#আল_হাদীসের_অবৈজ্ঞানিক_ভুলের_বৈজ্ঞানিক_দৃষ্টিকোণ
সিরিজ পর্ব-২
কালোজিরা নিয়ে নাস্তিকদের ভ্রান্ত দাবি ও সংশয় নিরসন
আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
প্রথমেই হাদীসটা দেখে নেই
" তোমরা এই কালোজিরা ব্যবহার করবে। কেননা এতে মৃত্যু ব্যাতিত সকল রোগের প্রতিষেধক রয়েছে " ( তিরমিজি-২০৪০)
এই হাদীসটা দেখিয়ে দাবি করা হচ্ছে যে " এতই যখন সকল রোগের ঔষধ কালোজিরা তাহলে মুসলিমরা কেন শুধু কালোজিরা খেয়ে রোগ প্রতিরোধ করে না কেন??? "
যাইহোক পয়েন্টে আসি
পয়েন্ট -১. উক্ত হাদীস দ্বারা রাসূল সাঃ কখনোই এটা বুঝাতে চান নি যে " পৃথিবীর সকল রোগের ঔষধ শুধু কালোজিরাতেই আছে । বরং এই হাদীস দ্বারা উদ্দেশ্য হলো " কালোজিরা এর উপকারিতা" । আর বর্তমান মেডিকেল সাইন্স এতেও কোনো সন্দেহ নেই যে কালোজিরা যেসব কাজ করতে পারে তা অন্যান্য ঔষধি উপাদান কখনোই করতে পারে না। গুগলে সার্চ করলে এই বিষয়ে হাজার- খানেক আর্টিকেল পেয়ে যাবেন যেখানে কালোজিরার ব্যাপারে শত শত উপকার এর কথা বলা আছে ; যেটা পৃথিবীর অন্য কোনো ঔষধি গাছ বা উপাদান এতে অতি সস্তাই পাওয়া যাবে না। আমাদের বুঝতে হবে যে রাসূল সাঃ থেকে এরকম অনেক হাদীস এসেছে যেগুলো কোনো একটা বিষয় এর গুরুত্বটা বুঝানোর জন্য বলা হয়। উদাহরণস্বরূপ " কাফের আর মোমিনের মধ্যে পার্থক্য হলো নামায " এখন এই হাদীস দ্বারা কিন্তু কেও এটা বলে না যে কেও ফজর না আদায় করলে সে কাফের হয়ে যাবে। বরং উক্ত হাদীস দ্বারা নামায একজন মুসলিম এর জীবনে কতটা গুরুত্বপূর্ণ আমল তা বুঝানো হয়েছে। তাই তো রাসূল সাঃ অন্য হাদীসে বলেছে " কেও যদি জানতো ফজরের নামাযের... তাহলে সে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও ফজরের সালাত জামাআতের সহীত আদায় করত "। তো এরকম ভাবে অনেক হাদীস আছে যেগুলো গুরুত্ব বুঝানোর জন্য ব্যাপক কোনো ( বিশেষ) শব্দে ব্যবহার করা হয়। এটা মূলত এক ধরনের ভাষা অলংকার । আমরাও এরকম অনেক ভাবে এই অলংকার ব্যবহার করে থাকি। উদাহরণস্বরূপ বাংলাদেশের প্রাইমারি স্কুল এর পাঠ্য বই এতে বলা হয়েছে " পানির অপর নাম জীবন " এখন কেও কিন্তু এই বাক্য দ্বারা এটা বুঝে না যে শুধু সারাদিন পানি খেলেই বেঁচে থাকা যাবে। আসলে পানি এর গুরুত্ব বুঝানোর জন্য উক্ত বাক্য ব্যবহার করা হয়। যেরকম টা রাসূল সাঃ নিজে করেছেন কালোজিরা এর ক্ষেত্রে । তারমানে এই না যে শুধু কালোজিরা খেলেই আমি সকল রোগ- ব্যাধি থেকে রেহাই পাবো।
পয়েন্ট -২. রাসূল সাঃ যখন এই হাদীস বর্ণনা করেন তখন কোনো সাহাবী এরকমটা বুঝেন নি যে " কালোজিরা সারাদিন খেলেই আমি সুস্থ থাকব মৃত্যু পযন্ত " আর রাসূল সাঃ এরকমটা বুঝান নি। যদি তাই হতো তাহলে রাসূল সাঃ আলাদা করে বিভিন্ন রোগ- ব্যাধি এর উপর আমাদের দোয়া- দরুদ, রোকাইয়া শিখাতেন না। আমরা বিভিন্ন হাদীস থেকে বিভিন্ন রোগ - ব্যাধি থেকে মুক্ত পাওয়ার জন্য বিভিন্ন আমলের কথা পেয়ে থাকি। যেগুলো একেক রোগে আলাদা আলাদা করে ব্যবহার করা হয়। যদি রাসূল সাঃ সত্যিই " কালোজিরা মৃত্যু ব্যতিত সকল রোগের ঔষধ " বুঝাতেন তাহলে তিনি আমাদেরকে আলাদা করে অন্যান্য গাছ- গাছরা ও চিকিৎসা কাজে ব্যবহিত উপাদান এর কথা বলতেন না। উদাহরণস্বরূপ মধুর কথাটাই বলা যায়। হাদীসে ও কোরআনে এর ব্যাপক উপকারিতার কথা পাওয়া যায়। রাসূল সাঃ যদি সত্যিই " কালোজিরে মৃত্যু ব্যতিত সকল রোগের ঔষধ " হতো তাহলে তিনি আলাদা করে মধুসহ আরও অন্যান্য... এর কথা বলতেন না। তো আমরা সহজ ভাবেই বুঝতে পাচ্ছি যে রাসূল সাঃ এর " কালোজিরে মৃত্যু ব্যতিত সকল রোগের ঔষধ " এই কথা দ্বারা আসলে কি উদ্দেশ্য করা হচ্ছে । আর মজার ব্যাপার হলো এই হাদীসের মানে রাসূল সাঃ এর যুগের কাফের - মুশরিকরাও এটা বুঝে নি যে " কালোজিরে মৃত্যু ব্যাতিত সকল রোগের ঔষধ তাই মোমিনদের শুধু কালোজিরা খেতে হবে " ; যদি কাফের - মুশরিকরাও এরকম বুঝতো যে " কালোজিরে মৃত্যু ব্যাতিত সকল রোগের ঔষধ " তাহলে তারা এই হাদীসের ফায়দা লুটতো আর রাসূল সাঃ ও সাহাবিদের বলত যে " আজ থেকে তোমরা শুধু কালোজিরা খেয়ে রোগ প্রতিরোধ করবে কারণ তোমাদের রাসূল সাঃ বলেছে
" কালোজিরে মৃত্যু ব্যতিত সকল রোগের ঔষধ "
কিন্তু মজার ব্যাপার হলো হাদীস ও বিখ্যাত সীরাতগ্রন্থ তে কাফেরদের এরকম দাবি করার পক্ষে কোনো প্রমাণ নেই। তাই আমরা সহজেই বুঝতে পাচ্ছি যে রাসূল সাঃ কখনোই " কালোজিরে মৃত্যু ব্যতিত সকল রোগের ঔষধ " এই কথা উদ্দেশ্য করে নি বরং তিনি " কালোজিরা এর গুরুত্বপূর্ণতা বুঝাতে চেয়েছেন "।
পয়েন্ট -৩. আপাতত প্রথম দুইটা পয়েন্ট সাইটে রাখলাম। নাস্তিকরা যদি হাদীস দ্বারা " কালোজিরে মৃত্যু ব্যতিত সকল রোগের ঔষধ " এরকম টাও বুঝায় তাহলেও রাসূল সাঃ এর বাণী ভুল প্রমাণিত হবে না। কারণ রাসূল সাঃ শুধু উপকার এর কথা বলছে " কালোজিরে মৃত্যু ব্যতিত সকল রোগের ঔষধ"। কিন্তু তিনি আমাদের পদ্ধতির কথা বলেন নি। কোন পদ্ধতিতে কালোজিরা খেলে সকল রোগ থেকে মুক্ত হওয়া যাবে এরকম কোনো পদ্ধতি তিনি বলে যান নি। রাসূল সাঃ সকল বিষয় এর পদ্ধতির কথা বলে গেছেন। " উদাহরণস্বরূপ সাওম আমাদের জন্য ঢাল স্বরুপ " এখন এই সাওমটা কোন পদ্ধতিতে আদায় করলে আমাদের জন্য ঢাল স্বরুপ হবে সেটা কিন্তু তিনি বলে গেছেন। এরকম করে প্রত্যেকটা বিষয় এর..... । তো রাসূল সাঃ " কালোজিরে মৃত্যু ব্যতিত সকল রোগের ঔষধ " এই কথাটা নাস্তিকদের মানে হিসাবে ধরে নিলেও হাদীসকে পুরোপুরি ভাবে অবৈজ্ঞানিক প্রমাণ করা যায় না। আগে তাঁরা দলীল পেশ করুক কোন পদ্ধতিতে কালোজিরা খেলে মৃত্যু ব্যতিত সকল রোগ থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। তখন না হয় আমরা উক্ত পদ্ধতিতে কালোজিরা খাবো ; তারপর যদি দেখা যায় রোগ হচ্ছে তখন ধরে নিতে হবে রাসূল এর হাদীস বৈজ্ঞানিক ভাবে ভুল। তাই আগে তারা দলীল পেশ করুক তারপর হাদীস ভুল প্রমাণ করুক।
আশা করি কথা ক্লিয়ার।
তো সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন
কলমে: মোঃ মেহেদী হাসান ✍️✍️✍️
আল্লাহ হাফেজ, আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ
প্রিন্স ফ্রেরাসে,
লেখাটি কপি করতে 'অনুলিপি' এ ক্লিক করুন।