#আল_হাদীসের_অবৈজ্ঞানিক_ভুলের_বৈজ্ঞানিক_দৃষ্টিকোণ
সিরিজ পর্ব-১১
আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
কিছু ব্যক্তি আছে যারা ইসলাম ও বিজ্ঞানকে সাংঘর্ষিক প্রমাণ করতে চাই। তারা এমন কিছু হাদীস আনে যেগুলো সরাসরি শাব্দিক অর্থ নিয়ে বিজ্ঞান এর বিরোধ করে ...
কয়েক দিন ধরে দেখছি যে এই শিশির ছেলেটা আমার পিছনে পড়েছে। তাই ভাবছি উচিত জবাব দেওয়া উচিত। আমি প্রথমে ইলযামী জবাব দিব তারপরে তাহকীকী জবাব দিব ইনশাআল্লাহ
প্রথমে এই রিলেটেড আরও কিছু হাদীস দেখুন-
" আনাস(রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল(ﷺ) বলেছেন, ‘‘’আদওয়া’ (সংক্রমণ /সংক্রামক ব্যধি) ও অশুভ লক্ষণ বলতে কিছুই নেই। তবে শুভ লক্ষণ মানা আমার নিকট পছন্দনীয়।লোকেরা] বলল, শুভ লক্ষণ কী?
তিনি বললেন, উত্তম বাক্য" ( আংশিক)।
"আবু হুরাইরা(রা) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসু্লুল্লাহ(ﷺ) বলেছেনঃ ‘আদওয়া’ (সংক্রমণ/সংক্রামক রোগ) বলতে কিছু নেই। কুলক্ষণ বলতে কিছু নেই সফর মাসকেও অশুভ মনে করা যাবে না এবং পেঁচা সম্পর্কে যেসব কথা প্রচলিত রয়েছে (هَامَّةَ) তাও অবান্তর। তখন এক বেদুঈন বললো, হে আল্লাহর রাসুল! আমার উটের পাল অনেক সময় মরুভূমির চারণ ভূমিতে থাকে, মনে হয় যেন নাদুস-নুদুস জংলী হরিণ। অতঃপর সেখানে কোনো একটি চর্মরোগে আক্রান্ত উট এসে আমার সুস্থ উটগুলোর সাথে থেকে এদেরকেও চর্মরোগী বানিয়ে দেয়। তিনি বললেনঃ প্রথম উটটির রোগ সৃষ্টি করলো কে?
মা‘মার (রহ.) বলেন, যুহরী (রহ.) বলেছেন, অতঃপর এক ব্যক্তি আবূ হুরাইরা(রা) সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি নবী(ﷺ)কে বলতে শুনেছেনঃ রোগাক্রান্ত উটকে যেন সুস্থ উটের সাথে একত্রে পানি পানের জায়গায় না আনা হয়।’’ এটা হলো সম্পূর্ণ।
ইলযামী -
তার স্টাইল এতে যদি বলি তাহলেও হাদীসে কোনো ভুল নেই কারন হাদীসে বলা হয়েছে যে " রোগ এর সংক্রমিত নেই। অর্থাৎ রোগ এর সংক্রমন নেই। বাস্তবতা হলো রোগ কখনো ছোঁয়াছে হয় না বরং কিছু কিছু রোগ আছে যেগুলোর এক প্রকার ভাইরাস থাকে আর সেসব ভাইরাস গুলো মূলত ছোঁয়াছে হয়। হাদীসে রোগ নিয়ে কথা হচ্ছে ভাইরাস নিয়ে না। তাই শাব্দিক অর্থ নিলেও এটা প্রমাণ হয় না যে হাদীস বিজ্ঞান এর সাথে সাংঘর্ষিক । ধরুন আপনার ভাই এর জ্বর হয়েছে একন আপনি যূি আপনার ভাইকে স্পর্শ করেন তাহলে জ্বর আপনার ভিতরে সাথে সাথে ঢুকে যাবে না, অর্থাৎ সংক্রমিত হবে না। এর থেকেই বুঝা যায় যে রোগ ছোঁয়াছে হয় না....।
তাহকীকী জবাব -
এসব হাদীসগুলো সাধারণ ভাবে হঠাৎ দেখলে বৈজ্ঞানিক ভুল মনে হতে পারে। কিন্তু সবগুলো রেওয়াত সামনে রাখলে বিষয়টা ক্লিয়ার হওয়া যাবে।
প্রেক্ষাপট বা অন্য কিছু বিবেচনা না করে শুধু ২-১টি শব্দের আক্ষরিক অর্থ থেকে যদি এই হাদিসের হুকুম দেওয়া হয় তাহলে বেশ বড় সমস্যা হবে। যেমন ধরুন, উপরে উল্লেখিত হাদিসগুলোতে শুধু (“লা আদওয়া” - সংক্রমন নেই) এই কথাই বলা নেই, এর সাথে “লা সফর “লা হামাহ” - এই কথাগুলোও কিন্তু বলা আছে। আরবিতে সফর হচ্ছে একটি মাসের নাম। শুধু শাব্দিক অর্থ বিবেচনায় নিলে এর মানে দাঁড়ায়ঃ “সফর মাস নেই”! নবীজি কি সফর মাসের অস্তিত্ব অস্বীকার করেছেন?!! আমার মনে হয় পাগলেও এমন কিছু দাবি করবে না। আবার, আরবিতে ‘হামাহ’ (هَامَةَ) শব্দ দিয়ে বোঝানো হয় হুতুম পেঁচাকে। শুধু শাব্দিক অর্থ বিবেচনায় নিলে এর মানে দাঁড়ায়ঃ “হুতুম পেঁচা নেই”! নবী(ﷺ) কি এই হাদিসে পেঁচা নামক পাখিটির অস্তিত্বকে অস্বীকার করেছেন? ইসলাম ছোঁয়াচে রোগের অস্তিত্বকে অস্বীকার করে বলে যারা দাবি করে, তাদের অভিযোগ সে কতোটা হাস্যকর তা বোধ করি এখন বোঝা যাচ্ছে। এখন আসি মেইন পয়েন্ট এতে ' হাদীসটা ভালো করে যদি লক্ষ্য করেন, বিশেষভাবে ভাবার্থ তাহলে বুঝতে পারবেন যে " এখানে নবীজি বুঝাতে চাচ্ছেন যে আল্লাহ রব্বুল আলামিন এর হুকুম ছাড়া কোনো কিছুই কার্যকর হয় না" ভাইরাস শরীলে প্রবেশ করলেই যে সেটা রোগ সৃষ্টি করবে, বিষয়টা সেরকম না। যদি তাই হ তো তাহলে কভিড-১৯ এতে সকল ডাক্তার আর নার্স করোনায় আক্রান্ত হয়ে যে তো। খেয়াল করে দেখবেন যে, বস্তির ছেলে- মেয়েগুলো ভালে পরিবেশে বড় হয় না, তাঁরা পুষ্টিকর খাবার খায় না, ভালো জামা- কাপড় নেয়, দূষিত পানি পান করে ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু তবুও তাঁরা ওতটা অসুস্থ হয় যতটা একটা শহর এর বাচ্চা হয়। এরকম অনেক উদাহরণ আছে, যারা কিনা ফ্ল্যাট বাসা- বাড়িতে থাকে, পুষ্টিকর খাবার খায়, মিনারেলযুক্ত পানি পান করে ইত্যাদি ইত্যাদি, তবুও রোগ যেন তাদের পিছু ছাড়ে না। তো এখান থেকেই প্রমাণ হয় যে বডিতে কোনো জীবাণু প্রবেশ করলেই যে সেটা কার্যকর হবে, বিষয়টা তা না, ইয়াকুব নবী ও তার স্ত্রী মা রহীমার ঘটনা তো জানেনও, ইয়াকুব নবী কি পরিমাণটাই না অসুস্থ হয়েছিলেন। তার ছোঁয়াছে রোগের কারে কেও তো তাঁর কাছেই যে তো না, কিন্তু মা রহীমা নিজ দায়িত্ব পালন করেছেন, নিজের স্বামীর সেবা করেছেন, কয় তাঁর তো কোনো ক্ষতি হলো না । তো একজন মুসলিমের জন্য এর চেয়ে মনে হয় না বেশি কিছু বলতে হবে।
মূল কথা হলো হাদীস গুলো একত্রে জমা করলে সারাংশ দাঁড়াই " আল্লাহর হুকুম ব্যাতিত কোনো কিছু কার্যকর হয় না... "
তাই কোনো অবস্থাতে কোনো কিছুতে ভয় করার দরকার নেই একমাত্র আল্লাহকে ছাড়া...
তো সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন
মোঃ মেহেদী হাসান ✍️
[ লজিক কিছু অংশ সংযোজিত- বিয়োজিত ]
আল্লাহ হাফেজ, আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
#প্রিন্স_ফ্রেরাসে
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।