্তা-চেতনা তথা বাহ্যিক অর্থ গ্রহণ থেকে মুক্ত ছিলেন। ( প্লেজারিজম Reference collected by A group panel )
অতএব আমরা আমাদের সালাফদের বুঝ অনুসারে বুঝতে পারলাম যে এখানে আল্লাহ রব্বুল আলামিন স্ব - শরীলে নেমে আসা উদ্দেশ্য নয় বরং উদ্দেশ্য হলো তার হুকুম বা আদেশ ( মতবেধ আছে তা তো দেখতেই পাচ্ছেন)
তাই উক্ত হাদীসের আশা করি কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা এর প্রয়োজন হবে না।
তো সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন
[ বিশেষ করে ধন্যবাদ তাকে যার মাধ্যমে এই লেখাটা পূর্ণতা পেয়েছে ( উল্লেখ্য তার নাম বা ঠিকানা সম্পর্কে আমি অবগত নয় তাই মেনশন করতে পারলাম না) এই লেখার পুরো ক্রেডিট আমি সেই অজানা দ্বীনি ভাইকে দিলাম ]
তথ্য উপস্থাপক : মোঃ মেহেদী হাসান ✍️✍️✍️
আল্লাহ হাফেজ, আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
#প্রিন্স_ফ্রেরাসে
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।