#আল_হাদীসেট_অবৈজ্ঞানিক_ভুলের_বৈজ্ঞানিক_দৃষ্টিকোণ
সিরিজ পর্ব-৩
"জ্বর কি জাহান্নামের উত্তাপ " সংক্রান্ত হাদীস নিয়ে নাস্তিকদের ভ্রান্ত দাবি ও সংশয় নিরসন
আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
[ ফেইসবুক এতে নাস্তিক মূর্খগুলো বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মিথ্যাচার করে। তারা বুখারী শরীফ এর ১০ টা হাদীস এর আংশিক অংশ নিয়ে প্রচার করছে যে ইসলাম অবৈজ্ঞানিক । তাই এই সিরিজে তাদের দাবিগুলো খন্ডন করব ইনশাআল্লাহ ]
তো চলুন শুরু করা যাক
প্রথমেই আমরা দেখে নিবো মূল হাদীসটা "
(মা) আয়িশাহ( আঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু হতে বর্ণিত ' তিনি বলেছেন - জ্বর হয় জাহান্নামের তাপ থেকে কাজেই তোমরা পানি দিয়ে তা ঠান্ডা কর "
[ এটা তাওহীদ প্রকাশী-৫৭২৫ ; ইসলামিক ফাউন্ডেশন -৫২০১;আধুনিক প্রকাশনী-৫৩০৫ ]
[ আর মূর্খরা এই হাদীসের যে রেফারেন্স দিছে সেটা সম্পূর্ণ ভুল। গান্জা নামক সংশয় ডট কম থেকে এর থেকে বেশি কি আমরা আশা করতে পারি। তাদের ছাগল অনুসারিগুলোও রেফারেন্স গুলোও চেক করে না। শুধু কপি পেস্ট করতে পারে ]
প্রথম কথা এই হাদীসটা হলো মেটা ফিজিক্যাল; তাই এইটাকে ফিজিক্যাল ভাবে ব্যাখ্যা করা যাবে না। আমরা এটাকে অন্যভাবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ ।
প্রথমে আসি ইসলামি দর্শন এতে। আমরা যদি একটু নিজেদের ( সাধারণ তো) জ্ঞানের গন্ডি থেকে বাহির হয়ে চিন্তা করি তাহলে আমরা এই হাদীস থেকে এই উদ্দেশ্য এতে উপনীত হতে পারব যে " এইখানে জাহান্নামের তাপ দ্বারা উদ্দেশ্য করা হয়েছে আমাদের পাপ সমূহকে আর পানি দ্বারা উদ্দেশ্য করা হয়েছে আমাদের নেক আমল সমূহকে। এই হিসাবে ব্যাখ্যা করলে হাদীসটা হবে
" তোমাদের পাপ কাজ সমূহ নেক আমল দ্বারা মুছে ফেলো "
তো সেই হিসাবে এখানে কোনো ভাবেই বিজ্ঞান অবিজ্ঞান এর প্রশ্নই আসবে না।
দ্বিতীয় তো
দুনিয়াতাটা হলো আখিরাতের শষ্যক্ষেত। আমরা যেসব কর্ম করব সেগুলোর ফল পরকালে পাবো। জাহান্নামের আগুন অতি ভয়ংকর । এই হাদীস দ্বারা এই উদ্দেশ্যও হতে পারে যে " আমরা যেসব পাপ করি তার শাস্তি হিসাবে জাহান্নামে শাস্তি পাবো আর সেই শাস্তি আমরা সহ্য করতে পারব না। তাই দুনিয়াতে বিভিন্ন ভাবে আমাদের বিভিন্ন ছোট - খাটো শাস্তি ( শাস্তি দৈহিক ভাবে কিন্তু এটাও নেয়ামত। উদাহরণস্বরূপ আমাদের সাধারণ তো যখন জ্বর হয় তখন কিছুটা কষ্ট হয়, কিন্তু মজার ব্যাপার হলো আমাদের নরমাল জ্বরগুলো হয় আমাদের বডিতে থাকা ভাইরাসগুলো মারার জন্য। বডি যখন ভাইরাস এর সাথে ফাইট করে তখন শরীল অস্বাভাবিক সময়ের জন্য উত্তপ্ত হয়ে যায়। তো এই জ্বর হয় বডিতে থাকা টক্সিনগুলো সড়িয়ে ফেলার কারণে। আর এভাবে আমাদের সুরক্ষা প্রদান করা হয় রোগ- ব্যাধি থেকে। যেটা আপাতত শাস্তি হলেও নেয়ামত। ) জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করা হয়। আমাদের ভাষায় গুরু শাস্তি থেকে রক্ষা করার জন্য লঘু শাস্তি প্রদান। ( প্রথম ব্যাকেট এতে যে উদাহরণ দিয়েছি সেটা লক্ষ্য করুন আরেক বার। বডি আমাদের ভাইরাস থেকে প্রটেক্ট করার জন্য ফাইট করে আর তখন জ্বর আসে। আর আমাদের কষ্ট হয় । কিন্তু ওইটুকু কষ্ট সহ্য করার জন্যই আমরা ভবিষ্যহ
ৎ এতে বেঁচে যায় উক্ত ভাইরাসগুলো দ্বারা হওয়া কোনো কঠিন রোগ - ব্যাধি থেকে) । সেই উদ্দেশ্য এতেও হাদীসটা গ্রহণ করলেও ভুল হবে না কিন্তু ; কারণ হাদীসে বলা হয়েছে জ্বর দ্বারা শাস্তিকে হালকা করা হয় (বুখারী- ৫৭২৩) ।
তৃতীয় কথা
যদি প্রথম দুটো বিষয় তারা নাও মানে তাতেও কোনো সমস্যা নেই। এখন বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকেই ব্যাখ্যা করব ইনশাআল্লাহ । আমরা যারা সাইন্স এর ছাত্র । তারা হয় তো কোয়ান্টাম ইন্টেলেঙ্গমেন্ট এর নাম শুনেছি।
মহাবিশ্বের এক পাশে একটা কণা( ধরি এর নাম A) রেখে অন্য পাশে আরেকটা কণা (ধরি এর নাম B) রাখার পর আমরা যদি A নামক কণাতে কোনো কিছু করে তাহলে এর প্রভাব B নামক কণাতেও পরবে যদিও এর দুই কণার মাঝে কোটি কোটি ব্যবধ্যন। তবুও দেখা যাচ্ছে যে একটাতে কোনো বল প্রয়োগ করলে একই টাইম এতে অন্য কণাতেও সেই বল কাজ করছে । একেই সাধারণ তো কোয়ান্টাম এন্টেলেঙ্গমেন্ট বলে ( আমি আমার মতো করে বুঝালাম সংক্ষিপ্ত আকারে) । তো এই টার্মর আলোকে যদি হাদীসটা চিন্তা করি তাহলেও সেটা ভুল হবে না। কারণ হতে পারে এরকম পদ্ধতিতে জাহান্নামে তাপ আমাদের কাছে এসে জ্বর হিসাবে ধরা দেয়। আর পানি দিয়ে যখন ঠান্ডা করি ( কি নাম যেন বলে এটাকে 'জলপড়া' মনে হয়) তাহলে জাহান্নামের উত্তাপ্তটাও ঠান্ডা হয়ে যায় ( আগেই বলেছি একটা কণাতে কিছু করলে উপর কণাতেও প্রভাব পরে) । তাই এই দৃষ্টিকোণ থেকেই হাদীসটাকে ১০০% ভাবে বলা যাবে না যে হাদীসটা ভুল। আর লেখার শুরুতেই বলে দিয়েছি মেটা ফিজিক্যাল বিষয় কখনো মেটাফিজিক্স দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। আর আমার এই তৃতীয় বিষয়টা নেওয়ার কারণ হলো বুঝার সুবিধার জন্য। মানে হতে পরে এরকম কোনো মেথড ব্যবহার করা হয়। আমি শুধু তিনটা সামারি দিয়ে লেখাটা শেষ করব
১. উক্ত হাদীসটা মেটাফিজিক্যাল
২. এই হাদীসটা হয় তো কোয়ান্টাম এন্টেলেঙ্গমেন্ট এর মতো কোনো মাধ্যমে কাজ করে ( আল্লাহই ভালো জানে)
৩. এগুলো ইলমে গায়েবর আওতাভুক্ত যা আমরা আমাদের নিম্ন জ্ঞান দিয়ে ব্যাখ্যা করতে পারব না। তবুও আমরা কিছু বিষয় এর উপর ভিত্তি করে বলতে পারি যে হাদীসটাকে পুরোপুরি অবৈজ্ঞানিক ও বলা যাবে না যেরকমটা নাস্তিকরা বলে।
আশা করি কথা ক্লিয়ার।
[ বাক-বাকি আল্লাহ রব্বুল আলামিন ভালো জানে ]
তো সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন
কলমে: মোঃ মেহেদী হাসান ✍️✍️✍️
আল্লাহ হাফেজ, আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।